Jumjournal Logo

ইয়াংঙান ম্রো ও তাঁর বই: 28 থেকে 35টি প্রকাশনা, ম্রো ভাষায় রূপকথা, ব্যাকরণ ও অভিধান

Last updated Nov 3rd, 2026

0

চিম্বুক পাহাড় থেকে দেখা কুয়াশায় ঢাকা সবুজ পাহাড়ের সারি, সামনে গাছের ডাল

চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে রামরি পাড়ায়, প্রায় 1,300 ফুট উচ্চতায়, একটি জুমঘর ছিল। এক ম্রো পরিবার সেখানে দীর্ঘদিন জুমচাষ করেছে, আর সেই ঘরে বসে বাবা-মা ছেলেমেয়েদের ম্রো রূপকথা শোনাতেন। বাবা-মা মারা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন ঘরটিকে পাঠাগার বানাতে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা আগস্ট 2022-এ জানায়, ঘরটি এখন পাঠাগার, নাম ‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’ — বাংলায় ‘গল্প বলা, গল্প শোনা’। তাকে সাজানো বইগুলোর বেশিরভাগ লিখেছেন সেই পরিবারের ছেলে।

ইয়াংঙান ম্রো বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাইট্যা পাড়ার একজন ম্রো লেখক ও গবেষক, যিনি ম্রো ও বাংলা দুই ভাষায় রূপকথা, লোককাহিনি, ক্রামা ধর্ম, ব্যাকরণ, জীবনী ও অনুবাদের বই লিখেছেন। ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ‘ততোং’ (2022) তাঁর লেখা। তাঁর বইয়ের সংখ্যা প্রতিবেদনভেদে 28 থেকে 35; 2022 সালে গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছিল 28টি — ম্রো ভাষায় 18, বাংলায় 10।

এই লেখায় তাঁর বইগুলোর যতটুকু নথি সংবাদমাধ্যমে আছে তা এক জায়গায় রাখা হলো: কোন বই কবে, কোন ভাষায়, কোন প্রকাশনী থেকে; বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে তাঁর কাজ; আর ‘ম্রো ভাষার প্রথম লেখক’ দাবিটি নিয়ে উৎসগুলো আসলে কী বলে। ম্রো লিপির জন্ম ও তার স্রষ্টা মেনলে ম্রোর কাহিনি আছে ম্রো লিপি নিয়ে আমাদের বিস্তারিত লেখায় আর মেনলে ম্রোকে নিয়ে আর্কাইভের পাতায়; এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি।

সূচিপত্র
  1. ইয়াংঙান ম্রো কে?
  2. নামের বানান: ইয়াংঙান, ইয়াঙান, Yangan, Younguang
  3. ইয়াংঙান ম্রোর বই কয়টি — 28, 29, 33 না 35?
  4. কোন কোন বই নথিতে পাওয়া যায়
  5. ম্রো রূপকথা: বিদ্যানন্দের বই আর ‘প্রথম কথাসাহিত্য’
  6. ‘ততোং’ কেন লেখা হলো
  7. তিনি কি ‘ম্রো ভাষার প্রথম লেখক’?
  8. রেংমিটচ্য ভাষা: অভিধান, শব্দভাণ্ডার ও ক্লাস
  9. বীরশ্রেষ্ঠ আর ৭ মার্চ: জাতীয় ইতিহাস ম্রো ভাষায়
  10. মেনলের আঁকা ছবি: 17 বছরে জোগাড় করা 23টি ছবি
  11. ক্রামা ধর্ম নিয়ে লেখা
  12. জুমঘরের পাঠাগার
  13. ফোনে ম্রো লেখা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ
  14. সময়রেখা
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

ইয়াংঙান ম্রো কে?

ইয়াংঙান ম্রো একজন ম্রো লেখক ও গবেষক, জন্ম ও বেড়ে ওঠা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে বাইট্যা পাড়ায়। তিনি সুয়ালক ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েছেন, তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচ্যভাষায় স্নাতকোত্তর করে চাকরির বদলে ম্রো সমাজ, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখালেখিকে মূল কাজ করেছেন।

জন্মস্থান তাঁর নিজের কথায় পাওয়া যায়: ডেইলি স্টার বাংলাকে তিনি বলেছেন, ‘চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে বাইট্যা পাড়ায় আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা’; ছোটবেলায় সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যালয় বা চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। বিডিনিউজ (ডিসেম্বর 2024) ও দ্য বর্ডারলেন্স তাঁকে বাইট্যা পাড়ার বাসিন্দা হিসেবেই পরিচয় দিয়েছে। লেখালেখির কাজকর্ম চলে বান্দরবান শহর থেকে — ‘ততোং’-এর মোড়ক উন্মোচন হয়েছিল শহরের উজানি পাড়ায় তাঁর বাসভবনে (প্রথম আলো), আর বিডিনিউজের ইংরেজি সংস্করণ (2021) লিখেছে তিনি বান্দরবান শহরে থাকেন।

স্কুলজীবনের একটি ঘটনা তিনি নিজে একাধিকবার বলেছেন। সুয়ালক ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক পরিদর্শক তাঁকে একটি ইংরেজি বাক্য জিজ্ঞেস করেন; বুঝতে না পেরে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন লিখেছে, তখন থেকেই তিনি ম্রো ভাষায় ব্যাকরণের প্রয়োজন বুঝতে পারেন। ইত্তেফাক জানায়, পরিদর্শক এসেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে, আর সেদিনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন বড় হয়ে ব্যাকরণ বই লিখবেন। ওই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন জলদাস 2024 সালে তাঁর বই উন্মোচনের সময় প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াংঙান তাঁর ছাত্র।

উচ্চশিক্ষার বিবরণে উৎসগুলো বিভাগের নাম একটু আলাদাভাবে লিখেছে। বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও ডেইলি স্টার বাংলা বলছে তিনি 2012 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন; বিডিনিউজ (2024) লিখেছে ‘প্রাচ্যভাষা (পালি) বিভাগ’; বিডিনিউজের ইংরেজি প্রতিবেদন (2021) লিখেছে তিনি পালি ও সংস্কৃত পড়েছেন; দেশ রূপান্তর লিখেছে ‘প্রাচ্য ভাষা ইনস্টিটিউট’; আর গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে Department of Oriental Languages।

স্নাতকোত্তরের পরের সিদ্ধান্তটি কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদনে আছে, যার পুরো পাঠ দেশেবিদেশে পুনঃপ্রকাশ করেছে: ছাত্রাবস্থায় তিনি দুর্গম এলাকায় গিয়ে ম্রো সমাজে প্রচলিত গল্প, ছড়া, লোকগল্প আর রীতিনীতি সংগ্রহ করতেন, আর পাস করার পর ঠিক করেন চাকরির পেছনে না ছুটে খামার করবেন এবং গ্রামে গ্রামে ঘুরে পুরোনো গল্পগাথা সংগ্রহ করবেন। ধর্মবিশ্বাসে তিনি ক্রামা ধর্মের অনুসারী — ডেইলি স্টার বাংলা (অক্টোবর 2022) তাঁকে এভাবেই পরিচয় দিয়েছে।

বিষয়উৎসে যা আছেউৎস
জন্ম ও বেড়ে ওঠাচিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে বাইট্যা পাড়াডেইলি স্টার বাংলা, 2022; বিডিনিউজ, 2024
স্কুলসুয়ালক ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়বাংলা ট্রিবিউন, 2022; প্রথম আলো, 2024
উচ্চশিক্ষাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাচ্যভাষা; স্নাতকোত্তর 2012চট্টগ্রাম প্রতিদিন, 2022; ডেইলি স্টার বাংলা, 2022
বর্তমান কাজের জায়গাবান্দরবান শহর, উজানি পাড়াপ্রথম আলো, 2022
ধর্মক্রামা ধর্মের অনুসারীডেইলি স্টার বাংলা, 2022
ভাষা নিয়ে অন্য কাজমার্কিন ভাষাবিদ ডেভিড এ. পিটারসনের গবেষণা-সহকারী (রেংমিটচ্য)গ্লোবাল ভয়েসেস, 2024

নামের বানান: ইয়াংঙান, ইয়াঙান, Yangan, Younguang

বাংলা সংবাদমাধ্যমে নামটি দুইভাবে লেখা হয় — ‘ইয়াংঙান’ আর ‘ইয়াঙান’; ইংরেজিতে অন্তত তিনভাবে — Yangan, Younguang আর Yangngan। একই মানুষকে বোঝাচ্ছে, কারণ প্রতিটি প্রতিবেদনে একই বই (‘ততোং’, বীরশ্রেষ্ঠ জীবনী, রেংমিটচ্য অভিধান) আর একই এলাকার কথা আছে। খুঁজতে গেলে সবগুলো বানানই কাজে লাগে।

প্রথম আলো, বিডিনিউজ (বাংলা, 2024), ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, সমকাল ও রকমারির লেখক-তালিকা লিখেছে ‘ইয়াংঙান’। বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও ডেইলি স্টার বাংলার পাঠাগার-প্রতিবেদন লিখেছে ‘ইয়াঙান’; বিডিনিউজের জানুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে ‘ইয়াঙান’, আর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে একই লেখায় দুটোই আছে। ইংরেজিতে গ্লোবাল ভয়েসেস 2022-এ লিখেছে Younguang, 2019 ও 2024-এ Yangan; দ্য বর্ডারলেন্স একই প্রতিবেদনে Younguang ও Yangngan দুটোই লিখেছে; ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে Younguang; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ ইংরেজি লিখেছে Yangan। জুমজার্নাল ‘ইয়াংঙান’ বানানটি নিয়েছে, যেটি রকমারিতে তাঁর বইয়ের লেখক-নাম হিসেবেও আছে।

ইয়াংঙান ম্রোর বই কয়টি — 28, 29, 33 না 35?

কোনো একক সংখ্যা নেই, কারণ প্রতিটি প্রতিবেদন তার সময়ের হিসাব দিয়েছে আর হিসাব বেড়েছে। সর্বশেষ, বিডিনিউজের ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর ম্রো ভাষায় 21টি, রেংমিটচ্য ভাষায় 2টি আর বাংলায় 12টি বই প্রকাশিত হয়েছে — মোট 35। বহুল উদ্ধৃত ’28টি’ হিসাবটি ফেব্রুয়ারি-মার্চ 2022-এর।

নিচের ছকে প্রতিটি হিসাব তার উৎস ও তারিখসহ রাখা হলো। একই মাসের দুটি প্রতিবেদনেও অমিল আছে: ‘ততোং’ উন্মোচনের পর বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন লিখেছে আগে 18টি বই বেরিয়েছে (ম্রোতে 8, বাংলায় 10), আর পাঁচ দিন পর ইত্তেফাক এবং পরের মাসে গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে মোট 28টি (ম্রোতে 18, বাংলায় 10)। কোন বই কোন ভাষায় গোনা হয়েছে, সে তালিকা কোনো প্রতিবেদনে নেই।

প্রতিবেদনতারিখমোটম্রো ভাষায়বাংলায়অন্যান্য
বাংলা ট্রিবিউন; চট্টগ্রাম প্রতিদিন18–19 ফেব্রুয়ারি 202218 (‘ততোং’-এর আগে)810—
ইত্তেফাক23 ফেব্রুয়ারি 2022281810—
গ্লোবাল ভয়েসেস5 মার্চ 2022281810—
ডেইলি স্টার বাংলা18 আগস্ট 2022291910—
কালের কণ্ঠ (দেশেবিদেশে-তে পুনঃপ্রকাশিত)31 জানুয়ারি 202329——ম্রো ও বাংলা মিলিয়ে
দেশ রূপান্তর21 অক্টোবর 202327 (দুই সংখ্যার যোগফল)1512—
বিডিনিউজ16 ডিসেম্বর 202433 (বীরশ্রেষ্ঠ বইয়ের আগে)2111রেংমিটচ্য শব্দভাণ্ডার, ম্রো ও বাংলায় 1
বিডিনিউজ21 ফেব্রুয়ারি 2026352112রেংমিটচ্য ভাষায় 2

ছকের বাইরে আরেকটি অনিশ্চয়তা আছে: ‘বই’ বলতে প্রতিবেদনগুলো কী গুনেছে। 2024 সালে প্রকাশিত মেনলে ম্রোর আঁকা ছবির অ্যালবামটি ইয়াংঙান সংকলন করেছেন, লেখেননি; সেটি তাঁর বইয়ের হিসাবে ধরা হয়েছে কি না, কোনো প্রতিবেদন বলেনি। একইভাবে 24 পৃষ্ঠার বীরশ্রেষ্ঠ জীবনী আর 3,400 শব্দের অভিধান একই এককে গোনা হচ্ছে।

কোন কোন বই নথিতে পাওয়া যায়

35টির মধ্যে নাম, সাল বা প্রকাশকসহ যেগুলোর উল্লেখ সংবাদমাধ্যম, অনলাইন বইয়ের দোকান রকমারি আর উইকিপিডিয়ার তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়, সেগুলো নিচে। বাকিগুলোর নাম কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। রকমারিতে তাঁর নামে ছয়টি বই তালিকাভুক্ত, সবকটির ভাষা সেখানে ‘বাংলা’ লেখা।

বইভাষা ও বিষয়সাল / প্রকাশকউৎস
রিইয়ুং খতিক্রামা ধর্ম নিয়ে সংকলন; কালের কণ্ঠের ভাষায় তাঁর ‘প্রথম বই’2015কালের কণ্ঠ / দেশেবিদেশে, 2023
Mro Fairy Tales (ম্রো রূপকথা)ম্রো ও বাংলা — দুই সংস্করণ; বিনা মূল্যে বিতরণফেব্রুয়ারি 2019; বিদ্যানন্দগ্লোবাল ভয়েসেস, 2019
ম্রো রূপকথা; ম্রো রূপকথা – ২রূপকথা (রকমারিতে ভাষা: বাংলা)বিদ্যানন্দ প্রকাশনীরকমারি, রকমারি
ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজক্রামা ধর্ম ও সমাজ, বাংলাফেব্রুয়ারি 2020; পূর্বস্বরবাংলা উইকিপিডিয়ার ‘ক্রামা’ পাতার সূত্র; রকমারি
জুম পাহাড়ের মানুষবাংলাআগামী প্রকাশনীরকমারি
জুম পাহাড়ের জীবনবাংলাতিউড়ি প্রকাশনরকমারি
ম্রো লোকগল্পলোকগল্প, বাংলাআপন আলোরকমারি
ম্রোচ্য সাংচিয়া (ম্রো রূপকথা)ম্রো ভাষা ও বর্ণমালায়উন্মোচন ফেব্রুয়ারি 2021সমকাল, 2021
রোয়াসাং (প্রাথমিক গণিত)ম্রো ভাষা ও বর্ণমালায়উন্মোচন ফেব্রুয়ারি 2021সমকাল, 2021
ততোংম্রো ভাষার ব্যাকরণউন্মোচন 17 ফেব্রুয়ারি 2022প্রথম আলো, 2022
মিটচ্য তখকরেংমিটচ্য ভাষার শব্দভাণ্ডার/অভিধান, ম্রো ও বাংলা হরফে; প্রায় 3,400 শব্দউন্মোচন 31 জানুয়ারি 2023; বনতুলি প্রিন্টার্স, বান্দরবান; নিজ খরচেকালের কণ্ঠ / দেশেবিদেশে; গ্লোবাল ভয়েসেস, 2024
বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান তেকঅমি ৭ বিলা খেকো লাইক্লো৭ মার্চের ভাষণের ম্রো অনুবাদউন্মোচন 21 অক্টোবর 2023দেশ রূপান্তর, 2023
(নাম উল্লেখ নেই)পৌরাণিক লোককাহিনিসহ 100টি ম্রো রূপকথাউন্মোচন 21 অক্টোবর 2023দেশ রূপান্তর, 2023
নমমো তসেন কিয়াক মিসাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী, ম্রো বর্ণমালায়; 24 পৃষ্ঠাউন্মোচন 15 ডিসেম্বর 2024বিডিনিউজ, 2024; প্রথম আলো, 2024
মেনলে ম্রোর আঁকা ছবির অ্যালবাম (সংকলন)23টি ছবি, বর্ণনাসহউন্মোচন 15 ডিসেম্বর 2024বিডিনিউজ, 2024

ডেইলি স্টার বাংলা (2022) তাঁর বইয়ের বিষয় হিসেবে ম্রো ভাষায় রূপকথা, লোককাহিনি, ক্রামা ধর্ম, ব্যাকরণ ও ‘ম্রো ভাষার অভিধান’-এর কথা বলেছে, আর পাঠাগারে রাখা বইয়ের মধ্যে পৌরাণিক গল্প, পাহাড়ের জীবন-জীবিকার গল্প ও কবিতার বইয়ের কথা। ম্রো ভাষার সেই অভিধানটির নাম বা প্রকাশসাল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন তাঁর বইয়ের তালিকায় ‘ক্রামাদি’ নামেও একটি বইয়ের কথা বলেছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2023) কালের কণ্ঠের সাক্ষাৎকারের বরাতে রেংমিটচ্য ভাষার ব্যাকরণগত নিয়ম নিয়ে প্রায় 3,000 শব্দের একটি বইয়ের কথা লিখেছে; এটি ‘মিটচ্য তখক’ থেকে আলাদা বই কি না, প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় না।

ম্রো রূপকথা: বিদ্যানন্দের বই আর ‘প্রথম কথাসাহিত্য’

2019 সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ইয়াংঙান ম্রোর লেখা ‘Mro Fairy Tales’ প্রকাশ করে বিনা মূল্যে বিতরণ করে। গ্লোবাল ভয়েসেস বইটিকে ম্রো ভাষার ফন্টে প্রকাশিত প্রথম কথাসাহিত্য বলেছে। বইটির একটি বাংলা সংস্করণও বের হয়, যাতে অন্য জনগোষ্ঠীর পাঠকও গল্পগুলো পড়তে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বইয়ের গল্পগুলো ম্রোদের বিশ্বাস, রূপক, সংস্কৃতি ও আচার নিয়ে। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস গ্লোবাল ভয়েসেসকে দুটি সমস্যার কথা বলেছিলেন। প্রথমটি ছিল ম্রো ভাষায় লেখক খুঁজে পাওয়া — তাঁরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেন, পরে এক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে এই লেখকের খোঁজ মেলে। দ্বিতীয় সমস্যা ফন্ট: তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা কেন্দ্র বাংলাবাজারে এই ফন্টে কখনো কাজ হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যানন্দের আদিবাসী এতিমখানাগুলোর কয়েকশো শিশুর হাতে মাতৃভাষার বই দেওয়া। একই লেখা সিয়াটল স্টার মার্চ 2019-এ পুনঃপ্রকাশ করে।

রকমারিতে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর দুটি বই তাঁর নামে আছে — ‘ম্রো রূপকথা’ ও ‘ম্রো রূপকথা – ২’, দুটির ভাষাই সেখানে ‘বাংলা’ লেখা। 2019-এর ম্রো-ফন্ট সংস্করণটি রকমারির তালিকায় আলাদা করে নেই। এর দুই বছর পর, ফেব্রুয়ারি 2021-এ, সমকাল ম্রো বর্ণমালায় রচিত পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের খবর দেয়, যার একটি ইয়াংঙান ম্রোর ‘ম্রোচ্য সাংচিয়া’ — বাংলায় ‘ম্রো রূপকথা’। এটি বিদ্যানন্দের বইটিরই নতুন সংস্করণ না আলাদা সংকলন, প্রতিবেদনে বলা নেই।

অক্টোবর 2023-এ তাঁর আরেকটি রূপকথার বই উন্মোচিত হয় — দেশ রূপান্তর জানায়, এতে ম্রো সমাজের পৌরাণিক লোককাহিনিসহ 100টি রূপকথার গল্প আছে। ম্রো রূপকথার একটি আলাদা সংগ্রহ জুমজার্নালের আর্কাইভের ম্রো রূপকথা সংকলনে আছে, যার লেখকেরা ভিন্ন; সেখানকার গল্পগুলোর লেখক হিসেবে সিংইয়ং ম্রো, তুমপিয় ম্রো ও চামপয় ম্রোর নাম আছে।

‘ততোং’ কেন লেখা হলো

‘ততোং’ ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই, যা ইয়াংঙান ম্রো বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে লিখেছেন; বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় 17 ফেব্রুয়ারি 2022, বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় তাঁর বাসভবনে। প্রথম আলো লিখেছে, ব্যাকরণ না থাকায় এতদিন একেকজন একেকভাবে বানান, শব্দপ্রয়োগ ও ক্রিয়াপদ ব্যবহার করতেন।

বইটির বিষয়বস্তু, গঠন ও তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে জুমজার্নালে আলাদা একটি লেখা পরিকল্পনায় আছে; এখানে কেবল লেখকের দিকটি। মোড়ক উন্মোচনে তিনি বলেছিলেন, ‘এ বইয়ের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন শুদ্ধভাবে তা‌দের ভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে’, আর ম্রো শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বুঝতেও বইটি সাহায্য করবে (গ্লোবাল ভয়েসেস, বাংলা ট্রিবিউন)। প্রথম প্রকাশ বলে ভুলত্রুটি থাকতে পারে, পরের সংস্করণে তা ঠিক করা হবে — এ কথাও তিনি নিজেই বলেছেন। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, লেখার সময় ম্রো সমাজের বিশিষ্টজন ও ম্রো ভাষার শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়েছে, আর ব্যাকরণটি ‘ম্রোদের নিজস্ব নিয়মে’ লেখা।

মোড়ক উন্মোচনের বিবরণে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ছোট অমিল আছে। প্রথম আলো লিখেছে, ক্রামা ধর্মের প্রধান পুরোহিত লেংয়াং ম্রো মোড়ক উন্মোচন করেন; বাংলা ট্রিবিউন তাঁকে বলেছে ক্রামা ধর্মের ‘প্রধান শিষ্য’; ইত্তেফাক লিখেছে লেংয়াং ম্রো, শিক্ষক ঙানসিং ম্রো ও সামাজিক সংগঠক রিয়ং ম্রো মিলে উন্মোচন করেন। ম্রো বর্ণমালা কোন সালে তৈরি, সে প্রশ্নেও লেখকের নিজের উদ্ধৃতি দুই পত্রিকায় দুইরকম: প্রথম আলোয় 1982, ইত্তেফাকে 1984। বর্ণমালার সাল নিয়ে পুরো বিতর্কটি ম্রো লিপির লেখায় সূত্রসহ আছে।

সাদা পটভূমিতে কালো রঙে ম্রো লিপির তিনটি অক্ষরে লেখা একটি শব্দ
ম্রো লিপিতে লেখা “ম্রো” শব্দ — ইয়াংঙান ম্রোর ম্রো-ভাষার বইগুলো এই লিপিতেই ছাপা। ছবি: ইজিয়ান · CC0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

তিনি কি ‘ম্রো ভাষার প্রথম লেখক’?

কয়েকটি বাংলা প্রতিবেদন তাঁকে ‘ম্রো ভাষার প্রথম লেখক’ বা ‘ম্রো ভাষায় প্রথম প্রকাশিত বইয়ের লেখক’ বলেছে। আবার অন্য উৎসগুলোতে তাঁর আগেই ম্রো লিপিতে লেখা ও ছাপা বইয়ের উল্লেখ আছে। গ্লোবাল ভয়েসেস তাঁকে দুটি নির্দিষ্ট ‘প্রথম’-এর কৃতিত্ব দেয় — ম্রো ফন্টে প্রথম কথাসাহিত্য (2019) আর ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ (2022)।

দুই পক্ষের কথা পাশাপাশি:

উৎসযা বলা হয়েছে
ডেইলি স্টার বাংলা, 6 অক্টোবর 2023চট্টগ্রামে একটি আলোকচিত্র-বইয়ের আলোচনায় আলোচকদের তালিকায় তাঁকে ‘ম্রো ভাষার প্রথম লেখক ইয়াংঙান ম্রো’ বলা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর, 21 অক্টোবর 2023‘ম্রো ভাষায় প্রথম প্রকাশিত বইয়ের লেখকও তিনি।’
কালের কণ্ঠ / দেশেবিদেশে, 31 জানুয়ারি 2023‘ম্রো ভাষায় প্রথম বইয়েরও লেখক তিনি।’ একই প্রতিবেদন বলছে তাঁর প্রথম বই ‘রিইয়ুং খতি’ বেরোয় 2015-এ।
গ্লোবাল ভয়েসেস, 2019‘Mro Fairy Tales’ ম্রো ভাষার ফন্টে প্রকাশিত প্রথম কথাসাহিত্য।
গ্লোবাল ভয়েসেস, 2022‘ততোং’ ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ; আগেও ম্রো ভাষায় কিছু বই প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু ব্যাকরণ লিখিত ছিল না।
বাংলা ট্রিবিউন, 2022; চট্টগ্রাম প্রতিদিন‘ম্রো ভাষায় বিভিন্ন লেখা ও বইপত্র থাকলেও’ এবারই প্রথম ব্যাকরণ।
নিউ এজ, 21 ফেব্রুয়ারি 20261994 সালে Menrum Mro প্রথম ম্রো সফটওয়্যার তৈরি করেন (পরে নাম হয় ‘Rien’) এবং তা দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষার একটি বই প্রকাশ করেন; 2004 সালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অর্থায়নে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপা হয়।
সমকাল, 2021মেনলে ম্রো ‘ম্রো ভাষায় অনেকগুলো বই রচনা করে গেছেন’; 2021-এ তাঁর তিনটি বই — ‘হইলাই’, ‘অরি খতি’ ও ‘রাঅং সাংচিয়া’ — ইয়াংঙানের দুটি বইয়ের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয়।
বিডিনিউজ, 2026বর্ণমালা তৈরির পর থেকেই আমন্ত্রণপত্র, চিঠি, সামাজিক নির্দেশনা ও পাড়ার নাম ম্রো ভাষায় লেখা হতো, ছোট ছোট পুস্তিকাও ছাপা হতো।

নিউ এজের উল্লেখ করা 1994 সালের বইটি কালের কণ্ঠের দেওয়া তাঁর প্রথম বইয়ের সালের (2015) আগের। যে দুটি ‘প্রথম’ একাধিক উৎসে একইভাবে আছে, তা হলো ব্যাকরণ (‘ততোং’) আর রেংমিটচ্য ভাষার প্রকাশিত অভিধান (‘মিটচ্য তখক’)। ম্রো ভাষায় ছাপা বইয়ের পুরো ইতিহাস ম্রো লিপির লেখার বইয়ের ছকে আছে।

রেংমিটচ্য ভাষা: অভিধান, শব্দভাণ্ডার ও ক্লাস

রেংমিটচ্য বান্দরবানের আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি ম্রো পরিবারের মাতৃভাষা, যা 2021 সালে মাত্র ছয়জন সাবলীলভাবে বলতে পারতেন। ইয়াংঙান ম্রো মার্কিন ভাষাবিদ ডেভিড এ. পিটারসনের সঙ্গে 2013–14 সাল থেকে এই ভাষা নিয়ে কাজ করছেন, এবং 2023 সালে প্রায় 3,400 শব্দের অভিধান ‘মিটচ্য তখক’ প্রকাশ করেন — গ্লোবাল ভয়েসেসের ভাষায় এটিই একমাত্র প্রকাশিত রেংমিটচ্য অভিধান।

কাজটি কীভাবে শুরু হলো

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন (দেশেবিদেশে-তে পুনঃপ্রকাশিত) জানায়, ম্রো ও খুমি ভাষা নিয়ে কাজ করা ডেভিড এ. কে. পিটারসন 1999 সাল থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতেন, সেই সূত্রে ইয়াংঙানের সঙ্গে পরিচয়। 2014 সালে পিটারসন তাঁকে রেংমিটচ্য নিয়ে কাজের আগ্রহের কথা জানান। ইয়াংঙান নিজে ম্রো হয়েও এর আগে জানতেন না যে তাঁদের মধ্যে এই নামে কোনো ভাষা আছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস কালের কণ্ঠের সাক্ষাৎকারের বরাতে তাঁর কথা উদ্ধৃত করেছে: 2014-র আগে তিনি জানতেনই না পৃথিবীতে রেংমিটচ্য নামে কোনো ভাষা আছে।

কাজ শুরুর সাল নিয়ে উৎসগুলো এক নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (দুটোই ফেব্রুয়ারি 2021) তাঁর কথা উদ্ধৃত করেছে: 2013 সালে কয়েকটি পাড়ায় ছড়িয়ে থাকা 22 জন রেংমিটচ্যভাষীকে পাওয়া গিয়েছিল। বিডিনিউজ (2024) লিখেছে তিনি 2013 সাল থেকে 10 বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেছেন। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও কালের কণ্ঠ কাজ শুরুর সাল লিখেছে 2014, আর ডেইলি স্টার বাংলা (2022) লিখেছে 2014 থেকে তিনি ‘রিমিটচ্য’ ভাষার ওপর গবেষণা করছেন।

মাঠের কাজের ধরন দুটি প্রতিবেদনে আছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, তিনি আলীকদমের প্রত্যন্ত পাহাড়ে শেষ কয়েকজন রেংমিটচ্যভাষীকে খুঁজেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার ও গান রেকর্ড করেছেন এবং পিটারসনের জন্য ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। কালের কণ্ঠ লিখেছে, পিটারসন প্রায়ই তাঁকে তৈন খালের দুর্গম এলাকা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির নানা জায়গায় পাঠাতেন ভাষাভাষীদের খুঁজতে। গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) লিখেছে, তিনি পিটারসনের গবেষণা-সহকারী ছিলেন; 2015-তে পিটারসন চলে যাওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যান, কোভিডের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, আর 2021-এ ফিরে গিয়ে দেখেন মাত্র ছয়জন বেঁচে আছেন।

দুই ভাষা কতটা আলাদা

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (2021) তিনি বলেছেন, রেংমিটচ্য ও ম্রো ভাষার মধ্যে মিল মাত্র 10 শতাংশ, অমিল 90 শতাংশ; রেংমিটচ্যভাষীরা নিজেদের মধ্যে কথা বললে ম্রোরা বোঝেন না, তবে রেংমিটচ্যভাষীরা সবাই ম্রো বলতে পারেন। ভাষাতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাসে রেংমিটচ্য কুকি-চিন পরিবারের ‘খোমিক’ শাখার ভাষা, খুমি ও ম্রোর ঘনিষ্ঠ কিন্তু আলাদা — ইংরেজি উইকিপিডিয়া এই শ্রেণিবিন্যাস পিটারসনের 2017 সালের কাজের বরাতে দিয়েছে। ভাষাটির নিজস্ব লিপি নেই। আর ভাষা না জানলেও রেংমিটচ্যরা জাতি হিসেবে ম্রো — কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে এটি পিটারসনের কথা হিসেবে আছে।

‘মিটচ্য তখক’ অভিধান

31 জানুয়ারি 2023 অভিধানটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচনের দিন কালের কণ্ঠ লেখে, এতে প্রায় 3,400 শব্দ আছে, ম্রো ভাষার পাশাপাশি বাংলা অনুবাদসহ; কৃষি, সংস্কৃতি, ধর্ম, খাবার, জিনিসপত্র, ফলমূলসহ দৈনন্দিন শব্দ, আর কিছু সাধারণ কথোপকথন। প্রকাশ করেছে বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স, খরচ লেখকের নিজের। প্রচ্ছদে আছে তখনকার ছয় রেংমিটচ্যভাষীর ছবি। লেখার কারণ হিসেবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজ করতে করতে রেংমিটচ্যভাষীদের ‘একজন হয়ে গেলাম’, আর তাঁরাই একসময় তাঁকে একটি ডিকশনারি বানিয়ে দিতে বলেছিলেন।

অভিধানটি কোন হরফে লেখা, তার বর্ণনা উৎসভেদে আলাদা। কালের কণ্ঠ লিখেছে অভিধানটি ‘ম্রো বর্ণমালায় লেখা’, কারণ রেংমিটচ্যভাষীরা ম্রো বর্ণমালা পড়তে পারেন। গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) লিখেছে, তিনি ম্রো ও বাংলা দুই বর্ণমালাই ব্যবহার করেছেন। বিডিনিউজ (ডিসেম্বর 2024) লিখেছে, ম্রো শব্দের পাশাপাশি রেংমিটচ্য উচ্চারণ বাংলা হরফে লেখা হয়েছে। আর বিডিনিউজের জানুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে তিনি নিজে বলেছেন, অক্ষর না থাকায় ‘বাংলা শব্দ দিয়ে’ শব্দভাণ্ডারটি বের করেছেন, যাতে তিন হাজারের বেশি শব্দ আছে — শরীরের অঙ্গ থেকে গাছপালা, পশুপাখি, খাবার, খেলাধুলা, দিন ও মাসের নাম, কিছু বাক্য আর গণনা।

ক্রাংসি পাড়ার সন্ধ্যার ক্লাস

ডিসেম্বর 2023 থেকে আলীকদমের তৈন মৌজার ক্রাংসি পাড়ায় এক রেংমিটচ্য পরিবারের বাড়িতে প্রতি সন্ধ্যায় রেংমিটচ্য শেখানো হচ্ছে, মূলত এই অভিধান থেকে। বিডিনিউজ (জানুয়ারি 2024) ইয়াংঙান ম্রোকে এই কার্যক্রমের ‘উদ্যোক্তা’ বলেছে এবং তাঁর বরাতে লিখেছে, শুরুতে 21 জন থাকলেও শিক্ষার্থী বেড়ে 35 জন হয়েছে; শিক্ষক রেংমিটচ্যভাষী মাংপুং ম্রোর ছেলে সিংরা ম্রো। গ্লোবাল ভয়েসেস (ফেব্রুয়ারি 2024) কার্যক্রমটিকে সিংরা ম্রোর উদ্যোগ বলেছে — তিনি নিজের খরচে, ইয়াংঙানের পরামর্শ নিয়ে ক্লাস শুরু করেন, আর বিদ্যমান উপকরণের মধ্যে প্রধান ভরসা ইয়াংঙানের অভিধান।

রেংমিটচ্যভাষীর সংখ্যা এরপরও কমেছে। ইত্তেফাক ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা জুলাই 2026-এ জানায়, ছয়জনের একজন 5 মে 2026 মারা গেছেন, এখন সাবলীলভাবে বলতে পারেন পাঁচজন — তথ্যটি দিয়েছেন ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে পিএইচডি গবেষণারত আফসানা ফেরদৌস আশা। ইত্তেফাকের ওই প্রতিবেদনেও ইয়াংঙান ম্রোর ‘মিটচ্য তখক’-কে ভাষাটি সংরক্ষণের আগের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাষা রক্ষা নিয়ে তাঁর নিজের অবস্থান গ্লোবাল ভয়েসেসের সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট: কেবল অভিধান বানিয়ে, বই ছেপে বা ক্লাস নিয়ে একটি ভাষা একা বাঁচানো যায় না, সরকারের সাহায্য দরকার। তাঁর প্রস্তাব — বেঁচে থাকা ভাষাভাষীদের অংশগ্রহণ, অভিধান-ব্যাকরণ-শিক্ষার সুযোগ, আর তাঁদের এক জায়গায় থাকার ব্যবস্থা, যাতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারেন। ভাষাটি ক্ষয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, রেংমিটচ্যরা এক জায়গায় থাকেন না; কোনো গ্রামে 25 পরিবারের মধ্যে 7টি, কোথাও একটিমাত্র পরিবার রেংমিটচ্য বলে।

সময়রেংমিটচ্যভাষীর সংখ্যাউৎস
201322 জনবিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 2021 (ইয়াংঙান ম্রোর বরাতে)
2014প্রায় 22 জনফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, 2023 (ইয়াংঙান ম্রোর বরাতে)
201430-এর কম, পুরো সাবলীল 5 জনইংরেজি উইকিপিডিয়া (পিটারসন 2020-এর বরাতে)
ফেব্রুয়ারি 202110 জনসমকাল, 2021 (অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই রেংমিটচ্যের বরাতে)
20216 জনবিডিনিউজ, 2021; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 2021
ফেব্রুয়ারি 20247 জনদ্য ডেইলি স্টার, 2024 (রেংমিটচ্য শেখানো শিক্ষক Ching Ra Mro-র বরাতে)
জুলাই 20265 জনইত্তেফাক, 2026; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, 2026

বীরশ্রেষ্ঠ আর ৭ মার্চ: জাতীয় ইতিহাস ম্রো ভাষায়

ইয়াংঙান ম্রো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুটি বিষয় ম্রো ভাষায় এনেছেন: সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী ‘নমমো তসেন কিয়াক মি’ (ডিসেম্বর 2024) আর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অনুবাদ (অক্টোবর 2023)। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর যুক্তি একই — বেশিরভাগ ম্রো বাংলা পড়তে পারেন না, কিন্তু নিজের ভাষায় পারেন।

‘নমমো তসেন কিয়াক মি’

বিডিনিউজ জানায়, 24 পৃষ্ঠার বইটি তিনি 2017 সালের ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাত বছর ধরে লিখেছেন, আর 15 ডিসেম্বর 2024 বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ার একটি রেস্তোরাঁয় তাঁর স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন জলদাস মোড়ক উন্মোচন করেন। শুরুর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একদিন দেখেন একজন ম্রো সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে একটি বাংলা বই নাড়াচাড়া করছেন। নামের প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা: ম্রো ভাষায় ‘বীরশ্রেষ্ঠ’-এর সরাসরি কোনো শব্দ নেই, তাই নাম রাখা হয়েছে ‘নমমো তসেন কিয়াক মি’, বাংলায় ‘যুদ্ধের মধ্যে সেরা’।

সময় কেন লাগল, তারও উত্তর দিয়েছেন: একটানা কাজ হয়নি, আর বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে পড়া অনেক বাংলা শব্দের অর্থ তাঁর জানা ছিল না, ফলে ম্রো ভাষায় রূপান্তরে অনেক জ্যেষ্ঠজনের সাহায্য নিতে হয়েছে। দ্য বর্ডারলেন্স তাঁর কথা উদ্ধৃত করেছে: অনেক বাংলা শব্দের সরাসরি ম্রো প্রতিশব্দ নেই, তাই তিনি প্রবীণ ও পণ্ডিতদের পরামর্শ নিয়েছেন। প্রথম আলো অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ম্রো ভাষার শিক্ষক ও শিল্পী ঙানসিং ম্রো এবং ম্রো ভাষা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য রিংইয়ং ম্রোর নাম দিয়েছে। বর্ডারলেন্স বইটির নামের অর্থ ‘Bir Sreshtho’ লিখেছে, বিডিনিউজ লিখেছে ‘যুদ্ধের মধ্যে সেরা’।

৭ মার্চের ভাষণ

দেশ রূপান্তর জানায়, 21 অক্টোবর 2023 বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের পাশে রামরি পাড়ার ‘জুম ঘর লাইব্রেরি’তে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ম্রো অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন হয়; ম্রো ভাষায় বইটির নাম ‘বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান তেকঅমি ৭ বিলা খেকো লাইক্লো’। অনুবাদের প্রেরণা হিসেবে তিনি বলেছেন, ছেলেবেলায় জুমঘরে বাবা-মা ও প্রবীণদের কাছে রূপকথার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার বিবরণ শুনতেন, আর বাবা-মা চাইতেন এসব গল্প প্রজন্মান্তরে ছড়াক। একই প্রতিবেদনে তিনি পাহাড়ি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের নিয়েও ম্রো ভাষায় বই লেখার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। ওই প্রতিবেদনে ম্রোদের 70–80 শতাংশ নিজের ভাষায় লিখতে-পড়তে পারেন বলেও লেখা আছে; সাক্ষরতার অন্য হিসাবগুলোর সঙ্গে তুলনা ম্রো লিপির লেখায় আছে।

মেনলের আঁকা ছবি: 17 বছরে জোগাড় করা 23টি ছবি

ম্রো বর্ণমালা ও ক্রামা ধর্মের প্রবর্তক মেনলে ম্রোর আঁকা 23টি ছবি ইয়াংঙান ম্রো 17 বছর ধরে সংগ্রহ করে বর্ণনাসহ একটি অ্যালবামে প্রকাশ করেছেন; অ্যালবামটি 15 ডিসেম্বর 2024 বীরশ্রেষ্ঠ বইয়ের সঙ্গে উন্মোচিত হয়। বিডিনিউজকে তিনি বলেছেন, 1982 সালে আঁকা ছবিগুলো নানা মানুষের কাছে ছিল, কোনোটি নষ্ট হওয়ার পথে, কোনোটি অস্পষ্ট।

প্রথম আলোকে তিনি ছবিগুলোর বিষয় সম্পর্কে বলেছেন, মেনলে কেবল ধর্মপ্রবর্তক ও বর্ণমালার উদ্ভাবক নন, ভালো অঙ্কনশিল্পীও ছিলেন; ধ্যান-সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি তখনকার সমাজের অশিক্ষা, কুসংস্কার আর ভালো-মন্দ নিয়ে ক্যানভাসে ছবি এঁকেছিলেন। দ্য বর্ডারলেন্স লিখেছে ছবিগুলো পুনরুদ্ধার করে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেনলে ম্রোর জীবন, অন্তর্ধান ও ক্রামা ধর্ম নিয়ে বিস্তারিত আছে ক্রামা ধর্ম ও মেনলে ম্রোর লেখায়।

মেনলের পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের একটি নথিও আছে। অক্টোবর 2022-এ মেনলের বাবা মেনসিং ম্রো 85 বছর বয়সে ক্রামাদি পাড়ায় মারা গেলে ডেইলি স্টার বাংলাকে খবরটি নিশ্চিত করেন ইয়াংঙান ম্রো। তিনি বলেন, ক্রামাদি নিরুদ্দেশ হওয়ার পর থেকে মেনসিং ম্রো ক্রামা ধর্ম ও ম্রো বর্ণমালা টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে গেছেন, আর প্রতি বছর ক্রামা ধর্মের বার্ষিক সম্মেলনে সবার খোঁজখবর নিতেন।

ক্রামা ধর্ম নিয়ে লেখা

ক্রামা ধর্ম নিয়ে ইয়াংঙান ম্রোর অন্তত দুটি বইয়ের নাম পাওয়া যায়: 2015 সালের সংকলন ‘রিইয়ুং খতি’ আর ফেব্রুয়ারি 2020-এ পূর্বস্বর প্রকাশিত ‘ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজ’। দ্বিতীয় বইটি বাংলা উইকিপিডিয়ার ‘ক্রামা’ পাতার প্রথম তথ্যসূত্র, আর সেই সূত্রে জুমজার্নালের ম্রো জাতি নিয়ে লেখাতেও উদ্ধৃত।

বাংলা উইকিপিডিয়ার পাতাটি তিনটি বইয়ের ওপর দাঁড়ানো — ইয়াংঙান ম্রোর বইটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ‘বাংলাদেশের আদিবাসী’ আর সুগত চাকমার ‘বাংলাদেশের উপজাতি’। ক্রামা ধর্মের পরিচয় নিয়ে বিডিনিউজকে (2024) তিনি বলেছেন, আশির দশকে মেনলে ম্রো ধর্মটি প্রবর্তন করেন, ‘ক্রামা’ অর্থ অসীম জ্ঞানের অধিকারী, আর ধর্ম প্রবর্তনের পাশাপাশি তিনিই প্রথম ম্রো বর্ণমালা রচনা করেন; পরে শিষ্য তৈরি করে তাঁদের মাধ্যমে বর্ণমালা ও ধর্ম প্রচার করেন। ধর্মটির আচার, উৎসব ও বিশ্বাসের বিবরণ এখানে নয় — সেগুলো ক্রামা ধর্মের পূর্ণাঙ্গ লেখায় সূত্রসহ আছে।

মিয়ানমারের ম্রোদের সঙ্গে বইয়ের আদান-প্রদান নিয়েও তিনি বলেছেন। বিডিনিউজকে (2026) তাঁর পর্যবেক্ষণ: মিয়ানমারের ম্রোরা বাংলাদেশের ম্রোদের হরফই ব্যবহার করেন, আর এখানে বেড়াতে এলে গান ও গল্পের বই এবং সামাজিক ও ক্রামা রীতিনীতির বই কিনে নিয়ে যান। মিয়ানমারে এই লিপির ব্যবহার নিয়ে অন্য উৎসগুলো ভিন্ন কথা বলে; সেই বিরোধ ম্রো লিপির লেখায় পাশাপাশি রাখা আছে।

জুমঘরের পাঠাগার

‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’ ইয়াংঙান ম্রোর গড়া একটি পাঠাগার, চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে রামরি পাড়ায়, বান্দরবান সদর থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে। ঘরটি ছিল তাঁর পরিবারের জুমঘর, প্রায় 1,300 ফুট উচ্চতায়। পাঠাগারের বই মূলত তাঁর নিজের লেখা — পৌরাণিক গল্প, রূপকথা, পাহাড়ের জীবন-জীবিকার গল্প আর কবিতার বই।

চিম্বুক পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা নিচের উপত্যকায় সবজিখেত, বাঁশঝাড় ও দূরে বনঢাকা পাহাড়
চিম্বুক পাহাড় থেকে দেখা উপত্যকা। এই পাহাড়ের পাদদেশেই বাইট্যা পাড়া ও রামরি পাড়া। ছবি: Moheen Reeyad · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

ডেইলি স্টার বাংলাকে (আগস্ট 2022) তিনি পাঠাগারের উদ্দেশ্য বলেছেন: বাবা-মায়ের স্মৃতি ধরে রাখা, আর ম্রো ছেলেমেয়েরা এখন যে সমাজের গল্প থেকে বঞ্চিত, স্কুল বন্ধের দিনে তাদের সেই কাহিনি ও রূপকথা শোনানো; পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। রুমা উপজেলার রুইফো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেনচং ম্রো পত্রিকাটিকে বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে অনেক ম্রো পাড়া থাকলেও আগে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কেউ ছিল না।

পাঠাগারটি পরে তাঁর বই উন্মোচনের জায়গাও হয়েছে: দেশ রূপান্তর অনুযায়ী অক্টোবর 2023-এ ৭ মার্চের ভাষণের অনুবাদ ও 100 রূপকথার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয় রামরি পাড়ার ‘জুম ঘর লাইব্রেরি’তে। পাঠাগারে এখন কত বই, কতজন নিয়মিত আসে — 2022-এর পরের কোনো হিসাব প্রকাশিত হয়নি।

ফোনে ম্রো লেখা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ

2026 সালে বিডিনিউজকে ইয়াংঙান ম্রো বলেছেন, অ্যাপ বের হওয়ার আগে মোবাইলে ম্রো ভাষায় লেখার সুযোগ ছিল না; এখন যাঁরা বাংলা জানেন না, তাঁরাও খুব সহজে নিজের ভাষায় লিখতে পারছেন — বার্তা পাঠাচ্ছেন, মোবাইল নম্বর সেভ করছেন, ম্রো অঙ্কে হিসাব করছেন, চ্যাট করছেন। একই প্রতিবেদন জানায়, তিনি নিজেও ফেসবুকে ম্রো ভাষায় লেখেন।

এই পর্যবেক্ষণের পটভূমি — সরকারের আইসিটি বিভাগের ‘ইউবোর্ড’ অ্যাপ (জানুয়ারি 2026) আর তার আগের ‘কেইমেন’ কিবোর্ড — নিয়ে বিস্তারিত আছে ফোনে ও কম্পিউটারে ম্রো লিপি লেখার উপায় নিয়ে আমাদের লেখায়। এখানে প্রাসঙ্গিক শুধু একটি তুলনা: 2019 সালে বিদ্যানন্দকে তাঁর প্রথম বই ছাপতে গিয়ে ম্রো ফন্ট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল; 2022-এ গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছিল ম্রোর ইউনিকোড ব্লক থাকলেও ভাষাটি তখনো অনলাইনে লেখা যেত না। পাহাড়ি ভাষাগুলোর লিপি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার বড় ছবিটি আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষা ও লিপি নিয়ে আমাদের মূল লেখায়, আর পুরো অঞ্চলের প্রসঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।

সময়রেখা: ইয়াংঙান ম্রোর কাজ, বছর ধরে

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তারিখ ধরে তাঁর কাজের ক্রম নিচে। যেখানে উৎসে অমিল, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে।

সময়ঘটনাউৎস
স্কুলজীবনসুয়ালক ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পরিদর্শকের ইংরেজি প্রশ্ন — ব্যাকরণ লেখার প্রতিজ্ঞাইত্তেফাক
2012চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যভাষায় স্নাতকোত্তরবাংলা ট্রিবিউন
2013 / 2014ডেভিড এ. পিটারসনের সঙ্গে রেংমিটচ্য নিয়ে কাজ শুরু (সাল উৎসভেদে আলাদা)বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
2015প্রথম বই ‘রিইয়ুং খতি’কালের কণ্ঠ / দেশেবিদেশে
ডিসেম্বর 2017বীরশ্রেষ্ঠ জীবনী লেখা শুরুবিডিনিউজ
ফেব্রুয়ারি 2019‘Mro Fairy Tales’, বিদ্যানন্দগ্লোবাল ভয়েসেস
ফেব্রুয়ারি 2020‘ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজ’, পূর্বস্বরবাংলা উইকিপিডিয়া
ফেব্রুয়ারি 2021‘ম্রোচ্য সাংচিয়া’ ও ‘রোয়াসাং’ উন্মোচন, মেনলের তিনটি বইয়ের সঙ্গেসমকাল
17 ফেব্রুয়ারি 2022‘ততোং’ উন্মোচনপ্রথম আলো
আগস্ট 2022জুমঘরে পাঠাগার ‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’ডেইলি স্টার বাংলা
31 জানুয়ারি 2023রেংমিটচ্য অভিধান ‘মিটচ্য তখক’ উন্মোচনকালের কণ্ঠ / দেশেবিদেশে
21 অক্টোবর 2023৭ মার্চের ভাষণের ম্রো অনুবাদ ও 100 রূপকথার বইদেশ রূপান্তর
ডিসেম্বর 2023ক্রাংসি পাড়ায় রেংমিটচ্য ক্লাস শুরুবিডিনিউজ; গ্লোবাল ভয়েসেস
15 ডিসেম্বর 2024‘নমমো তসেন কিয়াক মি’ ও মেনলের ছবির অ্যালবামপ্রথম আলো
ফেব্রুয়ারি 2026মোট বই: ম্রোতে 21, রেংমিটচ্যতে 2, বাংলায় 12বিডিনিউজ

প্রশ্নোত্তর

ইয়াংঙান ম্রো কে?

ইয়াংঙান ম্রো বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাইট্যা পাড়ার একজন ম্রো লেখক ও গবেষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচ্যভাষায় স্নাতকোত্তর (2012) করার পর তিনি ম্রো ও বাংলায় রূপকথা, লোককাহিনি, ক্রামা ধর্ম, ব্যাকরণ ও জীবনীর বই লিখছেন। ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ‘ততোং’ (2022) এবং রেংমিটচ্য ভাষার অভিধান ‘মিটচ্য তখক’ (2023) তাঁর লেখা।

ইয়াংঙান ম্রো কয়টি বই লিখেছেন?

প্রতিবেদনভেদে সংখ্যা আলাদা। গ্লোবাল ভয়েসেস ও ইত্তেফাক (2022) লিখেছে 28টি — ম্রো ভাষায় 18, বাংলায় 10। ডেইলি স্টার বাংলা (আগস্ট 2022) লিখেছে 29টি, বিডিনিউজ (ডিসেম্বর 2024) 33টি। সর্বশেষ বিডিনিউজ (ফেব্রুয়ারি 2026) লিখেছে ম্রো ভাষায় 21টি, রেংমিটচ্য ভাষায় 2টি ও বাংলায় 12টি — মোট 35।

ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই কোনটি, কে লিখেছেন?

ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই ‘ততোং’, লিখেছেন ইয়াংঙান ম্রো। 17 ফেব্রুয়ারি 2022 বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় তাঁর বাসভবনে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়। প্রথম আলো জানায়, বইটি বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে লেখা; এর আগে বানান ও ক্রিয়াপদের ব্যবহারে লেখকভেদে অমিল ছিল।

ইয়াংঙান ম্রো কি ম্রো ভাষার প্রথম লেখক?

ডেইলি স্টার বাংলা ও দেশ রূপান্তর (2023) তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছে। তবে নিউ এজ (2026) জানায়, 1994 সালে Menrum Mro ম্রো সফটওয়্যারে একটি ধর্মীয় বই প্রকাশ করেন, আর 2004-এ ম্রো পাঠ্যবই ছাপা হয়। গ্লোবাল ভয়েসেস তাঁকে ম্রো ফন্টে প্রথম কথাসাহিত্য (2019) ও প্রথম ব্যাকরণের (2022) কৃতিত্ব দেয়।

‘মিটচ্য তখক’ কী?

‘মিটচ্য তখক’ বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষার অভিধান, লিখেছেন ইয়াংঙান ম্রো; মোড়ক উন্মোচন 31 জানুয়ারি 2023। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে প্রায় 3,400 শব্দ, বাংলা অনুবাদসহ; বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে লেখকের নিজ খরচে ছাপা। গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) একে একমাত্র প্রকাশিত রেংমিটচ্য অভিধান বলেছে।

রেংমিটচ্য ভাষায় এখন কতজন কথা বলেন?

2021 সালে বিডিনিউজ ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায় ছয়জন, সবাই ষাটোর্ধ্ব। ইত্তেফাক ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা জুলাই 2026-এ জানায়, তাঁদের একজন 5 মে 2026 মারা গেছেন, এখন সাবলীলভাবে বলতে পারেন পাঁচজন। ইয়াংঙান ম্রোর হিসাবে 2013 সালে এই সংখ্যা ছিল 22।

ইয়াংঙান ম্রো রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে কাজ শুরু করলেন কীভাবে?

মার্কিন ভাষাবিদ ডেভিড এ. পিটারসনের মাধ্যমে। কালের কণ্ঠ ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, 2014 সালে পিটারসন তাঁকে ভাষাটির কথা বলেন; এর আগে তিনি রেংমিটচ্য নামে কোনো ভাষার কথা জানতেন না। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (2021) তাঁর বরাতে কাজ শুরুর সাল লিখেছে 2013। গ্লোবাল ভয়েসেস তাঁকে পিটারসনের গবেষণা-সহকারী বলেছে।

সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী ম্রো ভাষায় কে লিখেছেন?

ইয়াংঙান ম্রো। বইটির নাম ‘নমমো তসেন কিয়াক মি’, 24 পৃষ্ঠা, ম্রো বর্ণমালায়; বিডিনিউজ অনুযায়ী নামের অর্থ ‘যুদ্ধের মধ্যে সেরা’, কারণ ম্রো ভাষায় ‘বীরশ্রেষ্ঠ’-এর সরাসরি শব্দ নেই। 2017 সালের ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাত বছর ধরে লেখা বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় 15 ডিসেম্বর 2024।

৭ মার্চের ভাষণ কি ম্রো ভাষায় অনূদিত হয়েছে?

হ্যাঁ। দেশ রূপান্তর জানায়, ইয়াংঙান ম্রোর করা অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন হয় 21 অক্টোবর 2023, রামরি পাড়ার জুমঘর লাইব্রেরিতে। ম্রো ভাষায় বইটির নাম ‘বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান তেকঅমি ৭ বিলা খেকো লাইক্লো’। একই দিনে তাঁর 100টি ম্রো রূপকথার আরেকটি বইও উন্মোচিত হয়।

ইয়াংঙান ম্রোর পাঠাগার কোথায়?

চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে রামরি পাড়ায়, বান্দরবান সদর থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে। ডেইলি স্টার বাংলা (2022) জানায়, তাঁর পরিবারের পুরোনো জুমঘরটিকে তিনি পাঠাগার বানিয়েছেন, নাম ‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’ — অর্থ ‘গল্প বলা, গল্প শোনা’। বইগুলো মূলত তাঁর নিজের লেখা রূপকথা, গল্প ও কবিতা।

ইয়াংঙান ম্রোর বাংলা বইগুলো কোথায় পাওয়া যায়?

অনলাইন বইয়ের দোকান রকমারিতে তাঁর নামে ছয়টি বই তালিকাভুক্ত: ‘ম্রো রূপকথা’ ও ‘ম্রো রূপকথা – ২’ (বিদ্যানন্দ প্রকাশনী), ‘ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজ’ (পূর্বস্বর), ‘জুম পাহাড়ের মানুষ’ (আগামী প্রকাশনী), ‘জুম পাহাড়ের জীবন’ (তিউড়ি প্রকাশন) ও ‘ম্রো লোকগল্প’ (আপন আলো)। ম্রো ভাষার বইগুলো সেখানে নেই।

ইয়াংঙান ম্রো ক্রামা ধর্ম নিয়ে কী লিখেছেন?

অন্তত দুটি বই: 2015 সালের সংকলন ‘রিইয়ুং খতি’ (কালের কণ্ঠ অনুযায়ী তাঁর প্রথম বই) এবং ফেব্রুয়ারি 2020-এ পূর্বস্বর প্রকাশিত ‘ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজ’। দ্বিতীয়টি বাংলা উইকিপিডিয়ার ‘ক্রামা’ পাতার তথ্যসূত্র। এ ছাড়া তিনি মেনলে ম্রোর আঁকা 23টি ছবির একটি অ্যালবাম সংকলন করেছেন (2024)।

যা এখনো জানা যায়নি

  • তাঁর 35টি বইয়ের পূর্ণ তালিকা — নাম, সাল, প্রকাশক ও ভাষাসহ — কোনো প্রকাশিত উৎসে নেই। নাম জানা যায় 15টির মতো প্রকাশনার।
  • একই মাসে (ফেব্রুয়ারি 2022) একটি প্রতিবেদন 18টি আর আরেকটি 28টি বইয়ের কথা কেন বলেছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • 2019 সালের বিদ্যানন্দের ম্রো-ফন্টের ‘Mro Fairy Tales’, 2021-এর ‘ম্রোচ্য সাংচিয়া’ আর রকমারির বাংলা ‘ম্রো রূপকথা’ — এগুলো একই সংকলনের ভিন্ন সংস্করণ, না আলাদা বই।
  • ডেইলি স্টার বাংলা (2022) উল্লিখিত ‘ম্রো ভাষার অভিধান’-এর নাম ও প্রকাশসাল।
  • রেংমিটচ্য অভিধানটি কোন হরফে লেখা — ম্রো, বাংলা না দুটোই — উৎসগুলোর বর্ণনা এক নয়। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস উল্লিখিত রেংমিটচ্য ব্যাকরণের বইটি আলাদা কি না, তাও অস্পষ্ট।
  • তাঁর জন্মসাল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • পাঠাগারে এখন কত বই আছে, কতজন পাঠক আসে — 2022-এর পর কোনো হিসাব প্রকাশিত হয়নি।
  • ‘ততোং’-এর পৃষ্ঠাসংখ্যা, প্রকাশক ও কোনো পরবর্তী সংস্করণ বেরিয়েছে কি না — এ নিয়ে জুমজার্নালের আলাদা লেখায় কাজ চলছে।

তথ্যসূত্র

  1. Pantha Rahman Reza (অনুবাদ: Rezwan), “First Mro language grammar book brings a ray of hope for the indigenous community”, Global Voices, 5 মার্চ 2022। লিংক
  2. Pantha Rahman Reza, “For the love of language: The first book of stories printed in Mro language”, Global Voices, 2 মার্চ 2019। লিংক
  3. Pantha Rahman Reza, “The First Book of Stories Ever Printed in the Mro Language Debuts”, The Seattle Star, 5 মার্চ 2019। লিংক
  4. Pantha Rahman Reza, “One man is trying to save a language in Bangladesh with only six native speakers”, Global Voices, 21 ফেব্রুয়ারি 2024। লিংক
  5. উসিথোয়াই মারমা, “বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী ম্রোরা পড়বে নিজের ভাষায়”, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 16 ডিসেম্বর 2024। লিংক
  6. উসিথোয়াই মারমা, “এক কিশোরের তৈরি ম্রো বর্ণমালা এখন গুগল প্লে স্টোরে”, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 21 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক
  7. উসিথোয়াই মারমা, “একটা ভাষাকে বাঁচানোর লড়াই”, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 12 জানুয়ারি 2024। লিংক
  8. U She Thowai Marma, “Rengmitca: an ethnic language on the verge of extinction”, bdnews24.com, 21 ফেব্রুয়ারি 2021। লিংক
  9. মংসিং হাই মারমা, “ম্রো শিশুদের গল্প শোনাতে জুমঘরে পাঠাগার”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 18 আগস্ট 2022। লিংক
  10. নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, “ক্রামা ধর্মের প্রবর্তক মেনলে ম্রো’র বাবা মেনসিং ম্রো মারা গেছেন”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 20 অক্টোবর 2022। লিংক
  11. নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, “ম্রো জনগোষ্ঠীর দুর্লভ ছবি বই ‘মাংসি’ নিয়ে আলোচনা”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 6 অক্টোবর 2023। লিংক
  12. Mong Sing Hai Marma, “‘Hope our mother tongue survives’”, The Daily Star, 21 ফেব্রুয়ারি 2024। লিংক
  13. প্রতিনিধি, বান্দরবান, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই ‘ততোং’-এর মোড়ক উন্মোচন”, প্রথম আলো, 17 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  14. প্রতিনিধি, বান্দরবান, “ম্রো ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী”, প্রথম আলো, 15 ডিসেম্বর 2024। লিংক
  15. বান্দরবান প্রতিনিধি, “ভাষার মাসে ম্রো ভাষাভাষিদের হাতে উঠলো প্রথম ব্যাকরণ বই”, বাংলা ট্রিবিউন, 18 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  16. নিজস্ব প্রতিবেদক, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই বেরুলো বান্দরবানে, ৩৮ বছর আগে আবিষ্কার হয় বর্ণমালা”, চট্টগ্রাম প্রতিদিন, 19 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  17. তানভীর তানিম, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই লিখলেন ইয়াংঙান”, ইত্তেফাক, 23 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  18. ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট, “‘রেংমিটচ্য’ ভাষায় কথা বলা ৬ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু, অসুস্থ ২”, ইত্তেফাক, 18 জুলাই 2026। লিংক
  19. সমকাল, “ম্রো ভাষার ৫ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন”, সমকাল, 26 ফেব্রুয়ারি 2021। লিংক
  20. অনলাইন ডেস্ক, “ম্রো ভাষায় অনূদিত হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ”, দেশ রূপান্তর, 21 অক্টোবর 2023। লিংক
  21. কালের কণ্ঠ (পুনঃপ্রকাশ), “ম্রো তরুণের কলমে দেশে রেংমিটচ্য ভাষার প্রথম অভিধান”, দেশেবিদেশে, 31 জানুয়ারি 2023। লিংক
  22. Rassiq Aziz Kabir, “Rengmitc: A dying language with only 6 native speakers”, The Financial Express, 19 ফেব্রুয়ারি 2023। লিংক
  23. TBS Report, “Only 6 people speak Rengmitcha in Bangladesh”, The Business Standard, 21 ফেব্রুয়ারি 2021। লিংক
  24. উসিথোয়াই মারমা, “বিলুপ্তপ্রায় ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা: জানতেন মাত্র ৬ জন, মারা গেছেন একজন, অসুস্থ ২”, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, 18 জুলাই 2026। লিংক
  25. Sanjoy Kumar Barua, “Heroes of Bangladesh, immortalized in Mro’s voice”, The Borderlens, 16 ডিসেম্বর 2024। লিংক
  26. Mong Sing Neo, “Legend of Mro alphabet”, New Age, 21 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক
  27. উইকিপিডিয়া, “ক্রামা (তথ্যসূত্র: ইয়াংঙান ম্রো, ক্রামাধর্মের উৎপত্তি ও ম্রো সমাজ, পূর্বস্বর, ফেব্রুয়ারি 2020)”, বাংলা উইকিপিডিয়া, —। লিংক
  28. Wikipedia, “Rengmitca language”, English Wikipedia, —। লিংক
  29. রকমারি, “লেখক: ইয়াংঙান ম্রো — ছয়টি বইয়ের তালিকা ও প্রকাশক”, rokomari.com, দেখা হয়েছে 3 নভেম্বর 2026। লিংক
  30. জুমজার্নাল, “ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা, 31টি অক্ষর, ইউনিকোড ও স্কুল”, জুমজার্নাল, 2026। লিংক
  31. জুমজার্নাল, “ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়”, জুমজার্নাল, —। লিংক
  32. জুমজার্নাল, “ক্রামা ধর্ম ও মেনলে ম্রো”, জুমজার্নাল, —। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ম্রো, ম্রো বর্ণমালা, ম্রো রূপকথা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা