Jumjournal Logo

ইনুইট: আর্কটিকের যে জাতির নামের বদলে নম্বর দেওয়া হয়েছিল

Last updated Oct 6th, 2026

0

কানাডার ইনুইট প্রবীণ নারী ও পুরুষ

চলচ্চিত্রনির্মাতা জ্যাকারিয়াস কুনুকের একটি সরকারি নাম ছিল — E51613। অক্ষর নয়, সংখ্যা। কানাডার সরকার তাঁর জনগোষ্ঠীর মানুষদের নামের বদলে একটি করে নম্বর দিয়েছিল, আর সেই নম্বরটি লেখা থাকত চামড়া বা চাপা-আঁশের ছোট একটি চাকতিতে, যেটি গলায় ঝুলিয়ে রাখার কথা। কারণ, প্রশাসনের হিসাবের খাতায় ইনুইটদের নিজেদের নাম রাখার পদ্ধতিটি খাপ খাচ্ছিল না।

এই মানুষগুলোকে বাংলা পাঠ্যবইয়ে আমরা চিনেছি অন্য একটি নামে — “এস্কিমো”। নামটি তাঁদের নিজেদের দেওয়া নয়, আর কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডে সেটি এখন আর ব্যবহার হয় না। তাঁরা নিজেদের বলেন ইনুইট।

এই লেখাটি তাঁদের নিয়ে — কোথায় থাকেন, কী হয়েছিল, আর এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য এটি নিছক দূরের একটি গল্প নয়। ভূমির দাবি, ভাষার ক্ষয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি আর সেই চুক্তি বাস্তবায়নের দীর্ঘ অপেক্ষা — প্রশ্নগুলো চেনা।

সূচিপত্র

  1. ইনুইট কারা, আর তাঁরা কোথায় বাস করেন
  2. “এস্কিমো” শব্দটি কেন আর ব্যবহার হয় না
  3. ইনুইট নুনানগাত: চারটি অঞ্চল, ৫১টি জনপদ
  4. কানাডার বাইরে — গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কা, চুকোটকা
  5. যে পঁচিশ বছরে জীবনটা বদলে গেল
  6. ১৯৫৩: যে পরিবারগুলোকে উত্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো
  7. কুকুরগুলো মারা গেল
  8. নামের বদলে নম্বর
  9. আবাসিক বিদ্যালয় ও ভাষার ক্ষতি
  10. কিকিকতানি সত্য কমিশন
  11. নুনাভুত কীভাবে তৈরি হলো
  12. ১৯৯৩ সালের চুক্তিতে আসলে কী ছিল
  13. ২০২৪: কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমি হস্তান্তর
  14. ইনুকটুট ভাষা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে
  15. ছাপচিত্রের একটি দল, আর কেনোজুয়াক আশেভাক
  16. ঘরের ভিড় আর খাবারের দাম
  17. যে খাবারটা দোকান থেকে আসে না
  18. আত্মহত্যা প্রতিরোধের কৌশলটি ইনুইটরা নিজেরাই লিখেছেন
  19. গলতে থাকা বরফ
  20. পাহাড়ের সঙ্গে কোথায় মেলে, কোথায় মেলে না
  21. সচরাচর জিজ্ঞাসা

ইনুইট কারা, আর তাঁরা কোথায় বাস করেন

ইনুইট একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাঁদের বাস পৃথিবীর উত্তরতম অংশে — কানাডার আর্কটিক অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কা এবং রাশিয়ার চুকোটকা জুড়ে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি প্রায় 180,000। কানাডায় 2021 সালের আদমশুমারিতে গোনা হয়েছিল 70,545 জন। শব্দটির অর্থ ইনুকটিটুট ভাষায় “মানুষ” — একবচনে ইনুক (inuk), বহুবচনে ইনুইট (inuit)।

অর্থাৎ “ইনুইট জনগোষ্ঠীর লোকেরা” বলাটা আসলে দ্বিগুণ কথা, কারণ শব্দটির ভেতরেই “মানুষ” রয়েছে।

কানাডার ইনুইটদের 69 শতাংশ থাকেন নিজেদের ভূখণ্ডে, যার নাম ইনুইট নুনানগাত — এই ইনুকটিটুট শব্দটি কেবল জমি বোঝায় না, বোঝায় জমি, জল ও বরফ একসঙ্গে। 2016 সালে এই হারটি ছিল 72.8 শতাংশ, অর্থাৎ ধীরে ধীরে মানুষ দক্ষিণের শহরে সরছেন।

জনসংখ্যা বাড়ছে দ্রুত — 2016 থেকে 2021-এর মধ্যে 8.5 শতাংশ। আর জনগোষ্ঠীটি তরুণ: গড় বয়স 28.9 বছর।

“এস্কিমো” শব্দটি কেন আর ব্যবহার হয় না

বাংলা পাঠ্যবই ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে এখনো “এস্কিমো” লেখা হয়। কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডে শব্দটি পরিত্যক্ত — সেখানকার মানুষ নিজেদের বলেন ইনুইট বা কালালিত। আলাস্কার ভাষা-কেন্দ্রের ভাষায়, “ইনুইট এখন আলাস্কা ও গোটা আর্কটিক জুড়ে চালু শব্দ, আর এস্কিমো ব্যবহার থেকে মুছে যাচ্ছে।”

শব্দটি কোথা থেকে এল, তা নিয়ে দুটি কথা চালু আছে, আর দুটো এক নয়।

জনপ্রিয় ব্যাখ্যাটি বলে, এটি একটি আলগনকিয়ান শব্দ যার মানে “কাঁচা মাংস যারা খায়” — অপমানজনক। কিন্তু ভাষাবিজ্ঞানীরা এই ব্যুৎপত্তি মানেন না। আলাস্কা নেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার বলছে, শব্দটি সম্ভবত এসেছে মঁতাইনে (ইন্নু) ভাষার ayas̆kimew থেকে, যার অর্থ “যে বরফ-জুতোর জাল বোনে”।

অর্থাৎ শব্দটি বাদ দেওয়ার কারণ তার ব্যুৎপত্তি নয় — কারণ এটি বাইরের লোকের দেওয়া নাম, আর যাঁদের নাম, তাঁরা এটি চান না। এটুকুই যথেষ্ট কারণ।

আরও একটি জটিলতা আছে, যেটি প্রায়ই চাপা পড়ে যায়। আলাস্কায় শব্দটি পুরোপুরি বাদ যায়নি, কারণ সেখানে দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী আছে — ইনুপিয়াত (একবচনে ইনুপিয়াক, আক্ষরিক অর্থে “আসল মানুষ”), যাঁরা ইনুইট; আর ইউপিক, যাঁরা নিজেদের ইনুইট মনে করেন না। ইউপিকদের কাছে “ইনুইট” শব্দটি কেবল ইনুপিয়াত এবং কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষদের বোঝায়। তাই সেখানে একটিমাত্র শব্দে দুই জনগোষ্ঠীকে ধরা যায় না।

পরিভাষার এই টানাপোড়েন বাংলাদেশের আদিবাসী/উপজাতি বিতর্কের সঙ্গে গঠনে মেলে — কে কাকে কী নামে ডাকবে, আর নামের অধিকার কার।

ইনুইট নুনানগাত: চারটি অঞ্চল, ৫১টি জনপদ

কানাডার ইনুইট ভূখণ্ড চারটি অঞ্চলে ভাগ — ইনুভিয়ালুইত (উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল), নুনাভুত, নুনাভিক (উত্তর কেবেক) ও নুনাতসিয়াভুত (ল্যাব্রাডরের উপকূল)। এর ভেতরে 51টি জনপদ। ইনুইট তাপিরিইত কানাতামির হিসাবে এই ভূখণ্ড কানাডার মোট আয়তনের 40 শতাংশ এবং উপকূলরেখার 72 শতাংশ জুড়ে।

কানাডার ইনুইটদের 44 শতাংশ থাকেন নুনাভুতে — সংখ্যাটি প্রায় 25,000, আর জনপদের সংখ্যা 26। নুনাভিকে প্রায় 9,500 জন, 14টি জনপদে। নুনাতসিয়াভুতে প্রায় 4,500।

এই চারটি অঞ্চলের বাইরেও আটটি প্রধান ইনুইট নৃগোষ্ঠীর নাম পাওয়া যায় — ল্যাব্রাডরমিউত, নুনাভিম্মিউত, ব্যাফিন দ্বীপ, ইগলুলিংমিউত, কিভাল্লিরমিউত, নেতসিলিংমিউত, ইনুইন্নাইত এবং ইনুভিয়ালুইত। বাংলায় এক শব্দে “ইনুইট” বললে এই অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্যটা হারিয়ে যায় — ঠিক যেমন “পাহাড়ি” বললে এগারোটি আলাদা জনগোষ্ঠী এক হয়ে যায়।

কানাডার বাইরে — গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কা, চুকোটকা

ইনুইট চারটি দেশে ছড়ানো, আর তাঁদের নিজেদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন আছে — ইনুইট সারকামপোলার কাউন্সিল (ICC), প্রতিষ্ঠা 1977 সালে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইনুপিয়াক নেতা এবেন হপসন সিনিয়র, আলাস্কা, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের ডেকে। সনদটি অনুমোদিত হয় 1980 সালে গ্রিনল্যান্ডের নুউকে। রাশিয়ার চুকোটকা যোগ দেয় 1992 সালে।

এই এক সংগঠনে চারটি রাষ্ট্রের একটি জাতির একত্র হওয়া — সীমান্ত যাদের ভাগ করেছে, তাদের নিজেদের মঞ্চ — পাহাড়ের পাঠকের কাছে অপরিচিত ধারণা নয়।

গ্রিনল্যান্ড সবচেয়ে এগিয়ে আছে স্বশাসনে। জনসংখ্যা প্রায় 57,000, যার বড় অংশ ইনুইট — পশ্চিমে নিজেদের বলেন কালালিত, আর দেশটিকে বলেন কালালিত নুনাত, “গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দেশ”। 1979 সালের 1 মে চালু হয় হোম রুল, আর 2009 সালের 21 জুন তার জায়গা নেয় স্বশাসন আইন। 2008 সালের গণভোটে 75.5 শতাংশ মানুষ এর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। স্বশাসন আইনের পর ডেনীয় ভাষা আর গ্রিনল্যান্ডের সরকারি ভাষা নয় — সরকারি ভাষা কালালিসুত।

একটি আদিবাসী ভাষাকে রাষ্ট্রের একমাত্র সরকারি ভাষা করা — পৃথিবীতে এর উদাহরণ বেশি নেই।

যে পঁচিশ বছরে জীবনটা বদলে গেল

1950 থেকে 1975 — এই পঁচিশ বছরে কানাডার আর্কটিকে ইনুইটদের জীবন আমূল বদলে যায়। ছড়ানো-ছিটানো শিবিরে ঘুরে বেড়ানো মানুষদের স্থায়ী জনপদে বসানো হয়, কখনো জোর করে। কিকিকতানি অঞ্চলে কেবল এই প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয় 13টি স্থায়ী জনপদ। পরিবার ভাঙে, জমি-জল-বরফের সঙ্গে সম্পর্ক ছিঁড়ে যায়।

কানাডার সরকারি ভাষ্যে এর নাম ছিল উন্নয়ন ও সেবা পৌঁছে দেওয়া — স্কুল, হাসপাতাল, রেশন। বাস্তবে যা ঘটেছিল তাকে কানাডা সরকার নিজেই এখন “আধুনিক উপনিবেশবাদ” বলে।

এর ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পর্বটি হলো 1950-র দশকের হাই আর্কটিক রিলোকেশন — কয়েকটি ইনুইট পরিবারকে উত্তরের আরও দূরবর্তী, আরও ঠান্ডা দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়। যে কারণগুলো তখন বলা হয়েছিল আর যে কারণগুলো নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠেছে, দুটি এক নয়।

এই গোটা সময়টার বিবরণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায় একটি নথিতে, যেটি তৈরি করেছিলেন ইনুইটরা নিজেরাই — কিকিকতানি সত্য কমিশন। সেটির কথা নিচে।

১৯৫৩: যে পরিবারগুলোকে উত্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো

1950-র দশকে কানাডা সরকার কিছু ইনুইট পরিবারকে উত্তর কেবেকের ইনুকজুয়াক থেকে আরও অনেক উত্তরে — গ্রিস ফিয়র্ড ও রেজোলিউট বে-তে — সরিয়ে নেয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য পন্ড ইনলেট থেকেও কয়েকটি পরিবারকে নেওয়া হয়। এটিই পরিচিত হাই আর্কটিক রিলোকেশন নামে।

কানাডা সরকারের নিজের ভাষ্যে, পরিবারগুলোকে “পর্যাপ্ত আশ্রয় ও রসদ দেওয়া হয়নি”, এবং তাঁদের “ঠিকমতো জানানো হয়নি নতুন জায়গাটি কত দূরে আর কতটা আলাদা”। তাঁরা এ-ও জানতেন না যে পৌঁছানোর পর তাঁদের দুটি আলাদা জনপদে ভাগ করে দেওয়া হবে।

প্রতিশ্রুতি ছিল, যিনি থাকতে চাইবেন না তাঁকে পুরনো বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।

সরকার ক্ষমা চায় 2010 সালের 18 আগস্ট, ইনুকজুয়াকে — অর্থাৎ যেখান থেকে পরিবারগুলোকে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে। ভারতীয় বিষয়ক ও উত্তরাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী জন ডানকান বলেন, “এই অন্ধকার অধ্যায়ের ভুল ও ভাঙা প্রতিশ্রুতির জন্য আমরা গভীরভাবে অনুতপ্ত” — এবং একটি “পূর্ণ ও আন্তরিক ক্ষমা” চান।

ঘটনার সময় থেকে ক্ষমা পর্যন্ত প্রায় ছয় দশক। যাঁদের সরানো হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই ততদিনে বেঁচে নেই।

কুকুরগুলো মারা গেল

ওই পঁচিশ বছরের সবচেয়ে গভীর ক্ষতটির নাম কিম্মিইত (qimmiit) — ইনুইট স্লেজ-কুকুর। 1950 ও 60-এর দশকে বহু কুকুর মারা হয়। ইনুইটদের সাক্ষ্য অনুযায়ী এতে তাঁদের হাত থেকে চলে যায় “ভ্রমণ ও খাবার সংগ্রহের মৌলিক হাতিয়ার”, আর সেখান থেকেই শুরু হয় খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতা।

কিন্তু ক্ষতিটা কেবল যাতায়াতের ছিল না। কমিশনের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে ইনুইটরা বলেছেন, কুকুরের দল ছিল পরিবারের প্রধান জীবিকা এবং গর্বের প্রতীক। তাঁদের ভাষায় — “কোনো ইনুক পুরুষের যদি নিজের দল না থাকত, ধরে নেওয়া হতো সে এখনো পুরোপুরি পুরুষ হয়ে ওঠেনি।” একজন মানুষের মূল্যায়ন হতো তার কুকুরদের কাজ, চেহারা, স্বাস্থ্য ও সহ্যক্ষমতা দিয়ে।

কেন মারা হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা, এবং দুটোই নথিভুক্ত। RCMP-র অবস্থান — কুকুরগুলো মারা হয়েছিল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণে, জনপদে জলাতঙ্ক ও আক্রমণের ঝুঁকি ঠেকাতে। ইনুইটদের সাক্ষ্য — এটি ছিল তাঁদের চলাফেরা বন্ধ করে জনপদে বেঁধে রাখার উপায়। জুমজার্নাল এখানে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না; দুটি বক্তব্যই উৎস-সহ রইল।

নামের বদলে নম্বর

ইনুইটদের নামের পদ্ধতি কানাডার প্রশাসনের খাতায় খাপ খায়নি। একজন মানুষ জীবনে একাধিক নামে পরিচিত হতে পারতেন, প্রসঙ্গভেদে বদলাতেও পারত। তাই সরকার চালু করে ডিস্ক নম্বর — স্থান-ভিত্তিক একটি ক্রমিক সংখ্যা, ছোট চাকতিতে লেখা, গায়ে রাখার কথা।

লেখার শুরুতে যে নামটি ছিল — চলচ্চিত্রনির্মাতা জ্যাকারিয়াস কুনুকের ডিস্ক নম্বর E51613। “E” মানে পূর্ব আর্কটিক।

পরে চালু হয় প্রজেক্ট সারনেম, যার কাজ ছিল ইনুইটদের পদবি দেওয়া — যাতে নথিতে বসানো যায়। কানাডিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ার ভাষায়, ডিস্ক নম্বর চাপিয়ে দেওয়াকে আজও “সাংস্কৃতিকভাবে আঘাতজনক ঘটনা” হিসেবে দেখা হয়, এবং এর সমালোচনা হয়েছে কাঠামোগত বৈষম্য তৈরির জন্য।

নাম কেড়ে নিয়ে নম্বর বসানো — প্রশাসনের সুবিধার জন্য একটি জাতির নিজস্ব পরিচয়ের পদ্ধতি মুছে দেওয়া। পাহাড়ে নাম ও বানানের রাজনীতি অন্য চেহারার, কিন্তু প্রশ্নটা একই: নথিতে কার নিয়ম চলবে।

১৯০৭ সালে তোলা এক ইনুইট নারীর প্রতিকৃতি
১৯০৭ সালে তোলা এক ইনুইট নারীর প্রতিকৃতি। ছবি: Inuit_Woman_1907_PLW_edit.jpg: *Inuit_Woman_1907_Crisco_edit.jpg: *Inuit_Woman_1907.tif: Lomen Bros., Nome derivative work: Crisco 1492 (talk) derivative work: Papa Lima Whiskey 2 (talk) derivative work: Crisco 1492 (talk) · Public domain · Wikimedia Commons

আবাসিক বিদ্যালয় ও ভাষার ক্ষতি

ইনুইট শিশুদের বড় অংশকে পাঠানো হয়েছিল আবাসিক বিদ্যালয়ে, যেখানে — কানাডা সরকারের নিজের বর্ণনায় — “ইংরেজিই ছিল একমাত্র ব্যবহৃত ভাষা”। ফল: ভাষা হারানো এবং সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া।

এই বিদ্যালয়-ব্যবস্থা কেবল ইনুইটদের জন্য ছিল না — কানাডার ফার্স্ট নেশনস ও মেতি শিশুরাও এর ভেতর দিয়ে গেছে, এবং সেটি কানাডার সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের কাজের কেন্দ্রীয় বিষয়। কিন্তু আর্কটিকে এর একটি বাড়তি মাত্রা ছিল: দূরত্ব। শিশুকে স্কুলে পাঠানো মানে ছিল তাকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে পাঠানো, বছরে একবারও দেখা না-হওয়া।

ভাষার ক্ষতির পরিমাপ এখন সংখ্যায় দেখা যায়, আর সেটি নিচের একটি আলাদা অংশে।

কিকিকতানি সত্য কমিশন: আদিবাসীরা নিজেরাই যখন তদন্ত করেন

2007 সালে কিকিকতানি ইনুইট অ্যাসোসিয়েশন নিজেরাই একটি স্বাধীন সত্য কমিশন গঠন করে, 1950 থেকে 1975 সময়কালে কিকিকতানি ইনুইটদের সঙ্গে কী ঘটেছিল তা নথিভুক্ত করতে। কানাডা সরকারের নিজের বিবরণে এটি ছিল “নিজ ধরনের প্রথম স্বাধীন সত্য কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিল একটি আদিবাসী সংগঠন”।

এটিই এই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। রাষ্ট্র তদন্ত করেনি; জনগোষ্ঠী নিজে করেছে, নিজের খরচে, নিজের ভাষায়।

তিন বছরের সাক্ষাৎকার, সাক্ষ্য ও মহাফেজখানার গবেষণা থেকে 2010 সালে প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন — Achieving Saimaqatigiingniq, সঙ্গে 25টি সুপারিশ। ইনুকটিটুট শব্দ সাইমাকাতিগিইংনিক (saimaqatigiingniq) বোঝায় সেই অবস্থা, যেখানে অতীতের অন্যায়ের পর সম্পর্ক আবার সুস্থ জায়গায় ফেরে।

প্রতিবেদনে উঠে আসে জোরপূর্বক স্থানান্তর, পরিবার থেকে শিশুদের গণহারে সরিয়ে নেওয়া, আবাসিক বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা, কিম্মিইত হত্যা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভাবে পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, আর ভাষা-সংস্কৃতি-ভূমি থেকে বিচ্ছিন্নতা।

প্রতিবেদনের নয় বছর পর, 2019 সালের 14 আগস্ট, কানাডার ক্রাউন-ইন্ডিজেনাস রিলেশনস মন্ত্রী কিকিকতানি ইনুইটদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চান। সরকার একটি সাইমাকাতিগিইংনিক ফান্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়, ইনুইট সংস্কৃতি, আরোগ্য ও কল্যাণের জন্য।

প্রতিবেদন থেকে ক্ষমা পর্যন্ত নয় বছর — সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেতে কত সময় লাগে, তার একটি মাপ।

নুনাভুত কীভাবে তৈরি হলো

নুনাভুত কানাডার তৃতীয় টেরিটরি, আর এটিই সম্ভবত আধুনিক পৃথিবীতে আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অর্জন — একটি জনগোষ্ঠীর দাবির ভিত্তিতে একটি নতুন প্রশাসনিক ভূখণ্ড তৈরি হওয়া। নামের অর্থ ইনুকটিটুটে “আমাদের ভূমি”।

পথটি দীর্ঘ ছিল, আর ধাপগুলো নথিভুক্ত:

  • 1971 — ইনুইট তাপিরিইত কানাতামি (ITK) প্রতিষ্ঠা, কানাডার ইনুইটদের জাতীয় কণ্ঠ
  • 1976 — ITK আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পৃথক টেরিটরির প্রস্তাব দেয়
  • 1982 — গণভোটে প্রস্তাবটি সমর্থন পায়
  • 1990 — ভূমি-দাবিতে নীতিগত সম্মতি
  • 1993 — নুনাভুত আইন পাস, চুক্তি স্বাক্ষর
  • 1999 — নুনাভুত আনুষ্ঠানিকভাবে টেরিটরি হিসেবে যাত্রা শুরু করে

প্রস্তাব থেকে বাস্তবায়ন — 23 বছর। কানাডিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়া লক্ষ করেছে, রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের একটি শক্ত ভিত্তি থাকার কারণেই উত্তরণটি তুলনামূলকভাবে মসৃণ হয়েছিল।

ইনুইট নুনানগাতের বাকি তিন অঞ্চলেও স্বশাসনের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে — নুনাভিকে মাকিভিক করপোরেশন জেমস বে ও উত্তর কেবেক চুক্তির ভিত্তিতে, ইনুভিয়ালুইতে ইনুভিয়ালুইত রিজিওনাল করপোরেশন, আর নুনাতসিয়াভুত ইতিমধ্যে স্বশাসিত।

১৯৯৩ সালের চুক্তিতে আসলে কী ছিল

নুনাভুত ভূমি-দাবি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় 1993 সালের 25 মে, ইকালুইতে — পক্ষ ছিল তুংগাভিক ফেডারেশন অব নুনাভুত, কানাডা সরকার ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সরকার। কার্যকর হয় 9 জুলাই 1993। চুক্তিতে 41টি অনুচ্ছেদ।

মূল সংখ্যাগুলো:

  • ইনুইট-মালিকানাধীন ভূমি — প্রায় 353,610 বর্গকিলোমিটার (নুনাভুতের মোট আয়তন প্রায় 1.9 মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)
  • এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ খনিজের অধিকারসহ — প্রায় 36,257 বর্গকিলোমিটার
  • চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নুনাভুত তুংগাভিক ইনকরপোরেটেড (NTI), গঠিত 1993 সালে

লক্ষণীয় একটি ব্যাপার: জমির মালিকানা আর খনিজের অধিকার আলাদা করে গোনা হয়েছে। 353,610-এর মধ্যে মাত্র 36,257 বর্গকিলোমিটারে ভূগর্ভস্থ সম্পদের অধিকার — অর্থাৎ বাকি জমির নিচে যা আছে, তা ইনুইটদের নয়। ভূমি-চুক্তিতে এই পার্থক্যটি প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়, অথচ খনির প্রশ্ন এলে এটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে।

আরও একটি কথা: চুক্তি স্বাক্ষর আর চুক্তি বাস্তবায়ন এক জিনিস নয়। NTI-র অস্তিত্বই এর প্রমাণ — চুক্তিতে দেওয়া 41টি অনুচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান লাগে, যার কাজ কয়েক দশক ধরে চলে।

২০২৪: কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমি হস্তান্তর

2024 সালের 18 জানুয়ারি নুনাভুত সরকার, নুনাভুত তুংগাভিক ইনকরপোরেটেড ও কানাডা সরকার একসঙ্গে স্বাক্ষর করে নুনাভুত ল্যান্ডস অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভলিউশন এগ্রিমেন্ট। এর ফলে নুনাভুতের সরকারি জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জল-সংক্রান্ত অধিকারের প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে টেরিটরি সরকারের হাতে যাবে — 2027 সালের 1 এপ্রিল থেকে।

খেয়াল করার মতো একটি বিষয়: ইনুইট সংগঠন NTI এখানে কেবল পরামর্শদাতা নয়, চুক্তির তিন স্বাক্ষরকারীর একজন। অর্থাৎ কেন্দ্র ও টেরিটরির মাঝখানে জনগোষ্ঠীর সংগঠনটি একটি স্বতন্ত্র পক্ষ।

আলোচনা চলেছিল কুড়ি বছরেরও বেশি। এটি কানাডার ইতিহাসের বৃহত্তম ভূমি হস্তান্তর, আর নুনাভুতের প্রায় 40,000 বাসিন্দার 85 শতাংশই ইনুইট। 1993 সালে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এটি তার শেষ ধাপ।

তবু — স্বাক্ষর 2024, কার্যকর 2027। কাগজে সই হওয়ার পরেও তিন বছর। চুক্তি ও বাস্তবায়নের মধ্যে এই ফাঁকটি আন্তর্জাতিক সনদ ও বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে পুরনো আলোচনার আরেকটি উদাহরণ।

ইনুকটুট ভাষা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে

ইনুইটদের ভাষার সমষ্টিগত নাম ইনুকটুট। 2021 সালের কানাডীয় আদমশুমারির সংখ্যাগুলো এরকম:

ভাষা / উপভাষাবক্তা (2021)
ইনুকটিটুট39,620
ইনুইন্নাকতুন735
ইনুভিয়ালুকতুন330

ইনুইট তাপিরিইত কানাতামির হিসাবে ইনুইটদের প্রায় 60 শতাংশ ইনুকটুটে কথোপকথন চালাতে পারেন। কিন্তু হারটি অঞ্চলভেদে ভীষণ আলাদা — নুনাতসিয়াভুতে 21.4 শতাংশ, ইনুভিয়ালুইত অঞ্চলে 22 শতাংশ। অর্থাৎ যে দুটি অঞ্চলে ঔপনিবেশিক যোগাযোগ সবচেয়ে পুরনো, সেখানেই ভাষা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ে গেছে।

ইনুকটিটুটের পাঁচটি প্রধান উপভাষা আছে। ভাষা-ক্ষয় ঠেকাতে ITK স্কুলে ইনুকটিটুট পাঠ্যক্রম চালু করে; 1960-র দশক থেকে কেন্দ্রীয় ও টেরিটরি সরকারও ভাষা-কর্মসূচি নেয়।

তুলনার জন্য: গ্রিনল্যান্ডে ভাষাটি রাষ্ট্রের একমাত্র সরকারি ভাষা, কানাডায় সেটি আদমশুমারির একটি সারি। একই জাতির দুই অংশ, দুই রকম ফল। আদিবাসী ভাষার সাধারণ পরিস্থিতি নিয়ে আর্কাইভে আলাদা লেখা আছে।

ছাপচিত্রের একটি দল, আর কেনোজুয়াক আশেভাক

ইনুইট শিল্প আজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, আর তার একটি বড় কেন্দ্র কিনঙাইত (আগের নাম কেপ ডরসেট), ব্যাফিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের একটি জনপদ। 1959 সালে সেখানে গড়ে ওঠে ওয়েস্ট ব্যাফিন সমবায়, আর একই বছর বেরোয় প্রথম বার্ষিক ছাপচিত্র-সংকলন। ছাপাইয়ের কৌশল শিখিয়েছিলেন কানাডীয় শিল্পী জেমস হিউস্টন; কাজটি করেছিলেন অঞ্চলের ইনুইট শিল্পীরা।

এই দলের প্রথম নারী সদস্য কেনোজুয়াক আশেভাক (জন্ম 3 অক্টোবর 1927, দক্ষিণ ব্যাফিন দ্বীপের ইকেররাসাক শিবিরে; মৃত্যু 8 জানুয়ারি 2013, কেপ ডরসেটে)। তাঁকে প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত ইনুইট শিল্পী বলা হয়।

তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ The Enchanted Owl (1960), যেটি পরে কানাডা পোস্টের ডাকটিকিটে ছাপা হয়। তিনি কম্প্যানিয়ন অব দ্য অর্ডার অব কানাডা এবং গভর্নর জেনারেলস অ্যাওয়ার্ড ইন ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস পেয়েছেন।

এখানে লক্ষ করার মতো একটি জিনিস আছে, যা আদিবাসী শিল্পের বাজার নিয়ে ভাবলে কাজে লাগে: শিল্পীরা কাজ করেছেন একটি সমবায়ের ভেতরে, ব্যক্তিগত দালালের হয়ে নয়। সমবায় কাঠামোটি ঠিক করে দিয়েছিল টাকাটা কোথায় যাবে। পাহাড়ের বয়নশিল্প ও হস্তশিল্পের আয়-ব্যয় নিয়ে আলোচনায় এই উদাহরণটি কাজে লাগতে পারে।

সমবায়ের ছাপাখানা এখন কেনোজুয়াক কালচারাল সেন্টার অ্যান্ড প্রিন্ট শপের ভেতরে — নামটি তাঁরই।

ঘরের ভিড় আর খাবারের দাম

ইনুইটদের বর্তমান জীবনের দুটি কঠিন সংখ্যা — বাসস্থান ও খাদ্য। 2021 সালের আদমশুমারিতে কানাডার সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইনুইটরাই সবচেয়ে বেশি ভিড় করা ঘরে থাকেন — 40.1 শতাংশ। ইনুইট নুনানগাতের ভেতরে হারটি 52.9 শতাংশ, বাইরে 11.4 শতাংশ।

খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতা আরও কঠিন। 2012 সালের অ্যাবরিজিনাল পিপলস সার্ভে অনুযায়ী ইনুইট নুনানগাতের 25 বছর ও তার বেশি বয়সী ইনুইটদের 52 শতাংশ আগের বারো মাসে খাদ্য-নিরাপত্তাহীন পরিবারে ছিলেন। অঞ্চলভেদে:

অঞ্চলখাদ্য-নিরাপত্তাহীন
নুনাভুত55.6%
নুনাভিক54.5%
নুনাতসিয়াভুত42.3%
ইনুভিয়ালুইত32.9%
ইনুইট নুনানগাতের বাইরে14%

কারণ দুটি — দাম আর দূরত্ব। প্রত্যন্ত ইনুইট জনপদে একটি পরিবারের স্বাস্থ্যকর খাবারের সাপ্তাহিক খরচ 328 থেকে 488 ডলার, যেখানে দক্ষিণের শহরে সেটি 209 ডলার। পরিবহন, দোকান চালানোর খরচ, নষ্ট হয়ে যাওয়া মাল আর মজুতের খরচ দাম বাড়িয়ে দেয়।

সমীক্ষাটি আরও দেখিয়েছে, খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেকারত্ব, ঘরের ভিড়, মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ না করা, মধ্যকের নিচে আয়, আর আত্মীয়-স্বজনের দুর্বল সহায়তা-জাল।

খেয়াল করুন সংখ্যাগুলো কীভাবে পরস্পরকে ধরে আছে: কুকুর মারা গেল → শিকারে যাওয়া কঠিন হলো → দোকানের খাবারের উপর নির্ভরতা → আর দোকানের খাবার দক্ষিণের দ্বিগুণেরও বেশি দামি। ইনুইটদের সাক্ষ্যে এই শিকলটাই বলা আছে।

যে খাবারটা দোকান থেকে আসে না

ইনুইটদের খাদ্যব্যবস্থার কেন্দ্রে আছে কান্ট্রি ফুড — শিকার, মাছ ধরা ও সংগ্রহ করে পাওয়া খাবার। এটি কেবল পুষ্টির প্রশ্ন নয়; শিকার করা, ভাগ করে নেওয়া আর রান্না করা মিলিয়ে এটিই সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। আর ঠিক এই কারণেই কুকুর মারা যাওয়া বা বরফ পাতলা হয়ে যাওয়া কেবল যাতায়াতের সমস্যা নয় — সেটি সরাসরি পাতের সমস্যা।

ARCTIC সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা (খণ্ড 70, সংখ্যা 1, 2017) 2007–08 সালের ইনুইট হেলথ স্টাডির তথ্য ব্যবহার করে — পাঁচটি ইনুইট অঞ্চলের 806 জন পুরুষ ও 1,275 জন নারীর হিসাব। সেখান থেকে বার্ষিক মাথাপিছু খাওয়ার পরিমাণ:

প্রাণীমাথাপিছু/বছরবছরে মোট প্রয়োজন
ক্যারিবু (বল্গা হরিণ)29.6–122.8 কেজি36,526টি
বেলুগা তিমি5.9–24.3 কেজি898টি
রিংড সিল4.1–25.0 কেজি17,465টি

পরিসরগুলো চওড়া, কারণ অঞ্চল ও লিঙ্গভেদে খাওয়ার পরিমাণ আলাদা। ক্যারিবু সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় — গবেষণায় 90 শতাংশেরও বেশি মানুষের খাদ্যতালিকায় এটি পাওয়া গেছে।

পুষ্টির দিক থেকে ব্যাপারটি আরও স্পষ্ট। ক্যারিবু মোট খাদ্যশক্তির অল্প অংশই দেয় — অঞ্চলভেদে 3 থেকে 11 শতাংশ। কিন্তু সেটিই আয়রনের প্রধান উৎস (14–37%), জিংকের (18–41%), কপারের (12–39%), রাইবোফ্লাভিনের (15–39%) এবং ভিটামিন B12-র (27–52%)। প্রোটিনেরও অন্যতম প্রধান উৎস (13–35%)।

অর্থাৎ ক্যালরির হিসাবে কান্ট্রি ফুডের অংশ ছোট, কিন্তু ক্ষুদ্র পুষ্টি-উপাদানের হিসাবে সেটিই প্রধান। দোকানের সস্তা খাবার দিয়ে ক্যালরি পূরণ হয়, এই উপাদানগুলো হয় না। খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার সংখ্যাগুলো তাই কেবল পেট ভরার প্রশ্ন নয়।

জুমচাষের সঙ্গে এখানে একটি কাঠামোগত মিল আছে — একটি খাদ্যব্যবস্থা, যেটি একই সঙ্গে জীবিকা, পঞ্জিকা ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি, আর যেটিকে বাইরে থেকে কেবল খাদ্য-উৎপাদনের একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা হারিয়ে যায়।

আত্মহত্যা প্রতিরোধের কৌশলটি ইনুইটরা নিজেরাই লিখেছেন

ইনুইট জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার হার কানাডার গড়ের তুলনায় অনেক বেশি — এটি কানাডার স্বীকৃত একটি জনস্বাস্থ্য সংকট। 2016 সালের 27 জুলাই, নুনাভিকের কুজ্জুয়াকে, ইনুইট তাপিরিইত কানাতামি প্রকাশ করে ন্যাশনাল ইনুইট সুইসাইড প্রিভেনশন স্ট্র্যাটেজি, হেলথ কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে। বাস্তবায়নের জন্য হেলথ কানাডা ঘোষণা করে 90 লক্ষ ডলার।

কৌশলপত্রটির ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে আছে সামাজিক সমতা তৈরি, জন্ম থেকেই ইনুইট শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা, আর ইনুইটদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার নাগাল নিশ্চিত করা। লক্ষ্য — হারটিকে কানাডার সামগ্রিক হারের সমান বা তার নিচে নামিয়ে আনা।

কৌশলপত্রের নিজস্ব অবস্থান হলো, আত্মহত্যা এখানে ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যা নয় — এটি “বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন”, যার শিকড় ঔপনিবেশিক নীতিতে এবং কানাডার অন্যত্র যে সুযোগগুলো সহজলভ্য, এখানে সেগুলোর অভাবে।

হারের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে সতর্কতা: সংবাদমাধ্যমে নুনাভিক ও নুনাভুতের হারকে জাতীয় গড়ের দশ গুণ, আর নুনাতসিয়াভুতে 2009–2013 সময়ে প্রতি লাখে 275 বলা হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো আমরা কৌশলপত্রের মূল নথিতে যাচাই করতে পারিনি, তাই এখানে সেগুলো প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই রইল, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়। [যাচাই প্রয়োজন]

যে কাঠামোগত কথাটি এখানে সবচেয়ে কাজের: কৌশলটি রাষ্ট্র লিখে জনগোষ্ঠীকে দেয়নি। জনগোষ্ঠীর নিজের সংগঠন লিখেছে, আর রাষ্ট্র সেটিতে অর্থ দিয়েছে।

গলতে থাকা বরফ

জলবায়ু পরিবর্তন ইনুইটদের কাছে ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বর্তমানের সমস্যা — কারণ সমুদ্রের বরফ তাঁদের কাছে রাস্তা। বরফ পাতলা হলে শিকার ও যাতায়াত বিপজ্জনক হয়, আর খাদ্যের উৎস বদলায়।

2019 সালের 7 জুন ITK প্রকাশ করে ন্যাশনাল ইনুইট ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি। সংগঠনটির ভাষায় এটি “দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে আমাদের অভিযোজন, প্রশমন ও সহনশীলতা গড়ার প্রয়োজন মেটাতে পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমন্বিত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে”। কৌশলপত্রটি ইংরেজি, ফরাসি ও ইনুকটুট — তিন ভাষায় প্রকাশিত।

আদিবাসী জ্ঞান ও জলবায়ু নিয়ে আর্কাইভে আগের লেখাগুলোও এখানে প্রাসঙ্গিক — জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আদিবাসীদের জ্ঞান।

পাহাড়ের সঙ্গে কোথায় মেলে, কোথায় মেলে না

ইনুইটদের গল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের গল্প নয়, আর মিল খুঁজতে গিয়ে জোর করে মেলানো ঠিক হবে না। তবু কয়েকটি জায়গায় কাঠামোটা একই, আর কয়েকটি জায়গায় একেবারে আলাদা — দুটোই বলা দরকার।

যেখানে মেলে: রাষ্ট্রের সঙ্গে লিখিত চুক্তি, আর সেই চুক্তি বাস্তবায়নের দীর্ঘ অপেক্ষা। ভাষার ক্ষয় এবং স্কুলে নিজের ভাষা না থাকা। নাম ও পরিভাষা নিয়ে বাইরের লোকের সিদ্ধান্ত। এক শব্দে বহু জনগোষ্ঠীকে ঢেকে দেওয়া। আর জীবিকার ভিত্তি সরে গেলে খাদ্যের উপর তার সরাসরি প্রভাব।

যেখানে মেলে না — এবং পার্থক্যটা বড়:

  • নুনাভুতে ইনুইটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ — প্রায় 40,000 বাসিন্দার 85 শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামে 2022 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী আদিবাসী জনসংখ্যা মোট 1,842,811-এর মধ্যে 920,248, অর্থাৎ 49.94 শতাংশ — অর্ধেকের সামান্য কম।
  • ইনুইটদের একটি নিজস্ব টেরিটরি সরকার আছে, যেটি তাঁরা ভোটে নির্বাচিত করেন।
  • গ্রিনল্যান্ডে ভাষাটি রাষ্ট্রের একমাত্র সরকারি ভাষা।
  • রাষ্ট্র নিজে একটি সত্য কমিশনের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে (14 আগস্ট 2019)।

এই চারটি কানাডার উদারতা নয় — পঞ্চাশ বছরের সংগঠিত আন্দোলন, আদালত ও আলোচনার ফল। 1971-এ ITK, 1976-এ প্রস্তাব, 1982-তে গণভোট, 1993-এ চুক্তি, 1999-এ টেরিটরি, 2024-এ ডেভলিউশন। পাঁচ দশকের একটানা কাজ।

উল্টোদিকে, এত কিছুর পরেও ইনুইট নুনানগাতের অর্ধেকের বেশি মানুষ খাদ্য-নিরাপত্তাহীন আর অর্ধেকের বেশি পরিবার ভিড় করা ঘরে থাকেন। রাজনৈতিক অর্জন আর দৈনন্দিন জীবনের উন্নতি এক জিনিস নয় — সম্ভবত এটিই এই গল্পের সবচেয়ে কাজের শিক্ষা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ইনুইট সম্প্রদায় কোথায় বাস করে?

ইনুইটরা বাস করেন পৃথিবীর উত্তরতম অংশে — কানাডার আর্কটিক অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কা ও রাশিয়ার চুকোটকায়। কানাডায় তাঁদের ভূখণ্ডের নাম ইনুইট নুনানগাত, যা চারটি অঞ্চলে ভাগ: ইনুভিয়ালুইত, নুনাভুত, নুনাভিক ও নুনাতসিয়াভুত। এর ভেতরে 51টি জনপদ, আর এলাকাটি কানাডার মোট আয়তনের 40 শতাংশ ও উপকূলরেখার 72 শতাংশ জুড়ে।

ইনুইট শব্দটির অর্থ কী?

ইনুকটিটুট ভাষায় ইনুইট মানে মানুষ। এটি বহুবচন; একবচনে বলা হয় ইনুক। সেই কারণে ইনুইট জনগোষ্ঠীর লোকেরা বলাটা আসলে দ্বিগুণ কথা, কারণ শব্দটির ভেতরেই মানুষ রয়েছে। আলাস্কার ইনুপিয়াত শব্দটির আক্ষরিক অর্থ আসল মানুষ।

এস্কিমো আর ইনুইট কি একই জিনিস?

পুরোপুরি নয়। কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডে এস্কিমো শব্দটি পরিত্যক্ত, সেখানে মানুষ নিজেদের বলেন ইনুইট বা কালালিত। আলাস্কায় শব্দটি কিছুটা টিকে আছে কারণ সেখানে ইনুপিয়াত ছাড়াও ইউপিক জনগোষ্ঠী আছেন, যাঁরা নিজেদের ইনুইট মনে করেন না। আলাস্কা নেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের মতে ইনুইট এখন চালু শব্দ, আর এস্কিমো ব্যবহার থেকে মুছে যাচ্ছে।

এস্কিমো শব্দের মানে কি কাঁচা মাংস খাওয়া?

ভাষাবিজ্ঞানীরা এই ব্যুৎপত্তি মানেন না। আলাস্কা নেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার বলছে, শব্দটি সম্ভবত এসেছে মঁতাইনে বা ইন্নু ভাষার ayaskimew থেকে, যার অর্থ যে বরফ-জুতোর জাল বোনে। শব্দটি বাদ দেওয়ার আসল কারণ তার অর্থ নয় — কারণ এটি বাইরের লোকের দেওয়া নাম, আর যাঁদের নাম তাঁরা এটি চান না।

পৃথিবীতে ইনুইটদের সংখ্যা কত?

সব মিলিয়ে প্রায় 180,000, চারটি দেশে ছড়ানো। কানাডায় 2021 সালের আদমশুমারিতে গোনা হয়েছিল 70,545 জন, যা 2016-র তুলনায় 8.5 শতাংশ বেশি। এঁদের 69 শতাংশ থাকেন ইনুইট নুনানগাতের ভেতরে, 44 শতাংশ কেবল নুনাভুতে। গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় 57,000, যার বড় অংশ ইনুইট।

নুনাভুত কী, আর কবে তৈরি হয়েছিল?

নুনাভুত কানাডার তৃতীয় টেরিটরি, নামের অর্থ ইনুকটিটুটে আমাদের ভূমি। ইনুইট তাপিরিইত কানাতামি প্রস্তাব দেয় 1976 সালে, গণভোটে সমর্থন মেলে 1982-তে, নীতিগত সম্মতি 1990-এ, নুনাভুত আইন ও ভূমি-চুক্তি 1993-এ, আর টেরিটরি হিসেবে যাত্রা শুরু 1999 সালে। প্রস্তাব থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত লেগেছিল 23 বছর।

ইনুইট নুনানগাত মানে কী?

ইনুইট নুনানগাত কানাডার ইনুইট ভূখণ্ডের নাম। শব্দটি কেবল জমি বোঝায় না — বোঝায় জমি, জল ও বরফ একসঙ্গে। এটি চারটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত এবং কানাডার মোট আয়তনের 40 শতাংশ জুড়ে। 2021 সালে কানাডার ইনুইটদের 69 শতাংশ এর ভেতরে থাকতেন, 2016 সালে যা ছিল 72.8 শতাংশ।

ইনুইটরা কোন ভাষায় কথা বলেন?

ভাষাগুলোর সমষ্টিগত নাম ইনুকটুট। 2021 সালের কানাডীয় আদমশুমারিতে ইনুকটিটুটের বক্তা 39,620 জন, ইনুইন্নাকতুনের 735 এবং ইনুভিয়ালুকতুনের 330। ইনুইট তাপিরিইত কানাতামির হিসাবে প্রায় 60 শতাংশ ইনুইট ইনুকটুটে কথোপকথন চালাতে পারেন, তবে নুনাতসিয়াভুতে হারটি 21.4 শতাংশ ও ইনুভিয়ালুইত অঞ্চলে 22 শতাংশ।

ইনুইটদের স্লেজ-কুকুর নিয়ে কী ঘটেছিল?

1950 ও 60-এর দশকে বহু কিম্মিইত বা স্লেজ-কুকুর মারা হয়। ইনুইটদের সাক্ষ্য অনুযায়ী এতে ভ্রমণ ও খাবার সংগ্রহের মৌলিক হাতিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায়, যেখান থেকে খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার শুরু। RCMP-র বক্তব্য, কুকুরগুলো মারা হয়েছিল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণে। দুটি বক্তব্যই নথিভুক্ত এবং পরস্পরবিরোধী।

ডিস্ক নম্বর কী ছিল?

ইনুইটদের নামের পদ্ধতি কানাডীয় প্রশাসনের নথির সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না বলে সরকার প্রত্যেককে একটি করে স্থান-ভিত্তিক ক্রমিক নম্বর দেয়, যা লেখা থাকত ছোট চাকতিতে। চলচ্চিত্রনির্মাতা জ্যাকারিয়াস কুনুকের ডিস্ক নম্বর ছিল E51613। পরে প্রজেক্ট সারনেম নামে আরেকটি কর্মসূচিতে ইনুইটদের পদবি দেওয়া হয়। ডিস্ক নম্বর চাপিয়ে দেওয়াকে আজও সাংস্কৃতিকভাবে আঘাতজনক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

কিকিকতানি সত্য কমিশন কী?

2007 সালে কিকিকতানি ইনুইট অ্যাসোসিয়েশন নিজেরাই গঠন করে এই স্বাধীন সত্য কমিশন, 1950 থেকে 1975 সময়কাল নথিভুক্ত করতে। কানাডা সরকারের নিজের বর্ণনায় এটি ছিল নিজ ধরনের প্রথম স্বাধীন সত্য কমিশন, যার নেতৃত্বে একটি আদিবাসী সংগঠন। 2010 সালে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনের নাম Achieving Saimaqatigiingniq, সঙ্গে 25টি সুপারিশ। কানাডা সরকার ক্ষমা চায় 2019 সালের 14 আগস্ট।

ইনুইটরা কি এখনো বরফের ঘরে থাকেন?

না। ইনুইটরা স্থায়ী জনপদে আধুনিক ঘরবাড়িতে থাকেন — 1950 থেকে 1975-এর মধ্যে, প্রায়ই জোর করে, তাঁদের স্থায়ী বসতিতে আনা হয়। ইগলু ছিল ভ্রমণ ও শিকারের সময়কার অস্থায়ী আশ্রয়, স্থায়ী বাসস্থান নয়। বর্তমান সমস্যা বরং উল্টো — 2021 সালের আদমশুমারিতে ইনুইট নুনানগাতের 52.9 শতাংশ ইনুইট ভিড় করা ঘরে থাকেন।

যা এখনো জানা যায়নি

এই লেখার কয়েকটি জায়গায় উৎস দুর্বল বা অসম্পূর্ণ, এবং সেগুলো চেপে না গিয়ে বলে রাখা ভালো।

  • খাদ্য-নিরাপত্তার সংখ্যাগুলো 2012 সালের, অ্যাবরিজিনাল পিপলস সার্ভে থেকে। এটিই এখনো সবচেয়ে বিস্তারিত অঞ্চলভিত্তিক ভাঙা-হিসাব, কিন্তু তেরো বছরের পুরনো। এর চেয়ে নতুন ও সমান বিস্তারিত সরকারি হিসাব খুঁজে পাইনি।
  • কত কিম্মিইত মারা হয়েছিল, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সংখ্যা পাওয়া যায়নি। ইচ্ছে করেই কোনো সংখ্যা লেখা হয়নি — প্রচারিত সংখ্যাগুলোর পেছনে উৎস মেলেনি।
  • ইনুভিয়ালুইত অঞ্চলের জনসংখ্যা নিয়ে উৎসে অমিল। ITK-র পাতায় একটি সংখ্যা পাওয়া যায় যা অন্য হিসাবের সঙ্গে মেলে না, তাই অঞ্চলটির আলাদা জনসংখ্যা এখানে লেখা হয়নি; কেবল কানাডার মোট ও নুনাভুতের অংশ দেওয়া হয়েছে।
  • ন্যাশনাল ইনুইট ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজির পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের নাম ITK-র ওয়েব পাতায় নেই, কেবল মূল PDF-এ। তাই নামগুলো এখানে দেওয়া হয়নি।
  • হাই আর্কটিক রিলোকেশনের বিস্তারিত — কতজন, কোন পরিবার, কোন বছর — এই লেখায় আসেনি। এটি নিজেই একটি আলাদা লেখার বিষয়।
  • আলাস্কা ও চুকোটকার ইনুইটদের বর্তমান অবস্থা এখানে প্রায় ছোঁয়া হয়নি। লেখাটির ভার কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের দিকে, কারণ নির্ভরযোগ্য উৎস সেখানেই বেশি।
  • বাংলা ভাষায় ইনুইট বিষয়ে কোনো প্রাথমিক উৎস নেই — জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভেও কিছু পাওয়া যায়নি। পুরো লেখাটি দ্বিতীয়-স্তরের উৎসনির্ভর, যদিও উৎসগুলোর বড় অংশ ইনুইট সংগঠনের নিজেদের প্রকাশনা ও সরকারি নথি।

তথ্যসূত্র

  1. Inuit Tapiriit Kanatami, About Canadian Inuit — itk.ca। ইনুইট নুনানগাতের চারটি অঞ্চল, 51টি জনপদ, আয়তন ও উপকূলরেখার হার, জেমস বে চুক্তি (1975) ও ইনুভিয়ালুইত চুক্তি (1984)।
  2. Statistics Canada, Indigenous peoples, 2021 Census (21 September 2022) — statcan.gc.ca। জনসংখ্যা 70,545, বৃদ্ধি 8.5%, ইনুইট নুনানগাতে 69%, গড় বয়স 28.9, ভাষার বক্তাসংখ্যা, ভিড় করা ঘরের হার।
  3. Statistics Canada, Food insecurity among Inuit living in Inuit Nunangat, Insights on Canadian Society (2017) — statcan.gc.ca। 2012 সালের APS-ভিত্তিক 52% ও অঞ্চলভিত্তিক হার, খাবারের সাপ্তাহিক খরচের তুলনা।
  4. The Canadian Encyclopedia, Inuit, লেখক Mini Aodla Freeman (সর্বশেষ সম্পাদনা 28 November 2023) — thecanadianencyclopedia.ca। শব্দার্থ, আটটি নৃগোষ্ঠী, ডিস্ক নম্বর ও E51613, ITK প্রতিষ্ঠা 1971, নুনাভুতের ধাপগুলো।
  5. Alaska Native Language Center, University of Alaska Fairbanks, Inuit or Eskimo: Which name to use? — uaf.edu। ব্যুৎপত্তি, ইনুইট ও ইউপিকের পার্থক্য, আলাস্কায় ব্যবহারের অবস্থা।
  6. Crown-Indigenous Relations and Northern Affairs Canada, Qikiqtani Truth Commission (14 August 2019) — canada.ca। কমিশনের গঠন, 13টি জনপদ, কিম্মিইত, প্রতিবেদন ও 25টি সুপারিশ, ক্ষমা প্রার্থনার তারিখ।
  7. Crown-Indigenous Relations and Northern Affairs Canada, Nunavut devolution — rcaanc-cirnac.gc.ca। 18 জানুয়ারি 2024-এ স্বাক্ষর, তিন পক্ষ, 1 এপ্রিল 2027-এ হস্তান্তর।
  8. Inuit Circumpolar Council, About ICC — inuitcircumpolar.com। 1977-এ প্রতিষ্ঠা, এবেন হপসন সিনিয়র, 1980-এর নুউক সনদ, 1992-এ চুকোটকার যোগদান।
  9. Inuit Tapiriit Kanatami, National Inuit Climate Change Strategy (7 June 2019) — itk.ca। প্রকাশের তারিখ ও পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের উল্লেখ।
  10. Statistics Greenland, Self-Government — stat.gl। 1 মে 1979-এ হোম রুল, 21 জুন 2009-এ স্বশাসন।
  11. Crown-Indigenous Relations and Northern Affairs Canada, Apology for the Inuit High Arctic relocation (18 August 2010) — rcaanc-cirnac.gc.ca। ইনুকজুয়াক ও পন্ড ইনলেট থেকে গ্রিস ফিয়র্ড ও রেজোলিউট বে-তে স্থানান্তর, ভাঙা প্রতিশ্রুতি, ক্ষমার তারিখ ও উদ্ধৃতি।
  12. Health Canada, National Strategy Advocates Inuit-led Approach to Suicide Prevention (27 July 2016) — canada.ca। প্রকাশের তারিখ ও স্থান, 90 লক্ষ ডলার, ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র, কৌশলের অবস্থান।
  13. The Canadian Encyclopedia, Kenojuak Ashevak — thecanadianencyclopedia.ca। জন্ম-মৃত্যু, The Enchanted Owl (1960), সম্মাননা, কেপ ডরসেট সমবায়ের প্রথম নারী সদস্য।
  14. Kenny, T.-A. et al., Estimating Wildlife Harvest Based on Reported Consumption by Inuit in the Canadian Arctic, ARCTIC, খণ্ড 70, সংখ্যা 1 (2017) — journalhosting.ucalgary.ca। 2007–08 ইনুইট হেলথ স্টাডি-ভিত্তিক মাথাপিছু খাওয়ার পরিমাণ ও বার্ষিক মোট প্রয়োজন।
  15. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, জেলা প্রতিবেদন — পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনামূলক সংখ্যার জন্য।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 6 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, কানাডার আদিবাসী, ভূমি অধিকার

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা