Jumjournal Logo

পাহাড়ের রূপকথা ও লোককাহিনীর পূর্ণ সূচি: ১৬ জনগোষ্ঠীর ১২৫টি গল্প

Last updated Oct 15th, 2026

0

Featured image

জুমজার্নালের আর্কাইভে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের ষোলটি জনগোষ্ঠীর ১২৫টি রূপকথা ও লোককাহিনী প্রকাশিত আছে। এই পাতাটি তার পূর্ণ সূচি — জনগোষ্ঠী ধরে ভাগ করা, প্রতিটির আকার ও পড়ার সরাসরি লিংকসহ।

সূচি বানানোর কারণ ব্যবহারিক। গল্পগুলো আট বছরের বেশি সময় ধরে আলাদা আলাদা পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে, এক পাতা থেকে অন্য পাতায় যাওয়ার কোনো পথ ছিল না, আর কোন জনগোষ্ঠীর কতটি গল্প আছে তা কোথাও এক জায়গায় লেখা ছিল না।

সংখ্যাগুলো আর্কাইভের নিজের পাঠ গুনে বের করা। মোট শব্দ ১,৬৫,০৪৩; গড় গল্প ১,৩২০ শব্দের; মধ্যমা ১,০২৩। সবচেয়ে ছোট গল্পটি ১৬৪ শব্দের, সবচেয়ে বড়টি ৭,৪০০।

সূচিপত্র

আর্কাইভে কী আছে: ১২৫টি পোস্ট, ১১৯টি আলাদা পাঠ

রূপকথা বিভাগে পোস্টের সংখ্যা ১২৫। তবে পাঁচটি গল্প একাধিকবার প্রকাশিত — চারটি দু’বার, আর একটি তিনবার। মোট এগারোটি পোস্টে আসলে পাঁচটি গল্প। সেই হিসেবে আলাদা পাঠের সংখ্যা ১১৯।

গল্পগুলো ষোলটি জনগোষ্ঠীর। সবচেয়ে বড় সংগ্রহ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর — ৩৯টি, অর্থাৎ পুরো আর্কাইভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সবচেয়ে ছোট সংগ্রহ বম, কলই, খাসিয়া, মনিপুরী ও হালাম জনগোষ্ঠীর — প্রতিটির একটি করে।

১২৫টির মধ্যে ৩৬টি পাঠে “তথ্যসূত্র” শব্দটি লেখা আছে, আর ১৫টিতে সংগ্রাহক বা সংকলনের উল্লেখ আছে। বাকিগুলোতে উৎস অন্য ভঙ্গিতে — কখনো শেষ লাইনে বইয়ের নাম, কখনো কথকের নাম, কখনো শিল্পীর নামসহ।

প্রকাশের সময়কাল আট বছরের বেশি বিস্তৃত, আর গল্পগুলোর মধ্যে একটি চাকমা ভাষায় লেখা।

চারটি লেবেল: রূপকথা, লোককথা, লোককাহিনী, উপকথা

আর্কাইভে গল্পগুলোর শিরোনামে চারটি আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে — রূপকথা, লোককথা, লোককাহিনী আর উপকথা। চারটিই বাংলা সাহিত্যের চেনা পরিভাষা, আর প্রত্যেকটির আলাদা অর্থ আছে।

সাধারণভাবে বাংলা ব্যবহারে রূপকথা বলা হয় সেই কাহিনিকে যেখানে অলৌকিক ঘটে — রাজকন্যা, দৈত্য, কথা-বলা পশু, মানুষের রূপ বদল। লোককথা ও লোককাহিনী দুটোই বিস্তৃত শব্দ: মুখে মুখে চলে আসা যেকোনো কাহিনি, অলৌকিক থাকুক বা না থাকুক। আর উপকথা সাধারণত সেই ছোট গল্প, যার শেষে একটি নীতিকথা থাকে — পশুপাখির মুখ দিয়ে বলা।

আর্কাইভে কোন লেবেল কতবার, তা নিচে।

লেবেলযত গল্পের শিরোনাম বা ট্যাগে আছে
রূপকথা১০২
লোককাহিনী৪২
লোককথা২০
উপকথা৫

সংখ্যাগুলো যোগ করলে ১২৫-এর বেশি হয়, কারণ ৩৮টি গল্প একসঙ্গে একাধিক লেবেল বহন করে — যেমন একই গল্পের শিরোনামে “লোককথা” আর ট্যাগে “রূপকথা”।

গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হলো, আর্কাইভে এই চারটি শব্দ কঠোরভাবে আলাদা অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। লেবেলটি এসেছে যিনি পোস্টটি দিয়েছেন তাঁর হাত থেকে, কিংবা যে বই থেকে গল্পটি নেওয়া সেই বইয়ের শিরোনাম থেকে — কাহিনির ভেতরের চরিত্র বিচার করে নয়।

তাই এই সূচিতে লেবেল ধরে ভাগ করা হয়নি। ভাগ করা হয়েছে জনগোষ্ঠী ধরে, যা পাঠকের খোঁজার ভঙ্গির সঙ্গে মেলে।

পাহাড়ের ভাষাগুলোতে এই ধরনের কাহিনির নিজের শব্দও আছে। চাকমা একটি পাঠে পশ্চন শব্দের অর্থ দেওয়া আছে “শিশুতোষ গল্প”, আর একটি তঞ্চঙ্গ্যা পাঠে পচ্ছন-র বাংলা অর্থ দেওয়া আছে সরাসরি — “রূপকথা”। ম্রো একটি পাঠের শিরোনামে আছে সাংচিয়া।

লেবেল যে আলাদা করে না: একই গল্প দুই বা তিন নামে

চারটি লেবেল যে বিনিময়যোগ্যভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তার সবচেয়ে সরাসরি প্রমাণ আর্কাইভের ভেতরেই আছে — পাঁচটি গল্প একাধিকবার প্রকাশিত, আর প্রতিবার লেবেল আলাদা।

গল্পকত পোস্টেযে লেবেলগুলোতে
ঘুঘু পাখির গল্প (কংখোনূপঃ খুই), খেয়াং৩খেয়াং লোককাহিনী ◦ খিয়াং রূপকথা ◦ খিয়াং লোককাহিনী
জেলে ও বোয়ালমাছ, ত্রিপুরা২ত্রিপুরা লোককাহিনী ◦ ত্রিপুরা রূপকথা
ঠকের গল্প, মারমা২মারমা লোককাহিনী ◦ মারমা রূপকথা
চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প), ম্রো২ম্রো লোককাহিনী ◦ ম্রো রূপকথা
চোংক্লং পোচোং গুম খুই (তিন যুবকের গল্প), খেয়াং২খেয়াং রূপকথা ◦ খেয়াং রূপকথা — শিরোনাম ও লেবেল দুটোই এক

প্রথম চারটি ক্ষেত্রে একই পাঠ একবার “রূপকথা” আর একবার “লোককাহিনী” নামে আছে। সবচেয়ে বেশিবার এসেছে খেয়াং ঘুঘু পাখির গল্প — তিনটি আলাদা পোস্টে, আর তিনবারের লেবেল ও জনগোষ্ঠীর বানান দুটোই বদলেছে: একবার “খেয়াং লোককাহিনী”, একবার “খিয়াং রূপকথা”, একবার “খিয়াং লোককাহিনী”।

পঞ্চম ক্ষেত্রটি আলাদা, কারণ সেখানে শিরোনাম ও লেবেল দুটোই হুবহু এক — অর্থাৎ চোংক্লং পোচোং গুম খুই নিছক দুইবার প্রকাশিত হয়ে গেছে, লেবেলের কোনো ফারাক ছাড়াই।

পাঠগুলোর মিল মাপা হয়েছে শব্দ ধরে ধরে। পাঁচটি দলের প্রতিটিতে মিল ৯৮.৫ শতাংশের বেশি, আর তিনটিতে কার্যত শতভাগ। যে সামান্য ফারাক আছে তা কাহিনির নয়, বানান ও যুক্তাক্ষরের।

এই সূচিতে দুটো পাঠই রাখা হয়েছে, কারণ দুটোই এখনো প্রকাশিত আর দুটোরই আলাদা ঠিকানা আছে। [কোনটি আগে প্রকাশিত আর কোনটি পরে, তা পোস্টের তারিখ থেকে দেখা গেলেও কোনটি রাখা উচিত সেই সিদ্ধান্ত সম্পাদকের — যাচাই প্রয়োজন]

জনগোষ্ঠী অনুযায়ী ভাগ

ষোলটি জনগোষ্ঠীর গল্প আছে আর্কাইভে, আর বিতরণটি খুব অসম — চারটি জনগোষ্ঠীর ভাগে ৮০টি গল্প, আর সাতটি জনগোষ্ঠীর ভাগে একটি করে।

জনগোষ্ঠীগল্পসংখ্যাআলাদা সূচি
ত্রিপুরা৩৯ত্রিপুরা সূচি
মারমা১৯মারমা সূচি
ম্রো১২ম্রো সূচি
খেয়াং১১ছোট সংগ্রহের সূচি
চাকমা১০চাকমা সূচি
তঞ্চঙ্গ্যা৮—
গারো৭—
সাঁওতাল৫—
রাখাইন৪—
চাক৩ছোট সংগ্রহের সূচি
খুমী২ছোট সংগ্রহের সূচি
বম১ছোট সংগ্রহের সূচি
কলই১—
খাসিয়া১—
মনিপুরী১—
হালাম১ছোট সংগ্রহের সূচি

তালিকাটি পড়ার সময় একটি কথা মনে রাখা দরকার। এই সংখ্যাগুলো কোনো জনগোষ্ঠীর লোককথার ভাণ্ডারের আকার নয় — এগুলো কেবল জুমজার্নালের আর্কাইভে কী উঠেছে তার হিসাব। যে জনগোষ্ঠীর গল্প এখানে একটি, তার মুদ্রিত সংকলনে হয়তো একশোটি আছে।

তালিকায় সবাই পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়। গারো, সাঁওতাল, খাসিয়া, মনিপুরী, কলই ও হালাম জনগোষ্ঠীর বসবাস দেশের অন্য অঞ্চলে বা সীমান্তের ওপারে, আর তাঁদের গল্প আর্কাইভে এসেছে ভিন্ন সংকলন থেকে।

কোন বই থেকে এল

আর্কাইভের গল্পগুলো শূন্য থেকে আসেনি। যেখানে উৎস লেখা আছে, সেখানে নাম ধরে কয়েকটি সংকলন-গ্রন্থ ফিরে ফিরে আসে।

উৎসের নামযত পাঠে উল্লিখিত
ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা১৪
ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী১৩
ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি৫
বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী (২০০০)৩
তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তী৩
লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য২
মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় বার্ষিকী (১৯৮৯-৯০)২
সঞ্জীব দ্রং-বর্ণিত২

বাকি পাঠগুলোতে উৎস অন্য রকমে দেওয়া — কখনো কথকের নাম, কখনো সংগ্রাহকের নাম, কখনো কেবল অনুবাদকের। সংগ্রাহক, বই আর কথকদের নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন-এ।

একটি বিষয় তালিকা থেকেই স্পষ্ট: সবচেয়ে বেশি গল্প এসেছে ত্রিপুরা রাজ্যের দুটি সংকলন থেকে — সাতাশটি। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজের জনগোষ্ঠীগুলোর গল্পও সেই বইগুলোতে আছে, কারণ সীমান্তের দুই পাশে একই জনগোষ্ঠীর বসবাস।

আকার: দীর্ঘতম ও ক্ষুদ্রতম

আর্কাইভের গল্পগুলোর আকারের ফারাক পঁয়তাল্লিশ গুণের বেশি — ১৬৪ শব্দ থেকে ৭,৪০০ শব্দ পর্যন্ত। অর্ধেকের বেশি গল্প এক হাজার শব্দের আশপাশে।

দীর্ঘতম পাঁচটি:

গল্পশব্দজনগোষ্ঠী
নাপিতের বুদ্ধি৭৪০০সাঁওতাল
পুন্দা তান্নায় ( লালমতির প্রেম কাহিনী )৫৮৩৩ত্রিপুরা
হঅ্’বি আর ধঅ্’বি৫৩৫৭চাকমা
লাংগাই রাজা৪৪১৮ত্রিপুরা
কোহিটোর কুয়ো৩৫৯৮খেয়াং

ক্ষুদ্রতম পাঁচটি:

গল্পশব্দজনগোষ্ঠী
অনুতপ্ত কৃষক১৬৪মারমা
বাঘ এবং একটি কচ্ছপ২৬৫ত্রিপুরা
চোংক্লং পোচোং গুম খুই (তিন যুবকের গল্প)২৭৮খেয়াং
চোংক্লং পোচোং গুম খুই (তিন যুবকের গল্প)২৭৮খেয়াং
ঙুলুই বেঙসেন চঃ খুই (লাল গাল মাছের গল্প)২৭৯খেয়াং

আকারের এই ফারাকের একটি কারণ অনুমান করা যায়। ছোট পাঠগুলোর বেশিরভাগই খেয়াং, চাক ও খুমী সংগ্রহের, যেগুলোর শিরোনামে মূল ভাষার নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ — অর্থাৎ অনুবাদ করে সংক্ষেপে লেখা। দীর্ঘ পাঠগুলো সংকলন-গ্রন্থ থেকে হুবহু তুলে আনা। তাই আকারটি গল্পের নয়, নথিবদ্ধ করার ধরনের।

কী নিয়ে গল্প: গোনা মোটিফ

১২৫টি পাঠে কোন শব্দ কতবার আসে, তা গুনে দেখলে পাহাড়ের লোককথার বিষয়বস্তুর একটি মোটামুটি ছবি পাওয়া যায়।

যা গল্পে আছেকতটি গল্পে
রাজা৫৮
জুম৪৯
বাঁশ৪১
বাঘ৩১
শূকর৩০
হাতি২৬
ভূত বা প্রেত১৪
সাপ২৩
বানর২০
দেবতা১৮
সৃষ্টি১৭
শিয়াল৭
কচ্ছপ৬

সংখ্যাগুলো থেকে দুটি কথা বেরিয়ে আসে। প্রথমত, রাজা সবচেয়ে বেশি — ৫৮টি গল্পে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকে। দ্বিতীয়ত, জুম আছে ৪৯টিতে; অর্থাৎ গল্পের পটভূমি কল্পনার রাজ্য হলেও জীবিকাটি বাস্তব।

বাঘ ৩১টি গল্পে, নয়টি জনগোষ্ঠীর কাহিনি মিলিয়ে — আর বারবার সে হারে তার চেয়ে ছোট কোনো প্রাণীর বুদ্ধির কাছে। শূকর ৩০টিতে, যা পাহাড়ের খাদ্য ও উৎসবের সঙ্গে জড়িত। বাঁশ ৪১টিতে, ঘর থেকে ঝুড়ি থেকে বাদ্যযন্ত্র পর্যন্ত। ভূতের সংখ্যাটি তুলনায় কম — ১৪, আর তা শব্দ-সীমানা ধরে গোনা।

গণনা পদ্ধতিটি সরল, আর তার সীমাও আছে: একটি শব্দ গল্পে একবার এলেও গোনা হয়েছে, তাই এই সংখ্যা বিষয় নয় — উপস্থিতি। মোটিফ ধরে ধরে তুলনা আছে আলাদা লেখায়, যেমন পশু বর ও পশু বউয়ের মোটিফ আর আদিবাসী সৃষ্টিকথা-য়।

যে পাঠগুলো বাংলায় নয়

১২৫টি পাঠের প্রায় সবই বাংলায়, তবে অন্তত একটি পাঠ পুরোপুরি চাকমা ভাষায় লেখা — বাংলা লিপিতে।

সেটি সনার চিঝির পশ্চন — মেঘঅ পিধে, লেখক আলোময় চাকমা, তারিখ ২৮.০৬.২০১৭। শিরোনামের পশ্চন শব্দের অর্থ পাতাটিতেই দেওয়া — শিশুতোষ গল্প।

এছাড়া খেয়াং, ম্রো, চাক ও খুমী সংগ্রহের অনেক পাঠের শিরোনাম মূল ভাষায়, আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ — যেমন ঙুলুই বেঙসেন চঃ খুই (লাল পিঁপড়ার গল্প) ধরনের গঠন। অর্থাৎ শিরোনাম দুই ভাষায়, শরীর বাংলায়।

গল্পের ভেতরেও মূল ভাষার শব্দ বহু জায়গায় রাখা হয়েছে, আর পাশে বা নিচে বাংলা অর্থ বসানো হয়েছে। পাহাড়ি ভাষার লিপি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার অবস্থা নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা-য়।

প্রকাশের কালক্রম: আট বছরে ১২৫টি, আর ২০২১-এর পর থামা

আর্কাইভের গল্পগুলো সমান গতিতে জমেনি। প্রথম গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ৮ এপ্রিল ২০১৭, আর সর্বশেষটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। মাঝের সময়ে প্রায় সব কাজ হয়েছে একটি বছরে — ২০২০-এ।

বছরকতটি গল্পযে জনগোষ্ঠীর গল্প বেশি
২০১৭১২চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো — তিনটি করে
২০১৯১চাকমা
২০২০৯২ত্রিপুরা ২৭, মারমা ১৫, খেয়াং ১১, ম্রো ৯
২০২১২০ত্রিপুরা ৯, তঞ্চঙ্গ্যা ৩, মারমা ৩

২০২০ সালের ভেতরেও কাজটি ছড়িয়ে ছিল না। জানুয়ারিতে ৩০টি, মার্চে ২২টি আর এপ্রিলে ২৪টি — অর্থাৎ বছরের প্রথম চার মাসেই ৮৪টি। বাকি আট মাসে আটটি।

খেয়াং সংগ্রহের এগারোটি গল্পের সবই ২০২০ সালের, আর সেগুলোর আকার ছোট — সম্ভবত একটি সংকলন থেকে একসঙ্গে অনুবাদ করে তোলা হয়েছিল।

সবচেয়ে লক্ষণীয় তথ্যটি হলো, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১-এর পর রূপকথা বিভাগে নতুন কোনো গল্প যোগ হয়নি। সংগ্রহটি তাই এখন স্থির, আর এই সূচির সংখ্যাগুলোও সেই স্থির অবস্থার।

একই মোটিফ, ভিন্ন ভাষা

আর্কাইভের সবচেয়ে কৌতূহলজনক ধারাটি হলো, একই কাহিনি-কাঠামো আলাদা আলাদা জনগোষ্ঠীর গল্পে আলাদা নামে ফিরে আসে — আর শিরোনাম মিলিয়েই তা ধরা যায়।

সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ বাঘ ও শূকরের বন্ধুত্বের গল্প, যা তিনটি জনগোষ্ঠীর সংগ্রহে তিন নামে আছে:

  • তঞ্চঙ্গ্যা — বাঘ ও শূকরের মিতালী
  • মারমা — বাঘ ও শূকরের গল্প
  • ম্রো — পাক হন প্রি, বন্ধনীতে বাংলা অর্থ দেওয়া: শূকর ও বাঘ

ম্রো শিরোনামটি লক্ষণীয়, কারণ সেখানে ক্রম উল্টো — শূকর আগে, বাঘ পরে। তিনটি পাঠ পাশাপাশি রেখে তুলনা আছে আলাদা লেখায়: বাঘ ও শূকরের মিতালি, তিন ভাষায়।

দ্বিতীয় ধারাটি বাঘ বনাম ছোট প্রাণী। চাকমা গল্পে বাঘ হারে শামুকের কাছে, ত্রিপুরা গল্পে কচ্ছপের কাছে, আর সাঁওতাল গল্পে খরগোশ একসময় বাঘকেই খেত। তিনটি আলাদা প্রাণী, একই পরিণতি।

তৃতীয়টি সৃষ্টিকথা। চাকমা সংগ্রহে গোজেন বটগাছের আসনে বসে পৃথিবী সৃষ্টি করেন, আর ম্রো সংগ্রহে ক্রংথপ সাংচিয়া নামে আলাদা একটি পৃথিবী-সৃষ্টির কাহিনি আছে। পাশাপাশি পড়ার জন্য আলাদা লেখা আছে আদিবাসী সৃষ্টিকথা-য়।

ভূতের গল্প ১৪টি, সৃষ্টিকথা ১৭টি

১২৫টি পাঠের মধ্যে ভূত বা প্রেত আছে ১৪টিতে, আর সৃষ্টি-সংক্রান্ত আলোচনা ১৭টিতে। দুটো দলই আটটি জনগোষ্ঠীর গল্পে ছড়ানো।

ভূতের গল্প সবচেয়ে বেশি খেয়াং ও মারমা সংগ্রহে — তিনটি করে, এরপর চাকমা ও ত্রিপুরা দুটি করে, আর তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, রাখাইন ও সাঁওতাল একটি করে।

খেয়াং তিনটি অবশ্য একই গল্পের তিনটি কপি — ঘুঘু পাখির গল্প, যেখানে শব্দটি একবার করে এসেছে। সেই হিসেবে আলাদা পাঠ ১২টি।

গণনাটি শব্দ-সীমানা ধরে করা, আর অদ্ভুত বা কিম্ভুত ধরনের শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে — সেগুলোর ভেতরেও বর্ণক্রমটি থাকে, কিন্তু অর্থ আলাদা।

গল্পগুলোতে ভূত নিছক ভয়ের উপকরণ নয়; তার সঙ্গে আচরণের নিয়মও জুড়ে দেওয়া আছে। চাকমা একটি গল্পে নিয়মগুলো নাম ধরে লেখা — রাতে কারও ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে না, বেরোতে হলে মশাল জ্বালাতে হবে, আর ঘরের আশপাশে মেইয়্যা শাক বুনে রাখলে ভূত ঘেঁষতে পারে না। শব্দের ঘনত্বেও এই পাঠটিই শীর্ষে — ১,২৪৩ শব্দে ভূত শব্দটি তিপ্পান্নবার।

সৃষ্টিকথার দলে সবচেয়ে বেশি খেয়াং সংগ্রহে — পাঁচটি পাঠে, এরপর মারমা ও ম্রো তিনটি করে। এগুলোর অনেকগুলোই কেবল পৃথিবীর শুরু নয়, কোনো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের শুরু ব্যাখ্যা করে — আগুনের ব্যবহার, জুমচাষ, কিংবা একটি প্রাণীর চেহারা।

পাহাড়ের ভয়ের জগৎ নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি ভূতের গল্পে।

কীভাবে এই সূচি বানানো হয়েছে

সংখ্যাগুলো অনুমান নয়, গণনা। রূপকথা বিভাগের প্রতিটি প্রকাশিত পোস্টের পাঠ নামিয়ে এনে শব্দ গোনা হয়েছে, লেবেল ও ট্যাগ মিলিয়ে জনগোষ্ঠী নির্ধারণ করা হয়েছে, আর প্রতিটি লিংক আলাদা করে যাচাই করা হয়েছে।

পদ্ধতির চারটি ধাপ:

  1. তালিকা — রূপকথা বিভাগের সব প্রকাশিত পোস্ট, মোট ১২৫টি।
  2. শ্রেণিবিন্যাস — প্রতিটি পোস্টের শিরোনাম ও ট্যাগ থেকে জনগোষ্ঠী নির্ধারণ। একটিও অবশিষ্ট থাকেনি, আর কোনো পোস্ট দুই জনগোষ্ঠীতে পড়েনি।
  3. পাঠ — প্রতিটি গল্পের পূর্ণ পাঠ পড়ে শব্দ গোনা, উৎসের লাইন খোঁজা, আর মূল ভাষার শব্দ ও তার বাংলা অর্থ তুলে রাখা।
  4. লিংক যাচাই — ১২৫টি লিংকের প্রতিটি আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়েছে; সবগুলোই কাজ করে।

পদ্ধতির সীমাও বলে রাখা দরকার। শব্দসংখ্যা গোনা হয়েছে পোস্টের দৃশ্যমান পাঠ থেকে, তাই ছবির ক্যাপশন ও শেষের উৎস-লাইনও তার মধ্যে পড়েছে। আর মোটিফ গণনায় একটি শব্দ গল্পে একবার এলেও গোনা হয়েছে — তাই সেই সংখ্যাগুলো বিষয়ের নয়, উপস্থিতির।

জনগোষ্ঠী নির্ধারণ হয়েছে আর্কাইভের নিজের লেবেল থেকে, আলাদা করে কাহিনির ভেতর বিচার করে নয়। কোনো গল্প ভুল লেবেলে থাকলে এই সূচিতেও সেই ভুলটি থেকে যাবে। [প্রতিটি গল্পের জনগোষ্ঠী-নির্দেশ মুদ্রিত উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি — যাচাই প্রয়োজন]

ত্রিপুরা — ৩৯টি

আর্কাইভের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। গল্পগুলোর বড় অংশ এসেছে ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা ও ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী — এই দুই সংকলন থেকে। বাঘ আছে এগারোটিতে, যা কোনো একটি জনগোষ্ঠীর গল্পে সর্বোচ্চ।

সংগ্রহটির মোট আকার ৫০,১৭৯ শব্দ, গড় গল্প ১,২৮৬ শব্দের। দীর্ঘতম পাঠ পুন্দা তান্নায় (লালমতির প্রেমকাহিনী) — ৫,৮৩৩ শব্দ; ক্ষুদ্রতম বাঘ এবং একটি কচ্ছপ — ২৬৫ শব্দ।

উৎসের দিক থেকে এই সংগ্রহটি আর্কাইভে সবচেয়ে ভালোভাবে নথিবদ্ধ: তেরোটি পাঠে ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী আর চারটিতে ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা নাম ধরে উল্লিখিত। একটি পাঠে উৎস মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় বার্ষিকী।

প্রকাশের দিক থেকেও এটি সবচেয়ে ছড়ানো — ২০১৭-তে তিনটি, ২০২০-তে সাতাশটি, ২০২১-এ নয়টি। ভূত আছে দুটিতে, রাজকন্যা চারটিতে।

ত্রিপুরা লোককাহিনীর আলাদা সূচি →

মারমা — ১৯টি

দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগ্রহ। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাঠটি আর্কাইভেরও ক্ষুদ্রতম — ১৬৪ শব্দের অনুতপ্ত কৃষক।

মোট আকার ২৭,৩৮৮ শব্দ, আর গড় ১,৪৪১ শব্দ — ত্রিপুরা সংগ্রহের চেয়ে বেশি। দীর্ঘতম রোসাঙ রাজা ও এক শিল্পীর কাহিনী (২,৯৬২ শব্দ) ও ঠকের গল্প (২,৯২১)।

তিনটি মারমা পাঠে উৎস হিসেবে ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা উল্লিখিত — অর্থাৎ ত্রিপুরা রাজ্যের সংকলনেও মারমা গল্প উঠেছে।

মারমা সংগ্রহের একটি বৈশিষ্ট্য: শিরোনামগুলো সবই বাংলায়, বন্ধনীতে মূল ভাষার নাম নেই — অন্য পাহাড়ি সংগ্রহগুলোর থেকে এখানেই ফারাক। ভূত বা প্রেত আছে তিনটি পাঠে, যা আর্কাইভে সর্বোচ্চ।

মারমা রূপকথার আলাদা সূচি →

ম্রো — ১২টি

ম্রো সংগ্রহে পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনিও আছে — ক্রংথপ সাংচিয়া। পাঁচটি পাঠে উৎস হিসেবে ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি উল্লিখিত।

মোট আকার ১৩,১১০ শব্দ, গড় ১,০৯২। দীর্ঘতম রবখার সাংচিয়া (লাল কাঁকড়ার গল্প) — ১,৭৯৪ শব্দ।

শিরোনামের গঠনটি এই সংগ্রহে সবচেয়ে নিয়মিত: বারোটির দশটিতেই মূল ম্রো নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ — যেমন ওয়াদুই সাঙচিয়া (ডিমের গল্প), উদমা ম্লা (ইঁদুর সুন্দরী)।

শিরোনামে বারবার ফিরে আসে সাংচিয়া শব্দটি, আর তার বানান দুই রকম — সাংচিয়া ও সাঙচিয়া। পাঁচটি পাঠে উৎস ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি। সৃষ্টি-সংক্রান্ত পাঠ তিনটি।

ম্রো রূপকথার আলাদা সূচি →

খেয়াং — ১১টি

শিরোনামে মূল ভাষার নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ — এই গঠনটি খেয়াং সংগ্রহে সবচেয়ে নিয়মিত। পাঠগুলো সংক্ষিপ্ত; আর্কাইভের ক্ষুদ্রতম পাঁচটির তিনটিই এই সংগ্রহের। লেবেলে খেয়াং ও খিয়াং — দুই বানানই আছে।

এই সংগ্রহটির একটি অস্বাভাবিক গঠন আছে। এগারোটির নয়টি সংক্ষিপ্ত — শিরোনামে মূল ভাষার নাম, বন্ধনীতে বাংলা অর্থ, আর শরীরে তিনশো-চারশো শব্দ। কিন্তু বাকি দুটি, লুঙ্সা গ্রামের রূপকথা শিরোনামের পাঠদুটি, ৩,৫৯৮ ও ২,৮৩৩ শব্দের।

সেই দুটির ভারে সংগ্রহের গড় উঠে গেছে ১,৬৫৩ শব্দে — যা আর্কাইভের কোনো বড় সংগ্রহের মধ্যে সর্বোচ্চ। দুটি পাঠেই উৎস হিসেবে লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য উল্লিখিত।

লেবেলে দুই বানান — খেয়াং ও খিয়াং — দুটোই ব্যবহৃত। আর্কাইভের সব নকল পোস্টের অর্ধেকও এই সংগ্রহে: ঘুঘু পাখির গল্প তিনটি পোস্টে, আর চোংক্লং পোচোং গুম খুই দুটিতে — অর্থাৎ এগারোটি পোস্টে আসলে আটটি আলাদা গল্প। সবই ২০২০ সালের, আর সৃষ্টি-সংক্রান্ত পাঠ পাঁচটি।

ছোট সংগ্রহগুলোর আলাদা সূচি →

চাকমা — ১০টি

তিনটি গল্প বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী (২০০০) থেকে, পাঁচটি ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা থেকে। একটি গল্প বাংলাদেশের পাঠ্যক্রমের বাংলা বইয়ে সংযোজিত হয়েছিল, আর একটি পাঠ চাকমা ভাষায়।

মোট আকার ১৬,০৬৩ শব্দ। দীর্ঘতম হঅ্’বি আর ধঅ্’বি — ৫,৩৫৭ শব্দ, যা আর্কাইভের তৃতীয় দীর্ঘতম পাঠ; ক্ষুদ্রতম তিন পাখির গপ্পো — ৩৬৭ শব্দ, যার লেখক একজন নবম শ্রেণির ছাত্র।

উৎসের দিক থেকে এই সংগ্রহটি ভিন্ন, কারণ এখানে চার রকম উৎস আছে — একটি সংকলন-গ্রন্থ, একটি প্রতিবেশী রাজ্যের সংকলন, একজন স্কুলছাত্র, আর একজন সমকালীন লেখক। তিনটি পাঠে ছবির শিল্পীর নামও ছাপা আছে।

ভূত আছে দুটি গল্পে, বাঘ চারটিতে — আর ভূতের ঘনত্বে অমগদ চাকমা আর্কাইভে শীর্ষে। সৃষ্টিকথার পাঠটিতে গোজেন, কেদুগা, কালেইয়্যা, বিয়াত্রা ও মাহ লখী মা — পাঁচটি নাম ধরে একটি পূর্ণ সৃষ্টি-ধারা আছে।

চাকমা রূপকথার আলাদা সূচি →

তঞ্চঙ্গ্যা — ৮টি

তিনটি পাঠে উৎস তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তী। একটি পাঠে পচ্ছন শব্দের বাংলা অর্থ দেওয়া আছে — রূপকথা।

মোট আকার ১১,৬৮৫ শব্দ, গড় ১,৪৬০। দীর্ঘতম বাঘ ও শূকরের মিতালী — ৩,৪২৯ শব্দ, আর দ্বিতীয় তেন্দেরার পচ্ছন — ২,৮৪৩।

শিরোনামে পচ্ছন শব্দটি এই সংগ্রহেই পাওয়া যায়, আর একটি পাঠে তার বাংলা অর্থ সরাসরি দেওয়া — রূপকথা। একই শব্দের চাকমা রূপ পশ্চন, যার অর্থ সেখানে লেখা শিশুতোষ গল্প।

তিনটি পাঠে উৎস তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তী। সুন্দরী কলাথোর কন্যা পাঠটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে কলাত্থুর কন্যা-য়।

গারো — ৭টি

আর্কাইভে “উপকথা” লেবেলটি কেবল গারো সংগ্রহেই ব্যবহৃত — পাঁচটি পাঠে। দুটি পাঠে সঞ্জীব দ্রং-বর্ণিত হিসেবে উল্লেখ আছে।

মোট আকার ৪,৯৯২ শব্দ, আর গড় মাত্র ৭১৩ শব্দ — আর্কাইভের সব সংগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে ছোট গড়। দীর্ঘতম নীরে-সিনজে, ১,১৪০ শব্দ।

“উপকথা” লেবেলটি আর্কাইভে কেবল এখানেই — সাতটির পাঁচটিতে। ছোট আকার আর নীতিকথার ছাঁদ — দুটোই উপকথা শব্দটির প্রচলিত অর্থের সঙ্গে মেলে।

শিরোনামে গারো ভাষার নাম আছে কয়েকটিতে, যেমন মাৎছা-দু-মাৎছা-বেৎ। একটি পাঠে সঞ্জীব দ্রং-বর্ণিত হিসেবে উল্লেখ আছে, আর একটিতে সূর্যগ্রহণের ব্যাখ্যা।

তবে এই সংগ্রহের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য নথিভুক্তি। সাতটির পাঁচটিতে কথকের নাম ও স্থান দুটোই দেওয়া — ধরণ সিং সাংমা (তুরা, গারো হিলস্) চারটিতে, আর দিংবান মারাক রাকসাম (গ্রাম: রংবিংগিরি) একটিতে। আর্কাইভের আর কোনো সংগ্রহে মাঠ-সংগ্রহের স্থান নেই।

সাঁওতাল — ৫টি

আর্কাইভের দীর্ঘতম পাঠটি এই সংগ্রহের — ৭,৪০০ শব্দের নাপিতের বুদ্ধি।

মোট আকার ১১,৬৬৫ শব্দ, আর গড় ২,৩৩৩ শব্দ — আর্কাইভের সর্বোচ্চ গড়। কারণ একটিই: দীর্ঘতম পাঠ নাপিতের বুদ্ধি একা ৭,৪০০ শব্দ, অর্থাৎ পুরো সাঁওতাল সংগ্রহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

পাঁচটির মধ্যে দুটির শিরোনামেই “বুদ্ধি” শব্দটি আছে — নাপিতের বুদ্ধি ও রাজকুমারের বুদ্ধি খরিদ। তৃতীয়টি যখন খরগোশ খেত বাঘকে, যেখানে শিকারি-শিকারের সম্পর্ক উল্টে গেছে।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রামে নয়; এই গল্পগুলো আর্কাইভে এসেছে ভিন্ন সূত্রে, আর পাঁচটি পাঠেই উৎসের নাম দেওয়া নেই।

রাখাইন — ৪টি

চারটি পাঠ, সবই ছোট থেকে মধ্যম আকারের।

মোট আকার ৩,৬৩৮ শব্দ, গড় ৯০৯। চারটি পাঠ — মিয়াঙ ক্যাগ্রি (১,৫২৫ শব্দ), পইংঞাসি ক্ষঙবো (১,৩১১), ভূতের কাহিনী (৪৯৮) ও কৃপণ ব্রাহ্মণ (৩০৪)।

দুটি শিরোনামে রাখাইন ভাষার নাম আছে, বাংলা অর্থ ছাড়াই — আর্কাইভে এই গঠনটি বিরল, কারণ অন্য সংগ্রহগুলোতে বন্ধনীতে বাংলা অর্থ দেওয়া থাকে।

চারটিরই প্রকাশ ২০২০ সালে, আর চারটিতেই উৎসের নাম দেওয়া নেই। [রাখাইন পাঠগুলোর সংগ্রাহক বা উৎস-গ্রন্থ কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]

চাক, খুমী, বম, কলই, খাসিয়া, মনিপুরী, হালাম — ৯টি

সাতটি জনগোষ্ঠীর গল্প আর্কাইভে খুব কম — চাক তিনটি, খুমী দুটি, আর বম, কলই, খাসিয়া, মনিপুরী ও হালাম প্রতিটির একটি। মোট নয়টি।

চাক

খুমী

বম

কলই

খাসিয়া

মনিপুরী

হালাম

চাক সংগ্রহের তিনটি পাঠ মিলিয়ে ২,৭৮২ শব্দ, গড় ৯২৭। একটিতে চাকদের রঙধনুর ব্যাখ্যা আছে — শরিমনবিক মননাং, বন্ধনীতে বাংলা অর্থ দেওয়া; আরেকটিতে চাকদের “য়োছা” কাহিনী। একটি পাঠের উৎস মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় বার্ষিকী।

খুমী সংগ্রহের দুটি পাঠই শিরোনামে মূল ভাষার নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ বহন করে — আমুয়ু হই অমনন (দুই বোন ও সাপ) আর তাআই হই চিংল্যাই (কাঁকড়া আর টুনটুনি)। দুটোই এক হাজার শব্দের আশপাশে।

কলই ও হালাম — দুটিরই একটি করে পাঠ, আর দুটিরই উৎস ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা। অর্থাৎ ত্রিপুরা রাজ্যের ওই একটি সংকলনই আর্কাইভে ছয়টি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর গল্প এনেছে।

খাসিয়া ও মনিপুরী — একটি করে, আর দুটোই সিলেট অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর। বম সংগ্রহে একটি পাঠ, যার শিরোনামে “২য় পর্ব” লেখা আছে — অর্থাৎ প্রথম পর্বটি রূপকথা বিভাগে নেই। [প্রথম পর্বটি অন্য বিভাগে আছে কিনা তা যাচাই করা যায়নি]

এই সংখ্যা কম হওয়ার অর্থ এই নয় যে এই জনগোষ্ঠীগুলোর লোককথা কম। আর্কাইভে কম — এটাই বলা যায়, আর মুদ্রিত সংকলনে কী আছে তা আলাদা প্রশ্ন। ছোট সংগ্রহগুলোর আলাদা সূচিতে প্রতিটি নিয়ে বিস্তারিত আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের যে দুটি জনগোষ্ঠীর গল্প আর্কাইভে নেই

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বীকৃত এগারোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নয়টির গল্প আর্কাইভে আছে — চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খেয়াং, চাক, খুমী ও বম। নেই দুটির: পাংখোয়া ও লুসাই।

দুটোই পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে, আর দুটোরই লোককথার কোনো পাঠ রূপকথা বিভাগে ওঠেনি।

এর অর্থ এই নয় যে পাংখোয়া বা লুসাই লোককথা নেই — অর্থ কেবল এই যে আর্কাইভে নেই। মুদ্রিত সংকলনে বা মাঠপর্যায়ের সংগ্রহে কী আছে, তা আলাদা প্রশ্ন, আর এই লেখার জন্য কোনো পাংখোয়া বা লুসাই লোককথার সংকলন দেখা হয়নি।

এই দুই জনগোষ্ঠীর পরিচয়, ভাষা ও জনসংখ্যা নিয়ে আলাদা লেখা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীগুলো-তে।

আর্কাইভে থাকা ষোলটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাতটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের — গারো, সাঁওতাল, খাসিয়া, মনিপুরী, কলই, হালাম ও রাখাইন। অর্থাৎ সংগ্রহটি কেবল পাহাড়ের নয়; বাংলাদেশ ও সীমান্তের ওপারের আদিবাসী লোককথার একটি মিশ্র সংগ্রহ।

যে গল্পগুলো একটি জিনিসের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে

আর্কাইভের একটি বড় দল কেবল কাহিনি বলে না — কোনো একটি জিনিস আজ যেমন, তেমন কেন হলো তার ব্যাখ্যা দেয়। শিরোনাম দেখেই অনেকগুলো চেনা যায়।

  • চাকমা — সাদা কাক কালো হল কেন: কাকের রঙ
  • চাকমা — সৃষ্টির আদিকথা ও জুমচাষ প্রচলনের কাহিনী: পৃথিবী, স্থলভাগ ও জুমচাষ
  • গারো — সূৰ্য্য গ্রহণ: সূর্যগ্রহণ কেন হয়
  • চাক — শরিমনবিক মননাং (চাকদের রঙধনু গল্প): রঙধনু
  • ম্রো — ক্রংথপ সাংচিয়া: পৃথিবী সৃষ্টি
  • ম্রো — রবখার সাংচিয়া (লাল কাঁকড়ার গল্প): কাঁকড়ার রঙ

এই গঠনটি গল্পগুলোকে আলাদা একটি কাজ দেয়। একটি শিশু “কেন” জিজ্ঞেস করলে উত্তরটি গল্পের আকারে তৈরি থাকে — কাকের রঙ কালো কেন, রঙধনু কী, সূর্য হারিয়ে যায় কেন।

কখনো একটি গল্প একাধিক ব্যাখ্যা দেয়। চাকমা টুনটুনি ও কুনোব্যাঙ একসঙ্গে দুটি জিনিস ব্যাখ্যা করে — কুনোব্যাঙের গা খসখসে কেন, আর কাঁঠাল গাছে আঘাত দিলে সাদা ক্ষীর বেরোয় কেন। আর চাকমা সৃষ্টিকথায় কেবল একটি অংশেই চারটি বর দিয়ে চারটি জিনিস ব্যাখ্যা করা হয়েছে — কাঁকড়া কেন জলে-স্থলে চলে, শুকরের চর্বি কেন বেশি, মাকড়সার আঁশ কেন ফুরোয় না, আর দেবপূজায় বিয়াত্রা কেন আগে পূজা পান।

পাঠকের জন্য: কোথা থেকে শুরু করা যায়

১২৫টি গল্পের সামনে দাঁড়িয়ে কোনটি আগে পড়া যায়, তার কোনো একটি সঠিক উত্তর নেই। তবে আর্কাইভের ভেতর থেকে কয়েকটি স্বাভাবিক প্রবেশপথ আছে।

যদি হাতে দশ মিনিট থাকে — ছোট পাঠগুলো দিয়ে শুরু করা যায়: মারমা অনুতপ্ত কৃষক (১৬৪ শব্দ), ত্রিপুরা বাঘ এবং একটি কচ্ছপ (২৬৫), কিংবা চাকমা তিন পাখির গপ্পো (৩৬৭)।

যদি একটি পূর্ণ আখ্যান চান — তিনটি দীর্ঘ পাঠ আছে: সাঁওতাল নাপিতের বুদ্ধি (৭,৪০০ শব্দ), ত্রিপুরা পুন্দা তান্নায় (৫,৮৩৩) আর চাকমা হঅ্’বি আর ধঅ্’বি (৫,৩৫৭)।

যদি জানতে চান পাহাড়ের মানুষ পৃথিবীর শুরু কীভাবে বলেন — চাকমা সৃষ্টির আদিকথা আর ম্রো ক্রংথপ সাংচিয়া পাশাপাশি পড়া যায়।

যদি একই গল্প তিন ভাষায় দেখতে চান — তঞ্চঙ্গ্যা বাঘ ও শূকরের মিতালী, মারমা বাঘ ও শূকরের গল্প আর ম্রো পাক হন প্রি — তিনটি একসঙ্গে।

যদি মূল ভাষার স্বাদ চান — চাকমা ভাষায় লেখা সনার চিঝির পশ্চন, মেঘঅ পিধে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জুমজার্নালে মোট কতটি রূপকথা আছে?

রূপকথা বিভাগে পোস্টের সংখ্যা ১২৫। এর মধ্যে পাঁচটি গল্প একাধিকবার প্রকাশিত — চারটি দু’বার, একটি তিনবার — তাই আলাদা পাঠের সংখ্যা ১১৯। গল্পগুলো ষোলটি জনগোষ্ঠীর, আর সব মিলিয়ে ১,৬৫,০৪৩ শব্দ।

রূপকথা, লোককথা, লোককাহিনী আর উপকথা — এগুলোর পার্থক্য কী?

সাধারণ বাংলা ব্যবহারে রূপকথায় অলৌকিক ঘটে — দৈত্য, রাজকন্যা, রূপ বদল। লোককথা ও লোককাহিনী বিস্তৃত শব্দ: মুখে মুখে চলে আসা যেকোনো কাহিনি। উপকথা সাধারণত নীতিকথাযুক্ত ছোট গল্প, পশুপাখির মুখ দিয়ে বলা। তবে আর্কাইভে এই চারটি শব্দ কঠোরভাবে আলাদা অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।

কোন জনগোষ্ঠীর গল্প সবচেয়ে বেশি?

ত্রিপুরা — ৩৯টি, অর্থাৎ আর্কাইভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এরপর মারমা ১৯, ম্রো ১২, খেয়াং ১১ এবং চাকমা ১০। সাতটি জনগোষ্ঠীর গল্প আছে একটি করে।

সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে ছোট গল্প কোনটি?

দীর্ঘতম পাঠ সাঁওতাল লোককথা নাপিতের বুদ্ধি — ৭,৪০০ শব্দ। ক্ষুদ্রতম মারমা রূপকথা অনুতপ্ত কৃষক — ১৬৪ শব্দ। গড় গল্প ১,৩২০ শব্দের, আর মধ্যমা ১,০২৩।

গল্পগুলো কোন বই থেকে নেওয়া?

যেখানে উৎস লেখা আছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি ফিরে আসে দুটি নাম — ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (১৪টি পাঠে) ও ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী (১৩টিতে)। এরপর ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি, বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের চাকমা রুপকাহিনী (২০০০), তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তী এবং লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য।

কোনো গল্প কি একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে?

হ্যাঁ, পাঁচটি গল্প। খেয়াং ঘুঘু পাখির গল্প তিনটি পোস্টে — একবার “খেয়াং লোককাহিনী”, একবার “খিয়াং রূপকথা”, একবার “খিয়াং লোককাহিনী” নামে। ত্রিপুরা জেলে ও বোয়ালমাছ, মারমা ঠকের গল্প ও ম্রো চাফির সাংচিয়া দুটি করে পোস্টে, প্রতিবার লেবেল আলাদা। আর খেয়াং চোংক্লং পোচোং গুম খুই দুইবার, শিরোনাম ও লেবেল দুটোই হুবহু এক।

পাহাড়ি ভাষায় রূপকথাকে কী বলা হয়?

চাকমা একটি পাঠে পশ্চন শব্দের অর্থ দেওয়া আছে “শিশুতোষ গল্প”, আর একটি তঞ্চঙ্গ্যা পাঠে পচ্ছন-র বাংলা অর্থ সরাসরি দেওয়া আছে — “রূপকথা”। ম্রো একটি পাঠের শিরোনামে আছে সাংচিয়া।

কোনো গল্প কি মূল ভাষায় লেখা?

অন্তত একটি — সনার চিঝির পশ্চন, মেঘঅ পিধে, যা চাকমা ভাষায় বাংলা লিপিতে লেখা; লেখক আলোময় চাকমা, তারিখ ২৮.০৬.২০১৭। এছাড়া খেয়াং, ম্রো, চাক ও খুমী সংগ্রহের অনেক পাঠের শিরোনাম মূল ভাষায়, শরীর বাংলায়।

পাহাড়ি লোককথায় কোন বিষয় সবচেয়ে বেশি আসে?

১২৫টি পাঠ গুনে দেখা যায় রাজা আছে ৫৮টিতে, জুম ৪৯টিতে, বাঁশ ৪১টিতে, বাঘ ৩১টিতে, শূকর ৩০টিতে, হাতি ২৬টিতে আর ভূত বা প্রেত ১৪টিতে। অর্থাৎ পটভূমি কল্পনার হলেও জীবিকা ও পরিবেশ বাস্তব।

বাঘ কতটি গল্পে আছে?

৩১টিতে, নয়টি জনগোষ্ঠীর গল্প মিলিয়ে — সবচেয়ে বেশি ত্রিপুরা গল্পে (১১), এরপর চাকমা ও খেয়াং (৪ করে), সাঁওতাল (৩), আর গারো, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো (২ করে), খাসিয়া (১)।

“উপকথা” লেবেলটি কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে?

কেবল গারো সংগ্রহে — পাঁচটি পাঠে। আর্কাইভের অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর গল্পে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।

কতটি গল্পে উৎস লেখা আছে?

১২৫টি পাঠের ৩৬টিতে “তথ্যসূত্র” শব্দটি স্পষ্ট লেখা আছে, আর ১৫টিতে সংগ্রাহক বা সংকলনের উল্লেখ আছে। বাকিগুলোতে উৎস অন্য ভঙ্গিতে এসেছে — শেষ লাইনে বইয়ের নাম, কথকের নাম, কিংবা শিল্পীর নামসহ।

নতুন গল্প কি আর যোগ হচ্ছে?

রূপকথা বিভাগে সর্বশেষ গল্পটি যোগ হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১-এ। তারপর নতুন কোনো পাঠ প্রকাশিত হয়নি, তাই সংগ্রহটি এখন স্থির, আর এই সূচির সংখ্যাগুলোও সেই স্থির অবস্থার হিসাব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীর গল্প কি আছে?

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বীকৃত এগারোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নয়টির গল্প আছে — চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খেয়াং, চাক, খুমী ও বম। পাংখোয়া ও লুসাই জনগোষ্ঠীর কোনো পাঠ আর্কাইভে নেই। এর অর্থ কেবল আর্কাইভে নেই; মুদ্রিত সংকলনে কী আছে তা আলাদা প্রশ্ন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • দুটি ত্রিপুরা সংকলনের লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক — সাতাশটি পাঠে বইয়ের নাম আছে, কিন্তু আর কিছু নেই।
  • কথকদের নাম — বেশিরভাগ পাঠে কেবল বইয়ের নাম; কার মুখ থেকে গল্পটি লেখা হয়েছিল তা নেই। ব্যতিক্রম গারো সংগ্রহ, যার পাঁচটি পাঠে কথকের নাম ও স্থান দুটোই দেওয়া — ধরণ সিং সাংমা (তুরা) চারটিতে আর দিংবান মারাক রাকসাম (রংবিংগিরি) একটিতে।
  • প্রতিটি গল্পের সংগ্রহের বছর ও স্থান — কোনো পাঠে মাঠ-সংগ্রহের তারিখ বা গ্রামের নাম দেওয়া নেই।
  • অনুবাদকের নাম — মূল ভাষা থেকে বাংলায় কে আনলেন, তা খেয়াং, চাক ও খুমী পাঠগুলোতে নেই।
  • খেয়াং না খিয়াং — আর্কাইভে দুই বানানই ব্যবহৃত; কোনটি জনগোষ্ঠীর নিজের পছন্দ তা কোনো পঠিত উৎসে স্পষ্ট নয়।
  • অনুপস্থিত জনগোষ্ঠী — পাংখোয়া, লুসাই ও চাকমাদের পাশের কয়েকটি জনগোষ্ঠীর কোনো গল্প আর্কাইভে নেই; মুদ্রিত সংকলনে আছে কিনা তা যাচাই করা যায়নি।

তথ্যসূত্র

এই পাতার সব সংখ্যা জুমজার্নালের রূপকথা বিভাগে প্রকাশিত ১২৫টি পোস্টের নিজের পাঠ গুনে বের করা — শব্দসংখ্যা, লেবেল, ট্যাগ, উৎসের নাম ও ভাষা ধরে ধরে। প্রতিটি গল্পের লিংক উপরে তার জনগোষ্ঠীর অংশে আছে।

  1. ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা — ১৪টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  2. ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী — ১৩টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  3. ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি — ৫টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  4. বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী, ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা (রাঙ্গামাটি) — ৩টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  5. তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তী — ৩টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  6. লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য — ২টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  7. মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয় বার্ষিকী ১৯৮৯-৯০ — ২টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  8. সঞ্জীব দ্রং-বর্ণিত — ২টি গারো পাঠে উল্লিখিত।

সব জনগোষ্ঠীর নাম, ব্যক্তির নাম, স্থানের নাম ও মূল ভাষার শব্দ আর্কাইভের পাঠে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হয়েছে। গল্পের শিরোনাম থেকে কেবল লেবেল-উপসর্গ (যেমন “চাকমা রূপকথা:”) বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে তালিকা পড়তে সুবিধা হয়। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।

প্রসঙ্গ:আদিবাসী রূপকথা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রূপকথা, লোককথা, লোককাহিনী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা