Jumjournal Logo

ম্রো রূপকথার সাংচিয়া: আর্কাইভের ১২টি গল্প ও তাদের ভাষা

Last updated Oct 15th, 2026

0

Featured image

জুমজার্নালের আর্কাইভে ম্রো জনগোষ্ঠীর ১২টি রূপকথা ও লোককাহিনী আছে। এই পাতাটি সেই ১২টির পূর্ণ সংচিয়া — শিরোনামের অর্থ, উৎস, ভেতরে কী ঘটে, আর পড়ার সরাসরি লিংকসহ।

মোট ১৩,১১০ শব্দ, গড় গল্প ১,০৯২ শব্দের। দীর্ঘতম পাঠ ১,৭৯৪ শব্দের, ক্ষুদ্রতমটি ৪৫৩।

এই সংগ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য আর্কাইভে আলাদা। প্রথম, বারোটির দশটিরই শিরোনামে মূল ম্রো নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ। দ্বিতীয়, বারোটির নয়টিই একজন মানুষের নামে — যদিও সেই নামটি আর্কাইভে তিন বানানে আছে।

সূচিপত্র

১২টি গল্প, আর শিরোনামের দুই ভাষা

আর্কাইভে ম্রো গল্পের সংখ্যা ১২। এগারোটির শিরোনামে “ম্রো রূপকথা”, আর চারটিতে “ম্রো লোককাহিনী” — সংখ্যাগুলো যোগ করলে ১২-এর বেশি হয়, কারণ কিছু গল্প একাধিক লেবেল বহন করে।

শিরোনামের গঠনটি এই সংগ্রহে সবচেয়ে নিয়মিত। বারোটির দশটিতে মূল ম্রো নাম আছে, আর বন্ধনীতে তার বাংলা অর্থ — যেমন রবখার সাংচিয়া (লাল কাঁকড়ার গল্প), উদমা ম্লা (ইঁদুর সুন্দরী), ওয়াদুই সাঙচিয়া (ডিমের গল্প)।

এই অভ্যাসটি পাঠকের জন্য সুবিধাজনক, আর ভাষার দিক থেকে মূল্যবান। দশটি শিরোনাম একসঙ্গে রাখলে তা একটি ছোট ম্রো-বাংলা শব্দতালিকা হয়ে যায় — নিচে আলাদা অংশে সেটি সাজানো আছে।

বাকি দুটি শিরোনাম পুরোপুরি বাংলায় — এক ডাইনীর গল্প ও এক দরিদ্র রাজপুত্রের কাহিনী। লক্ষণীয়, এই দুটিই সেই তিনটি পাঠের মধ্যে যেগুলো সিংইয়ং ম্রোর নামে নয়।

জনগোষ্ঠীর নামের বানান নিয়ে আলাদা লেখা আছে — মুরুং, মুরং, ম্র নাকি ম্রো: কোনটা সঠিক? আর্কাইভে এই সংগ্রহেই দুটো নামই ব্যবহৃত হয়েছে।

সাংচিয়া: ম্রো ভাষায় গল্পের নিজের শব্দ

পাঁচটি ম্রো শিরোনামে একই শব্দ ফিরে আসে — সাংচিয়া, আর তার বাংলা অর্থ শিরোনামগুলোর বন্ধনী থেকেই বের করা যায়: গল্প বা কাহিনি।

ম্রো শিরোনামবন্ধনীতে দেওয়া বাংলা
রবখার সাংচিয়ালাল কাঁকড়ার গল্প
চাফির সাংচিয়াযমজ ভাই-এর গল্প
ওয়াদুই সাঙচিয়াডিমের গল্প
ক্রংথপ সাংচিয়াপৃথিবী সৃষ্টির কাহিনী
পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়াব্যাঙ কুমার

প্রথম চারটি সারি থেকে অর্থটি স্পষ্ট। পঞ্চমটিতে বাংলা অনুবাদে “গল্প” শব্দটি নেই, কিন্তু কাঠামোটি একই।

এর তাৎপর্য আর্কাইভের বাইরেও যায়। বাংলায় যাকে রূপকথা বলা হয়, পাহাড়ের ভাষাগুলোতে তার নিজের শব্দ আছে — চাকমা ভাষায় পশ্চন (পাঠে অর্থ: শিশুতোষ গল্প), তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় পচ্ছন (পাঠে অর্থ: রূপকথা), আর ম্রো ভাষায় সাংচিয়া।

বানানে অসংগতি আছে — চারটিতে সাংচিয়া, একটিতে সাঙচিয়া। [কোনটি প্রমিত তা কোনো পঠিত উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]

চারটি বাংলা লেবেলের পূর্ণ ব্যাখ্যা আছে পাহাড়ের রূপকথার পূর্ণ সূচিতে।

‘হন’ মানে ‘ও’: শিরোনাম থেকে যা শেখা যায়

তিনটি ম্রো শিরোনামে একটি ছোট শব্দ আছে — হন — আর তিনটি বন্ধনী পাশাপাশি রাখলে তার অর্থ বেরিয়ে আসে: “ও” বা “এবং”।

ম্রোবাংলা
মিন হন কুইবিড়াল ও কুকুর
পাক হন প্রিশূকর ও বাঘ
তাকুই হন তালিপকুকুর ও কচ্ছপ

তিনটি শিরোনাম থেকে আরও কয়েকটি শব্দও বেরিয়ে আসে — মিন (বিড়াল), পাক (শূকর), প্রি (বাঘ), তালিপ (কচ্ছপ)।

একটি অসংগতি আছে, আর তা গোপন না করাই সৎ। প্রথম শিরোনামে কুকুরের জন্য কুই, তৃতীয়টিতে তাকুই। দুটো একই শব্দের দুই রূপ হতে পারে, কিংবা আলাদা শব্দ। [কোনো পঠিত উৎসে এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]

তৃতীয় পাঠের ভেতরে কচ্ছপের বানানও দুই রকম — শিরোনামে তালিপ, আর প্রথম বাক্যে তলিপ।

পাহাড়ি ভাষাগুলোর লিপি ও বানান-প্রমিতকরণের সমস্যা নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা-য়।

সিংইয়ং ম্রো, সিংইয়ং মুরুং, সিং ইয়ং মুরুং — এক নাম তিন বানানে

আর্কাইভের ১২টি ম্রো পাঠের নয়টিতে একই ব্যক্তির নাম আছে, কিন্তু নামটি ছাপা হয়েছে তিন আলাদা বানানে।

যেভাবে ছাপাযত পাঠেকোন গল্প
সিংইয়ং ম্রো৫লাল কাঁকড়া, পৃথিবী সৃষ্টি, কুকুর ও কচ্ছপ, ইঁদুর সুন্দরী, ডিমের গল্প
সিংইয়ং মুরুং২যমজ ভাই-এর গল্প (দুই পোস্টে)
সিং ইয়ং মুরুং২শূকর ও বাঘ, বিড়াল ও কুকুর

বাকি তিনটি পাঠের লেখক আলাদা — তুমপিয় ম্রো দুটি (এক ডাইনীর গল্প, ব্যাঙ কুমার) আর চামপয় ম্রো একটি (এক দরিদ্র রাজপুত্রের কাহিনী)।

নামের এই তিন রূপ একটি বড় প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়, যা আর্কাইভের বাইরেও চলে। “ম্রো” আর “মুরুং” একই জনগোষ্ঠীর দুই নাম, আর একই লেখকের নামের শেষে কখনো একটি কখনো অন্যটি বসেছে।

লক্ষণীয়, যে পাঁচটি পাঠে “সিংইয়ং ম্রো” লেখা, সেই পাঁচটিতেই উৎস হিসেবে ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি বইটির নাম আছে। আর যে চারটিতে “মুরুং” লেখা, সেগুলোতে বইয়ের নাম নেই।

অর্থাৎ বানানের ফারাকটি সম্ভবত সময় বা সূত্রের ফারাক — একটি দল বই থেকে, অন্যটি সরাসরি। [এই তিন বানান একই ব্যক্তির কি না তা কোনো পঠিত উৎসে নিশ্চিত করা যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]

সংগ্রাহক, কথক ও বইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন-এ।

উৎস: একটি বই, পাঁচটি পাঠ

ম্রো সংগ্রহে উৎস-গ্রন্থের নাম আছে পাঁচটি পাঠে, আর পাঁচটিতেই একই নাম — ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি।

বইটির শিরোনামেই তিনটি শব্দ আছে — রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি — আর তা আর্কাইভের লেবেল-সমস্যার একটি সরাসরি ব্যাখ্যা। সংকলনকারী নিজেই তিনটি ধরনকে এক বইয়ে রেখেছেন, আলাদা করেননি।

পাঁচটি পাঠের মধ্যে আছে পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনী, কাঁকড়ার খোলসের উৎপত্তি, কুকুর ও কচ্ছপ, ইঁদুর সুন্দরী আর ডিমের গল্প — অর্থাৎ সৃষ্টিকথা থেকে পশু-কাহিনি পর্যন্ত পুরো পরিসর।

বাকি সাতটি পাঠে বইয়ের নাম নেই, কেবল লেখকের নাম। [বইটির প্রকাশক, সন ও সম্পাদকের নাম কোনো পাঠে দেওয়া নেই — যাচাই প্রয়োজন]

ক্রংথপ সাংচিয়া: চুরি করা মাটিতে পৃথিবী হয় না

আর্কাইভের ম্রো সংগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ ক্রংথপ সাংচিয়া (পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনী), ১,৫৯০ শব্দের। এর কেন্দ্রে একটি নৈতিক শর্ত — চুরি করে আনা মাটি দিয়ে পৃথিবী তৈরি হয় না।

শুরুর অবস্থাটি পাঠে স্পষ্ট: পৃথিবী সৃষ্টির আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোনো মৃত্তিকা ছিল না, আর মহাসমুদ্রের উপর ভেসে যাওয়া “এক খন্ড প্রস্তর”-কেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বলা হতো। সেই পাথরে বাস করতেন এক বিধবা বৃদ্ধা, আর তাঁর নাতি ক্লাংচা।

পরিকল্পনাটি দেন দাদী। শিকারে পাওয়া পাকচারুয়া — পাঠে বন্ধনীতে ব্যাখ্যা, “এক প্রকার বন্য জন্তু” — তাকে না মেরে পাঠানো হোক রেংমা ওয়ালে চর উম নুই, অর্থাৎ মৃত্তিকা দ্বীপে, মাটি আনতে।

প্রথম চেষ্টাটি ব্যর্থ হয়, আর কারণটিই গল্পের মূল কথা। পাকচারুয়া মাটি চুরি করে আনে, আর সমুদ্র পার হওয়ার সময় তিমি মাছ তা ছিনিয়ে নেয় — “চুরি করে নিয়ে এসেছে বলে তিমি মৃত্তিকা খন্ডটি নিতে বাধা দিলো।”

দাদীর নির্দেশটি স্পষ্ট: “চুরি করে মৃত্তিকা আনলে কোনো দিনও ভূমি সৃষ্টি হবে না। কাজেই তুমি স্বয়ং গিয়ে মৃত্তিকা দ্বীপের শাসন কর্তার নিকট হতে অনুমতি নিয়ে তোমার পরিকল্পনা জানাও।”

ক্লাংচা নিজে যায়, দ্বীপবাসীরা তাকে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে বন্দি করে রাজার কাছে নিয়ে যায়, আর রাজা পরিকল্পনা শুনে সন্তুষ্ট হয়ে কেবল অনুমতি নয় — মাটি, প্রাণীর ও উদ্ভিদের বীজ সবই দিয়ে দেন।

সৃষ্টির অনুপাতটিও পাঠে সংখ্যা ধরে আছে: ক্লাংচা মৃত্তিকা কণা দিয়ে তিন ভাগে জল আর এক ভাগে স্থল সৃষ্টি করে।

পাহাড়ের অন্য জনগোষ্ঠীর সৃষ্টিকথার সঙ্গে তুলনা আছে আলাদা লেখায়: আদিবাসী সৃষ্টিকথা।

যে বীজগুলো ভালো কিছুর নয়

সৃষ্টিকথার সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অংশটি মাটি নিয়ে ফেরার মুহূর্তে। মৃত্তিকা দ্বীপের রাজা কেবল প্রাণী ও উদ্ভিদের বীজ দেন না — সঙ্গে দেন দুঃখেরও বীজ, আর প্রতিটি কোথায় রোপণ করতে হবে তাও শিখিয়ে দেন।

পাঠ অনুযায়ী যা দেওয়া হয়েছিল: রোগ-ব্যাধি, ঝগড়া-ঝাটি, চুরি-ডাকাতি, আলোচনা-সমালোচনা, ছলনা আর ব্যভিচারের বীজ।

বীজযেখানে প্রয়োগ করতে বলা হয়
ঝগড়া-বিবাদমদ্যপান আসরে
রোগ-ব্যাধিঝর্ণার ধারে
সমালোচনারমণীদের আড্ডাখানায়
চুরি-ডাকাতিগৃহের সম্মুখে
ব্যভিচারযুবক-যুবতীদের শয়নকক্ষে

তালিকাটি একটি সৃষ্টিকথার ভেতরে বসানো একটি সমাজ-পর্যবেক্ষণ। প্রতিটি সমস্যা যে জায়গায় সত্যিই দেখা যায়, গল্পে তার বীজ সেখানেই রোপিত — মদের আসরে ঝগড়া, জলের ধারে রোগ, আড্ডায় পরনিন্দা।

অর্থাৎ গল্পটি দুঃখের অস্তিত্বকে দৈব দুর্ঘটনা বলে না; বলে একটি পরিকল্পনার অংশ, আর সেই পরিকল্পনার ঠিকানাও দিয়ে দেয়।

পাঠের ভাষা তার নিজের সময়ের, আর তালিকার একটি সারি আজকের পাঠকের কাছে আপত্তিকর শোনাতে পারে। তালিকাটি এখানে পাঠে যেভাবে আছে সেভাবেই দেওয়া হলো, বদল ছাড়া।

যমজ ভাই আর গ্রহণের ব্যাখ্যা

চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প) ম্রো সংগ্রহের একমাত্র পাঠ যা আকাশের একটি ঘটনার ব্যাখ্যা দেয় — সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ।

গল্পের শুরু দুটি মৃত্যু দিয়ে, আর দুটোরই কারণ গ্রীষ্মের গরম। যমজ ভাই মুম ও মীয়ার বাবা মারা যান “গ্রীষ্মকালে কাঠফাটা দুপুরে শিকার করতে গিয়ে”, আর মা মারা যান গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে সন্তান প্রসবের সময়।

অর্থাৎ ভাইদের অভিযোগটি গরমের বিরুদ্ধে, আর সেই অভিযোগ থেকেই গল্পটি আকাশের দিকে যায়।

উপসংহার দুটি, আর দুটোই পাঠে স্পষ্ট। প্রথম — শাস্তি ভোগের পর “তখন থেকে চাঁদ-সূর্য বদল হয়ে গেলো”। দ্বিতীয় — যখন যমজ ভাইদের ডিম দেওয়া যায় না, তখন সূর্যগ্রহণ হয়, আর চন্দ্রগ্রহণের বেলায়ও একইরকম হয় বলে ম্রোরা মনে করেন।

ব্যাখ্যাটি লক্ষণীয়ভাবে শর্তাধীন — গ্রহণ কোনো একবারের ঘটনা নয়, একটি পুনরাবৃত্ত লেনদেনের ব্যর্থতা। প্রতিবার ডিম না দিলে প্রতিবার গ্রহণ হয়।

আর্কাইভে সূর্যগ্রহণ নিয়ে আরেকটি পাঠও আছে — গারো উপকথা সূৰ্য্য গ্রহণ। দুটি জনগোষ্ঠীর দুটি আলাদা ব্যাখ্যা, একই বিভাগে।

কাঁকড়ার খোলস, দোলনচাঁপা আর একটি প্রবাদ

ম্রো সংগ্রহের অন্তত চারটি পাঠ কোনো একটি জিনিসের উৎপত্তি বা একটি প্রচলিত কথার ব্যাখ্যা দেয়।

গল্পযা ব্যাখ্যা করে
রবখার সাংচিয়া (লাল কাঁকড়ার গল্প)কাঁকড়াদের খোলস কোথা থেকে এল — পাঠ অনুযায়ী আগে খোলস ছিল না, বানর দুই ভাগ করার পর জোড়া লেগে খোলসের সৃষ্টি
চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প)চাঁদ-সূর্যের বদল, আর সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কেন হয়
এক ডাইনীর গল্পদোলনচাঁপা ফুল কোথা থেকে — কিশোরীর স্পর্শে জল মাটি হয়ে যাওয়ার জায়গায়
পাক হন প্রি (শূকর ও বাঘ)একটি মুরুং প্রবাদ — যেখানে বন্যশূকর থাকবে, সেখানে অবশ্যই পেঁচাকেও দেখা যাবে

শেষ সারিটি আর্কাইভে বিরল, কারণ সেখানে ব্যাখ্যাটি কোনো বস্তুর নয় — একটি প্রবাদের। গল্প শেষ হয় প্রবাদটি দিয়ে, আর গল্পটিই সেই প্রবাদের কারণ।

রবখার সাংচিয়া-র ব্যাখ্যাটিও লক্ষণীয়ভাবে সতর্ক। পাঠে লেখা, খোলসের এই উৎপত্তি “ম্রোদের বিশ্বাস” — অর্থাৎ কথকের নিজের দাবি নয়, একটি প্রচলিত বিশ্বাসের উল্লেখ।

একই গল্পের শুরুতে একটি জীবিকার হিসাবও আছে: লাল কাঁকড়ার শত সহস্র সন্তান, আর “শত শত কানি জায়গায় জুম চাষ করলেও তাকে খাবারের সংকটে থাকতে হয়” — কাঁকড়ার গল্পে জুমচাষির সমস্যা।

পাক হন প্রি: বাঘ ও শূকরের গল্প তিন ভাষার একটি

আর্কাইভে একই কাহিনি-কাঠামো তিনটি জনগোষ্ঠীর সংগ্রহে তিন নামে আছে, আর ম্রো রূপটির শিরোনামে ক্রম উল্টো — শূকর আগে, বাঘ পরে।

  • ম্রো — পাক হন প্রি (শূকর ও বাঘ), ৯০৬ শব্দ
  • মারমা — বাঘ ও শূকরের গল্প, ৭৫৪ শব্দ
  • তঞ্চঙ্গ্যা — বাঘ ও শূকরের মিতালী, ৩,৪২৯ শব্দ

ম্রো রূপটির শুরুতে একটি বিশদ আছে যা অন্যগুলোতে নেই: দু’জনের কোনোদিন দেখাই হয়নি, কারণ “বাঘ বাসা বাঁধত গাছের ডালে আর শূকর বাসা বাঁধত গাছের নীচে”। ঝড়ে ডালের বাসা ভাঙলে প্রথম দেখা হয়।

মীমাংসা করে একটি পেঁচা — মারমা রূপটিতেও তাই। কিন্তু ম্রো রূপটির শেষ আলাদা: দু’জনেই “পেঁচাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে ফিরে গেলো”, আর তারপর আসে প্রবাদটি।

অর্থাৎ ম্রো রূপে বন্ধুত্বের পরিণতি আজীবন একসঙ্গে থাকা নয় — আলাদা থাকা, কিন্তু একই জায়গায়, আর প্রবাদটি সেই সহাবস্থানের কথাই বলে।

তিনটি রূপ পাশাপাশি রেখে তুলনা আছে আলাদা লেখায়: বাঘ ও শূকরের মিতালি, তিন ভাষায়।

রবখার সাংচিয়া: একটি ধনুক থেকে রাজার হাতির মৃত্যু

ম্রো সংগ্রহের দীর্ঘতম পাঠ রবখার সাংচিয়া (লাল কাঁকড়ার গল্প), ১,৭৯৪ শব্দের, আর তার গঠন আর্কাইভে বিরল — এটি একটি কারণ-ফলের শিকল, যেখানে একটি ছোট ঘটনা থেকে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে।

শুরু একটি ভুল বোঝাবুঝিতে। রবখার মনে করে ক্লুংবুট তার শত সহস্র বাচ্চাকে চুলার আগুনে সিদ্ধ করেছে, তাই সে মুলি বাঁশের ধনুক তৈরি করে একটি গাছের দিকে তাক করে পরখ করে।

এরপর শিকলটি চলতে শুরু করে, আর প্রতিটি ধাপ পাঠে নাম ধরে আছে:

  • ধনুক দেখে গাছের বানর ভয়ে লাফালাফি করে
  • লাফালাফিতে উইনুং — পাঠে ব্যাখ্যা, “এক প্রকার লতাতে ধরা ফল” — ছিঁড়ে গর্ভবতী হরিণের পেটে পড়ে
  • যন্ত্রণায় হরিণ জুমের মধ্যে দৌড়ায়, আর খুরের আঘাতে মিষ্টি কুমড়া ছিঁড়ে গড়াতে থাকে
  • কুমড়া গিয়ে পড়ে বন মোরগের লেজে, লেজের পালক ছিঁড়ে যায়
  • ভয়ে বন মোরগ মরা ডালে বসে, ডাল ভেঙে পড়ে বন্য শূকরের বাসায়
  • রাগে শূকর আশপাশের সমস্ত কলাগাছ ধ্বংস করে
  • কলাপাতায় ছিল এক কলা বাঁদুরের বাসা, তা নষ্ট হয়
  • দিকবিদিক দৌড়াতে গিয়ে বাঁদুর ঢুকে পড়ে রাজার হাতির নাকে
  • হাতি ছটফট করতে করতে মারা যায়

নয়টি ধাপ, আর প্রত্যেকটিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি নতুন প্রাণী বা গাছ।

এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান, আর সেটিই গল্পের দ্বিতীয় অংশ। মাহুত হাতির শালে গিয়ে দেখে হাতি চিৎ হয়ে পড়ে আছে; সারা শরীর পরখ করেও মৃত্যুর কারণ জানা যায় না, “শুধু নাক থেকে সমান্য রক্ত পড়তে দেখা গেলো”। রাজার নির্দেশে নাক কাটতে গিয়ে পাওয়া যায় কলা বাঁদুরটিকে।

গল্পটি তখন একটি বিচারে পরিণত হয় — বাঁদুর প্রাণভিক্ষা চেয়ে তার নিজের কারণ ব্যাখ্যা করতে শুরু করে, আর শিকলটি উল্টো দিকে খুলতে থাকে।

গঠনের দিক থেকে এটি চাকমা সাদা কাক কালো হল কেন-র কাছাকাছি, যেখানে চৌদ্দটি শর্তের শিকল আছে। পার্থক্য একটিই: চাকমা গল্পে শিকলটি অনুরোধের, আর ম্রো গল্পে দুর্ঘটনার।

এক ডাইনীর গল্প: জুমের অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিজের গলা

ম্রো সংগ্রহের সবচেয়ে ভয়ের পাঠ এক ডাইনীর গল্প, আর তার ভয়টি তৈরি হয় একটি খুব সাধারণ জিনিস থেকে — প্রতিধ্বনি।

পটভূমিটি জুমচাষের দৈনন্দিন কাজ। মা-বাবা-হারা দুই ভাই-বোন জুম কেটে আগুনে পুড়িয়ে ধান লাগায়, আর তারপর কাজ ভাগ হয়: ভাই বলে, “তুমি জুম পাহারা দিবে এবং টিয়ে পাখি তাড়াবে। আর আমি বাড়ীতে গৃহস্থালীর কাজ করব।”

জুম পাহারা আর পাখি তাড়ানো পাহাড়ের একটি বাস্তব কাজ, আর গল্পটি সেই কাজের একাকিত্বকেই ভয়ে বদলে দেয়।

বোনটি জুমে গিয়ে পাখিদের উদ্দেশে বলে, “ওরে টিয়ে পাখি, তোমরা আমাদের পরিশ্রমে করা পাকা ধান খেয়োনা” — আর সঙ্গে সঙ্গে জুমের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে একই কথা, অবিকল তার নিজের গলায়।

তিন দিন লক্ষ করে চতুর্থ দিনে সে ভাইকে জানায়, সে আর জুমে যাবে না। ভাইয়ের পরীক্ষাটি সরল ও কার্যকর — সে নিজে গিয়ে বোনের গলার মতো ডাকে, আর একই প্রতিধ্বনি ফিরে আসে। “তখন ভাই বুঝতে পারলো, বোন সত্যি কথা বলেছে।”

খুঁজতে গিয়ে সে গাছের তলায় ডাইনী আর তার ছোট বাচ্চাকে দেখতে পায়, আর প্রস্তাবটি আসে হুমকির আকারে: “তুমি আমাকে বিয়ে কর, না করলে তুমি আমার খাবারের ১নং তালিকা হবে।”

গল্পের শেষটি রূপ বদলের। খালে পানি আনতে গিয়ে কিশোরী পানি স্পর্শ করতেই তা মাটি হয়ে যায়, আর সেই জায়গায় ফুটে ওঠে একটি দোলনচাঁপা।

লেখক তুমপিয় ম্রো। পাহাড়ের ভয়ের জগৎ নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি ভূতের গল্পে।

তাকুই হন তালিপ: ম্রো ভাষায় একটি ছড়া, আর তার অর্থ জিজ্ঞেস করা পাখি

তাকুই হন তালিপ (কুকুর ও কচ্ছপ) পাঠটিতে এমন একটি জিনিস আছে যা আর্কাইভের অন্য কোনো ম্রো পাঠে নেই — ম্রো ভাষায় একটি ছড়া, যা হুবহু ছাপা হয়েছে।

গল্পের শুরু বন্ধুত্বে। কুকুর ও কচ্ছপের “গলায় গলায় ভাব”, আর জুম থেকে ফেরার পথে তারা গুডগুট্যা ফলের গাছ দেখতে পায় — পাঠে ফলটির বর্ণনা, “ছোট ছোট মারবেল আকারের”।

প্রথম দিন কুকুর গাছে ওঠে আর কচ্ছপের অনুরোধে একটা-দুটো ফল নিচে ফেলে। দ্বিতীয় দিন কচ্ছপ নিজেও উপরে যেতে চায়, আর তখনই কুকুরের কৌশল: সে কচ্ছপকে কেরাকবেত কেটে আনতে বলে, তারপর সেই বেত দিয়ে বেঁধে তাকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেয়।

নিচে ছিল এক বোকা শূকর। কচ্ছপ সতর্ক করে — সরে দাঁড়াও, আমি পড়লে তুমি মারা যাবে — কিন্তু শূকর কর্ণপাত করে না। বেত ছিঁড়ে কচ্ছপ তার পিঠে পড়ে, আর শূকরটি মারা যায়।

এরপরই আসে ছড়াটি। শূকরের দাঁতগুলো নিয়ে কচ্ছপ এক গ্রামে পৌঁছে চিৎকার করে বলে — “ক্লিংশ্নিঙ্গ্যা সই দকদক, ক্লিংশ্নিঙ্গ্যা সই দকদক, আংকা উইক্লিং পালাও লক।”

গল্পের সবচেয়ে চমৎকার মুহূর্তটি তার পরে, আর তা গল্পের ভেতরেই একটি অনুবাদের অনুরোধ। তাক্লা লা — পাঠে বন্ধনীতে অর্থ, কাঠঠোকরা — বলে, আগে তো তোমার মুখ থেকে এভাবে শুনিনি, আজ এ কথার অর্থ বুঝিনি, বলো শুনি। আর কচ্ছপ উত্তর দেয়: “আমি উইক্লিং পালাও পেয়েছি।”

অর্থাৎ গল্পটি নিজেই তার ম্রো ছড়াটির অনুবাদ করে দেয়, আর তা করে একটি চরিত্রের মুখ দিয়ে। আর্কাইভে মূল ভাষার বাক্য রেখে ভেতরেই অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার এই ভঙ্গি কেবল আরেকটি পাঠে আছে — ত্রিপুরা পরি বিবি চিনিন-এ।

গল্পের শেষটি নিষ্ঠুর। শালিক সম্পূর্ণ ডিম চায়, আর কচ্ছপটি “ডিম দিতে দিতে অবশেষে জরায়ু বের হয়ে মারা গেল” — ত্রিশটি ডিম পরিশোধ হওয়ার পরও।

জুমের কাজ যা গল্পে ধরা আছে

ম্রো পাঠগুলোর পটভূমি প্রায় সবক্ষেত্রেই জুম, আর কাজের ধাপগুলো নাম ধরে আছে — এমনকি পশু-চরিত্রের গল্পেও।

জুমের চক্র। এক ডাইনীর গল্প-এ পুরো ধাপটি এক বাক্যে — পাহাড়ে জুম কাটা, আগুনে পোড়ানো, তারপর ধান লাগানো। এরপর আসে পাহারা ও পাখি তাড়ানোর কাজ।

জমির মাপ। কানি শব্দটি দুটি পাঠে। রবখার সাংচিয়া-য় লাল কাঁকড়া “শত শত কানি জায়গায় জুম চাষ” করেও খাবারের সংকটে থাকে, আর পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া-য় রাজার ঘোষণাটিই এক কানি জমি একদিনে চাষ করা নিয়ে।

জুমের ফসল। ধান, মিষ্টি কুমড়া, কলাগাছ — আর বনের ফল হিসেবে উইনুং ও গুডগুট্যা।

হাতিয়ার ও জিনিস। মুলি বাঁশের ধনুক, কেরাকবেত, কুঠার, মাচাং ঘর, আর পরনের পিনন।

লক্ষণীয়, পশুরাও এই গল্পগুলোতে জুমচাষি। লাল কাঁকড়া জুম চাষ করে, ইঁদুর সুন্দরী পিনন বোনে, আর ব্যাঙ রাজার জমি চাষ করার দাবি জানায়। অর্থাৎ গল্পের পশুরা মানুষের রূপক নয় — তারা একই অর্থনীতির ভেতরে বসবাস করে।

পাহাড়ের খাবার ও রান্নার পদ্ধতি নিয়ে আলাদা লেখা আছে পাহাড়ি খাবার: সিদোল, নাপ্পি আর রান্নার সাত পদ্ধতি-তে।

ম্রো শব্দ, বাংলা অর্থসহ

শিরোনাম ও পাঠ মিলিয়ে ম্রো সংগ্রহে যে শব্দগুলোর বাংলা অর্থ দেওয়া আছে, সেগুলো একসঙ্গে রাখলে একটি ছোট তালিকা হয়।

ম্রো শব্দপাঠে দেওয়া অর্থকোথায়
সাংচিয়া / সাঙচিয়াগল্প, কাহিনিপাঁচটি শিরোনামে
হনও, এবংতিনটি শিরোনামে
রবখারলাল কাঁকড়ারবখার সাংচিয়া
ক্রংথপপৃথিবী সৃষ্টিক্রংথপ সাংচিয়া
চাফিরযমজ ভাইচাফির সাংচিয়া
মিনবিড়ালমিন হন কুই
কুই / তাকুইকুকুরমিন হন কুই; তাকুই হন তালিপ
পাকশূকরপাক হন প্রি
প্রিবাঘপাক হন প্রি
তালিপ / তলিপকচ্ছপতাকুই হন তালিপ
পুর ক্লাংওয়াব্যাঙ কুমারপুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া
উদমা ম্লাইঁদুর সুন্দরীউদমা ম্লা
ওয়াদুইডিমওয়াদুই সাঙচিয়া
পাকচারুয়া“এক প্রকার বন্য জন্তু”ক্রংথপ সাংচিয়া
রেংমা ওয়ালে চর উম নুইমৃত্তিকা দ্বীপক্রংথপ সাংচিয়া
থামিপাঠে অর্থ দেওয়া নেই; বুনতে থাকা কাপড় হিসেবে ব্যবহৃতএক দরিদ্র রাজপুত্রের কাহিনী
পিননপরনের কাপড়উদমা ম্লা
মাচাং ঘরপাঠে অর্থ দেওয়া নেই; ঘরের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃতওয়াদুই সাঙচিয়া
উইনুং“এক প্রকার লতাতে ধরা ফল”রবখার সাংচিয়া
তাক্লা লাকাঠঠোকরাতাকুই হন তালিপ
কেরাকবেতপাঠে অর্থ দেওয়া নেই; বাঁধার বেত হিসেবে ব্যবহৃততাকুই হন তালিপ
গুডগুট্যা“ছোট ছোট মারবেল আকারের” ফলতাকুই হন তালিপ
কানিজমির মাপ হিসেবে ব্যবহৃতরবখার সাংচিয়া; পুর ক্লাংওয়া

তালিকায় দুটি শব্দ পাহাড়ের অন্য জনগোষ্ঠীর ব্যবহারেও পাওয়া যায় — পিনন ও কানি। পিনন তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা পোশাকের নামেও আছে, আর কানি জমির মাপ হিসেবে পাহাড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

লক্ষণীয়, ইঁদুর সুন্দরীর গল্পে ইঁদুরটি পিনন বুনছিল — অর্থাৎ পশু-চরিত্রের পোশাকও পাহাড়ের পোশাক।

পাহাড়ি পোশাক নিয়ে আলাদা লেখা আছে ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত: ম্রো ও বম বস্ত্র-এ।

তিনটি শিকল: ম্রো সংগ্রহের গঠনগত বৈশিষ্ট্য

বারোটি ম্রো পাঠের তিনটি একই গঠনে তৈরি — শিকল। একটি ঘটনা পরেরটিকে ডেকে আনে, আর তা চলতেই থাকে। আর্কাইভের অন্য কোনো সংগ্রহে এই গঠনের এতগুলো উদাহরণ নেই।

তিনটি শিকল তিন রকমের।

এক — দুর্ঘটনার শিকল। রবখার সাংচিয়া-য় একটি ধনুক তাক করা থেকে রাজার হাতির মৃত্যু পর্যন্ত নয়টি ধাপ, আর প্রতিটিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি নতুন প্রাণী। কেউ কিছু চায় না; কেবল একটির ধাক্কা অন্যটিতে লাগে।

দুই — ক্ষমতার শিকল। উদমা ম্লা (ইঁদুর সুন্দরী)-তে প্রতিটি চরিত্র নিজের শক্তি অস্বীকার করে পরেরজনের দিকে আঙুল তোলে। রোদে কষ্ট পেয়ে ইঁদুর সূর্যকে গালি দেয়; সূর্য বলে তার ক্ষমতা নেই, কারণ “মেঘ যদি আমাকে ঢেকে রাখে তাহলে আমি কখনই দীপ্তি মেলাতে পারি না”; মেঘ বলে তারও শক্তি নেই, কারণ বাতাস ঠেলে দিলে সে এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারে না।

এই শিকলের সমাপ্তিটিই গল্পের কৌতুক। ঘুরে ঘুরে দায়টি শেষে ইঁদুরের নিজের ঘাড়েই পড়ে, আর সে ভাবে — “তাহলে যত দোষ সব ইঁদুরের। তার মানে আমারই।” তারপর লজ্জায় লেজ উঠিয়ে গর্তে ঢুকে যায়।

তিন — যাত্রার শিকল। ওয়াদুই সাঙচিয়া (ডিমের গল্প)-এ একটি ডিম গড়াতে গড়াতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়, আর পথে প্রত্যেকে তাকে একই প্রশ্ন করে — কোথায় যাচ্ছো। পিঁপড়ার বাসায় পৌঁছে উত্তরটি শুরু হয় “আমি বাবার ঋণ…” দিয়ে।

প্রথমে গল্পটি অবশ্য ঘরোয়া কৌতুকের। বন বিড়াল রোজ জিজ্ঞেস করে মুরগি কোথায় ঘুমাবে, আর মুরগি ফন্দি আঁচ করে প্রতিবার অন্য জায়গায় ঘুমায়। ধরা পড়ে একদিন, আর কারণটি একটি শিশুর শরীর — এক বাচ্চার পেটে গ্যাস ওঠে, মা আস্তে সারতে বলেন, কিন্তু আওয়াজ হয়ে যায়।

তিনটি শিকলের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে: কোনোটিতেই খলনায়ক নেই। দুর্ঘটনা, দায় এড়ানো আর ঋণ — তিনটিই ব্যক্তির দোষ নয়, একটি ধারাবাহিকতার ফল।

আর্কাইভে এই গঠনের আরেকটি উদাহরণ চাকমা সাদা কাক কালো হল কেন, যেখানে চৌদ্দটি শর্তের শিকল আছে — আর সেটিও শেষ হয় ব্যর্থতায়।

মিন হন কুই: রাজ্য ফিরে পাওয়ার গল্পে কে কাজ করে

মিন হন কুই (বিড়াল ও কুকুর) ম্রো সংগ্রহের একমাত্র রাজ-কাহিনি যেখানে উদ্ধারকর্তা কোনো রাজপুত্র নয় — দুটি পোষা প্রাণী।

সংকটের কারণটি পাঠে স্পষ্ট ও সামাজিক। রাজা প্রায়ই দিগ্‌বিজয়ে বেরিয়ে যেতেন, আর সেই সুযোগে এক ভণ্ড সন্ন্যাসী দরবারে আসা-যাওয়া শুরু করে, রানির কাছে মূল্যবান জিনিস চায়, আর রানিও “নির্দ্বিধায় দিয়ে দিতো”।

পতনটি আসে একটি নির্দিষ্ট জিনিস হারানোয় — রাজার সুরক্ষিত হীরের টুকরো। সন্ন্যাসী তা নিয়ে উধাও হয়ে যায়, আর তখন থেকেই “রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি হতে শুরু” করে — খুন-রাহাজানি, মহামারী, ডাকাতি।

এরপরের অংশটি পাঠে ধাপে ধাপে লেখা, আর তা কার্যত একটি পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে বাঁচার হিসাব: প্রথমে এক পাল হাতি, তাতে এক মাস চলে; তারপর এক পাল ঘোড়া, মাস শেষ হতে না হতেই টাকা ফুরোয়; তারপর এক পাল মেষ। “তবুও তাদের তিনবার আহারের ব্যবস্থা হল না।”

শেষে রইল একটি বিড়াল আর একটি কুকুর — যে দুটি প্রাণী বিক্রি হয় না।

আর তারাই উদ্যোগ নেয়। বিড়াল কুকুরকে ডেকে বলে, গৃহকর্তার অবস্থা শোচনীয়, আর সেখান থেকেই হীরের টুকরো উদ্ধারের পরিকল্পনা শুরু হয়।

গল্পের শেষ ছবিটি ছোট কিন্তু স্পষ্ট — কুকুর খুশি হয়ে বিড়ালের দিকে “একটু একটু চোখ ফিরিয়ে হাসলো”, আর রাজা হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে আগের মতো রাজ্য চালাতে লাগলেন। লেখক সিং ইয়ং মুরুং।

পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া: এক কানি জমি একদিনে

ম্রো সংগ্রহে পশু-বরের মোটিফটি একটি পাঠে স্পষ্ট — পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া (ব্যাঙ কুমার), আর সেখানে বিয়ের শর্তটি একটি কৃষিকাজ।

গল্পের শুরু রাজার একটি ঘোষণায়, আর তা পাঠে হুবহু: “কে আমার এক কানি জমি একদিনে চাষ করতে পারবে?” রাজার সাত মেয়ে, আর ঘোষণাটি কার্যত একটি পাত্র-নির্বাচন।

দাবিদার হয় একটি ব্যাঙ — “মহারাজ, আমি আপনার এক কানি জমি একদিনে চাষ করতে পারব।”

শর্তটি লক্ষণীয়ভাবে বাস্তব। পাহাড়ে জমির মাপ কানি, আর একদিনে এক কানি চাষ একজন মানুষের পক্ষে কঠিন — অর্থাৎ ঘোষণাটি অসাধ্য কাজের শর্ত, আর তা শক্তির নয়, শ্রমের।

গল্পের শেষে রূপ খুলে যায়, আর রাজা জামাইয়ের রূপ দেখে “খুব আনন্দিত” হয়ে রাজ্যের অর্ধেক ভাণ্ডার মেয়ে আর জামাইকে ভাগ করে দেন।

আর্কাইভে এই মোটিফের আরও রূপ আছে — ত্রিপুরা সংগ্রহে বানর বউ, বানর জামাই ও চাঁদের ছেলে সোনাব্যাঙ, আর ম্রো সংগ্রহে উদমা ম্লা (ইঁদুর সুন্দরী)। তুলনা আছে আলাদা লেখায়: পশু বর ও পশু বউয়ের মোটিফ।

পাঠে ছবির কৃতিত্বও আছে — চিত্রায়ন তনময় চাকমা, আর লেখক তুমপিয় ম্রো।

এক দরিদ্র রাজপুত্রের কাহিনী: আশীর্বাদ, রাক্ষস আর থামি

ম্রো সংগ্রহের একমাত্র পাঠ যেখানে কাহিনিটি সরাসরি একটি নীতিবাক্যে পৌঁছায়, আর সেই বাক্যটি রাজপুত্রের নিজের ভাবনায় — মায়ের আশীর্বাদের চেয়ে মহৎ কিছু নেই।

গল্পের শুরু একটি অসম সমীকরণে। অন্য দেশের রাজা ভালো পাত্র পেলে কন্যার বিয়ে দেবেন, আর খবর শুনে গরিব রাজপুত্র যেতে চায়। মা বাধা দেন, আর কারণটি পাঠে স্পষ্ট — “কারণ তারা গরীব, আর রাজা তো ধনী।”

রাজপুত্র মায়ের কথা মানে না, কিন্তু যাওয়ার আগে আশীর্বাদ নিয়ে যায় — আর গল্পের বাকি অংশ সেই আশীর্বাদেরই প্রমাণ।

পথে বটগাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়লে রাতে সেখানে এক রাক্ষসও ঘুমাতে আসে। মল্লযুদ্ধে রাক্ষস হারে, আর প্রাণভিক্ষার বিনিময়ে একটি যাদুর আংটি দিয়ে যায়।

এই জায়গাতেই রাজপুত্রের ভাবনাটি আসে, আর তা গল্পের কেন্দ্রীয় বাক্য: “মায়ের আশীর্বাদ কত যে ভাল। এ পৃথিবীতে মায়ের আশীর্বাদের মত মহৎ জিনিস আর নেই।”

গন্তব্যে পৌঁছে একটি ছোট দৃশ্য আছে যা পাহাড়ের দৈনন্দিন জীবন ধরে রাখে — রাজকন্যা তখন থামি বুনছিল, অর্থাৎ পাহাড়ি নারীর পরনের কাপড়।

প্রতিদ্বন্দ্বীও হাজির — অন্য দেশ থেকে একজন নকল রাজপুত্র। আর পরীক্ষাটি সম্পদের নয়, চরিত্রের: রাজা-রানি দুই পাত্রকে খেতে দিয়ে তাঁদের আচরণ দেখেন।

শেষে রাজপুত্র মাকে প্রাসাদে নিয়ে আসে, আর শ্বশুর-শাশুড়ি, মা ও রাজকন্যাকে নিয়ে সুখে বাস করতে থাকে। লেখক চামপয় ম্রো।

পাহাড়ি পোশাক — থামি, পিনন, ওয়ানক্লাই — নিয়ে আলাদা লেখা আছে ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত: ম্রো ও বম বস্ত্র-এ।

এক গল্প দুই পোস্টে

ম্রো সংগ্রহের একটি গল্প দুইবার প্রকাশিত — চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প)।

একবার “ম্রো লোককাহিনী” নামে ১,৫৪০ শব্দে, আরেকবার “ম্রো রূপকথা” নামে ১,৫১৭ শব্দে। দুটোরই লেখক সিংইয়ং মুরুং, আর দুটোর পাঠ কার্যত এক।

শব্দসংখ্যার ছোট ফারাকটি পাঠের নয়, বানানের — যেমন একটিতে “মারা যয়”, অন্যটিতে “মারা যায়”।

এই জোড়াটি আর্কাইভের লেবেল-সমস্যার আরেকটি প্রমাণ। একই গল্প একবার রূপকথা, একবার লোককাহিনী — আর দুটোর মধ্যে কোনো পাঠগত ফারাক নেই।

এই সূচিতে দুটোই রাখা হয়েছে, কারণ দুটোই এখনো প্রকাশিত আর দুটোরই আলাদা ঠিকানা আছে।

১২টি গল্পের তালিকা

নিচে ১২টি গল্প, আকার অনুযায়ী বড় থেকে ছোট। প্রতিটির সঙ্গে শব্দসংখ্যা আর ভেতরে কী ঘটে তার সারকথা — গল্পের নিজের পাঠ থেকে নেওয়া।

তালিকার কোনো পাঠ দুই হাজার শব্দ ছোঁয় না, আর কোনোটি সাড়ে চারশোর নিচে নামে না। আকারের দিক থেকে ম্রো সংগ্রহ আর্কাইভের সবচেয়ে সমসত্ত্ব — কোনো বিশাল আখ্যান নেই, কোনো একপাতার টুকরোও নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জুমজার্নালে ম্রো রূপকথা কতটি আছে?

১২টি, মোট ১৩,১১০ শব্দ, গড় গল্প ১,০৯২ শব্দের। দীর্ঘতম পাঠ ১,৭৯৪ শব্দের রবখার সাংচিয়া, আর ক্ষুদ্রতমটি ৪৫৩ শব্দের ওয়াদুই সাঙচিয়া।

‘সাংচিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

ম্রো ভাষায় গল্প বা কাহিনি। পাঁচটি শিরোনামে শব্দটি আছে, আর বন্ধনীতে দেওয়া বাংলা অনুবাদ থেকেই অর্থটি বেরিয়ে আসে — রবখার সাংচিয়া মানে লাল কাঁকড়ার গল্প, ওয়াদুই সাঙচিয়া মানে ডিমের গল্প। আর্কাইভে বানান দুই রকম: সাংচিয়া ও সাঙচিয়া।

ম্রো ভাষায় ‘হন’ মানে কী?

“ও” বা “এবং”। তিনটি শিরোনাম থেকে তা স্পষ্ট — মিন হন কুই (বিড়াল ও কুকুর), পাক হন প্রি (শূকর ও বাঘ), তাকুই হন তালিপ (কুকুর ও কচ্ছপ)।

ম্রো সৃষ্টিকথায় পৃথিবী কীভাবে তৈরি হলো?

ক্রংথপ সাংচিয়া অনুযায়ী শুরুতে কোনো মৃত্তিকা ছিল না; মহাসমুদ্রে ভেসে থাকা এক খণ্ড পাথরকেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বলা হতো। সেখানে বাস করতেন এক বিধবা বৃদ্ধা ও তাঁর নাতি ক্লাংচা। দাদীর পরামর্শে ক্লাংচা মৃত্তিকা দ্বীপের রাজার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মাটি আনে, আর তা দিয়ে তিন ভাগ জল ও এক ভাগ স্থল সৃষ্টি করে।

চুরি করা মাটি দিয়ে পৃথিবী হয়নি কেন?

পাঠে কারণটি সরাসরি দেওয়া। প্রথমবার পাকচারুয়া মাটি চুরি করে আনে, আর সমুদ্র পার হওয়ার সময় তিমি মাছ তা ছিনিয়ে নেয়। দাদীর কথায় — “চুরি করে মৃত্তিকা আনলে কোনো দিনও ভূমি সৃষ্টি হবে না।” তাই ক্লাংচা নিজে গিয়ে অনুমতি নেয়।

ম্রো সৃষ্টিকথায় দুঃখের বীজের কথা আছে?

আছে। মৃত্তিকা দ্বীপের রাজা প্রাণী ও উদ্ভিদের বীজের সঙ্গে দেন রোগ-ব্যাধি, ঝগড়া-ঝাটি, চুরি-ডাকাতি, সমালোচনা, ছলনা ও ব্যভিচারের বীজ — আর কোথায় কোনটি প্রয়োগ করতে হবে তাও শিখিয়ে দেন: ঝগড়ার বীজ মদ্যপান আসরে, রোগের বীজ ঝর্ণার ধারে, সমালোচনার বীজ আড্ডাখানায়, চুরির বীজ গৃহের সম্মুখে।

ম্রো গল্পে সূর্যগ্রহণের ব্যাখ্যা কী?

চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প) অনুযায়ী শাস্তি ভোগের পর চাঁদ-সূর্য বদল হয়ে যায়, আর যখন যমজ ভাইদের ডিম দেওয়া যায় না তখন সূর্যগ্রহণ হয়; চন্দ্রগ্রহণের বেলায়ও একইরকম হয় বলে ম্রোরা মনে করেন।

ম্রো গল্পগুলো কে লিখেছেন?

নয়টি পাঠে একই ব্যক্তির নাম, কিন্তু তিন বানানে — সিংইয়ং ম্রো (৫), সিংইয়ং মুরুং (২, একই গল্পের দুই পোস্ট), সিং ইয়ং মুরুং (২)। বাকি তিনটির লেখক তুমপিয় ম্রো (২) ও চামপয় ম্রো (১)।

ম্রো গল্পগুলো কোন বই থেকে?

পাঁচটি পাঠে উৎস হিসেবে ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি বইটির নাম আছে। বাকি সাতটিতে বইয়ের নাম নেই, কেবল লেখকের নাম। বইটির প্রকাশক ও প্রকাশসন কোনো পাঠে দেওয়া নেই।

কাঁকড়ার খোলস নিয়ে ম্রো গল্প কী বলে?

রবখার সাংচিয়া অনুযায়ী কাঁকড়াদের আগে খোলস ছিল না; বানর দুই ভাগে বিভক্ত করার পর পুনরায় জোড়া লেগে খোলসের সৃষ্টি হয়েছে — পাঠে এটি “ম্রোদের বিশ্বাস” হিসেবেই উল্লিখিত।

পাক হন প্রি গল্পে প্রবাদটি কী?

গল্পের শেষে লেখা — মুরুং ভাষায় প্রবাদ আছে, যেখানে বন্যশূকর থাকবে সেখানে অবশ্যই পেঁচাকেও দেখা যাবে। গল্পটি সেই প্রবাদেরই ব্যাখ্যা: পেঁচার মধ্যস্থতাতেই বাঘ ও শূকরের বিরোধ মেটে।

কোনো ম্রো গল্প কি দু’বার প্রকাশিত হয়েছে?

হ্যাঁ, একটি — চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাই-এর গল্প)। একবার “ম্রো লোককাহিনী” নামে ১,৫৪০ শব্দে, আরেকবার “ম্রো রূপকথা” নামে ১,৫১৭ শব্দে। দুটোরই লেখক সিংইয়ং মুরুং, আর পাঠ কার্যত এক।

‘ম্রো’ আর ‘মুরুং’ কি একই?

আর্কাইভের এই সংগ্রহেই দুটো নামই ব্যবহৃত হয়েছে — একই লেখকের নামের শেষে কখনো “ম্রো”, কখনো “মুরুং”, আর একটি গল্পে প্রবাদটিকে বলা হয়েছে “মুরুং ভাষায় প্রবাদ”। নামের এই প্রশ্নটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে জুমজার্নালে।

ম্রো শিরোনামে মূল ভাষা থাকে কেন?

বারোটির দশটিতে শিরোনামে মূল ম্রো নাম আর বন্ধনীতে বাংলা অর্থ দেওয়া — আর্কাইভে এই অভ্যাসটি ম্রো সংগ্রহে সবচেয়ে নিয়মিত। এর ফলে দশটি শিরোনাম একসঙ্গে রাখলে তা একটি ছোট ম্রো-বাংলা শব্দতালিকা হয়ে যায়।

ম্রো গল্পে শিকলের গঠন আছে কি?

আছে, তিনটি পাঠে — রবখার সাংচিয়া-য় দুর্ঘটনার শিকল (ধনুক থেকে রাজার হাতির মৃত্যু পর্যন্ত নয় ধাপ), উদমা ম্লা-য় ক্ষমতার শিকল (ইঁদুর → সূর্য → মেঘ → বাতাস), আর ওয়াদুই সাঙচিয়া-য় যাত্রার শিকল (একটি ডিম গড়াতে গড়াতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়)।

ইঁদুর সুন্দরীর গল্পে শেষে কী হয়?

ইঁদুর সূর্যকে গালি দিলে সূর্য বলে তার ক্ষমতা নেই, কারণ মেঘ ঢেকে দিলে সে দীপ্তি মেলাতে পারে না; মেঘ বলে বাতাস ঠেলে দিলে সে এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারে না। শেষে দায়টি ঘুরে ইঁদুরের নিজের ঘাড়েই পড়ে, আর সে ভাবে — “তাহলে যত দোষ সব ইঁদুরের। তার মানে আমারই” — তারপর লজ্জায় গর্তে ঢুকে যায়।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বইটির প্রকাশক ও সন — ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি-র প্রকাশক, প্রকাশসন ও সম্পাদকের নাম কোনো পাঠে নেই।
  • লেখকের নামের তিন বানান — সিংইয়ং ম্রো, সিংইয়ং মুরুং ও সিং ইয়ং মুরুং একই ব্যক্তি কি না তা নিশ্চিত করা যায়নি।
  • কুই ও তাকুই — দুটোই কুকুর বোঝাতে ব্যবহৃত; একই শব্দের দুই রূপ না আলাদা শব্দ, তা কোনো পঠিত উৎসে নেই।
  • সাংচিয়া না সাঙচিয়া — আর্কাইভে দুই বানানই আছে; কোনটি প্রমিত তা জানা যায়নি।
  • পাকচারুয়া — পাঠে কেবল “এক প্রকার বন্য জন্তু” বলা হয়েছে; প্রাণীটির বাংলা বা বৈজ্ঞানিক নাম নেই।
  • মাচাং ঘর — ঘরের কোন অংশ, তা পাঠে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
  • গুডগুট্যা ফল — আকারের বর্ণনা আছে, কিন্তু গাছটির পরিচয় কোনো পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • কথকদের নাম — বারোটি পাঠেই লেখক বা সংকলনের নাম আছে, কিন্তু গল্পটি কার মুখ থেকে এসেছে তা নেই।

তথ্যসূত্র

এই পাতার সব তথ্য জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত ১২টি ম্রো পাঠের নিজের লেখা থেকে নেওয়া — শব্দসংখ্যা, লেবেল, শিরোনামের বন্ধনীতে দেওয়া বাংলা অর্থ, লেখকের নাম, শিল্পীর নাম ও উৎস-গ্রন্থের নামসহ। প্রতিটি গল্পের লিংক উপরে তার নিজের অংশে আছে।

  1. ম্রো রূপকথা, লোককাহিনী ও কিংবদন্তি — ৫টি পাঠে উদ্ধৃত উৎস।
  2. লেখক হিসেবে পাঠে উল্লিখিত: সিংইয়ং ম্রো (৫), সিংইয়ং মুরুং (২), সিং ইয়ং মুরুং (২), তুমপিয় ম্রো (২), চামপয় ম্রো (১)।
  3. ছবির কৃতিত্ব: তনময় চাকমা — পাক হন প্রি ও পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া-য় “চিত্রায়নঃ তনময় চাকমা”।

সব ব্যক্তির নাম, স্থানের নাম, জনগোষ্ঠীর নাম ও ম্রো ভাষার শব্দ আর্কাইভের পাঠে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হয়েছে — বানানের অসংগতিসহ, কারণ সেটিও একটি তথ্য। গল্পের শিরোনাম থেকে কেবল লেবেল-উপসর্গ বাদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।

প্রসঙ্গ:ম্রো, ম্রো রূপকথা, ম্রো লোককাহিনী, রূপকথা, লোককাহিনী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা