Last updated Nov 3rd, 2026
0

বাংলা রাজমালার দ্বিতীয় খণ্ডে, মহারাজ ধর্মমাণিক্যের কাহিনির ভেতরে, চার চরণের একটি পয়ার আছে: “পূর্বে রাজমালা ছিল ত্রিপুর ভাষাতে / পয়ার গাঁথিল সব সকলে বুঝিতে।” ত্রিপুরা রাজাদের যে বংশ-ইতিহাস আজ বাংলা পদ্যে পড়া যায়, সেটি নিজেই বলছে, তার আগে আরেকটি রূপ ছিল ত্রিপুরাদের নিজের ভাষায়। সেই আগের রূপটির সঙ্গে দুটি নাম বারবার জুড়ে আসে — একটি গ্রন্থ, রাজরত্নাকর, আর একটি লিপি, কোলোমা বা কলমা।
সংক্ষেপে উত্তর: রাজরত্নাকর কোলোমা লিপি নিয়ে প্রচলিত বক্তব্য হলো, ধর্মমাণিক্যের চন্তাই (প্রধান পূজারী) দুর্লভেন্দ্র ককবরকে, কোলোমা লিপিতে রাজাদের ইতিহাস লিখেছিলেন, যা পরে সংস্কৃত ও বাংলায় অনূদিত হয়ে রাজমালা হয়। কিন্তু উৎসগুলো একমত নয় — কেউ বলেন রাজরত্নাকর ছিল সংস্কৃত গ্রন্থ, কেউ বলেন চন্তাই মুখে বলেছিলেন, লেখেননি। ককবরক মূল পাঠ বা কোলোমা লিপির কোনো নমুনা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এই লেখায় সেই হারানো উৎসটি নিয়েই কথা — কে কী দাবি করেছেন, কোন উৎসে কোন সাল, আর কোথায় তথ্য থেমে গেছে। রাজমালা মৌখিক স্মৃতির লিখিত রূপ কি না, সেই আলোচনা আছে আমাদের ত্রিপুরা ও মারমা মৌখিক সাহিত্য লেখায়; এখানে তা আর বলা হলো না।
এই লেখায় যা আছে
রাজরত্নাকর ত্রিপুরা রাজবংশের ইতিহাস-গ্রন্থের একটি নাম, যার কোনো কপি আজ হাতে নেই। কোনো উৎসে এটি রাজমালারই আগের নাম, কোনো উৎসে রাজমালার ককবরক মূল, আবার কোনো উৎসে একটি আলাদা সংস্কৃত গ্রন্থ, যা থেকে বাংলা রাজমালা সংক্ষেপ করা হয়েছে। তিনটি ব্যাখ্যাই প্রকাশিত লেখায় আছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে মুকুল কান্তি ত্রিপুরার লেখা রাজমালার আলোকে ত্রিপুরার উৎপত্তির ইতিহাস (2020) প্রথম ব্যাখ্যাটি দেয়: রাজমালা “বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামও ধারণ করেছে… কখনও রাজরত্নাকর, কখনও রাজমালা আবার কখনও কৃষ্ণমালা।” একই লেখা পরে বলে, ধর্মমাণিক্যের আমলে “প্রথম যে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয় তাঁর নাম দেওয়া হয় ‘রাজরত্নাকর’”, এবং সেটি সংস্কৃত ও বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেওয়া হয় ‘রাজমালা’।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা — রাজরত্নাকর ছিল ককবরকে লেখা মূল গ্রন্থ — পাওয়া যায় মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার দুটি লেখায় (আমাদের আর্কাইভে ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল ও কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা) এবং ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Kokborok” নিবন্ধে।
তৃতীয় ব্যাখ্যা — রাজরত্নাকর একটি সংস্কৃত ইতিহাস — আসে ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের একটি চিঠি থেকে, যা অঙ্কুর দেববর্মা 2024 সালে আত্মদীপ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে উদ্ধৃত করেছেন। জুমজার্নালে প্রকাশিত সলিল রায়ের লেখা “ত্রিপুরা” জাতির পূর্ব-পরিচয়-ও একে বলে “সংস্কৃত ‘রাজরত্নাকর’ বা বাংলা রাজমালা”।
রাজমালা নিজে কী — সেটি নিয়ে উৎসগুলো মোটামুটি এক কথা বলে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Rajmala” নিবন্ধ একে ত্রিপুরার রাজাদের বাংলা পদ্যে লেখা ইতিবৃত্ত বলে, যা পনেরো শতকে ধর্মমাণিক্যের আমলে শুরু হয় এবং পরের কয়েক শতাব্দীতে ছয় ভাগে বেড়ে ওঠে। বাংলাপিডিয়াও একে ত্রিপুরা রাজবংশের ইতিবৃত্ত বলে, যার প্রতিটি অংশের নাম “লহর”।
কোন উৎস কী বলছে, তা এক জায়গায় রাখলে অমিলগুলো স্পষ্ট হয়। নিচের ছকে পাঁচটি প্রশ্ন — মূল গ্রন্থ কোন ভাষায়, কোন লিপিতে, কে লিখেছেন, কবে, আর মূলটি টিকে আছে কি না — প্রতিটি উৎসের নিজের ভাষ্যে। যে প্রশ্নে উৎসটি কিছু বলেনি, সেখানে “উল্লেখ নেই” লেখা হয়েছে।
| উৎস | মূল গ্রন্থের ভাষা | লিপি | দুর্লভেন্দ্রের ভূমিকা | মূলটি কি আছে |
|---|---|---|---|---|
| রাজমালার পাঠ (এন. সি. নাথের ইংরেজি অনুবাদ, 1999) | ত্রিপুর ভাষা | উল্লেখ নেই | ত্রিপুর ভাষায় ইতিহাস বলেছেন | অনুবাদকের টীকা: “সম্ভবত হারিয়ে গেছে” |
| মুকুল কান্তি ত্রিপুরা (জুমজার্নাল, 2020) | ত্রিপুর ভাষা (ককবরক) | কলমা বা কোলোমা (“কথিত আছে”) | রচনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন | “খুঁজে পাওয়াটা দুস্কর” |
| মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা (জুমজার্নাল) | ককবরক | কলমা | এক লেখায় রচয়িতা; অন্য লেখায় অনুবাদে সহযোগী, যিনি ককবরকে একটি কপি রেখেছিলেন | কোনো কপি আবিষ্কৃত হয়নি |
| বীরচন্দ্র মাণিক্যের চিঠি (অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে) | রাজরত্নাকর সংস্কৃত | উল্লেখ নেই | উদ্ধৃত অংশে উল্লেখ নেই | রাজরত্নাকর “আছে”; তার উল্লিখিত পুরনো সংস্কৃত রাজমালা পাওয়া যায় না |
| কালীপ্রসন্ন সেন (অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে) | উদ্ধৃত অংশে উল্লেখ নেই | উল্লেখ নেই | শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বরের সঙ্গে রাজরত্নাকরের রচয়িতা | উল্লেখ নেই |
| বাংলাপিডিয়া | ত্রিপুরা ভাষা | উল্লেখ নেই | আদি রাজমালার রচয়িতা | উল্লেখ নেই |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, “Kokborok” | ককবরক | Koloma | প্রথাগতভাবে লিপির সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত | লিপিটি “হারিয়ে গেছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়” |
| রূপক দেবনাথ (Rupak Debnath, 2022) | মধ্য বাংলা | প্রাচীন ত্রিপুরাদের লিখন ছিল না | উল্লেখ নেই | শুক্রেশ্বর-বাণেশ্বরের আদি বাংলা রূপটিও পাওয়া যায় না |
ছকটি থেকে একটি বিষয় চোখে পড়ে: “কোলোমা” বা “কলমা” নামটি রাজমালার পাঠে, বাংলাপিডিয়ায় কিংবা বীরচন্দ্রের চিঠিতে নেই — নামটি পাওয়া যায় ত্রিপুরা লেখকদের লেখায় আর উইকিপিডিয়ায়। আবার “ত্রিপুর ভাষায়” কথাটি রাজমালার নিজের পাঠেই আছে। প্রতিটি সারির বিস্তারিত নিচের অংশগুলোতে।

দুর্লভেন্দ্র ছিলেন মহারাজ ধর্মমাণিক্যের দরবারের চন্তাই, অর্থাৎ প্রধান পূজারী। মুকুল কান্তি ত্রিপুরা তাঁকে “চতুর্দ্দশ দেবতার চন্তাই বা প্রধান পূজারী” বলেছেন। রাজমালার পাঠে তিনি চৌদ্দ দেবতার পূজাবিধি এবং ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা রাজবংশের গৌরবগাথা — দুটোতেই “পূর্ণ জ্ঞান”-সম্পন্ন।
তাঁর নামের বানান উৎসভেদে বদলায়। আর্কাইভের লেখাগুলোতেই পাওয়া যায় “দুর্লভেন্দ্র চন্তাই”, “দুর্লবেন্দ্র চোনতাই”, “দুর্ল্লভেন্দ্র নারায়ণ”, “চন্তাই দুল্লভেন্দ্র” এবং “দুলু নারাণ বা দুর্লভেন্দ্র নারায়ণ”। ইংরেজি উৎসে আছে Durlabhendra Cantai (এন. সি. নাথ), Durlevendra Narayan (ই. এফ. স্যান্ডিসের বইয়ের সম্পাদকীয়), Durlabendra Chantai ও Durlobendra Chontai (উইকিপিডিয়া)।
তাঁর ভূমিকা নিয়ে অন্তত চারটি বিবরণ আছে:
তাঁর জন্ম-মৃত্যু, পরিবার বা অন্য কোনো রচনার কথা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। রাজমালায় পরে অন্য রাজাদের আমলে আরও চন্তাইয়ের কথা আছে — যেমন এন. সি. নাথের অনুবাদে এক জায়গায় রাজার প্রধান পূজারীর নাম “দুর্লভ” — কিন্তু তিনি একই ব্যক্তি কি না, অনুবাদ তা বলে না।
রাজমালার প্রথম লহরের শুরুতেই দৃশ্যটি আছে: ধর্মমাণিক্য রাজাসনে বসে বংশের গৌরবগাথা শুনতে চাইলেন; সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্তাই দুর্লভেন্দ্র আর দুই ব্রাহ্মণ পণ্ডিত বাণেশ্বর ও শুক্রেশ্বর। পণ্ডিতেরা বললেন, এ ইতিহাস তাঁরা “কথ্য ভাষায়” বলতে পারবেন না; তখন চন্তাই ত্রিপুর ভাষায় ইতিহাস বললেন।
এই অংশটি পড়া যায় এন. সি. নাথ (Narendra Chandra Nath)-এর ইংরেজি অনুবাদে, যা ত্রিপুরা সরকারের ট্রাইবাল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ইনস্টিটিউট 1999 সালে প্রকাশ করে (পুনর্মুদ্রণ 2013, 2020)। অনুবাদে পণ্ডিতদের কথা এরকম: বংশের ইতিহাস মূল্যবান, “কিন্তু আমরা তা আমাদের কথ্য ভাষায় বলতে পারি না, কারণ তা পাপ হবে।” তারপর: “প্রধান পূজারী (চন্তাই) তখন ত্রিপুর (বা ত্রিপুরী) ভাষায় ইতিহাস বললেন।”
এই অনুচ্ছেদে অনুবাদকের দুটি টীকা আছে। প্রথমটি বলে, “কথ্য ভাষা” সম্ভবত বাংলা কথ্য ভাষা। দ্বিতীয়টি প্রশ্ন তোলে: চন্তাই যে মূল ত্রিপুরী রাজমালা বলেছিলেন, তা কোথায়? উত্তরে লেখা — “সম্ভবত হারিয়ে গেছে।” পণ্ডিতেরা যেসব গ্রন্থে পারদর্শী ছিলেন বলে অনুবাদে আছে, তার মধ্যে আছে Rajamalika, Yogini-malika, Laksana-malika — এগুলোকে অনুবাদে তন্ত্রগ্রন্থ বলা হয়েছে, যেখানে ত্রিপুরা রাজাদের ইতিহাস বর্ণিত।
দ্বিতীয় খণ্ডে, ধর্মমাণিক্যের দানকর্মের বর্ণনার পরে, সেই চরণগুলো, যা এই লেখার শুরুতে আছে। এন. সি. নাথের অনুবাদে: আগে রাজমালা ছিল ত্রিপুর ভাষায়; সবাই যাতে বোঝে, তাই তিনি পুরোটা বাংলা পয়ারে করালেন; রাজা ধর্ম “সুভাষায়” রাজমালা প্রকাশ করলেন, আর লোকমুখে নাম হলো “রাজমালা”। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও মুকুল কান্তি ত্রিপুরা দুজনেই চরণগুলোর উৎস দেন রাজমালার দ্বিতীয় খণ্ডের ধর্মমাণিক্য অংশের 6 নম্বর পৃষ্ঠা; উইকিপিডিয়ার “Kokborok literature” নিবন্ধেও একই পৃষ্ঠাসূত্র।
লক্ষ করার মতো একটি বিষয়: রাজমালার পাঠে ত্রিপুর ভাষার কথা আছে, কিন্তু কোনো লিপি বা লিখিত পুঁথির নাম নেই। “রাজমালা ছিল ত্রিপুর ভাষাতে” — লিখিত রূপে না মুখে মুখে, চরণটি তা বলে না।
উৎসগুলো এখানে দুই ভাগে বিভক্ত। একদল বলে, ককবরক মূল লিখিত ছিল, কোলোমা লিপিতে; আরেক দল বলে, চন্তাইরা রাজাদের তালিকা ও কাহিনি মুখে আবৃত্তি করতেন, ধর্মমাণিক্যের আমলে প্রথম তা লিখিত রূপ পায়। দুই অবস্থানের পক্ষে কোনো পুঁথি নেই।
লিখিত ছিল — এই অবস্থান। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Kokborok” নিবন্ধ লেখে, ত্রিপুরী মৌখিক ঐতিহ্য অনুযায়ী খ্রিস্টীয় প্রথম শতক থেকেই রাজাদের ইতিহাস রাজরত্নাকর বা রাজমালা নামের গ্রন্থে “লিখিত হতে শুরু করে”, কোলোমা লিপিতে। “Tripuri people” নিবন্ধ আরও এগিয়ে বলে, ত্রিপুরী ভাষার প্রাচীনতম জ্ঞাত লেখা প্রথম শতকের, কোলোমায়। মুকুল কান্তি ত্রিপুরা ঘটনাটিকে “কথিত আছে” বলে শুরু করেন — দুর্লভেন্দ্র কোলোমা লিপিতে “লিপিবদ্ধ করেছিলেন”। তিনি জ্যোতিষ নাথ সম্পাদিত শ্রীরাজরত্নাকরম্ (2002)-এর ভূমিকা উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, গ্রন্থের প্রথম সর্গেই কথিত আছে চন্তাই দুর্লভেন্দ্র ত্রিপুর ভাষায় আদিতম রাজরত্নাকর “রচনা করেছিলেন”।
মুখে বলা ছিল — এই অবস্থান। বাংলাপিডিয়া লেখে, প্রথা অনুযায়ী দেশের প্রধান পূজারী বা চন্তাই রাজাদের তালিকা ও কাহিনি দরবারে মুখে আবৃত্তি করতেন, যেভাবে ব্রাহ্মণেরা বেদ আবৃত্তি করতেন। এন. সি. নাথ তাঁর অনুবাদের ভূমিকায় লেখেন, ধর্মমাণিক্যই ত্রিপুরা রাজ্যের ইতিহাসের “মৌখিক ঐতিহ্য” প্রথম লিখিত রূপে ধরেন। ই. এফ. স্যান্ডিস তাঁর History of Tripura (1915)-এ লেখেন, রাজমালা পদ্যে ছিল এবং “বিচ্ছিন্ন রূপে” ছিল; ধর্মমাণিক্যের ব্রাহ্মণ কর্মচারীরা তা সংগ্রহ করে ধারাবাহিকভাবে লেখেন।
লিখনই ছিল না — এই অবস্থান। ইতিহাস-গবেষক রূপক দেবনাথ 2022 সালে প্রকাশিত “The Early Beginnings of Tippera History” প্রবন্ধে লিখেছেন, প্রাচীন ত্রিপুরারা লিখতে-পড়তে জানতেন না, অন্য বোডো-গারো-কোচ জনগোষ্ঠীরও লিখন ছিল না; তাঁরা নিজেদের সম্পর্কে, তাঁদের দলপতি বা বীরদের সম্পর্কে লেখেননি।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা নিজের লেখাতেই দুটো কথা পাশাপাশি রেখেছেন: কলমা নামে একটি নিজস্ব লিপি ছিল বলে “বিভিন্ন লেখার সূত্রে জানা যায়”, কিন্তু “এই লিপির কোন নমূনা অদ্যাবধি আবিস্কৃত না হওয়ায় এ ব্যাপারে হলফ করে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
রাজমালা কোন পথে বাংলায় পৌঁছাল, তার অন্তত চারটি বিবরণ প্রকাশিত আছে: ত্রিপুর ভাষা থেকে সংস্কৃত হয়ে বাংলা; ত্রিপুর ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা; সংস্কৃত রাজরত্নাকর থেকে সংক্ষেপে বাংলা; আর রাজরত্নাকর ও বাংলা রাজমালা একই লেখকদের সমসাময়িক রচনা।
মুকুল কান্তি ত্রিপুরা লেখেন, দুর্লভেন্দ্রের লেখা রাজরত্নাকর শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর সংস্কৃতে অনুবাদ করেন, তারপর সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার ককবরক প্রোফাইল-লেখাটিও বলে, পণ্ডিতদ্বয় এটি সংস্কৃত ও বাংলায় অনুবাদ করেন। তাঁর অন্য লেখায় ক্রমটি আরও নির্দিষ্ট: গ্রন্থটি প্রথমে সংস্কৃতে, “পরে মহারাজ ধর্ম মাণিক্যের আমলে সংস্কৃত থেকে বাংলায়”। বাংলাপিডিয়াও বলে, প্রথমে ত্রিপুরা ভাষায় লেখা, পরে সংস্কৃতে অনূদিত, তারপর বাংলায়। খাপাং দেববর্মার লেখায় আছে কেবল সংস্কৃত অনুবাদের কথা।
রাজমালার পাঠে কোনো সংস্কৃত মধ্যধাপ নেই: চন্তাই ত্রিপুর ভাষায় বলেন, আর দ্বিতীয় খণ্ডের চরণ বলে ত্রিপুর ভাষার রাজমালা বাংলা পয়ারে করা হলো। উইকিপিডিয়ার “Kokborok literature” নিবন্ধও সংস্কৃত ধাপের কথা বলে না। দীনেশচন্দ্র সেনের বিবরণ, অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে, একটু ভিন্ন: ইতিহাসভাগ “সংস্কৃতে ছিলো”, শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর তা “ভাষায়” অনুবাদ করতে রাজি হননি; তখন ধর্মমাণিক্য চন্তাই দুর্লভেন্দ্রের শরণ নেন, যিনি “ত্রিপুর ভাষায় রচিত ইতিহাস হইতে বাংলা করিয়া” কাহিনি শোনান, আর পণ্ডিতেরা সেটি বাংলা পয়ারে বাঁধেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “রাজর্ষি” উপন্যাস লেখার সময় ত্রিপুরার ইতিহাস জানতে 1293 বঙ্গাব্দের 23 বৈশাখ মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যকে চিঠি লেখেন — অঙ্কুর দেববর্মা এই তথ্য দিয়েছেন। মহারাজার উত্তর, তাঁর উদ্ধৃতিতে: “‘রাজরত্নাকর’ নামে ত্রিপুর রাজবংশের একখানা ধারাবাহিক সংস্কৃত ইতিহাস আছে। এই গ্রন্থ ধর্মমাণিক্যের রাজত্ব সময়ে সংকলিত হইতে আরম্ভ হয়।” চিঠিতে আরও আছে, রাজরত্নাকরে একটি প্রাচীন সংস্কৃত “রাজমালা”-র উল্লেখ আছে, যা আর কোথাও পাওয়া যায় না; আর প্রচলিত রাজমালা “রাজরত্নাকর হইতে সংক্ষিপ্ত ও সংগৃহীত এবং বাংলা পদ্যে লিখিত”।
শ্রীরাজমালার সম্পাদক কালীপ্রসন্ন সেন বিদ্যাভূষণের মত, অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে: চন্তাই দুর্লভেন্দ্র এবং পণ্ডিত শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর রাজরত্নাকর রচনা করেন; সংস্কৃত ও বাংলা রাজমালাও ধর্মমাণিক্যের আদেশে এঁরাই লেখেন; তাই রাজরত্নাকর ও রাজমালা সমসাময়িক, “তবে, রাজরত্নাকর অগ্রে ও রাজমালা তাহার পরে রচিত হওয়া অসম্ভব নহে।” একই উদ্ধৃতিতে তিনি সংস্কৃত ও বাংলা — দুই ভাষাতেই রাজমালা নামে দুটি গ্রন্থের কথা বলেন।
প্রায় সব উৎস রাজরত্নাকর বা প্রথম রাজমালাকে মহারাজ ধর্মমাণিক্যের আমলের বলে মানে। অমিল হলো ধর্মমাণিক্য কবে রাজত্ব করেছেন তা নিয়ে — আর একটি উৎস সময়টিকে চৌদ্দ শতকে, আরেকটি আঠারো-উনিশ শতকে নিয়ে যায়।
| উৎস | যে সময় বলা হয়েছে |
|---|---|
| কৈলাসচন্দ্র সিংহ, রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস (1896) — অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে | 1329 শকাব্দে ধর্মমাণিক্যের সিংহাসনারোহণ; রাজমালা রচনা 1407 খ্রিস্টাব্দে |
| অচ্যুতচরণ চৌধুরী, শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত (1917) — অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে | শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর রাজমালা লেখেন 1407 খ্রিস্টাব্দে |
| ই. এফ. স্যান্ডিস, History of Tripura (1915) | ধর্মমাণিক্য সিংহাসনে বসেন 1407 খ্রিস্টাব্দে |
| কালীপ্রসন্ন সেন, “রাজমালার প্রণেতাগণ” — অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে; এন. সি. নাথের অনুবাদের পরিশিষ্টেও তাঁর কালপঞ্জি | ধর্মমাণিক্যের রাজত্ব 1431–1462 (শকাব্দ 1353–84, ত্রিপুরাব্দ 841–72); প্রথম বাংলা রাজমালা এর মধ্যে |
| বাংলাপিডিয়া | প্রথম রচনা 1431 খ্রিস্টাব্দে; বাংলায় অনুবাদের দায়িত্বও 1431-এ |
| জেমস লঙের Analysis of the Raj Mala-র ত্রিপুরা সরকারি পুনর্মুদ্রণের ভূমিকা | ধর্মমাণিক্যের আমলে (1431) প্রথম রচিত, পনেরো শতকের বাংলা পদ্যে |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, “Rajmala” | ধর্মমাণিক্য 1458 সালে রচনার আদেশ দেন |
| মুকুল কান্তি ত্রিপুরা (জুমজার্নাল, 2020) | 868–872 ত্রিপুরাব্দ (1458–1462 খ্রি.); তাঁর মতে এই চার বছরই ধর্মমাণিক্যের রাজত্বকাল |
| মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা (জুমজার্নাল) | ধর্মমাণিক্যের আমল 1458–65 |
| রূপক দেবনাথ (2022) | পনেরো শতকের শুরু |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, “Kokborok literature” | বাংলায় রূপান্তর চৌদ্দ শতকে |
| দীনেশচন্দ্র সরকার — অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে | রাজমালা আঠারো শতকের শেষ বা উনিশ শতকের প্রথম ভাগে রচিত |
দীনেশচন্দ্র সরকারের যুক্তি, অঙ্কুর দেববর্মা যেমন জানিয়েছেন: রাজমালায় একটি গ্রন্থের শ্লোক উদ্ধৃত আছে, আর সেই গ্রন্থটি আঠারো শতকে রচিত, তাই রাজমালা তার পরে লেখা হওয়াই স্বাভাবিক। উল্টো দিকে কালীপ্রসন্ন সেন লিখেছেন, বাংলা রাজমালার প্রথমাংশ যে পাঁচশো বছরের প্রাচীন, “এ বিষয়ে কাহারও সংশয় নাই”।
ধর্মমাণিক্যের রাজত্বের সময় নিয়েও উৎস একাধিক। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Dharma Manikya I” নিবন্ধ 1431–1462 বলে। রাজমালার পাঠে, এন. সি. নাথের অনুবাদে, রাজা “দীর্ঘ ত্রিশ বছর” রাজত্ব করেন, আর তাঁর একটি দানের তাম্রশাসনের তারিখ শকাব্দ 1380। মুকুল কান্তি ত্রিপুরা রাজত্বকাল চার বছর বলেছেন।
অঙ্কুর দেববর্মা লিখেছেন, এই মতানৈক্যের একটি বড় কারণ ধর্মমাণিক্যের রাজত্বকাল নিয়ে বিভ্রান্তি, আর কালীপ্রসন্ন সেন প্রথম যুক্তি দিয়ে সময়টিকে 1431–1462 দেখান।
কোলোমা (কলমা, ইংরেজিতে Koloma) ককবরক লেখার একটি প্রাচীন নিজস্ব লিপির নাম, যার অস্তিত্বের কথা ত্রিপুরা লেখকদের লেখায় ও উইকিপিডিয়ায় আছে। লিপিটির অক্ষর কেমন ছিল, কয়টি বর্ণ, কোন দিক থেকে লেখা হতো, কোন লিপি-পরিবারের — এর কোনো বর্ণনা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। কোনো নমুনাও প্রকাশিত হয়নি।
নামের দুটি রূপ আর্কাইভেই আছে: মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লেখেন “কলমা”, মুকুল কান্তি ত্রিপুরা লেখেন “কলমা বা কোলোমা”। ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও খাপাং দেববর্মা লেখেন Koloma।
লিপিটি সম্পর্কে উৎসগুলো যা বলে, তার সবটুকু এই:
“পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়াধীন” কথাটি উইকিপিডিয়া ও খাপাং দেববর্মা দুজনেই লিখেছেন, কিন্তু কারা, কোন অক্ষর-নকশা ধরে এই কাজ করছেন, কোনো উৎসে তার নাম বা বিবরণ পাওয়া যায়নি।
তুলনার জন্য: পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য কয়েকটি জনগোষ্ঠীর লিপির অক্ষর, পুঁথি ও ইউনিকোড আছে — যেমন চাকমা লিপি (অঝাপাত), মারমা বর্ণমালা ম্রাইমাজা ও ম্রো লিপি। কোলোমার ক্ষেত্রে আছে কেবল নাম ও বিবরণ। পাহাড়ের ভাষাগুলো আজ কোন লিপিতে পড়ানো হয়, তা আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা লেখায়।
লিপিটি কেন বা কীভাবে হারাল, তার একটি লিখিত ইতিহাস নেই; আছে চার ধরনের ব্যাখ্যা — ক্রমে ব্যবহার বন্ধ হওয়া, রাজসভার বাংলা-অনুরাগে ককবরক কপি অবহেলিত হওয়া, একটি লোককাহিনি, আর লিপিটি আদৌ ছিল না এমন অবস্থান।
ক্রমে ব্যবহার বন্ধ। উইকিপিডিয়ার “Kokborok” নিবন্ধ বলে, চৌদ্দ শতকের পর লিপিটির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়, আর পুরনো অনেক ককবরক নথি হারিয়ে যায় বা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে; ত্রিপুরার ইতিহাসের প্রধান উৎস তাই সংস্কৃত ও বাংলা পাণ্ডুলিপি।
বাংলা কপি রাখা হলো, ককবরক কপি নয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, মহারাজাদের “অতিশয় বাংলা প্রীতির কারণে” বাংলায় অনূদিত কপিটি যত্নে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হলেও ককবরক কপিটি “আর আলোর মুখ দেখেনি বা সচেতনভাবেই তা নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে।” এই অংশে তিনি শ্যামাচরণ ত্রিপুরার নাম দিয়েছেন। তাঁর প্রোফাইল-লেখায় আরেকটি তথ্য: উনিশ শতকের শেষার্ধে মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য (1862–96) ককবরকের বদলে বাংলাকে রাজকার্যের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন।
লোককাহিনি। কলাপাতায় লেখা হরফ ছাগলে খেয়ে ফেলার গল্পটি — অপুল ত্রিপুরার লেখা থেকে — আছে আমাদের ত্রিপুরা ও মারমা মৌখিক সাহিত্য লেখায়। খাপাং দেববর্মার সংস্করণে গল্পটির নায়ক এক ত্রিপুরা পণ্ডিত, যিনি বহু বছরের পরিশ্রমে লিপিটি উদ্ভাবন করেছিলেন; কাগজ না থাকায় কলাপাতায় লিখে রেখে তিনি সরে গেলে একটি ছাগল পাতাটি খেয়ে ফেলে। তিনি নিজেই শিরোনামে প্রশ্ন রেখেছেন — “মিথ না বাস্তব?”
লিখন ছিলই না। রূপক দেবনাথের প্রবন্ধ, আগেই বলা হয়েছে, প্রাচীন ত্রিপুরাদের সাক্ষরতা ও লিখন ছিল না বলে লেখে। এই অবস্থান মানলে হারানোর প্রশ্ন ওঠে না।
নামটি কোন সময় থেকে চালু, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অঙ্কুর দেববর্মা। তাঁর পর্যবেক্ষণ: কৈলাসচন্দ্র সিংহ তাঁর রাজমালার উৎস হিসেবে তিনটি পুঁথির নাম দেন — প্রাচীন রাজমালা, সংক্ষিপ্ত রাজমালা ও সংস্কৃত রাজমালা — কিন্তু “রাজরত্নাকর” নাম ব্যবহার করেন না।
অঙ্কুর দেববর্মা দুটি সম্ভাবনা লিখেছেন, দুটিই প্রশ্ন আকারে: হয়তো কৈলাসচন্দ্র সিংহ ইচ্ছা করে নামটি এড়িয়ে গেছেন, কারণ বীরচন্দ্র মাণিক্য সংস্কৃত ইতিবৃত্তকে নতুন করে পরিবর্ধন করে ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন; নয়তো “রাজমালিকা”-র সংক্ষিপ্ত রূপ “সংস্কৃত রাজমালা”-কেই বীরচন্দ্র মাণিক্য রাজরত্নাকর নাম দিয়েছেন, “এবং এই নামাঙ্কন কোনও প্রাচীন নাম নয়”। তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, কালীপ্রসন্ন সেনের মতে রাজরত্নাকর যদি পনেরো শতকে বাংলা রাজমালার আগে লেখা হয়, তবে পরের বাংলা রাজমালা বা অন্য কোনো গ্রন্থে নামটির উল্লেখ নেই কেন।
“রাজমালিকা” নিয়ে কালীপ্রসন্ন সেনের পাদটীকা, অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে: এটি সংস্কৃতে লেখা ত্রিপুরার প্রাচীন ইতিহাস; পণ্ডিত মুকুন্দ 1674 শকাব্দে এর একটি সংক্ষিপ্তসার সংগ্রহ করেন, যার নাম “সংস্কৃত রাজমালা”; মূল রাজমালিকা “বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য”। রাজমালার প্রথম লহরের পাঠে, এন. সি. নাথের অনুবাদে, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের পরিচিত গ্রন্থের তালিকায় Rajamalika নামটি আছে।
নামের ব্যাপারে আরেকটি অমিল: বাংলাপিডিয়া সংস্কৃত রূপটির নাম লিখেছে “Rajmala Thankaram”। এন. সি. নাথ লিখেছেন, কালীপ্রসন্ন সেন অনুযায়ী গ্রন্থের নাম “শ্রীরাজমালা”, যদিও কোনো পুষ্পিকায় (colophon) “শ্রী” শব্দটি নেই।
জ্যোতিষ নাথ সম্পাদিত শ্রীরাজরত্নাকরম্ (2002) নামে একটি গ্রন্থের ভূমিকা মুকুল কান্তি ত্রিপুরা উদ্ধৃত করেছেন। গ্রন্থটি কোন পুঁথি থেকে সম্পাদিত, প্রকাশক কে, পাঠটি সংস্কৃত কি না — এসব তথ্য সেই উদ্ধৃতিতে নেই, অন্য কোনো উৎসেও পাওয়া যায়নি।
রাজরত্নাকর বা ককবরক মূলের কোনো পুঁথি নেই; শুক্রেশ্বর-বাণেশ্বরের আদি বাংলা রূপটিও পাওয়া যায় না বলে রূপক দেবনাথ লেখেন। যা টিকে আছে তা পরের যুগের বাংলা পুঁথি ও তার মুদ্রিত সংস্করণ। অঙ্কুর দেববর্মার মতে প্রাপ্ত পুঁথির মধ্যে প্রাচীনতম রামনারায়ণ দেবের নকল করা পুঁথি।
পুঁথি ও সংস্করণের যে তথ্য উৎসগুলোতে আছে:
এন. সি. নাথ তাঁর অনুবাদের ভূমিকায় একটি সাম্প্রতিক ক্ষতির কথা লিখেছেন: রাজমালার ছয় ভাগের শেষ দুটি “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে” হারিয়ে গেছে; ছয়টি খণ্ডই আগরতলার সরকারি জাদুঘর গ্রন্থাগারের ক্যাটালগে তালিকাভুক্ত, তাই তালিকাভুক্তির পরে কোনো এক সময় খণ্ড দুটি হারিয়েছে।
রাজমালা ছয়টি লহরে ভাগ করা; প্রতিটি লহরে একজন বক্তা ও একজন শ্রোতা-রাজার নাম আছে। প্রথম লহরের বক্তা হিসেবে দুর্লভেন্দ্র, শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বরের নাম — এই কারণেই রাজরত্নাকর প্রশ্নে প্রথম লহরটিই কেন্দ্রে। নিচের ছক মুকুল কান্তি ত্রিপুরার লেখা থেকে; শেষ কলামে এন. সি. নাথের দেওয়া কবিদের নাম।
| লহর | বিষয় (যে রাজাদের বিবরণ) | বক্তা | শ্রোতা | রচনাকাল | কবি (এন. সি. নাথ) |
|---|---|---|---|---|---|
| প্রথম | দৈত থেকে মহামাণিক্য | বাণেশ্বর, শুক্রেশ্বর ও দুর্ল্লভেন্দ্র নারায়ণ | ধর্মমাণিক্য | পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভ | দুর্লভেন্দ্র চন্তাই, বাণেশ্বর, শুক্রেশ্বর |
| দ্বিতীয় | ধর্মমাণিক্য থেকে জয়মাণিক্য | রণচতুর নারায়ণ | অমরমাণিক্য | ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ | রণচতুর নারায়ণ |
| তৃতীয় | অমরমাণিক্য থেকে কল্যাণমাণিক্য | রাজমন্ত্রী | গোবিন্দমাণিক্য | অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ | Gangadhar Siddhanta-Vagisa |
| চতুর্থ | গোবিন্দমাণিক্য থেকে কৃষ্ণমাণিক্য | জয়দেব উজীর | রামগঙ্গামাণিক্য | অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ | দুর্গামণি উজীর |
| পঞ্চম | রাজধরমাণিক্য থেকে রামগঙ্গামাণিক্য | দুর্গামণি উজীর | কাশীচন্দ্রমাণিক্য | ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ | — (খণ্ডটি হারিয়ে গেছে) |
| ষষ্ঠ | রামগঙ্গামাণিক্য থেকে কাশীচন্দ্রমাণিক্য | দুর্গামণি উজীর | কৃষ্ণকিশোরমাণিক্য | ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ | — (খণ্ডটি হারিয়ে গেছে) |
দুই উৎসের মধ্যে অমিল তৃতীয় ও চতুর্থ লহরে: মুকুল কান্তি ত্রিপুরা তৃতীয় লহরের বক্তা “রাজমন্ত্রী” ও চতুর্থের বক্তা জয়দেব উজীর বলেন; এন. সি. নাথ তৃতীয় খণ্ডের কবি Gangadhar Siddhanta-Vagisa ও চতুর্থ খণ্ডের দুর্গামণি উজীর বলেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলে, পরের অংশগুলো ষোলো থেকে উনিশ শতকে অমরমাণিক্য, গোবিন্দমাণিক্য, কৃষ্ণমাণিক্য ও কাশীচন্দ্র মাণিক্যের পৃষ্ঠপোষকতায় লেখা হয়।
রামনারায়ণ দেবের অনুলিপিতে, অঙ্কুর দেববর্মার উদ্ধৃতিতে, দ্বিতীয় খণ্ডের সূচনাটি এভাবে: রণচতুর নারায়ণ যা বললেন, তাতে অমরমাণিক্য সন্তুষ্ট হয়ে আগের রাজাদের কথা শুনে নতুন পুঁথি গাঁথালেন, যা শুরু হয় শ্রীধর্মমাণিক্য থেকে। অঙ্কুর দেববর্মা লেখেন, উদ্ধৃতিটিতে পরিবর্ধনের কথা ততটা স্পষ্ট নয়, বরং নতুন করে পুঁথি লেখার কথাই আসে। রূপক দেবনাথ লেখেন, আদি রূপটি হয়তো হারিয়ে গেছে বা অবহেলায় নষ্ট হয়েছে, যখন অমরমাণিক্যের (1577–86) আমলে বর্ধিত রূপটি তৈরি হয় বলে মনে করা হয়।
রাজরত্নাকর ছাড়াও অন্তত দুটি প্রাচীন রচনার কথা উৎসে আছে, যেগুলোর মূল আজ পাওয়া যায় না: কলমা হরফে লেখা রাজাদের বংশলিপি, আর আঠারো শতকের শুরুতে ককবরকে লেখা মহেন্দ্র মাণিক্যের জীবনী ও চৌদ্দ দেবতার পূজার মন্ত্র।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ককবরক লিখিত সাহিত্যের ইতিহাসকে কয়েকটি পর্বে ভাগ করেছেন; প্রথমটির নাম “আইচুকপাং বা আলো-আঁধারির যুগ”, খ্রিস্টীয় প্রথম শতক থেকে রাজমালা রচনাকাল পর্যন্ত। তিনি নিজেই লিখেছেন, এই পর্বের সীমা “সহজে নির্ণয় করা যায় না”। এই পর্বে দুটি রচনার কথা তিনি দেন — কলমা হরফে লেখা ত্রিপুরা রাজাদের “ইতিহাস বা বংশলিপি” আর রাজরত্নাকর — এবং যোগ করেন, “এই দুই ধরনের কোন গ্রন্থের কপি এখনও আবিস্কৃত হয়নি।”
একই লেখায় আরেকটি তথ্য: দুর্গাপ্রসাদ নারাণ মহেন্দ্র মাণিক্যের (1713–14) জীবনী এবং চৌদ্দ দেবতার পূজার্চনার মন্ত্রাদি ককবরকে লিখেছিলেন বলে জানা যায়; পাণ্ডুলিপিটি একসময় সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু “কোন এক গুঢ় কারণে তা এখন দুষ্প্রাপ্য”। এটি কোন লিপিতে লেখা ছিল, লেখায় উল্লেখ নেই।
বাংলা গদ্যের একটি হারানো গ্রন্থের কথাও আছে। কালীপ্রসন্ন সেন লিখেছেন, “রাজাবলী” নামে ত্রিপুরার একটি প্রাচীন ইতিহাস আটশো বছর আগে বাংলা গদ্যে রচিত হয়েছিল, যার অস্তিত্ব এখন লোপ পেয়েছে। রামগতি ন্যায়রত্ন 1873 সালে লিখেছিলেন, ত্রিপুরার রাজাবলী রচিত হয়েছিল বলে শোনা যায়, কিন্তু দেখতে পাওয়া যায়নি। অঙ্কুর দেববর্মা দুটি উদ্ধৃতিই দিয়েছেন এবং লিখেছেন, রাজাবলীর কোনো পুঁথি মেলেনি, অস্তিত্বের অন্য কোনো দৃঢ় প্রমাণও পাওয়া যায়নি। সলিল রায় লেখেন, মুদ্রিত রাজমালার ভিত্তি হাতে লেখা “রাজাবলী”-র তথ্য বলে দাবি করা হয়েছে।
যে গ্রন্থ নিজেই বলে আগে ত্রিপুর ভাষায় ছিল, তার ককবরক অনুবাদ প্রকাশিত হয় 2002 সালে — আর. কে. দেববর্মার অনুবাদে, ককবরক তাই হুকুমু মিশনের প্রকাশনায়। 2009 সালে অতুল দেববর্মার আরেকটি ককবরক রাজমালা প্রকাশিত হয়।
2002 সালের অনুবাদটির নাম মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখায় “তৈনি লাইবুমা”, উইকিপিডিয়ার “Kokborok” ও “Kokborok literature” নিবন্ধে Twiprani Laihbuma (The Rajmala – History of Tripura)। একই বছরে মিশন বিনয় দেববর্মার ইংরেজি-ককবরক-বাংলা ত্রিভাষিক অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণও প্রকাশ করে। উইকিপিডিয়ার “Kokborok literature” নিবন্ধ 2009 সালের অতুল দেববর্মার বইটির নাম দেয় Bubagratang (Rajmala)।
ককবরকের প্রাতিষ্ঠানিক পথের কয়েকটি তারিখ মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখায় আছে: 1949 সালে স্বাধীন ত্রিপুরা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে যুক্ত হয়; 1979 সালে ককবরক ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যতম রাজ্যভাষার স্বীকৃতি পায়; 1994 সালে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককবরক সার্টিফিকেট কোর্স চালু হয়, 2003 সালে তা ডিপ্লোমায় উন্নীত হয়। উইকিপিডিয়ার “Kokborok literature” লেখে, উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত ককবরকে খুব কম লেখা হয়েছে; শতাব্দীর মোড়ে দৌলত আহম্মদের Kokbokma (1897) ও রাধামোহন ঠাকুরের Kok-Borokma (1900) ব্যাকরণ প্রকাশিত হয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা রাধামোহন দেববর্মনের “ককবরকমা”-র সাল 1900 দিয়েছেন।
আজ ককবরক কোন হরফে লেখা হবে — রোমান না বাংলা — সেই বিতর্ক আলাদা লেখার বিষয়। এখানে কেবল এটুকু: উইকিপিডিয়া লেখে, উনিশ শতক থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে ককবরক বাংলা লিপিতে লেখা হতো, আর ভারতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে বেসরকারি সংগঠনগুলো রোমান লিপির প্রসার ঘটাচ্ছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে বাংলাদেশের ত্রিপুরা লেখকদের ককবরক ও ত্রিপুরা ইতিহাস-বিষয়ক লেখায় রাজরত্নাকর ও কলমা লিপির কথা আছে, আর সেগুলোতে ভাষার কথা আসে বাংলাদেশে ত্রিপুরাদের বসতির কথার পাশাপাশি।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার ককবরক প্রোফাইল-লেখায় রাজরত্নাকরের অনুচ্ছেদটি আসে ভাষার পরিচয়ের ঠিক পরে, বাংলাদেশে ত্রিপুরাদের বসতির বর্ণনার সঙ্গে: তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ঢাকা, রাজবাড়ী, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জে ত্রিপুরাদের বাস। মুকুল কান্তি ত্রিপুরার লেখাও খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান থেকে কুমিল্লা ও সিলেট পর্যন্ত ত্রিপুরাদের বসতির কথা বলে, আর লেখে, প্রাচীন ও মধ্যযুগে ত্রিপুরা রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার প্রোফাইল-লেখায় বাংলাদেশে ককবরকের হরফ নিয়ে একটি তথ্যও আছে: বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ 2001 ও 2003 সালে দুটি কর্মশালার পর রোমান হরফে ককবরক লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত আর আজকের অবস্থা আলাদা লেখার বিষয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ে আমাদের লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
রাজরত্নাকর ত্রিপুরা রাজবংশের ইতিহাস-গ্রন্থের একটি নাম, যার কোনো কপি পাওয়া যায় না। মুকুল কান্তি ত্রিপুরা ও মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা একে চন্তাই দুর্লভেন্দ্রের ককবরকে লেখা মূল গ্রন্থ বলেন, যা পরে রাজমালা হয়। মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য রবীন্দ্রনাথকে লেখা চিঠিতে একে ধর্মমাণিক্যের আমলে শুরু হওয়া একটি সংস্কৃত ইতিহাস বলেছেন।
বাংলাপিডিয়া ও আর্কাইভের ত্রিপুরা লেখকদের মতে রাজপুরোহিত বা চন্তাই দুর্লভেন্দ্র। কালীপ্রসন্ন সেনের মতে দুর্লভেন্দ্র এবং পণ্ডিত শুক্রেশ্বর ও বাণেশ্বর একসঙ্গে। রাজমালার নিজের পাঠে দুর্লভেন্দ্র ত্রিপুর ভাষায় ইতিহাস বলেন আর দুই ব্রাহ্মণ পণ্ডিত তা বাংলা পয়ারে লেখেন। কাজটির আদেশ দেন মহারাজ ধর্মমাণিক্য।
কোলোমা বা কলমা ককবরক লেখার একটি প্রাচীন নিজস্ব লিপির নাম। ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলে এটি খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে তৈরি, ত্রিপুরার রাজপরিবার ব্যবহার করত, চৌদ্দ শতকের পর ব্যবহার বন্ধ হয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লেখেন, লিপিটির কোনো নমুনা আজও আবিষ্কৃত হয়নি। অক্ষরের রূপের বর্ণনা কোনো উৎসে নেই।
প্রকাশিত কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, নমুনা আবিষ্কৃত না হওয়ায় হলফ করে কিছু বলা যায় না। খাপাং দেববর্মা 2021 সালে লিখেছেন, কিছু পণ্ডিতের মতে কয়েকজন অচাই বা ত্রিপুরা পুরোহিতের কাছে লিপিটি টিকে আছে এবং চৌদ্দ দেবতার মন্দিরে কোলোমায় বিবরণ থাকতে পারে, তবে তা যাচাই করা যায়নি।
উৎসভেদে আলাদা। কৈলাসচন্দ্র সিংহ ও অচ্যুতচরণ চৌধুরী 1407 বলেন; কালীপ্রসন্ন সেন ধর্মমাণিক্যের রাজত্ব 1431–1462 ধরেন, বাংলাপিডিয়া 1431 বলে; উইকিপিডিয়ার “Rajmala” নিবন্ধ 1458 বলে; মুকুল কান্তি ত্রিপুরা 1458–1462 বলেন। উইকিপিডিয়ার “Kokborok literature” বাংলা রূপটিকে চৌদ্দ শতকের বলে, আর দীনেশচন্দ্র সরকার রাজমালাকে আঠারো-উনিশ শতকের রচনা বলেন।
রাজমালার দ্বিতীয় খণ্ডের ধর্মমাণিক্য অংশে একটি চরণ আছে: “পূর্বে রাজমালা ছিল ত্রিপুর ভাষাতে”। প্রথম খণ্ডেও চন্তাই দুর্লভেন্দ্র ত্রিপুর ভাষায় ইতিহাস বলেন। তবে সেই ত্রিপুর ভাষার রূপটি লিখিত ছিল নাকি মুখে বলা, চরণগুলো তা বলে না; কোনো ককবরক পাঠও পাওয়া যায়নি।
দুটি অবস্থান আছে। মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য 1293 বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথকে লেখেন, রাজরত্নাকর একটি ধারাবাহিক সংস্কৃত ইতিহাস, আর প্রচলিত বাংলা রাজমালা তা থেকে সংক্ষিপ্ত। সলিল রায়ও “সংস্কৃত রাজরত্নাকর” লেখেন। অন্যদিকে মুকুল কান্তি ত্রিপুরা ও মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা রাজরত্নাকরকে ককবরক মূল বলেন, যা পরে সংস্কৃতে অনূদিত হয়।
দুর্লভেন্দ্র ছিলেন মহারাজ ধর্মমাণিক্যের দরবারের চন্তাই বা প্রধান পূজারী। রাজমালার পাঠে তিনি চৌদ্দ দেবতার পূজাবিধি ও ত্রিপুরা রাজবংশের কাহিনিতে পারদর্শী। উৎসভেদে তাঁকে রাজরত্নাকরের রচয়িতা, ইতিহাসের বক্তা, অনুবাদে সহযোগী, এমনকি কোলোমা লিপির উদ্ভাবক বলা হয়েছে। তাঁর জীবন সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজমালার ইংরেজি অনুবাদে এন. সি. নাথ চন্তাই (Chantai/Cantai) শব্দটির অর্থ দিয়েছেন প্রধান পূজারী বা High priest; বাংলাপিডিয়াও চন্তাইকে দেশের প্রধান পূজারী বলে। মুকুল কান্তি ত্রিপুরা লিখেছেন “চতুর্দ্দশ দেবতার চন্তাই বা প্রধান পূজারী”। রাজমালার পাঠে চন্তাইয়ের সহকারীকে বলা হয়েছে দেওদাই (deodai)।
অঙ্কুর দেববর্মার মতে প্রাপ্ত পুঁথির মধ্যে প্রাচীনতম রামনারায়ণ দেবের নকল করা চার খণ্ডের পুঁথি, আনুমানিক আঠারো শতকের শেষপাদের। মণীন্দ্র গাঙ্গুলী এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে দান করেন, আর ত্রিপুরা শিক্ষা অধিকার 1967 সালে তা ছাপে। এর মূল লেখক বা মূল রচনাকালের তথ্য নেই।
আছে। 2002 সালে ককবরক তাই হুকুমু মিশন আর. কে. দেববর্মার অনূদিত রাজমালার ককবরক সংস্করণ প্রকাশ করে — মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখায় নাম “তৈনি লাইবুমা”, উইকিপিডিয়ায় Twiprani Laihbuma। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী 2009 সালে অতুল দেববর্মার Bubagratang (Rajmala) নামে আরেকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
লিখিত ইতিহাস নেই, ব্যাখ্যা আছে। উইকিপিডিয়া বলে চৌদ্দ শতকের পর ব্যবহার বন্ধ হয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লেখেন, মহারাজাদের বাংলা-অনুরাগে বাংলা কপি সংরক্ষিত হলেও ককবরক কপিটি হারিয়েছে বা নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে। কলাপাতার হরফ ছাগলে খাওয়ার একটি লোককাহিনিও প্রচলিত। রূপক দেবনাথ লেখেন, প্রাচীন ত্রিপুরাদের লিখনই ছিল না।
জুমজার্নাল আর্কাইভ (প্রাথমিক উৎস)
রাজমালা ও সমসাময়িক নথি
গবেষণা ও বিশ্বকোষ
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:ককবরক, ককবরক সাহিত্য, ত্রিপুরা, ত্রিপুরা লিপি, রাজমালা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।