Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও জীবিকা: ফল, তামাক, রাবার, মাছ ও দারিদ্র্যের হিসাব

Last updated Oct 19th, 2026

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে সারি সারি বাঁশের খুঁটি আর তাতে টাঙানো মাছ ধরার জাল, পেছনে কুয়াশায় ঢাকা দ্বীপ ও পাহাড়

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতি এখনো মূলত কৃষির ওপর দাঁড়িয়ে: বাংলাপিডিয়ার জেলা-ভুক্তি অনুযায়ী রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — তিন জেলাতেই আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, 59 থেকে 62 শতাংশ। জুমের পাশে এখন আছে আম-আনারসের বাগান, কাজুবাদাম ও কফি, বান্দরবানের তামাক, উন্নয়ন বোর্ডের রাবার, কাঠ-বাঁশ, কাপ্তাই হ্রদের মাছ আর পর্যটন। সরকারি দারিদ্র্য মানচিত্র 2022 অনুযায়ী বান্দরবানে প্রতি চারজনে একজন দারিদ্র্যরেখার নিচে; রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে হার জাতীয় গড়ের নিচে।

প্রশ্নটা সহজ: জুম ছাড়া পাহাড়ের মানুষ কী করে খায়? উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, প্রতিটি খাতের সংখ্যা আলাদা আলাদা জায়গায় ছড়িয়ে আছে — কোনোটা জেলা পোর্টালে, কোনোটা সংবাদে উদ্ধৃত কর্মকর্তার মুখে, কোনোটা 1998 সালের এক সম্মেলন-প্রবন্ধে। এই পাতায় সেগুলো এক জায়গায় আনা হয়েছে, প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎস ও বছরসহ। যেখানে দুই উৎস দুই রকম বলছে, সেখানে দুটোই রাখা আছে। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

সূচিপত্র

  1. পাহাড়ের মানুষ কী করে খায়: আয়ের উৎস এক ছকে
  2. পাহাড়ে চাষের জমি এত কম কেন
  3. জুম চাষ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে
  4. পাহাড়ি অঞ্চলে কী কী চাষ হয়
  5. পাহাড়ি ফল: আম, আনারস, কলা আর মিশ্র বাগান
  6. পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কোথায়
  7. কাজুবাদাম ও কফি
  8. বান্দরবানে তামাক চাষ
  9. রাবার বাগান
  10. কাঠ, বাঁশ ও কর্ণফুলী পেপার মিল
  11. কাপ্তাই হ্রদের মাছ
  12. বাজার কার হাতে
  13. শিল্পকারখানা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ
  14. পর্যটন থেকে আয়
  15. দারিদ্র্য কত: দারিদ্র্য মানচিত্র 2022
  16. সময়রেখা: 1951 থেকে 2025
  17. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

পাহাড়ের মানুষ কী করে খায়: তিন জেলার আয়ের উৎস এক ছকে

তিন পার্বত্য জেলাতেই আয়ের প্রধান উৎসের হিসাবে প্রায় ষাট শতাংশ জুড়ে আছে কৃষি। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কৃষির অংশ রাঙামাটিতে 59.08, খাগড়াছড়িতে 59.92 ও বান্দরবানে 61.95 শতাংশ। এরপর আসে ব্যবসা (প্রায় 10 শতাংশ) ও চাকরি (8 থেকে 13 শতাংশ)। শিল্পের অংশ তিন জেলাতেই আধা শতাংশের নিচে।

আয়ের প্রধান উৎসরাঙামাটিখাগড়াছড়িবান্দরবান
কৃষি59.08%59.92%61.95%
ব্যবসা10.70%10.67%9.92%
চাকরি13.48%7.94%8.12%
অকৃষি শ্রম6.06%9.33%7%
পরিবহন ও যোগাযোগ1.06%1.11%1.11%
নির্মাণ0.83%0.92%1.08%
শিল্প0.46%0.44%0.48%
ভাড়া ও রেমিট্যান্স0.73%0.37%0.37%
ধর্মীয় সেবা0.19%0.24%0.26%
অন্যান্য7.41%9.06%9.71%

উৎস: বাংলাপিডিয়ার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা-ভুক্তি। হিসাবটি কোন শুমারির, তা ওই পাতাগুলোতে আলাদা করে লেখা নেই।

ছকটি থেকে তিনটি জিনিস চোখে পড়ে। চাকরির অংশ রাঙামাটিতে বাকি দুই জেলার দেড় গুণেরও বেশি। অকৃষি শ্রমের অংশ সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়িতে। আর রেমিট্যান্স ও ভাড়া থেকে আয় তিন জেলাতেই এক শতাংশের নিচে।

রাঙামাটির পেশার ভাগ নিয়ে উৎসে অমিল আছে: বাংলাপিডিয়া বলছে কৃষি 59.08 শতাংশ, আর ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে কৃষি 41.94, কৃষিশ্রম 12.06, চাকরি 13.04, ব্যবসা 8.22, শিল্প 4.57, বন 3.2 ও মাছ ধরা 2.02 শতাংশ।

কৃষির অংশ কমেছে: 1961 সালে 87 শতাংশ, 1981 সালে 59

কৃষিনির্ভরতা আগে আরও বেশি ছিল। আমাদের আর্কাইভে প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার 1998 সালের প্রবন্ধ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি, কল্পকাহিনী এবং বাস্তবতা জানাচ্ছে, 1961 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট কর্মজীবীর প্রায় 87 শতাংশ কৃষিতে যুক্ত ছিলেন; 1981 সালে তা নেমে আসে 59 শতাংশে। সংখ্যাটির মূল সূত্র হিসেবে লেখক Barkat ও Huda-র 1988 সালের গবেষণার নাম দিয়েছেন।

লেখকের ব্যাখ্যায় এই বদল স্বেচ্ছায় আসেনি। অন্য পেশায় যাওয়ার সময় ও সুযোগ ছাড়া পেশা বদলাতে বাধ্য হওয়া মানুষদের অবস্থাকে তিনি তুলনা করেছেন “পানির বাইরে মাছ”-এর সঙ্গে। এটি লেখকের বিশ্লেষণ; প্রবন্ধটির পুরো যুক্তি মূল লেখাতেই পড়া ভালো।

পাহাড়ে চাষের জমি এত কম কেন: 7 শতাংশের হিসাব

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় এক-দশমাংশ, কিন্তু চাষের জমি খুব কম। ভূমি রাজস্ব প্রশাসনের 1956–66 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 32,59,520 একরের মধ্যে নিট ফসলি জমি ছিল মাত্র 1,30,000 একর — অঞ্চলের 7 শতাংশেরও কম জমি চাষযোগ্য। কাপ্তাই বাঁধ সেই সামান্য জমিরও 54,000 একর ডুবিয়ে দেয়।

হিসাবটি প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার প্রবন্ধ থেকে নেওয়া: মোট ফসলি জমি 2,23,002 একর, নিট ফসলি জমি 1,30,000 একর। একই প্রবন্ধ অনুযায়ী ষাটের দশকে কাপ্তাই বাঁধে যে 54,000 একর ডুবে যায়, তা ছিল অঞ্চলের চাষযোগ্য উর্বর জমির 40 শতাংশ।

1964–66 সালের মাটি জরিপ: পাঁচ শ্রেণির জমি

জমির সবচেয়ে বিস্তারিত পুরোনো হিসাব একটি কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের। আমাদের আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির উপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব অনুযায়ী Forestal Forestry & Engineering International পূর্ব পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে 1964–66 সালে Chittagong Hill Tracts Land & Soil Survey চালায় এবং মাটিকে ব্যবহারযোগ্যতা অনুযায়ী পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে।

শ্রেণিজমির ধরন (আর্কাইভের লেখার ভাষায়)পরিমাণ (একর)শতকরা হার
কপলিমাটির জমি, ধান চাষের উপযোগী76,4663.2
খউঁচু-নিচু পাহাড়ি জমি, ঢালু পাহাড় হিসেবে চাষযোগ্য67,4712.9
গঅসমতল উচ্চভূমি; উদ্যান চাষের উপযোগী3,66,62215.5
ঘআংশিকভাবে সুবিধাজনক অসমতল উচ্চভূমি32,0241.6
ঙখুব খাড়া উচ্চভূমি, কেবল বনায়নযোগ্য18,16,93377

অর্থাৎ এই জরিপে ধান চাষের উপযোগী জমি পুরো অঞ্চলের মাত্র 3.2 শতাংশ, আর তিন-চতুর্থাংশের বেশি জমি কেবল বনায়নের যোগ্য। লেখাটির এক জায়গায় ‘খ’ শ্রেণির পরিমাণ 67,471 একর, অন্য জায়গায় 67,871 একর — দুটো সংখ্যাই একই লেখায় আছে। ‘গ’ শ্রেণির জমিকে পরের একটি প্রতিবেদনে কেবল রাবার ও বাঁশ চাষের উপযোগী বলা হয়েছে বলেও লেখক জানিয়েছেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব ও কাপ্তাইয়ের ক্ষতি

একই লেখা Statistical Year Book of Bangladesh 2008 উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, 2005 সাল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় চাষাবাদের আওতাধীন জমি ছিল 4,46,046 একর। লেখক ব্যুরোর অন্য ছকের সঙ্গে এই সংখ্যার অসংগতি দেখিয়ে হিসাবটিকে “বিভ্রান্তিকর” বলেছেন। হালের একটি সংখ্যা মেলে বান্দরবান জেলা পোর্টালে: জেলার মোট আবাদি জমি 1,01,193.50 একর।

কাপ্তাই বাঁধের ক্ষতিপূরণের হিসাবটিও জীবিকার ইতিহাসের অংশ। আর্কাইভের ওই লেখা অনুযায়ী (মূল সূত্র B. Grimwood-এর 1976 সালের প্রতিবেদন) বাঁধে 18 হাজার পরিবারের 1,00,000 মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এঁদের মধ্যে 7,398 পরিবার পায় 20,231 একর কৃষিজমি, 7,676 জুমিয়া পরিবার পায় 12,615 একর পাহাড়ি জমি, আর বাকি প্রায় 3,000 পরিবারের কেউ পায় অসমতল উঁচু জমি, কেউ কেবল মাছ ধরার সরঞ্জাম। হ্রদে মাছ ধরা পেশা হিসেবে এভাবেই শুরু। উচ্ছেদের স্মৃতি নিয়ে আলাদা লেখা আছে: কাপ্তাই বাঁধ – সকল দুঃখের কারণ।

জুম চাষ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে

জুম এখনো পাহাড়ের ঢালের প্রধান চাষপদ্ধতি, তবে আর একমাত্র জীবিকা নয়। The Daily Star বাংলার 2024 সালের প্রতিবেদনের ভাষায়, জুম “ঐতিহ্য হিসেবে” রয়ে গেছে, কিন্তু জীবনধারণের একমাত্র ব্যবস্থা নেই। আমাদের জুম-বিষয়ক লেখা অনুযায়ী একটি জুমক্ষেতে ধানের সঙ্গে তুলা, তিল, ভুট্টা, আদা, হলুদসহ প্রায় 18 ধরনের ফসল একসঙ্গে ফলে।

জুম কী, কোন মাসে কী কাজ, কোন ফসল, জমির প্রথাগত অধিকার কীভাবে ঠিক হয় — এসবের পূর্ণ বিবরণ আমাদের আলাদা লেখায় আছে: জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে। লোকজ্ঞানের দিকটি পড়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষে আদিবাসী লোকজ্ঞান লেখায়, আর ইতিহাসের দিকটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে জুমচাষ ও জুমিয়া লেখায়। এই পাতার বাকি অংশ জুমের বাইরের জীবিকা নিয়ে।

পাহাড়ি অঞ্চলে কী কী চাষ হয়: তিন উৎসের ফসল-তালিকা

পাহাড়ের ঢালে জুম, আর পাহাড়ের মাঝের উপত্যকায় লাঙলের চাষ — পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষ হয় এই দুই ভাবে। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ির প্রধান ফসল ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, আখ ও শাকসবজি; বান্দরবানের অর্থকরী ফসল আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক ও ইক্ষু।

উৎসএলাকাফসলের তালিকা
খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালখাগড়াছড়িপ্রধান ফসল: ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, আখ ও শাকসবজি। ফলমূল: আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু ও তরমুজ।
বান্দরবান জেলা পোর্টালবান্দরবানঅর্থকরী ফসল: আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক, ইক্ষু ও নানা শাকসবজি।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ারাঙামাটিধান, আলু, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, পাট; ফল: আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, লিচু ও ‘blackberry’। মোট চাষের জমি 12,275 হেক্টর।
বাংলাপিডিয়াপুরো অঞ্চলপাহাড়ের ঢালে জুম; পাহাড়ের মাঝের উপত্যকায় তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজ।
The Daily Star বাংলা (2024)পুরো অঞ্চলকাজুবাদাম, কফি, আনারস, আম, কাঁঠাল, কলা, কমলা, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, লেবু, পেঁপে, আতা, বেল, আদা ও হলুদ।

The Daily Star বাংলার ওই প্রতিবেদন একটি পুরোনো পরিচয়ও মনে করিয়ে দেয়: মুঘল আমলে এই অঞ্চলের নাম ছিল ‘কার্পাস মহল’ — কার্পাস তুলার দেশ। তুলা এখনো খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান দুই জেলা পোর্টালের ফসল-তালিকাতেই আছে।

চা নিয়ে তথ্য অল্প। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালে চা-বাগান একটি, রামগড়ে। বান্দরবান জেলা পোর্টাল চা শিল্পকে জেলার ‘বিকাশমান ক্ষেত্র’-এর তালিকায় রেখেছে। পাহাড়ে চা কেন বেশি হয়, সে প্রশ্নের কৃষিতাত্ত্বিক উত্তর এই উৎসগুলোর কোনোটিতে নেই।

পাহাড়ি ফল: আম, আনারস, কলা আর মিশ্র বাগান

পাহাড়ি ফল এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা জীবিকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাতে The Daily Star বাংলা জানিয়েছে, তিন পার্বত্য জেলায় দেশের মোট ফলের প্রায় 20 শতাংশ উৎপাদিত হয়। শুধু খাগড়াছড়িতেই 2025 মৌসুমে 4,421 হেক্টরে আম চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা 54,179 টন।

বাগানের শুরু: কাপ্তাই বাঁধের পর

ফলবাগানকে জীবিকা হিসেবে নেওয়ার ইতিহাস বাঁধের সঙ্গে জড়ানো। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার প্রবন্ধ অনুযায়ী কাপ্তাই বাঁধের পর, বিশেষ করে হ্রদের আশপাশের আদিবাসী মানুষ জীবিকার উৎস হিসেবে ফলবাগানের উদ্যোগ নেন। শুরুর বছরগুলোতে তাঁরা মোটামুটি সফলও হন। পরে মাটি ক্ষয় ও বাজারজাতকরণ সুবিধার অভাবে সে সাফল্য ধরে রাখা যায়নি।

একই প্রবন্ধ জানাচ্ছে, ষাটের দশকের শুরুর উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যর্থ হয়েছিল একটি সোজা কারণে: স্থানীয় উৎপাদকেরা তাঁদের ফসলের জন্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম পেতেন। সমস্যাটা তখন ফলনের ছিল না, ছিল বাজারের।

2004 সালের পর: আম্রপালি থেকে বিদেশি জাত

ইত্তেফাকের 12 জুন 2025 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই দশক আগেও পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হতো না; চিত্র বদলাতে শুরু করে 2004 সালের পর। স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনটি বলছে, 2003–2004 সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘কালিকাপুর মডেল প্রকল্পের’ আওতায় তিন জেলায় বিনামূল্যে আম্রপালির চারা বিতরণ করা হয়। অনাবাদি টিলায় লাগানো সেই চারায় দুই বছর পরই ফল আসে।

পরে আম্রপালির সঙ্গে যোগ হয় মিয়ানমারের রাংগুই আম, আর তারপর নানা বিদেশি জাত। ইত্তেফাক জানাচ্ছে, তিন পার্বত্য জেলায় এখন প্রায় 50 হাজার ছোট-বড় উদ্যোক্তা ফল চাষে যুক্ত। খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দেওয়া হিসাবে জেলায় চাষ হওয়া আমের সিংহভাগই বিদেশি জাতের।

খাগড়াছড়ির আম2024 মৌসুম2025 মৌসুম
জমি4,150 হেক্টর4,421 হেক্টর
উৎপাদনপ্রায় 49,000 টন (প্রত্যাশিত)54,179 টন (লক্ষ্যমাত্রা)
চাষিপ্রায় 3,500 জন—
বাজারমূল্যবছরে প্রায় 200 কোটি টাকা—
উৎসThe Daily Star বাংলা, 22 জুন 2024ইত্তেফাক, 12 জুন 2025

দুই বছরের সংখ্যাই জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মুখের হিসাব, সংবাদে উদ্ধৃত। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে কর্মকর্তা বলেছেন, আগের বছরের চেয়ে প্রায় 300 হেক্টর বেশি জমিতে আম হয়েছে — দুই প্রতিবেদনের সংখ্যার ফারাকের সঙ্গে তা মোটামুটি মেলে।

বাগানে আমের দাম (2025)

ইত্তেফাকের একই প্রতিবেদনে রামগড়ের এক আমচাষি বাগান-পর্যায়ের দাম জানিয়েছেন। দামের ফারাকটাই বলে দেয় চাষিরা কেন বিদেশি জাতে ঝুঁকছেন।

জাতপ্রতি কেজির দাম (টাকা)
মিয়াজাকি (সূর্যডিম)250
রেড এম্পেরর (চাকাপাত)250
রেড আইভরি200
অস্ট্রেলিয়ান আরটুইটু150
ব্যানানা ম্যাংগো150
হানিডিউ150
আম্রপালি60

উদ্যোক্তাদের হিসাব

সংবাদে নাম ধরে কয়েকজন উদ্যোক্তার হিসাব এসেছে। The Daily Star বাংলার প্রতিবেদনে পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের দেবাশীষ চাকমা — পানছড়ি ফল বাগান মালিক সমিতির সভাপতি — 2012 সালে পরিবারের 15 একর জমিতে আম, কমলালেবু ও পেয়ারার বাগান করেন। তাঁর বছরে আয় প্রায় 25 লাখ টাকা, আর বাগানে সারা বছর অন্তত 10 জন কাজ করেন।

একই প্রতিবেদনে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের প্রু নুয়ে মং 280 শতক জমিতে ফলের বাগান করেছেন; গত ছয় বছর ধরে তাঁর বছরে আয় অন্তত আট লাখ টাকা। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ি সদরের মংশিতু চৌধুরী 2014 সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে আম চাষ শুরু করেন; তাঁর প্রায় 30 একরের বাগানে প্রায় 54 জাতের বিদেশি আম, আর 2025 মৌসুমে 50 লাখ টাকার আম বিক্রির আশা।

এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে The Daily Star বাংলা তিনটি অবকাঠামোর কথা বলেছে: 2008 সালে মোবাইল নেটওয়ার্ক আসা, 2009 সাল থেকে সড়ক ও সেতু প্রশস্ত করা, আর জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ। দেবাশীষ চাকমার হিসাবে খাগড়াছড়ি জেলায় এক হাজারেরও বেশি উচ্চশিক্ষিত কৃষি ব্যবসায়ী আছেন।

আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা ও হলুদ — এই ফসলগুলো জেলা পোর্টালের তালিকায় আছে, কিন্তু কোন জেলায় কত হেক্টরে কত টন হয়, তার সরকারি পরিসংখ্যান এই লেখার উৎসগুলোতে নেই। ফলের যে সংখ্যাগুলো পাওয়া যায় তার প্রায় সবই খাগড়াছড়ির আমের।

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কোথায়

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে। The Daily Star বাংলার বর্ণনায় এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) পার্বত্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্র; খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালের ‘এক নজরে’ পাতায় কেন্দ্রটির নাম আছে, আর কেন্দ্রের খামার আছে দর্শনীয় স্থানের তালিকায়। বান্দরবানে আছে একই ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের কার্যালয়।

The Daily Star বাংলার 2024 সালের প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির এই কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে ‘কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা প্রকল্পের’ প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতার কারণে গত 15 বছরে তিন পার্বত্য জেলায় ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; একসময় রাজশাহী থেকে পাহাড়ে আম আনা হতো।

ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে ইনস্টিটিউটের এক অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তিন পার্বত্য জেলাকে ‘ফ্রুটজোন’ ঘোষণা এবং ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের দাবি তুলেছেন। রাঙামাটি বা কাপ্তাইয়ে আলাদা কোনো পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র আছে কি না, তা এই উৎসগুলো থেকে জানা যায়নি।

কাজুবাদাম ও কফি: নতুন অর্থকরী ফসল, নতুন উদ্বেগ

পাহাড়ে কাজুবাদাম ও কফি বাড়ছে একটি সরকারি প্রকল্পের হাত ধরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী 2024 সালে দেশে প্রায় 2,000 হেক্টরে কফি ছিল, যার প্রায় 1,800 হেক্টরই পার্বত্য চট্টগ্রামে। পরিবেশবিদদের একাংশের আশঙ্কা, এই বাগান শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন কমাবে।

প্রকল্পটির নাম “কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ”। এর ব্যয় নিয়ে দুই উৎস দুই রকম বলছে: The Daily Star (15 জুন 2022) বলছে 211 কোটি টাকা, আর Mongabay (21 মে 2024) বলছে 2021–25 মেয়াদে 158.54 কোটি টাকা।

বিষয়কফিকাজুবাদামউৎস
প্রকল্পের আগে দেশে জমি122 হেক্টর2,065 হেক্টরThe Daily Star, 2022
মে 2021-এর পর বেড়েছে800 হেক্টর1,200 হেক্টরThe Daily Star, 2022
নতুন জমিতে পাহাড়ি এলাকার অংশপ্রায় 80 শতাংশThe Daily Star, 2022
2024 সালে দেশে জমিপ্রায় 2,000 হেক্টর (পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় 1,800)—Mongabay, 2024
লক্ষ্য10,000 হেক্টর; বছরে 4,000–5,000 টনআরও 3,000–4,000 হেক্টরMongabay; The Daily Star
বর্তমান উৎপাদনবছরে 60–70 টন (2022); প্রায় 25 টন (2024)পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে 1,600–2,000 টনThe Daily Star; Mongabay

কফির বর্তমান উৎপাদন নিয়ে দুই প্রতিবেদনের সংখ্যা মেলে না: The Daily Star 2022 সালে লিখেছে বছরে 60 থেকে 70 টন, Mongabay 2024 সালে লিখেছে প্রায় 25 টন। কাজুর বেলায় প্রকল্প পরিচালকের হিসাব, দেশের 16 থেকে 20টি প্রক্রিয়াজাত কারখানার বছরে 20 থেকে 25 হাজার টন কাঁচা কাজু লাগে; পার্বত্য চট্টগ্রামের 1,600–2,000 টন তার তুলনায় সামান্য। দেশের কাজুর বাজার মূলত আমদানিনির্ভর, আকার প্রায় 400–450 কোটি টাকা।

বম পাড়ার কফি

কফি পাহাড়ে পুরোপুরি নতুন নয়। Mongabay-এর বর্ণনায় বম সম্প্রদায়ের মানুষ ঘরের আশপাশে কফি লাগাতে ও নিয়মিত পান করতে অভ্যস্ত। The Daily Star-এর প্রতিবেদনে বান্দরবানের রুমা উপজেলার এক বম চাষি (প্রতিবেদনে নাম Lal Duh Sang Bawm) 2008 সাল থেকে 15 একর পাহাড়ি জমিতে কফি করছেন। সে বছর তিনি 6,000 থেকে 7,000 চারা লাগিয়েছিলেন; ভুল কীটনাশক প্রয়োগে তার দুই-তৃতীয়াংশ মরে গেছে। আগে তিনি ওই জমি থেকে 4–5 মণ কফি পেতেন, বিক্রি করতেন কেজিপ্রতি 350 থেকে 440 টাকায়।

একই প্রতিবেদনে বান্দরবান সদরের আরেক চাষি আম ও কাঁঠাল বাগানে সাথি ফসল হিসেবে তিন একরে কফি করেন; এক বছরে 130 কেজি কফি বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি 300 টাকায়। তাঁর মতে প্রধান সমস্যা সেচ — কফিগাছের পানি লাগে, আর পাহাড়ে পানির অভাব। বম জাতির পরিচয় নিয়ে পড়ুন: বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা।

দুই মত: জীবিকা না বাস্তুতন্ত্র

Mongabay-এর প্রতিবেদনে দুই পক্ষের বক্তব্যই আছে। Arannayk Foundation-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা Farid Uddin Ahmed-এর মত: কফি ও নানা ফলের বাগান মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করলেও দীর্ঘ মেয়াদে অঞ্চলের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করবে; বিদেশি প্রজাতির বদলে চাপালিশ, গর্জন ও civit-এর (Swintonia floribunda) মতো দেশি বনজ প্রজাতি লাগানো উচিত। প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য: চাষির আয়ের পাশাপাশি সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোও প্রকল্পের লক্ষ্য, আর এসব গাছের শিকড় মাটি ধরে রেখে পাহাড়ধস কমাতে সাহায্য করে। তিনি The Daily Star-কে বলেছিলেন, নতুন বাগানগুলো মূলত পরিত্যক্ত জমিতে হচ্ছে।

বান্দরবানে তামাক চাষ কতটা: মাতামুহুরীর পাড়ে চুক্তির চাষ

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে তামাক চাষের নথিভুক্ত সংখ্যা মেলে কেবল বান্দরবানের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব উদ্ধৃত করে The Business Standard জানিয়েছে, জেলায় তামাকের জমি 1995–96 সালের 127 হেক্টর থেকে 2007–08 সালে 1,437 হেক্টর ছাড়ায় — 12 বছরে এগারো গুণ। পাতা শুকানোর চুল্লি জ্বলে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে।

বান্দরবান জেলা পোর্টাল নিজেই তামাককে জেলার অর্থকরী ফসলের তালিকায় রেখেছে। অথচ বাংলাপিডিয়ার তামাক ভুক্তিতে দেশের সেরা তামাক-উৎপাদক জেলার যে তালিকা আছে (রংপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম), তাতে কোনো পার্বত্য জেলার নাম নেই। অর্থাৎ পাহাড়ে তামাকের বিস্তার তুলনায় সাম্প্রতিক ঘটনা।

আদালতের সীমা ও চার কোম্পানি

Dhaka Tribune-এর 4 মার্চ 2017 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2010 সালে বান্দরবানের জেলা জজ জেলায় তামাক চাষের সীমা 1,000 হেক্টরে বেঁধে দেন; 2017 সালে চাষ সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি বলছে, লামা ও আলীকদমে পাতা কেনার কেন্দ্র ও গুদাম করেছে চারটি কোম্পানি: Dhaka Tobacco, Abul Khair Tobacco, Akij Tobacco ও British American Tobacco Bangladesh।

একই প্রতিবেদনের অভিযোগ, আবাদি জমির বাইরে বিদ্যালয়ের মাঠ, প্রশাসনের জমি, সংরক্ষিত বন ও মাতামুহুরী নদীর চরেও তামাক লাগানো হচ্ছে। লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করছে, কিন্তু চাষিরা বেশি লাভ চান।

চুক্তি-ব্যবস্থা কীভাবে চলে

চাষিরা কেন তামাকে যান, তার উত্তর দুই উৎসেই এক। Dhaka Tribune-কে লামার এক তামাকচাষি বলেছেন, কোম্পানি আগাম নগদ ঋণ ও সার দেয়, আর পাতা কেনার নিশ্চয়তা দেয়। আরেক চাষির অভিযোগ, কোম্পানির লোক নিয়মিত খোঁজ নেন, অথচ সবজিখেত বাঁচাতে সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না।

The Business Standard-এ 3 জুলাই 2026 তারিখে প্রকাশিত নিবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষক এই ব্যবস্থার উল্টো পিঠ দেখিয়েছেন। তাঁর বর্ণনায় কোম্পানি বীজ, সার ও আগাম ঋণ দেয়, বিনিময়ে কোম্পানি-নির্ধারিত দামে শুকানো পাতা কেনার একচেটিয়া অধিকার পায়। আগাম দেওয়া টাকা ফসলের দাম থেকে কেটে রাখা হয়, ফলে অনেক পরিবার চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই পরের মৌসুমের চুক্তিতে বাঁধা পড়ে। পাতার গ্রেড — যার ওপর দাম নির্ভর করে — ঠিক হয় কোম্পানির ক্রয়কেন্দ্রে, অপ্রকাশিত মানদণ্ডে।

নিবন্ধটি British American Tobacco Bangladesh-এর নিজস্ব 2008 সালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলছে, নিবন্ধিত চাষিদের 80 শতাংশ কোম্পানির সার না পেলে তামাক চাষ করতেন না। লেখকের মতে কোম্পানিটি আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে এই এলাকায় চুক্তিভিত্তিক চাষ চালাচ্ছে। এগুলো একজন গবেষকের মতামত-নিবন্ধের দাবি; কোম্পানির জবাব ওই নিবন্ধে নেই।

চুল্লির কাঠ, ম্রো চাষি

তামাক পাতা শুকাতে হয় ‘তন্দুর’ নামের চুল্লিতে। The Business Standard-এর নিবন্ধ অনুযায়ী এক দফা পাতা শুকাতে চুল্লি টানা 72 ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বলে, আর জ্বালানি আসে আশপাশের পাহাড়ি বন থেকে। কত কাঠ পোড়ে, তার কোনো সরকারি নজরদারি নেই, কোম্পানিও প্রকাশ করে না — নিবন্ধের ভাষ্য। Dhaka Tribune-এর 4 মার্চ 2017-এর প্রতিবেদনে বান্দরবানের তন্দুরগুলোতে বছরে প্রায় 1,00,000 টন জ্বালানি কাঠ পোড়ার একটি সংখ্যা আছে, তবে সংখ্যাটি প্রতিবেদকের নিজের বর্ণনায়, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বরাত ছাড়া। আমাদের আর্কাইভের লেখা বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম-এও ইটভাটার পাশাপাশি তামাক-চুলায় গাছ পোড়ানোর উল্লেখ আছে।

The Business Standard-এর লেখকের অনুমান, ভরা মৌসুমে আলীকদম উপজেলার চাষযোগ্য জমির 85 থেকে 90 শতাংশে তামাক থাকে; অনুমানটি কীভাবে করা, নিবন্ধে বলা নেই। তাঁর আরেকটি পর্যবেক্ষণ ম্রো চাষিদের নিয়ে: অনেকের জমির আনুষ্ঠানিক দলিল নেই বলে তাঁরা কোম্পানির সরাসরি নিবন্ধনের বাইরে থাকেন, এবং নিবন্ধিত চাষির মাধ্যমে কমিশন দিয়ে তামাকের বাজারে ঢোকেন। দুটো দাবিই একটিমাত্র উৎসের। ভূমির দলিল ও প্রথাগত অধিকারের আইনি দিক আছে আলাদা লেখায়: পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাবার বাগান কত একর

The Daily Star-এর 2009 সালের হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তত 20,000 একরে রাবার বাগান ছিল: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় 15,000 একর আর ব্যক্তি-উদ্যোগে প্রায় 5,000 একর। বোর্ডের বাগান শুরু হয় 1979–80 সালে, উৎপাদন শুরু 1992 সালে। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল জেলায় রাবার বাগান দেখাচ্ছে 3,400 একর।

বিষয়তথ্য
উন্নয়ন বোর্ডের বাগানপ্রায় 15,000 একর; এর 13,200 একরে প্রায় 26 লাখ গাছ (একরে প্রায় 200টি)
ব্যক্তি-উদ্যোগের বাগানপ্রায় 5,000 একর
বাগান শুরু1979–80
উৎপাদন শুরু1992
গড় বার্ষিক আয়5 কোটি টাকা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থ1979 থেকে 1995 পর্যন্ত ধাপে ধাপে 52.5 কোটি টাকা
চুক্তির পর সরকারের বরাদ্দ13.5 কোটি টাকা
প্রকল্পভুক্ত চাষিপ্রায় 3,300 জন

উৎস: The Daily Star, 16 সেপ্টেম্বর 2009। এর পরের কোনো হালনাগাদ সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

চাষিদের অভিযোগ, বোর্ডের জবাব

ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ ও জবাব দুটোই আছে। প্রায় 3,300 চাষির অভিযোগ: বোর্ডের সঙ্গে করা দলিল অনুযায়ী আয়ের 60 শতাংশ তাঁদের পাওয়ার কথা, কিন্তু তাঁরা তা পাচ্ছেন না; উৎপাদন ও আয়ের ভুল তথ্য দেখিয়ে বহু বছর ধরে তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। চাষিদের আরেকটি অভিযোগ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে; খাগড়াছড়ি জেলার উদ্যানতত্ত্ব কর্মকর্তাও বলেছিলেন, রাবার বাগানের শ্রমিকেরা নানা চর্মরোগে ভোগেন।

বোর্ডের রাবার বাগান প্রকল্পের কর্মকর্তাদের জবাব: রাবার বাগানের কোনো খারাপ প্রভাব নেই; ক্ষতিকর হলে সরকার এমন প্রকল্প নিত না; বাগান হয়েছে এমন পতিত জমিতে, যেখানে অন্য ফসল হয় না, আর অনেক চাষি এতে সচ্ছল হয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তৎকালীন উপপরিচালকের মত ছিল ভিন্ন: রাবারের জমিতে ফলবাগান করলে চাষি পাঁচ বছরেই লাভ পেতেন।

রাবার ও পুনর্বাসন

রাবারকে একসময় জুমিয়া পুনর্বাসনের উপায় হিসেবেও দেখা হয়েছিল। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখা অনুযায়ী উন্নয়ন বোর্ড 1984–85 সালে তিন জেলায় 4,000 একর পাহাড়ি জমিতে 900 ভূমিহীন জুমিয়া পরিবার পুনর্বাসনের প্রকল্প নেয়; প্রতিটি পরিবারকে রাবার বাগান ও ফল চাষের জন্য 4.50 একর করে জমি দেওয়া হয়। 1985–86 সাল পর্যন্ত 3,850 একর জমিতে 835 পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। লেখক সূত্র হিসেবে বোর্ড সভার 27 নভেম্বর 1985 তারিখের কার্যবিবরণীর নাম দিয়েছেন।

বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি — দুই জেলা পোর্টালই রাবার শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাতের তালিকায় রেখেছে। বান্দরবানে বেসরকারি রাবার-ইজারা কত একর এবং তা নিয়ে ভূমি-বিরোধের অবস্থা কী, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

কাঠ, বাঁশ ও কর্ণফুলী পেপার মিল: বন থেকে কারখানা

পাহাড়ের বন থেকে আসে কাঠ, বাঁশ, বেত ও ছন। সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিল: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 1951 সালে প্রতিষ্ঠিত, 1953 সালে চালু, শুরুর ক্ষমতা বছরে 30,000 টন কাগজ। মিলের কাঁচামাল কাঠ ও বাঁশ আসে মূলত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে।

কর্ণফুলী পেপার মিলের বাঁশ কোথা থেকে আসে

বাংলাপিডিয়ার কর্ণফুলী পেপার মিলস ভুক্তি অনুযায়ী মিলটি কাঠ ও বাঁশের আঁশ থেকে নিজে মণ্ড বানায়; এর বাইরে সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলের মণ্ড ও আমদানি করা মণ্ডও ব্যবহার করে, যদিও সেগুলোর দাম বেশি পড়ে। বাংলাপিডিয়ার বাঁশ ভুক্তি জানাচ্ছে, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মুলি বাঁশ (Melocanna baccifera) কাগজ ও মণ্ড শিল্পে এবং রেয়ন উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বছরকর্ণফুলী পেপার মিলের অবস্থা
1951পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠা করে; ব্যয় 6.757 কোটি রুপি
1953উৎপাদন শুরু; ক্ষমতা বছরে 30,000 টন
1964দাউদ গ্রুপের কাছে বিক্রি
1969–70কাগজ বিক্রি 31,378 টন
1973–74বিক্রি নেমে 19,044 টন
1990–91উৎপাদন 30,216 টন; 1991 সালে কর্মী 4,102 জন
2009–10উৎপাদন 24,201 টন; মিল এখন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীন

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী মিলটি ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী রেয়ন অ্যান্ড কেমিক্যালস একই 442 একরের চত্বরে। 2009–10 সালের পরের উৎপাদনের হিসাব এবং মিলের বর্তমান অবস্থা এই উৎসে নেই।

কোন কাঠ, কী রূপে বাইরে যায়

খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালে বনজ সম্পদের তালিকায় আছে সেগুন, গামারি, কড়ই, গর্জন, চাপালিশ ও জারুল। আমাদের আর্কাইভে মিশুক চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বৈধ ও অবৈধ কাঠ চার রূপে বাইরে যায়: গোল কাঠ, রদ্দা ও বল্লি, জ্বালানি, আর আসবাবপত্র। লেখকের পর্যবেক্ষণ, যাঁরা এখানে চাকরি করতে আসেন তাঁরা যাওয়ার সময় প্রচুর আসবাব নিয়ে যান — কাঠের চাহিদার এটিও একটি উৎস।

কে লাভ পায়, সে প্রশ্নে লেখকের ভাষ্য স্পষ্ট: চোরাই কাঠ আহরণে নিয়োগ পান মূলত ভূমিহীন বা স্বল্প আয়ের গ্রামীণ মানুষ, তাঁদের মধ্যে পাহাড়ি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকই আছেন, কিন্তু তাঁরা লাভবান হন সামান্যই; মূল লাভ যায় কিছু কাঠ ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির হাতে। এটি লেখকের ভাষ্য, কোনো জরিপের ফল নয়।

বাঁশ কেবল কারখানার কাঁচামাল নয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে 26 প্রজাতির বাঁশ আছে, ঘর তৈরি, মই, মাদুর, ঝুড়ি ও ফাঁদে এর ব্যবহার, আর বর্ষায় বাঁশের কচি ডগা — বাঁশকোড়ল — পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রিয় খাবার। পাহাড়ের মানুষ বাঁশের জাল ও ঝুড়িও বানান।

বন কতটা, কার নিয়ন্ত্রণে

জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখা Statistical Year Book 2008 উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, তিন জেলায় সংরক্ষিত বন 9,92,457.18 একর এবং অশ্রেণীভুক্ত বন 9,91,298 একর। Mongabay-এর হিসাবে দেশের 25 লাখ হেক্টর সরকারি বনের 10.9 লাখ হেক্টরই এই তিন জেলায়। বন কেন কমছে — বাণিজ্যিক আহরণ, জুম, না বসতি — সে বিতর্ক এই লেখার বিষয় নয়; তার জন্য মিশুক চাকমার লেখা ও বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম দেখুন।

কাপ্তাই হ্রদে বছরে কত মাছ ধরা পড়ে, আয় কার

কাপ্তাই হ্রদে বছরে গড়ে 7,000 টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয় — বাংলাপিডিয়ার হিসাব। 2023–24 মৌসুমে (আগস্ট 2023 থেকে এপ্রিল 2024) বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চার অবতরণ কেন্দ্রে নেমেছে 7,627 টন মাছ, আর করপোরেশন রাজস্ব পেয়েছে প্রায় 15.56 কোটি টাকা। হ্রদনির্ভর জেলের সংখ্যা 22,000।

অবতরণ কেন্দ্র2023–24 মৌসুমে মাছ (টন)
রাঙামাটি (প্রধান কেন্দ্র)4,475
কাপ্তাই উপকেন্দ্র2,377
মহালছড়ি কেন্দ্র495
মারিশ্যা উপকেন্দ্র278
মোট (প্রতিবেদনের সংখ্যা)7,627

উৎস: ICSF-এ পুনঃপ্রকাশিত The Financial Express-এর প্রতিবেদন। চার কেন্দ্রের সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় 7,625 টন, প্রতিবেদনের মোট 7,627 — দুই টনের ফারাক প্রতিবেদনেই আছে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী 2019–20 মৌসুমে রাজস্ব ছিল 15.36 কোটি টাকা, আর মাঝের তিন মৌসুমে আহরণ কমেছিল।

মাছ ধরা কখন বন্ধ থাকে

প্রজনন মৌসুমে প্রতি বছর তিন মাস হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। The Financial Express-এর প্রতিবেদনে 2024 সালের নিষেধাজ্ঞা ছিল 25 এপ্রিল থেকে 24 জুলাই। UNB-এর আরেক বছরের প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞা শুরু 1 মে থেকে — অর্থাৎ তারিখ বছরভেদে বদলায়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময়ে হ্রদে প্রায় 30 টন রুইজাতীয় মাছের পোনা ছাড়া হয়, আর হ্রদনির্ভর 22,000 জেলের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।

বড় মাছ থেকে ছোট মাছ

মোট ওজন টিকে থাকলেও মাছের ধরন বদলে গেছে। বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই হ্রদ ভুক্তি অনুযায়ী 1966 সালে মোট উৎপাদনে বড় মাছের অংশ ছিল 78 শতাংশ; 1993 সালে তা নেমে আসে 2 শতাংশে। অতিরিক্ত আহরণের ফলে 1985 সালে রুইজাতীয় মাছের আহরণ হ্রদের ইতিহাসে সর্বনিম্নে নামে। সেই জায়গা নিয়েছে চাপিলা (Gudusia chapra) ও কেচকি (Corica soborna) — এখন মোট আহরণের অর্ধেকের বেশি এই দুই ছোট মাছ। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন 100 কেজির বেশি।

হ্রদের আয়তন নিয়ে দুই উৎস দুই একক ও দুই সংখ্যা দেয়: বাংলাপিডিয়া বলছে 58,300 হেক্টর (583 বর্গকিলোমিটার), রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে 725 বর্গকিলোমিটার। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই পলি জমে হ্রদ তার আয়তনের প্রায় 25 শতাংশ হারিয়েছিল, আর হ্রদের আনুমানিক আয়ু 90 বছর।

জলেভাসা জমি ও মাছ ধরার পেশা

হ্রদের পানি বছরের বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন উচ্চতায় রাখা হয় বলে পাড়ের জমি আপনা থেকেই সেচ পায় এবং খুব উর্বর। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এ রকম প্রায় 6,075 হেক্টর জমিতে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে ইজারাভিত্তিতে চাষ হয়।

মাছ ধরা পাহাড়িদের পুরোনো পেশা নয়। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার প্রবন্ধ অনুযায়ী এটি আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে “অসমাদৃত পেশা” ছিল; বাঁধের পর কেউ কেউ তা পেশা হিসেবে নেন। এখনকার 22,000 জেলের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালির অনুপাত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

বাজার কার হাতে: ব্যবসা-বাণিজ্যে পাহাড়িদের অংশ

ফসল ফলানো আর ফসল বেচা এক জিনিস নয়। আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখার মূল্যায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, আগাম ঋণ ও পরিবহন প্রধানত সমতলের বাঙালি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। 2012 সালের একটি লেখার হিসাবে চুক্তি-পরবর্তী কালে ব্যবসায় পাহাড়িদের সম্পৃক্ততা 15 থেকে 20 শতাংশে উঠেছে।

প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার 1998 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী আদিবাসীরা আগে জীবিকার জন্য বাজারের ওপর নির্ভর করতেন না। বাজারে যেতে হতো কেবল লবণ, শুঁটকি ও কৃষি-সরঞ্জামের মতো কিছু জিনিসের জন্য, আর তা তাঁরা নিতেন উদ্বৃত্ত কৃষিজ ও বনজ পণ্যের বিনিময়ে। লেখকের মূল্যায়ন, বাজারের বেশির ভাগ দোকান ও বাণিজ্যিক জায়গার মালিক সমতলের ব্যবসায়ীরা, আর ব্যবসার শীর্ষ পর্যায়ে আদিবাসী কাউকে পাওয়া কঠিন।

সড়ক নিয়ে তাঁর যুক্তিটিও লক্ষণীয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে তৈরি সড়ক বাজারে যাওয়া সহজ করে আদিবাসীদের কিছু সুবিধা দিয়েছিল; কিন্তু বাজারজাতকরণ যাঁদের হাতে, সুবিধা বেশি গেছে তাঁদের কাছে। এগুলো লেখকের বিশ্লেষণ, 1998 সালের প্রেক্ষাপটে লেখা।

চৌদ্দ বছর পরের ছবি মেলে গৌতম কুমার চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা-য়। তাঁর হিসাবে চুক্তির পর ছোট মাপের ঠিকাদারিতে স্থানীয়দের অংশ বেড়েছে, কিছু খুদে দোকানদার দেখা দিয়েছেন, কয়েকজন ফলমূল-শাকসবজির ব্যবসায় নেমেছেন — সব মিলিয়ে ব্যবসায়ী অর্থনীতিতে পাহাড়িদের সম্পৃক্ততা 15 শতাংশ থেকে 20 শতাংশে উঠেছে। উল্টো দিকে কৃষি ও ফলবাগানের উৎপাদনে পাহাড়িদের অংশ তাঁর হিসাবে 60 শতাংশ থেকে 50 শতাংশে নেমেছে, আর ব্যাংকের সঙ্গে পরিচিত পাহাড়ি প্রায় শতকরা 15 জন। তিনটিই লেখকের নিজের হিসাব; কোনো জরিপ বা পরিসংখ্যানের উৎস লেখায় উল্লেখ নেই।

এখনকার অবকাঠামোর দুটি ছোট তথ্য জেলা পোর্টালে আছে: খাগড়াছড়িতে ব্যাংক 20টি, আর জেলার “প্রধান সমস্যা বিদ্যুৎ” — কথাটি পোর্টালের নিজের। তাঁত ও হস্তশিল্পে কার হাতে কত দাম থাকে, সে হিসাব আছে আলাদা লেখায়: পিনন হাদির দাম কত, আর তাঁতির ঘরে কত যায়।

পাহাড়ে শিল্পকারখানা কয়টি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোথায়

পার্বত্য চট্টগ্রামে শিল্প খুব কম: বাংলাপিডিয়ার হিসাবে তিন জেলাতেই শিল্প থেকে আয় আধা শতাংশের নিচে। বান্দরবান জেলা পোর্টাল জেলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান দেখাচ্ছে মাত্র 3টি — একটি বড়, একটি মাঝারি, একটি কুটির শিল্প। বড় স্থাপনা বলতে চন্দ্রঘোনার কাগজকল আর কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বড় কারখানায় কাজ কারা পেয়েছেন, সে প্রশ্নে একটি পুরোনো সংখ্যা প্রায়ই উদ্ধৃত হয়। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার প্রবন্ধ অনুযায়ী স্বাভাবিক কার্যকালের এক পর্যায়ে কর্ণফুলী পেপার মিলের মোট 3,290 কর্মচারীর মধ্যে পাহাড়ি ছিলেন 14 জন। লেখক সূত্র দিয়েছেন Bangladesh District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts (1975), পৃষ্ঠা 139। সংখ্যাটি সত্তরের দশকের বা তার আগের; এখনকার হিসাব পাওয়া যায়নি।

একই প্রবন্ধে বিদ্যুৎ নিয়েও একটি পর্যবেক্ষণ আছে: কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দীর্ঘদিন পার্বত্য চট্টগ্রামকে অন্ধকারে রেখে চট্টগ্রাম ও দেশের অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ দিয়েছে। The Daily Star বাংলার 2024 সালের প্রতিবেদন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে তিন জেলার সংযোগকে ফলচাষ বাড়ার একটি কারণ বলেছে। আর খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল এখনো বিদ্যুৎকে জেলার প্রধান সমস্যা বলছে।

খনিজের মধ্যে গ্যাস উল্লেখযোগ্য। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী খাগড়াছড়ির সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র, আবিষ্কার 1969 সালে; খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল এটিকে মানিকছড়িতে দেখাচ্ছে। এর বাইরে অঞ্চলে বেলেপাথর, বোল্ডার ও লিগনাইট কয়লার উল্লেখ আছে।

কুটির শিল্পের ছবিটা আলাদা। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা District Gazetteers থেকে একটি বাক্য উদ্ধৃত করেছেন — পাহাড়ি মানুষের প্রতিটি ঘর যেন একেকটি ছোট কারখানা — এবং বুনন, মৃৎশিল্প, বেতের কাজ, রঙের কাজ ও কাঠশিল্পে তাঁদের দক্ষতার কথা লিখেছেন। বাংলাপিডিয়াও পাহাড়ের মানুষের বোনা সুতি কাপড় এবং বাঁশের জাল ও ঝুড়ির কথা বলে।

পর্যটন থেকে আয় কার, কতটা টেকসই

পর্যটন পাহাড়ে জীবিকার একটি খাত হয়ে উঠেছে, কিন্তু ভঙ্গুর। বান্দরবানের হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির ভাষায় এটি জেলার মানুষের “রুটিরুজির অন্যতম খাত”; অথচ 2024 সালে টানা চার বছরের সংকটে 50–60 শতাংশ ছাড় দিয়েও পর্যটক মেলেনি। পর্যটকের সংখ্যা বা খাতের মোট আয়ের নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলোর 27 সেপ্টেম্বর 2024 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবানের সংকটের শুরু করোনা মহামারির কড়াকড়িতে; এরপর সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএফের আবির্ভাবে কয়েকটি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনস্থানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, তারপর বন্যা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, চার বছরে অনেকে পেশা ছেড়েছেন, আর মালিকেরা ঋণের দায়ে হোটেল-রিসোর্ট বিক্রি করছেন। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতার পর অবরোধে পর্যটন বন্ধ হয়ে যায়।

অন্য সমস্যাটি পরিকল্পনার। The Daily Star বাংলার 27 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখের প্রতিবেদনে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় 80টি পর্যটন স্পট আছে; কিছু উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলেও বেশির ভাগই অনুমতি ছাড়া চলছে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের বক্তব্য, এর কোনোটিই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেয়নি, আর পাহাড়চূড়ার কটেজ-রিসোর্টের বর্জ্য সরাসরি ঝিরি-ঝরনা ও নদীতে মিশছে।

বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি — দুই জেলা পোর্টালই পর্যটনকে সম্ভাবনাময় বা বিকাশমান খাতের তালিকার প্রথমে রেখেছে। হোটেল-রিসোর্টের মালিকানায় স্থানীয় মানুষের অংশ কত, সে সংখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্য কত: সরকারি দারিদ্র্য মানচিত্র 2022

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি বান্দরবানে: দারিদ্র্য মানচিত্র 2022 অনুযায়ী জেলার 25.0 শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যরেখার নিচে। খাগড়াছড়িতে হার 15.9 এবং রাঙামাটিতে 14.3 শতাংশ — দুটোই জাতীয় হার 18.7 শতাংশের নিচে। 2010 সালের তুলনায় তিন জেলাতেই দারিদ্র্য কমেছে।

সংখ্যাগুলো Poverty Map of Bangladesh 2022 থেকে — বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ প্রকাশনা। এটি খানা আয়-ব্যয় জরিপ 2022 ও জনশুমারি 2022 মিলিয়ে Small Area Estimation পদ্ধতিতে করা হিসাব।

এলাকাজনসংখ্যা (মানচিত্রের হিসাব)দারিদ্র্য 2022দারিদ্র্য 2010
বাংলাদেশ (জরিপের সরাসরি হিসাব)—18.7%—
চট্টগ্রাম বিভাগ3,21,62,68815.2%25.7%
বান্দরবান4,50,69225.0%39.0%
খাগড়াছড়ি6,90,80415.9%27.5%
রাঙামাটি6,16,09014.3%20.6%

26 উপজেলার দারিদ্র্যের হার

উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য থানচিতে (32.8 শতাংশ), সবচেয়ে কম রাজস্থলীতে (9.5 শতাংশ)। তবে নিচের ছক পড়ার আগে একটি সতর্কতা জরুরি: এগুলো মডেল-ভিত্তিক অনুমান, আর পাহাড়ি উপজেলাগুলোর standard error বড় — থানচিতে 15.6, লামায় 15.2, রোয়াংছড়িতে 14.9 শতাংশ-বিন্দু। তাই উপজেলার ক্রমকে নির্ভুল ধরা যাবে না।

জেলাউপজেলাদারিদ্র্য 2022 (%)Standard errorদারিদ্র্য 2010 (%)
বান্দরবানথানচি32.815.653.4
বান্দরবাননাইক্ষ্যংছড়ি30.84.243.6
বান্দরবানরুমা28.713.741.1
বান্দরবানআলীকদম27.713.936.9
বান্দরবানলামা23.715.240.5
বান্দরবানরোয়াংছড়ি23.414.937.5
বান্দরবানবান্দরবান সদর18.36.630.3
খাগড়াছড়িলক্ষ্মীছড়ি20.513.634.2
খাগড়াছড়িমাটিরাঙ্গা19.411.932.3
খাগড়াছড়িদীঘিনালা17.910.518.9
খাগড়াছড়িমহালছড়ি16.610.130.3
খাগড়াছড়িমানিকছড়ি15.07.930.3
খাগড়াছড়িরামগড়14.76.728.1
খাগড়াছড়িপানছড়ি14.18.326.9
খাগড়াছড়িগুইমারা12.97.136.3
খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সদর12.96.022.9
রাঙামাটিবিলাইছড়ি26.312.234.5
রাঙামাটিবাঘাইছড়ি16.69.216.5
রাঙামাটিকাপ্তাই16.47.316.8
রাঙামাটিজুরাছড়ি15.611.922.1
রাঙামাটিবরকল15.311.524.5
রাঙামাটিনানিয়ারচর12.910.218.9
রাঙামাটিকাউখালী12.53.611.0
রাঙামাটিলংগদু12.513.937.5
রাঙামাটিরাঙামাটি সদর12.43.314.3
রাঙামাটিরাজস্থলী9.58.822.4

ছকটি থেকে যা পড়া যায়: বান্দরবানের সাত উপজেলার ছয়টিতেই হার 23 শতাংশের ওপরে, কেবল সদরে 18.3। রাঙামাটিতে বিলাইছড়ি বাকি নয় উপজেলার থেকে অনেকটা আলাদা। আর চারটি উপজেলায় — দীঘিনালা, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই ও কাউখালী — 2022 সালের হার 2010 সালের প্রায় সমান বা সামান্য বেশি; ওপরে বলা standard error মাথায় রাখলে এ থেকে বড় সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

চরম দারিদ্র্য: সংখ্যা নয়, তিনটি দল

নিম্ন দারিদ্র্যরেখার (চরম দারিদ্র্য) জন্য মানচিত্রটি জেলা-উপজেলার শতকরা হার ছাপেনি; নির্ভরযোগ্যতা কম বলে কেবল তিনটি দলে ভাগ করেছে — কম (2.15 শতাংশের নিচে), মাঝারি (2.16 থেকে 5.52) ও বেশি (5.53-এর ওপরে)। জাতীয় চরম দারিদ্র্যের হার 5.6 শতাংশ। এই ভাগে বান্দরবান জেলা ‘বেশি’ দলে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি ‘মাঝারি’ দলে।

উপজেলার মধ্যে ‘বেশি’ দলে পড়েছে বান্দরবানের সদর ছাড়া বাকি ছয়টি এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লক্ষ্মীছড়ি ও মাটিরাঙ্গা। ‘কম’ দলে আছে কেবল রাঙামাটি সদর ও রাজস্থলী। বাকি সব উপজেলা ‘মাঝারি’ দলে।

2022 সালের পর: বান্দরবানে অবনতির ইঙ্গিত

The Financial Express-এর 24 মার্চ 2025 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BIDS) অক্টোবর–নভেম্বর 2024 সালে পাঁচ জেলায় — বান্দরবান, ঢাকা, খুলনা, রংপুর ও সিলেট — একটি জরিপ চালায়। জেলাগুলো বাছা হয় জলবায়ু-ঝুঁকির বিচারে; বান্দরবান এসেছে পাহাড়ি এলাকা হিসেবে। ফলাফলে বলা হয়েছে, 2022 থেকে 2024 সালে বান্দরবানে দারিদ্র্য নিয়ে মানুষের ধারণা খারাপ হয়েছে, আর জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি পাঁচ জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম বান্দরবানে — 7.84 শতাংশ।

পুরোনো ছবি: উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতি

আর্কাইভের লেখায় দারিদ্র্যের ইতিহাস নিয়ে দুটি ভিন্ন সুর আছে। প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা লিখেছেন, একসময় উদ্বৃত্ত-খাদ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম পরে খাদ্য-ঘাটতি এলাকায় পরিণত হয়েছে। মিশুক চাকমার লেখায় আছে, 1983 সালের পরিসংখ্যান মতে পার্বত্য অঞ্চলের মাথাপিছু আয় সারা দেশের চেয়ে 320 শতাংশ বেশি ছিল, আর “অভিজ্ঞ মহল” এই পার্থক্যের কারণ মনে করেন বনজ সম্পদকে। পরিসংখ্যানটি কোন প্রতিষ্ঠানের, লেখায় উল্লেখ নেই, আর অন্য কোনো উৎসে মেলানো যায়নি। জনগোষ্ঠীভেদে — পাহাড়ি ও বাঙালি, বা নির্দিষ্ট কোনো জাতির — দারিদ্র্যের সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি।

সময়রেখা: পাহাড়ের জীবিকা কবে কীভাবে বদলেছে (1951–2025)

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতি সত্তর বছরে তিনবার বড় বাঁক নিয়েছে: ষাটের দশকে কাপ্তাই বাঁধ চাষের সেরা জমি ডুবিয়ে মানুষকে ফলবাগান ও মাছ ধরায় ঠেলে দেয়; আশির দশকের আশপাশে আসে রাবার বাগান ও তামাকের চুক্তিভিত্তিক চাষ; আর 2004 সালের পর আম ও পরে কাজু-কফির বাণিজ্যিক বাগান।

বছরঘটনাউৎস
1951–53চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিল প্রতিষ্ঠা ও চালুবাংলাপিডিয়া
ষাটের দশককাপ্তাই বাঁধে 54,000 একর চাষের জমি ডুবে যায়; ফলবাগান ও মাছ ধরা জীবিকা হয়ে ওঠেআর্কাইভ (প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা)
1961কর্মজীবীদের প্রায় 87% কৃষিতেআর্কাইভ (একই)
1964–66Forestal-এর মাটি জরিপ: 77% জমি কেবল বনায়নযোগ্যআর্কাইভ (জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা)
1966কাপ্তাই হ্রদের মাছে বড় মাছের অংশ 78%বাংলাপিডিয়া
1969সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারবাংলাপিডিয়া
1979–80উন্নয়ন বোর্ডের রাবার বাগান শুরুThe Daily Star (2009)
1981কর্মজীবীদের 59% কৃষিতেআর্কাইভ (প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা)
1984–85রাবার ও ফলচাষে 900 জুমিয়া পরিবার পুনর্বাসনের প্রকল্পআর্কাইভ (জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা)
1985হ্রদে রুইজাতীয় মাছের আহরণ সর্বনিম্নেবাংলাপিডিয়া
1992বোর্ডের বাগানে রাবার উৎপাদন শুরুThe Daily Star (2009)
1993হ্রদের মাছে বড় মাছের অংশ 2%বাংলাপিডিয়া
1995–96বান্দরবানে তামাক 127 হেক্টরThe Business Standard (BBS উদ্ধৃত)
2004-এর পরপাহাড়ে বাণিজ্যিক আম চাষ শুরুইত্তেফাক
2007–08বান্দরবানে তামাক 1,437 হেক্টরের বেশিThe Business Standard (BBS উদ্ধৃত)
2010বান্দরবানে তামাক চাষে 1,000 হেক্টরের সীমা; জেলার দারিদ্র্য 39.0%Dhaka Tribune; দারিদ্র্য মানচিত্র
2021কাজুবাদাম ও কফি প্রকল্প শুরুThe Daily Star; Mongabay
2022দারিদ্র্য: বান্দরবান 25.0%, খাগড়াছড়ি 15.9%, রাঙামাটি 14.3%দারিদ্র্য মানচিত্র
2023–24কাপ্তাই হ্রদে 7,627 টন মাছ, রাজস্ব 15.56 কোটি টাকাThe Financial Express
2025খাগড়াছড়িতে 4,421 হেক্টরে আম; লামায় প্রায় 80টি পর্যটন স্পটইত্তেফাক; The Daily Star বাংলা

সচরাচর জিজ্ঞাসা

পাহাড়ি অঞ্চলে কী কী চাষ হয়?

জেলা পোর্টাল অনুযায়ী খাগড়াছড়ির প্রধান ফসল ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, তুলা, আখ ও শাকসবজি; ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু ও তরমুজ। বান্দরবানের অর্থকরী ফসল আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক ও ইক্ষু। সাম্প্রতিক বছরে যোগ হয়েছে কফি, ড্রাগন ফল ও নানা বিদেশি জাতের আম।

পাহাড়ি অঞ্চলে কীভাবে চাষ করা হয়?

দুই ভাবে। পাহাড়ের ঢালে হয় জুম চাষ, যেখানে একই ক্ষেতে ধানের সঙ্গে তুলা, তিল, ভুট্টা, আদা, হলুদসহ প্রায় 18 ধরনের ফসল ফলে। পাহাড়ের মাঝের উপত্যকায় হয় লাঙলের চাষ; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সেখানে তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজ হয়। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে টিলায় আম, কাজুবাদাম ও কফির বাগান। 1964–66 সালের জরিপে অঞ্চলের মাত্র 3.2 শতাংশ জমি ধান চাষের উপযোগী ছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কী?

কৃষি। বাংলাপিডিয়ার জেলা-ভুক্তি অনুযায়ী আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষির অংশ রাঙামাটিতে 59.08, খাগড়াছড়িতে 59.92 ও বান্দরবানে 61.95 শতাংশ। এরপর ব্যবসা (প্রায় 10 শতাংশ) ও চাকরি (রাঙামাটিতে 13.48, বাকি দুই জেলায় প্রায় 8 শতাংশ)। শিল্পের অংশ তিন জেলাতেই আধা শতাংশের নিচে। 1961 সালে কর্মজীবীদের প্রায় 87 শতাংশ কৃষিতে ছিলেন।

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কোথায়?

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে; এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) একটি কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালে কেন্দ্রটির নাম আছে, আর এর খামার জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায়। কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা প্রকল্পের কাজও এই কেন্দ্র ঘিরে। বান্দরবানে আছে একই ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের কার্যালয়। রাঙামাটি বা কাপ্তাইয়ে আলাদা কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়িতে বছরে কত আম হয়?

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে 2024 মৌসুমে খাগড়াছড়িতে 4,150 হেক্টরে আম চাষ হয় এবং প্রায় 49,000 টন উৎপাদনের আশা করা হয়; বছরে আমের বাজারমূল্য প্রায় 200 কোটি টাকা। 2025 মৌসুমে জমি বেড়ে হয় 4,421 হেক্টর, লক্ষ্যমাত্রা 54,179 টন। পাহাড়ে বাণিজ্যিক আম চাষ শুরু হয় 2004 সালের পর, আর এখন সিংহভাগ আম বিদেশি জাতের।

পাহাড়ে কাজুবাদাম ও কফি কোথায় হয়?

তিন পার্বত্য জেলাতেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী 2024 সালে দেশে প্রায় 2,000 হেক্টরে কফি ছিল, যার প্রায় 1,800 হেক্টর পার্বত্য চট্টগ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষিরা বছরে 1,600 থেকে 2,000 টন কাজুবাদাম উৎপাদন করেন। বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক বম চাষি 2008 সাল থেকে 15 একরে কফি করছেন। জাত দুটি: রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা।

বান্দরবানে তামাক চাষ কতটা?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে বান্দরবানে তামাকের জমি 1995–96 সালে ছিল 127 হেক্টর, 2007–08 সালে 1,437 হেক্টরের বেশি। 2010 সালে জেলা জজ 1,000 হেক্টরের সীমা বেঁধে দেন; Dhaka Tribune-এর 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী চাষ সেই সীমা ছাড়িয়েছে। চাষ হয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে; কোম্পানির ক্রয়কেন্দ্র লামা ও আলীকদমে। 2008 সালের পরের সরকারি সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাবার বাগান কত একর?

The Daily Star-এর 16 সেপ্টেম্বর 2009 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত 20,000 একর: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় 15,000 একর এবং ব্যক্তি-উদ্যোগে প্রায় 5,000 একর। বোর্ডের 13,200 একরে প্রায় 26 লাখ গাছ ছিল। বাগান শুরু 1979–80 সালে, উৎপাদন শুরু 1992 সালে। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল জেলায় 3,400 একর রাবার বাগান দেখাচ্ছে। 2009 সালের পরের মোট হিসাব পাওয়া যায়নি।

কর্ণফুলী পেপার মিলের বাঁশ কোথা থেকে আসে?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কর্ণফুলী পেপার মিল কাঠ ও বাঁশ থেকে মণ্ড বানায়, আর সেই কাঠ ও বাঁশ আসে মূলত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে। কাগজ ও রেয়ন শিল্পে বেশি ব্যবহৃত হয় মুলি বাঁশ, যা চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। মিলটি 1951 সালে চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং 1953 সালে চালু হয়।

কাপ্তাই হ্রদে বছরে কত মাছ ধরা পড়ে?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে গড়ে বছরে 7,000 টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। 2023–24 মৌসুমে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চার অবতরণ কেন্দ্রে 7,627 টন মাছ নামে: রাঙামাটিতে 4,475, কাপ্তাইয়ে 2,377, মহালছড়িতে 495 ও মারিশ্যায় 278 টন। রাজস্ব আসে প্রায় 15.56 কোটি টাকা। এখন আহরণের অর্ধেকের বেশি চাপিলা ও কেচকি।

কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা কখন বন্ধ থাকে?

প্রজনন মৌসুমে প্রতি বছর তিন মাস। 2024 সালে নিষেধাজ্ঞা ছিল 25 এপ্রিল থেকে 24 জুলাই; আরেক বছরের প্রতিবেদনে শুরু 1 মে থেকে, অর্থাৎ তারিখ বছরভেদে বদলায়। এই সময়ে হ্রদে রুইজাতীয় মাছের পোনা ছাড়া হয় — এক বছরে প্রায় 30 টন — এবং হ্রদনির্ভর 22,000 জেলের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।

কোন পার্বত্য জেলায় দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি?

বান্দরবানে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির দারিদ্র্য মানচিত্র 2022 অনুযায়ী বান্দরবানের 25.0 শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যরেখার নিচে; খাগড়াছড়িতে 15.9 ও রাঙামাটিতে 14.3 শতাংশ। জাতীয় হার 18.7 শতাংশ। 2010 সালে বান্দরবানে হার ছিল 39.0 শতাংশ। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি থানচিতে, 32.8 শতাংশ — তবে এই অনুমানের standard error বড়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষের জমি কত?

খুব কম। ভূমি রাজস্ব প্রশাসনের 1956–66 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অঞ্চলের 32,59,520 একরের মধ্যে নিট ফসলি জমি ছিল 1,30,000 একর — 7 শতাংশেরও কম জমি চাষযোগ্য। কাপ্তাই বাঁধে 54,000 একর, অর্থাৎ চাষযোগ্য উর্বর জমির 40 শতাংশ, ডুবে যায়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে 2005 সালে তিন জেলায় চাষের আওতায় ছিল 4,46,046 একর।

যা এখনো জানা যায়নি

  • ফসলের সরকারি পরিসংখ্যান: আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা ও হলুদ কোন জেলায় কত হেক্টরে কত টন হয়, তার সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলের সব সংখ্যাই সংবাদে উদ্ধৃত কর্মকর্তার বক্তব্য, আর প্রায় সবই খাগড়াছড়ির আমের। “দেশের ফলের প্রায় 20 শতাংশ” দাবিটি একটিমাত্র প্রতিবেদনে।
  • আয়ের উৎসের ছক কোন বছরের: বাংলাপিডিয়ার শতাংশ-ভাগ কোন শুমারি থেকে নেওয়া, জানা যায়নি। জনশুমারি 2022-এর জেলাভিত্তিক পেশার ছকের সঙ্গে তা মেলানো হয়নি।
  • তামাক: 2007–08 সালের পর বান্দরবানে তামাকের জমির সরকারি সংখ্যা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে তামাকের জমি, এবং চুল্লিতে পোড়া কাঠের নির্ভরযোগ্য হিসাব — কোনোটিই পাওয়া যায়নি।
  • রাবার: 2009 সালের পরের একর, উৎপাদন ও চাষির আয়ের সংখ্যা নেই। বান্দরবানের বেসরকারি রাবার-ইজারার পরিমাণ ও তা নিয়ে বিরোধের নথিভুক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
  • কাঠ ও বাঁশ: বছরে কত কাঠ ও বাঁশ আহরণ হয়, বন বিভাগের রাজস্ব কত, জোত পারমিট-ব্যবস্থা কীভাবে চলে, কর্ণফুলী পেপার মিলের বর্তমান অবস্থা কী — জানা যায়নি।
  • কাপ্তাই হ্রদ: 2024–25 ও 2025–26 মৌসুমের মোট আহরণ, জেলেদের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালির অনুপাত, এবং 22,000 জেলের সংখ্যাটি কোন বছরের — জানা যায়নি। হ্রদের আয়তন নিয়ে দুই উৎসের দুই সংখ্যা (583 ও 725 বর্গকিলোমিটার) মেলানো যায়নি।
  • বাজার: বাজার ফান্ডের ইতিহাস ও বর্তমান প্রশাসন, সাপ্তাহিক হাটের সংখ্যা, এবং ব্যবসায় পাহাড়িদের অংশের কোনো জরিপভিত্তিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
  • পর্যটন: পর্যটকের সংখ্যা, খাতের আয় এবং হোটেল-রিসোর্টের মালিকানায় স্থানীয়দের অংশ — নির্ভরযোগ্য সংখ্যা নেই।
  • দারিদ্র্য: জনগোষ্ঠীভেদে দারিদ্র্যের সরকারি হিসাব নেই। চরম দারিদ্র্যের জেলা ও উপজেলাভিত্তিক শতকরা হার দারিদ্র্য মানচিত্রে ছাপা হয়নি, কেবল তিনটি দল আছে।
  • অন্য জীবিকা: সরকারি চাকরি, এনজিও, প্রবাস-আয় ও পোশাক কারখানায় পাহাড়ি শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
  • চা: পাহাড়ি অঞ্চলে চা চাষ কেন বেশি হয়, তার কৃষিতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এই লেখার উৎসগুলোতে নেই; পার্বত্য চট্টগ্রামে চা-বাগানের মোট সংখ্যা ও আয়তনও জানা যায়নি।
  • উৎসে অমিল: রাঙামাটির পেশার ভাগ (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া), কাজু-কফি প্রকল্পের ব্যয় (211 ও 158.54 কোটি টাকা), কফির বর্তমান উৎপাদন (60–70 ও 25 টন) এবং হ্রদের আয়তন — চারটি ক্ষেত্রেই দুই উৎসের দুই সংখ্যা পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ

  1. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা (অনুবাদ: রেশমি চাকমা), “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি, কল্পকাহিনী এবং বাস্তবতা”, মূল: Between Ashes & Hope; ডিসেম্বর 1998-এ রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থাপিত — লিংক
  2. জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির উপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব” — লিংক
  3. মিশুক চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব” — লিংক
  4. জুয়ামলিয়ান আমলাই, “বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম” — লিংক
  5. গৌতম কুমার চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা” — লিংক
  6. “জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে”, জুমজার্নাল — লিংক

সরকারি উৎস

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, Poverty Map of Bangladesh 2022, ডিসেম্বর 2024 — লিংক
  2. খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, “এক নজরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা”, জাতীয় তথ্য বাতায়ন — লিংক
  3. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, “এক নজরে বান্দরবান”, জাতীয় তথ্য বাতায়ন — লিংক
  4. রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, “এক নজরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা”, জাতীয় তথ্য বাতায়ন — লিংক

বিশ্বকোষ

  1. “Rangamati District”, Banglapedia, Asiatic Society of Bangladesh — লিংক
  2. “Khagrachhari District”, Banglapedia — লিংক
  3. “Bandarban District”, Banglapedia — লিংক
  4. “Chittagong Hill Tracts”, Banglapedia — লিংক
  5. Nuruddin Mahmood ও M Abdul Hai, “Kaptai Lake”, Banglapedia — লিংক
  6. M Habibullah, “Karnafuli Paper Mills”, Banglapedia — লিংক
  7. M Khairul Alam ও Abul Khair, “Bamboo”, Banglapedia — লিংক
  8. Mostafa Kamal Pasha, “Tobacco”, Banglapedia — লিংক
  9. “Rangamati District”, Wikipedia (ইংরেজি) — লিংক

সংবাদ ও নিবন্ধ

  1. “শূন্য থেকে ‘সম্পদের পাহাড়’”, The Daily Star বাংলা, 22 জুন 2024 — লিংক
  2. নিজাম উদ্দিন লাভলু, “পাহাড়ের গাছে গাছে ঝুলছে বাহারি আম”, ইত্তেফাক, 12 জুন 2025 — লিংক
  3. “Coffee, cashew cultivation expands under DAE project”, The Daily Star, 15 জুন 2022 — লিংক
  4. Abu Siddique, “As coffee expands in Bangladesh hills, conservationists worry about ecosystems”, Mongabay, 21 মে 2024 — লিংক
  5. Nur Nishat Anjum, “The hidden cost of Bangladesh’s tobacco frontier” (মতামত-নিবন্ধ), The Business Standard, 3 জুলাই 2026 — লিংক
  6. “Tobacco cultivation goes unchecked again in Bandarban”, Dhaka Tribune, 4 মার্চ 2017 — লিংক
  7. “20,000 acres of CHT land brought under rubber cultivation”, The Daily Star, 16 সেপ্টেম্বর 2009 — লিংক
  8. “Bangladesh: Tk 155m earned in revenue from fishing at Kaptai Lake”, The Financial Express থেকে ICSF-এ পুনঃপ্রকাশিত — লিংক
  9. “30-ton fish fry to be released in Kaptai Lake: BFDC”, UNB — লিংক
  10. “বান্দরবানে অপরিকল্পিত পর্যটন স্পটের বিস্তার, হুমকিতে পাহাড়ি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য”, The Daily Star বাংলা, 27 সেপ্টেম্বর 2025 — লিংক
  11. “পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তা”, প্রথম আলো, 27 সেপ্টেম্বর 2024 — লিংক
  12. “Poverty rises in select dists in 2022-24”, The Financial Express, 24 মার্চ 2025 — লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা