Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতাল, ম্যালেরিয়া, মাতৃস্বাস্থ্য ও দুর্গম পাড়ার চিকিৎসা

Last updated Oct 19th, 2026

Featured image

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা এখন কোন অবস্থায়? তিন জেলার তিনটি সদর হাসপাতালই 100 শয্যার, আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভর্তি থাকেন তার দ্বিগুণের বেশি রোগী; আইসিইউ বা ডায়ালাইসিস কোনোটিতেই চালু নেই। দুর্গম পাড়া থেকে নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোথাও কয়েক ঘণ্টা, কোথাও 12–13 ঘণ্টার পথ। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে 2025 সালে দেশের 10,162 জন ম্যালেরিয়া রোগীর 9,171 জনই রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের।

এই পাতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যা যা সংখ্যা ও তথ্য যাচাই করা উৎসে মেলে, তা এক জায়গায় রাখা হয়েছে: হাসপাতাল, জনবল, দূরত্ব, ম্যালেরিয়া, মাতৃস্বাস্থ্য, টিকা ও পানি। প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎস, বছর ও এলাকা লেখা আছে; দুই উৎস দুই রকম বললে দুটোই রাখা হয়েছে। এটি তথ্যের পাতা, চিকিৎসা-পরামর্শের নয়। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

সূচিপত্র

  1. এক নজরে: পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা সংখ্যায়
  2. পাহাড়ে সরকারি হাসপাতাল কোথায় কী আছে?
  3. রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির নতুন হাসপাতাল ভবন কেন চালু হয়নি?
  4. পাহাড়ে চিকিৎসকের পদ কত শূন্য?
  5. দুর্গম পাড়া থেকে হাসপাতালে যেতে কত সময় লাগে?
  6. পাড়াকেন্দ্রে কী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়?
  7. বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া রোগীর কত অংশ পাহাড়ে?
  8. পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া কেন বেশি?
  9. জ্বর হলে পাহাড়ের মানুষ প্রথমে কোথায় যান?
  10. বাংলাদেশ কবে ম্যালেরিয়ামুক্ত হবে?
  11. পাহাড়ি নারীরা প্রসবের সময় কতটা সেবা পান?
  12. সাজেকে হামে কত শিশু মারা গিয়েছিল, আর টিকা কেন পৌঁছায়নি?
  13. পানি, ডেঙ্গু ও অন্য রোগের ঝুঁকি কতটা?
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

এক নজরে: পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা সংখ্যায়

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার ছবিটা কয়েকটি সংখ্যায় ধরা যায়: তিনটি 100 শয্যার সদর হাসপাতাল, দেশের ম্যালেরিয়া রোগীর নয়-দশমাংশ, আর খাগড়াছড়ির এক জরিপে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব মাত্র 33%। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে তার বছর, এলাকা ও উৎস দেওয়া হলো; বিস্তারিত পরের অংশগুলোতে।

বিষয়সংখ্যাবছর ও এলাকাউৎস
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের শয্যা / ভর্তি রোগী100 / 200–250জুলাই 2025, রাঙামাটিপ্রথম আলো
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শয্যা / ভর্তি রোগী100 / 2302 আগস্ট 2026, খাগড়াছড়িপ্রথম আলো
রাঙামাটি হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ / কর্মরত31 / 22জুলাই 2025প্রথম আলো
দেশে ম্যালেরিয়া রোগী10,1622025, বাংলাদেশস্বাস্থ্য অধিদপ্তর (The Daily Star বাংলা)
তিন পার্বত্য জেলায় ম্যালেরিয়া রোগী9,171 (90.2%)2025একই তথ্য থেকে যোগফল
ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুঅন্তত 162025, বাংলাদেশস্বাস্থ্য অধিদপ্তর (The Daily Star বাংলা)
প্রসব-পূর্ব সেবা / প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব / প্রসব-পরবর্তী সেবা53% / 33% / 9.8%2017–18, খাগড়াছড়ির দুই উপজেলার 438 আদিবাসী নারীBMJ Open, 2019
জ্বর হলে প্রথমে বাজারের ওষুধ-বিক্রেতার কাছে যান49.5%2018–19, বান্দরবানের 200 জনের জরিপPathogens, 2020
টিকাদানের আউটরিচ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত পাড়াকেন্দ্রপ্রায় 1,000 (মোট 4,000-এর মধ্যে)2019, তিন জেলাUNICEF

পাহাড়ে সরকারি হাসপাতাল কোথায় কী আছে?

তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটিতে জেলা সদরে একটি করে সরকারি হাসপাতাল আছে, তিনটিই 100 শয্যার: রাঙামাটি জেনারেল (আধুনিক সদর) হাসপাতাল, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল ও বান্দরবান সদর হাসপাতাল। সংবাদ-প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটিতেই রোগী শয্যার চেয়ে বেশি, চিকিৎসক অনুমোদিত পদের চেয়ে কম, এবং আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস চালু নেই।

হাসপাতালশয্যাভর্তি রোগীবহির্বিভাগ (দিনে)চিকিৎসকউৎস ও তারিখ
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল100200–2501,000–1,20031 পদে 22 জনপ্রথম আলো, 16 জুলাই 2025
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল100230 (2 আগস্ট 2026)প্রায় 600–2,000সংখ্যা পাওয়া যায়নিপ্রথম আলো, 3 আগস্ট 2026
বান্দরবান সদর হাসপাতাল100সংখ্যা পাওয়া যায়নি“প্রতিদিন শত শত”সিনিয়র কনসালট্যান্ট 12 পদে 4; জুনিয়র কনসালট্যান্ট 27 পদে 6; মেডিকেল অফিসার প্রায় 50 পদে 11খবর সংযোগ, 4 আগস্ট 2024

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কত শয্যার, কী নেই?

প্রথম আলোর 16 জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি আধুনিক সদর হাসপাতাল চালু হয় 1984 সালে; স্থানীয়ভাবে এটি “জেনারেল হাসপাতাল” নামে পরিচিত। শয্যা 100, অথচ ভর্তি থাকেন 200 থেকে 250 জন; শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নেন। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শওকত আকবরের দেওয়া হিসাবে বহির্বিভাগে দিনে 1,000 থেকে 1,200 রোগী আসেন, চিকিৎসকের 31টি পদে আছেন 22 জন, আর সবচেয়ে বড় সংকট তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দশক পরেও হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ বা ডায়ালাইসিস ইউনিট নেই। হৃদ্‌রোগ, কিডনির রোগ বা গুরুতর অবস্থার রোগীদের পাঠাতে হয় প্রায় 60 কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কখনো ঢাকায়। চিকিৎসকদের হিসাবে মাসে 100 থেকে 150 জন, অর্থাৎ দিনে 3 থেকে 5 জন রোগীকে এভাবে পাঠাতে হয়। চার বছর আগে দোতলা ভবনটির ওপরে টিনের ছাউনি দিয়ে একটি তলা বাড়ানো হয়; সেখানেই এখন নারী, শিশু ও প্রসূতি ওয়ার্ড।

পরদিনের সম্পাদকীয়তে প্রথম আলো লিখেছে, জেলার 10 উপজেলার প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই 100 শয্যার হাসপাতাল। UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদনে এটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল বলা হয়েছে; সেখানে নারী ও নবজাতকের জন্য আলাদা একটি অংশ, প্রসবকক্ষ ও ইনকিউবেটরে সংস্থাটির সহায়তার কথা আছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল কত শয্যার?

প্রথম আলোর 3 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল 100 শয্যার, চলে একটি তিনতলা ভবনে। জেলার 9 উপজেলার পাশাপাশি রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার মানুষও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। দিনে গড়ে প্রায় 600 থেকে 2,000 রোগী সেবা নিতে আসেন। প্রতিবেদক 2 আগস্ট সকালে গিয়ে দেখেন, ভর্তি রোগী 230 জন, অনেকে বারান্দার মেঝেতে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে কতজন চিকিৎসক আছেন?

বান্দরবান সদর হাসপাতালও 100 শয্যার। খবর সংযোগের 4 আগস্ট 2024-এর প্রতিবেদনে সিভিল সার্জনের বরাতে বলা হয়েছে: সিনিয়র কনসালট্যান্টের 12 পদে আছেন 4 জন, জুনিয়র কনসালট্যান্টের 27 পদে 6 জন, মেডিকেল অফিসারের প্রায় 50 পদে 11 জন। প্রতিবেদনটি বলছে, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জনবলের একই সংকট। সংখ্যাগুলো একটিমাত্র সংবাদ-উৎসের; দ্বিতীয় কোনো উৎসে মেলানো যায়নি। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী বান্দরবানে নার্সিং কলেজ আছে 1টি।

স্বাস্থ্য বিভাগ কার অধীনে?

আমাদের আর্কাইভের লেখা আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী-তে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়। একই লেখার ভাষ্য: জেলা ও উপজেলা সদর ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা “নেই বললেই চলে”, আর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকেরা অনেক ক্ষেত্রে থাকতে চান না। হস্তান্তরের সাল ও পরিধি ওই লেখায় নেই।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির নতুন হাসপাতাল ভবন কেন চালু হয়নি?

রাঙামাটিতে 48.5 কোটি টাকায় তৈরি ছয়তলা নতুন ভবনটি নভেম্বর 2025-এ স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে এলেও ফেব্রুয়ারি 2026 পর্যন্ত সেখানে সেবা শুরু হয়নি; The Daily Star-এর সম্পাদকীয় অনুযায়ী কারণ জনবলের অভাব। খাগড়াছড়িতে 250 শয্যার ভবনের কাজ 2019 সালে শুরু হয়ে আগস্ট 2026 পর্যন্ত প্রায় 75% শেষ হয়েছে।

সময়কী ঘটেছেউৎস
1984রাঙামাটি আধুনিক সদর হাসপাতাল চালুপ্রথম আলো, 16 জুলাই 2025
2009হাসপাতালের পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ; সিসিইউ চালুর কথা ছিল, চিকিৎসার কাজে ব্যবহার হয়নিএকই
2015ওই ভবনে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী কার্যক্রম শুরুএকই
ফেব্রুয়ারি 2021আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস ও বাড়তি শয্যার জন্য 11 তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরএকই
জুন 2024ছয়তলা অংশের নির্মাণ শেষ (The Daily Star); প্রথম আলোর জুলাই 2025-এর প্রতিবেদনে এটি ছিল কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়, যা তখনো পূরণ হয়নিThe Daily Star, 26 ফেব্রুয়ারি 2026; প্রথম আলো
নভেম্বর 2025ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরThe Daily Star
ফেব্রুয়ারি 2026ভবনে সেবা শুরু হয়নিThe Daily Star
জুন 2028মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা; জুলাই 2025 পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নিপ্রথম আলো

রাঙামাটির নতুন ভবনে কী কী থাকার কথা?

The Daily Star-এর 26 ফেব্রুয়ারি 2026-এর সম্পাদকীয় অনুযায়ী ভবনটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, 20 শয্যার আইসিইউ, আইসোলেশন ইউনিট এবং এমআরআই ও ডায়ালাইসিসসহ রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থা আছে; চালু হলে হাসপাতালের শয্যা 100 থেকে 250 হবে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান না দেওয়ায় সেবা সরানো যায়নি। গণপূর্ত বিভাগের বরাতে পত্রিকাটি লিখেছে, ভবন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে লিফট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হতে পারে। একই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দেশের 18 জেলায় অন্তত 80টি স্বাস্থ্য-স্থাপনা এভাবে অব্যবহৃত পড়ে আছে।

প্রথম আলোর জুলাই 2025-এর প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা আগেই বলেছিলেন, শুধু ভবন হলে হবে না; সরঞ্জাম, আসবাব, জনবল এবং নতুন শয্যার জনবল-কাঠামোর অনুমোদন ছাড়া সেবা চালু সম্ভব নয়।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ কোথায়, হাসপাতালের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম 2015 সাল থেকে চলছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পাশের সেই ছয়তলা ভবনে, যেটি 2009 সালে সিসিইউর জন্য তৈরি হয়েছিল। প্রথম আলো জানাচ্ছে, দশ বছর পরেও কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস হয়নি; প্রকল্প অনুমোদিত, মেয়াদ জুন 2028 পর্যন্ত, কিন্তু জুলাই 2025 পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।

রাঙামাটিতে ডায়ালাইসিসের রোগীরা কী করেন?

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাঙামাটি শহরের কালিন্দীপুরের এক কিডনি রোগীর কথা আছে, যিনি দেড় বছর ধরে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিসের জন্য চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। চিকিৎসা ও যাতায়াতে তাঁর সপ্তাহে খরচ 12 হাজার টাকা, একবার যাওয়া-আসায় গাড়িতে কাটে 5–6 ঘণ্টা। তাঁর হিসাবে রাঙামাটিতে এই সেবা থাকলে সপ্তাহে 7–8 হাজার টাকা বেঁচে যেত।

খাগড়াছড়ির 250 শয্যার ভবন কত দূর এগিয়েছে?

প্রথম আলোর 3 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গণপূর্ত বিভাগ 2018 সালে প্রায় 44 কোটি টাকার কার্যাদেশ দেয়, কাজ শুরু হয় জানুয়ারি 2019-এ, শেষ হওয়ার কথা ছিল 2024 সালে। নির্বাহী প্রকৌশলীর হিসাবে কাজ হয়েছে প্রায় 75%। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন রতন খীসা পত্রিকাটিকে বলেছেন, ভবন না থাকায় আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো সেবা চালু করা যাচ্ছে না। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের ভাষ্য, নতুন ভবন চালু না হওয়ায় বাড়তি জনবলও নিয়োগ হয়নি।

পাহাড়ে চিকিৎসকের পদ কত শূন্য?

তিন জেলা মিলিয়ে চিকিৎসকের শূন্য পদের কোনো একক সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। যা মেলে তা খণ্ড খণ্ড: রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে 31 পদের 9টি শূন্য (জুলাই 2025), বান্দরবান জেলায় চিকিৎসকসহ 300-র বেশি জনবলের ঘাটতি (এপ্রিল 2025), আর সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের প্রায় 59% পদ শূন্য।

শেষ দুটি তথ্য The Daily Star-এর 9 এপ্রিল 2025-এর সম্পাদকীয় থেকে; 59% সংখ্যাটি পত্রিকাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে দিয়েছে, এবং এটি জাতীয় হিসাব, পাহাড়ের আলাদা হিসাব নয়। সম্পাদকীয়তে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, উপজেলায় পদায়িত চিকিৎসকদের ঢাকায় থাকার প্রবণতা এবং তদারকির অভাবে অনুপস্থিতি।

UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদন পার্বত্য চট্টগ্রামে শিশুদের জন্য সেবা পৌঁছানোর বাধার তালিকায় রেখেছে দুর্গম এলাকায় পদ শূন্য থাকা ও জনবলের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতিকে; সঙ্গে পরিবহনের অভাব ও খরচ, মৌসুমভেদে পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুর্বল যোগাযোগ-ব্যবস্থা এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যবধান।

The Daily Star বাংলার 31 মার্চ 2020-এর একটি মতামত-লেখায় সঞ্জয় কুমার বড়ুয়া লিখেছেন, পাহাড়ের হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি হতাশাজনক; অনেক উপজেলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে না গিয়েই বেতন-ভাতা নেন, এমন নজির আছে। এটি লেখকের পর্যবেক্ষণ; সংখ্যা দিয়ে মাপা কোনো হিসাব লেখাটিতে নেই।

দুর্গম পাড়া থেকে হাসপাতালে যেতে কত সময় লাগে?

জায়গাভেদে উত্তর আলাদা: জুরাছড়ি থেকে রাঙামাটি শহর নৌযানে দুই-তিন ঘণ্টা, বরকলের 12টি দুর্গম গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 12–13 ঘণ্টা, আর সাজেকের হাম-আক্রান্ত পাড়াগুলো পর্যটনকেন্দ্র থেকে প্রায় দশ ঘণ্টার হাঁটাপথ। UNICEF-এর ভাষায়, কোথাও কোথাও নিকটতম সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে কয়েক দিনও লাগে।

কোথা থেকে কোথায়সময় / দূরত্বকীভাবেউৎস
জুরাছড়ি → রাঙামাটি শহর2–3 ঘণ্টালঞ্চ বা ইঞ্জিনচালিত নৌকাপ্রথম আলো, 16 জুলাই 2025
রাঙামাটি সদর → চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালপ্রায় 60 কিলোমিটারসড়কপ্রথম আলো
বরকলের আইমাছড়া ও ভূষণছড়া ইউনিয়নের 12 গ্রাম → উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স12–13 ঘণ্টানদী শুকালে চলাচল আরও কঠিনইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, 26 মার্চ 2024
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র → হাম-আক্রান্ত পাড়া (2020)প্রায় 10 ঘণ্টাহেঁটেThe Daily Star বাংলা, 20 মার্চ 2020
খাগড়াছড়ির দুই উপজেলার 11 নারীর বাড়ি → নিকটতম সেবাকেন্দ্র2–10 কিলোমিটারহাঁটা, রিকশা; 10 কিলোমিটারে এক ঘণ্টা হেঁটে তারপর বাস বা মোটরসাইকেলPLoS One, 2020

রাঙামাটিতে নৌকাই কেন ভরসা?

UNICEF-এর প্রতিবেদন বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশির ভাগ মানুষ থাকেন ছোট ছোট ছড়ানো পাড়ায়, আর রাঙামাটিতে শিশুকে স্কুলে পাঠাতে বা চিকিৎসা নিতে গ্রামবাসীকে নৌকায় যেতে হয়। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের 6 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদনে বরকলের শুভলং ইউনিয়নের এক সন্তানসম্ভবা নারীর দুশ্চিন্তার কথা আছে: বরকল থেকে রাঙামাটি সদরে যেতে নৌকা আর ট্রলার ছাড়া পথ নেই। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয়দের ভাসমান হাসপাতালের দাবি এবং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের কথাও এসেছে।

বরকলের 12 গ্রামে কী ঘটেছিল?

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের 26 মার্চ 2024-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বরকল উপজেলার আইমাছড়া ও ভূষণছড়া ইউনিয়নের 12টি প্রত্যন্ত গ্রামে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। ভূষণছড়ার একটি গ্রামে তিন মাসে 6 জনের মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি অপচিকিৎসাকে দায়ী করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, সেখানে যেসব রোগ হচ্ছে সেগুলো সাধারণ রোগ, কিন্তু ওষুধের দোকান বা ক্লিনিক না থাকায় “কবিরাজ একমাত্র ভরসা”। জেলা সিভিল সার্জন দুই ইউনিয়নে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানান। ক্লিনিক দুটি পরে হয়েছে কি না, জানা যায়নি।

কোন জনগোষ্ঠী সবচেয়ে দূরে?

আমাদের আর্কাইভের পাহাড়ি নারীদের নিয়ে লেখাটি বলছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীভেদে তারতম্য আছে: স্বল্প জনসংখ্যার ম্রো, লুসাই, পাংখোয়া ও খিয়াং জনগোষ্ঠীর মানুষ অধিকতর দুর্গম এলাকায় থাকেন, ফলে তাঁদের নারীদের পক্ষে মাতৃস্বাস্থ্যসেবাসহ চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন। নারীর স্বাস্থ্য-বঞ্চনার পূর্ণ বিশ্লেষণ ওই লেখাতেই আছে; এখানে তার পুনরাবৃত্তি করা হলো না।

পাড়াকেন্দ্রে কী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়?

পাড়াকেন্দ্র পাড়ার ভেতরের একটি ছোট কেন্দ্র, যেখানে 3–6 বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি-পরামর্শ দেওয়া হয়। UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন জেলায় পাড়াকেন্দ্র 4,000টি, তার প্রায় 1,000টি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আউটরিচ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

একই প্রতিবেদন থেকে আরও কয়েকটি তথ্য:

  • 4,000 পাড়াকেন্দ্র আছে 3,500-র বেশি পাড়ায়; এর 70% আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায়।
  • মডেলটি UNICEF শুরু করে 1990-এর দশকে; 2019 সালে খরচের প্রায় 70% দিচ্ছিল সরকার।
  • প্রতিটি কেন্দ্রে একজন পাড়াকর্মী থাকেন, সাধারণত ওই পাড়ারই একজন নারী; তিনি এলাকার শিশুদের টিকা নিশ্চিত করেন এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের মতো জাতীয় কর্মসূচিতে সহায়তা করেন।
  • পুষ্টিসেবার মধ্যে আছে শিশুকে খাওয়ানো বিষয়ে পরামর্শ, অণুপুষ্টি-সম্পূরক এবং কিশোরীদের কৃমিনাশক।
  • সরকারি স্বাস্থ্য সহকারীরা পাড়াকেন্দ্রে গিয়ে টিকাদান-পর্ব চালান এবং গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ শিশুর তথ্য পাড়াকর্মীদের সঙ্গে বিনিময় করেন।

UNICEF-এর প্রতিবেদনে বান্দরবানের এক স্বাস্থ্য সহকারী বলেছেন, কিছু অভিভাবকের টিকা দিতে অনীহা তাঁদের বড় সমস্যাগুলোর একটি, আর আচরণ বদলাতে সময় লাগে। প্রতিবেদনটি এ-ও মনে করিয়ে দেয়, জুমের মৌসুমে বহু পরিবার বাড়ি থেকে দূরের জুমে কয়েক মাস থাকে; তখন শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দুটোরই বাইরে চলে যায়। পাড়াকেন্দ্রের সংখ্যা 2019-এর পরে কত দাঁড়িয়েছে, তা জানা যায়নি।

বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া রোগীর কত অংশ পাহাড়ে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী 2025 সালে দেশে ম্যালেরিয়া রোগী ছিলেন 10,162 জন; এর মধ্যে বান্দরবানে 5,023, রাঙামাটিতে 3,614 ও খাগড়াছড়িতে 534 জন। তিন পার্বত্য জেলার যোগফল 9,171, অর্থাৎ দেশের মোট রোগীর 90.2%। কক্সবাজারের 845 জন যোগ করলে চার জেলায় দাঁড়ায় 98.56%।

সংখ্যাগুলো The Daily Star বাংলার 19 এপ্রিল 2026-এর প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে দেওয়া। 98.56% হিসাবটি প্রতিবেদনের নিজের; তিন পার্বত্য জেলার 90.2% এখানে ওই সংখ্যাগুলো থেকে কষে নেওয়া।

জেলারোগী (2025)দেশের মোটের অংশজানুয়ারি–মার্চ 2026
বান্দরবান5,02349.4%214
রাঙামাটি3,61435.6%179
কক্সবাজার8458.3%49
খাগড়াছড়ি5345.3%13
চট্টগ্রামআলাদা সংখ্যা দেওয়া নেই—5
দেশ10,162 (13 জেলায় 10,158 + কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে 4)100%460

এশিয়া প্যাসিফিক লিডার্স ম্যালেরিয়া অ্যালায়েন্স (APLMA) একই বছরের হিসাবে বান্দরবানের অংশ 49% ও রাঙামাটির 35% বলেছে, যা উপরের ছকের সঙ্গে মেলে।

2025 সালে ম্যালেরিয়ায় কতজন মারা গেছেন?

The Daily Star বাংলার একই প্রতিবেদন অনুযায়ী 2025 সালে ম্যালেরিয়ায় অন্তত 16 জনের মৃত্যু হয়েছে: 11 জন চট্টগ্রামের হাসপাতালে, 2 জন কক্সবাজারে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে 1 জন করে, আর ঢাকার কেন্দ্রীয় তালিকায় 1 জন। 2016 সালে মৃত্যু ছিল 17; 2017 থেকে 2024 পর্যন্ত বছরে 6 থেকে 14-র মধ্যে। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, মৃতদের 6 জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। পত্রিকাটি একে নয় বছরের সর্বোচ্চ বলেছে; APLMA বলেছে এক দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বছর বছর রোগী কীভাবে বেড়েছে-কমেছে?

বছরদেশে ম্যালেরিয়া রোগীউৎস
201326,891APLMA
201457,480 (15 বছরে সর্বোচ্চ)APLMA
201810,482 (APLMA); 10,523 (Pathogens, 2020)দুই উৎস
201917,219 (APLMA); 17,225 (Pathogens, 2020)দুই উৎস
20217,288APLMA
202218,233APLMA
202510,162স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (The Daily Star বাংলা)

2018 ও 2019 সালের সংখ্যায় দুই উৎসে সামান্য অমিল আছে; ছকে দুটোই রাখা হলো। APLMA জানাচ্ছে, 2022-এর পর 2024 পর্যন্ত টানা দুই বছর রোগী কমেছে; 2023 ও 2024-এর পূর্ণ বছরের সংখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ের ভেতরে কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি?

প্রথম আলোর 10 জুলাই 2023-এর প্রতিবেদনে তিন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর 90%-এর বেশি তিন পার্বত্য জেলার। বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনা ছিল এ রকম:

জেলাজানুয়ারি–জুন 2022জানুয়ারি–জুন 2023
রাঙামাটি9001,532
খাগড়াছড়ি74122
বান্দরবান5,6922,933

রাঙামাটির চারটি উপজেলা বেশি ম্যালেরিয়াপ্রবণ: জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি ও রাজস্থলী। জেলার মোট রোগীর 51% একা জুরাছড়ির, আর সেখানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দুমদুমিয়া ইউনিয়ন। 2023-এর প্রথম ছয় মাসে বান্দরবানে মারা যান 3 জন; আগের বছরের একই সময়ে 7 জন।

পুরোনো হিসাবগুলোও একই দিকে ইঙ্গিত করে। The Financial Express-এর 24 এপ্রিল 2018-এর খবরে ব্র্যাকের সংবাদ সম্মেলনের বরাতে বলা হয়, দেশে ম্যালেরিয়ায় মোট মৃত্যুর প্রায় 93% তিন পার্বত্য জেলায়। Pathogens সাময়িকীর 2020 সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, 2017 সাল থেকে দেশের নিশ্চিত রোগীর প্রায় 60% একা বান্দরবান জেলার।

একটি বিপরীত ভাষ্যও নথিতে আছে। UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদনে রাঙামাটি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে, 2018 থেকে মাত্র একটি রোগী পাওয়া গেছে, আর মশারির ব্যবহার এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় হিসাবে ওই একই সময়ে, 2018 ও 2019 সালে, রোগী ছিল যথাক্রমে দশ হাজার ও সতেরো হাজারের ঘরে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া কেন বেশি?

উৎসগুলো চারটি কারণ দেখায়: পাহাড়-জঙ্গলের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, যেখানে সারা বছর সংক্রমণ চলে; জুমের জমিতে বা জঙ্গলে রাত কাটানো, যা মশার সংস্পর্শ বাড়ায়; দুর্গমতা, যার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছাতে পারেন না; আর সীমান্তের ওপারে রোগ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া। জাতীয় নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে দেশে রোগী অনেক কমেছে, কিন্তু পাহাড়ে তা থেকে গেছে।

ম্যালেরিয়াপ্রবণ 13 জেলা কোনগুলো?

The Financial Express-এর 2018 সালের খবর অনুযায়ী দেশের 64 জেলার 13টি ম্যালেরিয়াপ্রবণ: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম। একই খবরে বলা হয়, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান, জলবায়ু ও বাহক মশার অনুকূল পরিবেশের কারণে পার্বত্য জেলাগুলোতে সারা বছরই সংক্রমণ চলে।

জুম আর জঙ্গলের সঙ্গে ম্যালেরিয়ার যোগ কোথায়?

বান্দরবানে icddr,b-র স্বাস্থ্য ও জনমিতি নজরদারি এলাকায় মে 2018 থেকে মে 2019 পর্যন্ত চালানো একটি মিশ্র-পদ্ধতির গবেষণা (Pathogens, 2020) বলছে, জুমের জমিতে বা জঙ্গলে রাত কাটাতে হয় বলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ দেশের অন্য মানুষের চেয়ে বেশি বার বাহক মশার সংস্পর্শে আসেন। নজরদারি এলাকাটিতে 2টি ইউনিয়নের 107টি পাড়া ও 4,296টি পরিবার; জরিপে অংশ নেন 200 জন।

জরিপের উত্তরদাতাদের জীবনযাত্রার ছবি:

  • 61.5% যে জমিতে থাকেন বা কাজ করেন তার মালিক নন।
  • 38.5%-এর কোনো শৌচাগার নেই।
  • ঘরের দেয়াল বাঁশের 67.0%-এর, মেঝে মাটির 50.5%-এর, চাল টিনের 98.5%-এর।
  • 92.0% বলেছেন জরিপের আগের রাতে মশারির নিচে ঘুমিয়েছেন; গবেষকেরা নিজেরাই লিখেছেন, সাক্ষাৎকারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সংখ্যাটি বাস্তবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
  • কারণ জানতে চাইলে বেশির ভাগ প্রথমে বলেছেন জানেন না; সম্ভাব্য কারণ পড়ে শোনালে 90.7% মশার কামড়কে কারণ বলে মেনেছেন।

গবেষকেরা লক্ষ করেছেন, ম্যালেরিয়ার ভরা মৌসুমেই মানুষ জুমে বা জঙ্গলে রাত কাটান, আর সেখানে কীটনাশকযুক্ত মশারি টাঙানো বাস্তবে সম্ভব হয় না। জুম চাষ কী এবং কোন মাসে কী কাজ হয়, তা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে।

দুর্গমতা ও আবহাওয়ার ভূমিকা কী?

প্রথম আলোর 2023 সালের প্রতিবেদনে রাঙামাটির সিভিল সার্জন নীহার রঞ্জন নন্দী বলেছেন, জুরাছড়ির সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকাটি ভারত-সীমান্তসংলগ্ন ও অত্যন্ত দুর্গম, স্বাস্থ্যকর্মীদের সেখানে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়; তাঁর মতে পাহাড়ে ম্যালেরিয়া রোধের বড় বাধা দুর্গমতা।

APLMA-র বিশ্লেষণে 2014, 2019 ও 2022 সালের তিনটি বৃদ্ধিকেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি বা বন্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি এ-ও লিখেছে, ওই তিন বছরে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত গড়ের নিচে ছিল; অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুম আরও শুষ্ক আর বর্ষা আরও তীব্র হচ্ছে। 1981–2010 সালের গড়ের তুলনায় দেশের তাপমাত্রা 2014 সালে 0.3 ডিগ্রি, 2022 সালে 0.6 ডিগ্রি এবং 2023 সালে প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই হ্রদ নিবন্ধ আরেকটি কারণের কথা বলে: হ্রদের বিশাল স্থির ও ধীরগতির জলরাশি ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে।

জ্বর হলে পাহাড়ের মানুষ প্রথমে কোথায় যান?

বান্দরবানের জরিপে (Pathogens, 2020) ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলে প্রথমে কোথায় যাওয়া হয়, এই প্রশ্নে 49.5% বলেছেন বাজারের ওষুধ-বিক্রেতার কথা, আর সরকারি হাসপাতালের কথা বলেছেন 5.5%। গবেষকদের ব্যাখ্যা: ওষুধ-বিক্রেতা কাছে, সস্তা এবং যেকোনো সময় খোলা; সরকারি কেন্দ্র খোলা থাকে ঠিক জুমের কাজের সময়ে।

প্রথম গন্তব্য (নিজে থেকে বলা উত্তর)উত্তরদাতার অংশ
বাজারের ওষুধ-বিক্রেতা49.5%
icddr,b-র নজরদারি কেন্দ্রে ফোন19.0%
গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী18.0%
স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র11.5%
সরকারি হাসপাতাল5.5%

ছকটি বান্দরবানের একটি নজরদারি এলাকার 200 জনের উত্তর; পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের হিসাব নয়।

গবেষণাপত্রের আরও কয়েকটি পর্যবেক্ষণ:

  • স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দিনে কয়েক ঘণ্টা খোলা থাকে, উত্তরদাতাদের ভাষ্যে মোটামুটি সকাল 10টা থেকে দুপুর 2টা; ওই সময়ে মানুষ জুমে বা জঙ্গলে কাজে থাকেন।
  • উপসর্গ দেখা দিলে মানুষ আগে পরিবার, প্রতিবেশী ও পাড়ার নেতার সঙ্গে কথা বলেন; 62.9% উত্তরদাতা চিকিৎসা নিতে গেছেন উপসর্গের দুই দিনেরও বেশি পরে।
  • দূরের শহরের বড় সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা আছে, কিন্তু সেখানে যেতে রোগীর সঙ্গে একজনকে কয়েক দিন থাকতে হয়; যাঁর পরিবারে লোক কম, তাঁর পক্ষে তা সম্ভব হয় না।
  • অসুখের কারণ অলৌকিক মনে হলে মানুষ প্রথাগত চিকিৎসকের কাছে যান, গবেষণাপত্রে যাঁকে “বৈদ্য” বলা হয়েছে।
  • বাঙালি স্বাস্থ্যকর্মী ও পাহাড়ি রোগীর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতিকেও গবেষকেরা সরকারি সেবা থেকে দূরে থাকার একটি কারণ বলেছেন।

গবেষকদের উপসংহার, নির্মূল কর্মসূচিকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে; তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন, জীবনযাত্রা ও কাজের অবস্থা না বদলে কেবল জনগোষ্ঠীকে “দায়িত্ব নিতে” বলা যথেষ্ট নয়, কারণ জনস্বাস্থ্য-কৌশল তৈরি ও বাস্তবায়ন পাহাড়ের মানুষের দায় নয়।

বাংলাদেশ কবে ম্যালেরিয়ামুক্ত হবে?

সরকারের লক্ষ্য 2027 সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানো এবং 2030 সালের মধ্যে রোগটি নির্মূল করা; এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের 2024–2030 মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার লক্ষ্য। লক্ষ্য পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অধিদপ্তরের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মত আলাদা।

The Daily Star বাংলার 19 এপ্রিল 2026-এর প্রতিবেদনে অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) হালিমুর রশিদ বলেছেন, তাঁরা লক্ষ্য অর্জনের সঠিক পথেই আছেন। সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক এম এ ফয়েজ একই প্রতিবেদনে দুটি লক্ষ্যকেই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলেছেন। তাঁর যুক্তি: সর্বোচ্চ ঝুঁকির চার জেলাই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে, ওপারে রোগ নিয়ন্ত্রণ না হলে এপারে নির্মূল কঠিন; ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের তহবিল দেশে ও বিদেশে কমছে; আর 51টি জেলা ম্যালেরিয়ামুক্ত ধরে নেওয়া হলেও ঘোষণার আগে তা বৈজ্ঞানিক প্রমাণে নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কবে থেকে, কারা চালায়?

Pathogens-এর গবেষণাপত্র অনুযায়ী জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও তার কমিউনিটি-ভিত্তিক কাজ 2007 সাল থেকে চলছে ব্র্যাকের অংশীদারিতে; ব্র্যাক 20টি বেসরকারি সংস্থার একটি জোটের নেতৃত্ব দেয়, তদারক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কর্মসূচিতে আছে কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ, দ্রুত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা এবং জটিল রোগীকে বড় হাসপাতালে পাঠানো। গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত হিসাবে 2007 থেকে 2012-র মধ্যে প্রকোপ কমে 65%, আর 2010 থেকে 2018-র মধ্যে 81%।

APLMA জানাচ্ছে, 2021–2025 মেয়াদের পরিকল্পনায় একটি জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল টাস্কফোর্স গড়া হয়, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও আছে; 2024–2030-এর পরিকল্পনায় সেটি বহাল।

1974 সালের সংসদে ম্যালেরিয়া নির্মূলের প্রসঙ্গ

ম্যালেরিয়া নির্মূলের কথা নতুন নয়। 18 জুলাই 1974-এ জাতীয় সংসদে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জানতে চান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যালেরিয়া নির্মূল-বিষয়ক ফেলোশিপে কাকে মনোনীত করা হয়েছে। মন্ত্রীর উত্তরে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আসে ডা. সুব্রত চাকমার নাম, যিনি তখন কুমিল্লায় ডিভিশনাল ম্যালেরিয়া ইরিডিকেশন অফিসার। মূল দলিলের পাঠ আমাদের আর্কাইভে আছে: জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ ও হাসপাতাল সম্প্রসারণ। একই বছরের 22 জানুয়ারি তিনি সংসদে আরেকটি স্বাস্থ্য-প্রশ্ন তোলেন, মেডিকেল কলেজে চর্ম ও যৌনরোগের অধ্যাপক নিয়ে; সেটি অবশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম-নির্দিষ্ট নয়।

পাহাড়ি নারীরা প্রসবের সময় কতটা সেবা পান?

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলার 47 পাড়ার 438 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নারীর ওপর 2017–18 সালের এক জরিপে দেখা যায়, শেষ গর্ভধারণে প্রসব-পূর্ব সেবা নিয়েছেন 53%, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করিয়েছেন 33%, আর প্রসব-পরবর্তী সেবা নিয়েছেন 9.8%। তিনটি সেবাই নিয়েছেন মাত্র 6.4%।

জরিপটি প্রকাশিত হয়েছে BMJ Open-এ, 2019 সালে (Akter ও অন্যান্য)। তথ্য সংগ্রহ হয় সেপ্টেম্বর 2017 থেকে ফেব্রুয়ারি 2018-র মধ্যে; অংশ নেন 220 জন চাকমা, 100 জন মারমা ও 118 জন ত্রিপুরা নারী, যাঁরা আগের 36 মাসের মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন।

সেবাখাগড়াছড়ির জরিপ (438 আদিবাসী নারী, 2017–18)জাতীয় হিসাব (গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত)
প্রসব-পূর্ব সেবা53%78%
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব33%37%
প্রসব-পরবর্তী সেবা9.8%36%
তিনটি সেবাই6.4%43%
অন্তত একটি সেবা59% (258 জন)—

জাতীয় সংখ্যাগুলো একই গবেষক দলের PLoS One-এর 2020 সালের গবেষণাপত্রে পাশাপাশি দেওয়া; প্রসব-পূর্ব সেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের জাতীয় হিসাব 2014 সালের বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপের।

কারা সেবা বেশি নিয়েছেন?

BMJ Open-এর বিশ্লেষণে তিনটি বিষয় সেবা নেওয়ার সঙ্গে স্বাধীনভাবে যুক্ত পাওয়া গেছে: মাধ্যমিক বা তার বেশি পড়াশোনা (অডস রেশিও 2.4), নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে জানা থাকা (3.8) এবং গর্ভকালীন জটিলতা সম্পর্কে জানা থাকা (3.0)। সেবা নেওয়া 258 জনের 51.6% চাকমা, 28% মারমা ও 20.5% ত্রিপুরা; পুরো নমুনায় তাঁদের অংশ ছিল যথাক্রমে 50.2%, 22.8% ও 26.9%। গবেষকদের মন্তব্য, সব জনগোষ্ঠী সমানভাবে সেবা পাচ্ছে না।

জরিপের আরও কয়েকটি সংখ্যা: 20 বছর বয়সের আগে প্রথম গর্ভধারণ হয়েছে যাঁদের, তাঁদের 79% শেষ গর্ভধারণে কোনো সেবাই নেননি; অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার হার 35.8%; আর 26% নারী (113 জন) মৃতপ্রসব বা গর্ভপাতের মতো পরিণতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

নারীরা নিজেরা কী বলেছেন?

PLoS One-এর গবেষণাটি গুণগত: একই দুই উপজেলার 21 জন নারীর সাক্ষাৎকার, যাঁদের 14 জন অন্তত একটি সেবা নিয়েছেন ও 7 জন কোনোটিই নেননি। নারীরা চেয়েছেন সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই, সম্মানজনক, বাড়িতে পাওয়া যায় এমন এবং সাশ্রয়ী সেবা। হাসপাতালকে তাঁরা সাধারণত কেবল জটিলতা ও জরুরি অবস্থার জায়গা মনে করেন: যে 11 জন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করিয়েছেন, তাঁদের একজন ছাড়া সবাই গেছেন জটিলতা দেখা দেওয়ার পর।

গবেষণাপত্রে চিহ্নিত বাধাগুলো:

  • সেবার প্রয়োজন সম্পর্কে না জানা। 18 জন প্রসব-পূর্ব সেবার কথা জানতেন, কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালে তা বিনা মূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়, সেটি জানতেন না।
  • খরচের ভয়। বেশির ভাগের ধারণা ছিল, এই সেবা কেবল বেসরকারি হাসপাতালে মেলে এবং তা ব্যয়বহুল।
  • পরিবহন। 10 কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রে যেতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হাঁটতে হয়, তারপর বাস বা মোটরসাইকেলের অপেক্ষা; জটিলতা হলে স্বজনেরা পাহাড়ি পথে দীর্ঘ দূরত্ব বয়ে নিয়ে যান।
  • অস্ত্রোপচারের ভয়।
  • সরকারি কেন্দ্রে অনানুষ্ঠানিক টাকা দাবি ও কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, যা পরে আর না যাওয়ার কারণ হয়েছে।

এক অংশগ্রহণকারী আগের গর্ভধারণে ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফের একটি স্যাটেলাইট ক্লিনিকে সেবা নিয়েছিলেন; তথ্য সংগ্রহের সময় ক্লিনিকটি আর চালু ছিল না, আর বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে সরকারি কেন্দ্রে একই সেবা বিনা মূল্যে মেলে, তা তিনি জানতেন না।

এই ফল কাদের বেলায় খাটে, কাদের বেলায় নয়

দুটি গবেষণাই খাগড়াছড়ির দুই উপজেলার চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নারীদের নিয়ে। ম্রো, খুমি, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, চাক বা তঞ্চঙ্গ্যা নারীদের বেলায়, কিংবা রাঙামাটি ও বান্দরবানের বেলায় এই সংখ্যা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না। BMJ Open-এর লেখকেরা বান্দরবানের ম্রো নারীদের ওপর আগের একটি গবেষণার উল্লেখ করেছেন, যেখানে সেবা গ্রহণের হার ছিল 30.7%।

আমাদের আর্কাইভের পাহাড়ি নারীদের নিয়ে লেখাটিতে রক্তশূন্যতার ব্যাপকতা, প্রজননস্বাস্থ্য সমস্যা এবং দুর্গম এলাকায় প্রসবকালীন মৃত্যুর কথা আছে; সেখানে সংখ্যা দেওয়া নেই।

সাজেকে হামে কত শিশু মারা গিয়েছিল, আর টিকা কেন পৌঁছায়নি?

2020 সালের ফেব্রুয়ারি–মার্চে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের কয়েকটি দুর্গম পাড়ায় হাম ছড়ায়। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনের তারিখভেদে আলাদা: 20 মার্চ পর্যন্ত 5, 23 মার্চ পর্যন্ত 6, আর The Business Standard-এর হিসাবে 16 ফেব্রুয়ারি থেকে 31 মার্চের মধ্যে 9 শিশু। আক্রান্ত দুই শতাধিক।

প্রতিবেদনের তারিখউৎসআক্রান্তমৃত্যু
20 মার্চ 2020The Daily Star বাংলাপ্রায় 130 শিশু, পাঁচটি পাড়ায়5 শিশু (26 ফেব্রুয়ারি থেকে 17 মার্চ)
23 মার্চ 2020বাংলা ট্রিবিউনপ্রায় 1636 শিশু
31 মার্চ 2020The Daily Star বাংলা (মতামত)প্রায় 200 শিশু9 শিশু; সাজেক, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও বান্দরবানের লামা মিলিয়ে, ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠীর
7 এপ্রিল 2020The Business Standard200-র বেশি শিশু9 শিশু (16 ফেব্রুয়ারি থেকে 31 মার্চ); সাজেকের গ্রামগুলোর হিসাব হিসেবে দেওয়া

শেষ দুই সারিতে সংখ্যা একই, কিন্তু একটি উৎস তাকে তিন জেলার মোট বলছে, অন্যটি সাজেকের; ছকে দুটোই যেমন আছে তেমন রাখা হলো।

সাজেকে স্বাস্থ্যসেবা কতটুকু ছিল?

The Business Standard-এর 7 এপ্রিল 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম গ্রামগুলোর প্রায় 50,000 মানুষের জন্য মাচালং বাজারে একটিমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক ছিল, তাতে চিকিৎসক ছিলেন না। বাংলা ট্রিবিউন ইউনিয়নটির আয়তন 607 বর্গ কিলোমিটার ও লোকসংখ্যা প্রায় 52 হাজার বলেছে। The Daily Star বাংলাকে পাড়াপ্রধানেরা বলেছেন, তাঁদের পাড়ায় টিকা দিতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী কখনো যাননি; এক কারবারির ভাষ্য, পাড়ার শিশুরা কখনোই টিকা পায়নি।

টিকা পথে নষ্ট হয় কেন?

The Business Standard লিখেছে, উপজেলা সদর থেকে পথ এত দীর্ঘ যে টিকার আইসবক্স গরম হয়ে যায়: বাক্সে টিকা টেকে 24 ঘণ্টা, অথচ কোনো কোনো এলাকায় পৌঁছাতেই লাগে 48 ঘণ্টার বেশি। জেলার সিভিল সার্জন পত্রিকাটিকে বলেন, দরকার বাড়তি জনবল, দুর্গম এলাকার কয়েকটি স্থানে সৌরচালিত ফ্রিজ এবং অন্তত পাঁচটি ক্লিনিক; নয় মাসের কর্মসূচিতে 11,000 শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। The Daily Star বাংলা অনুযায়ী 6 মার্চ স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত পাড়ায় গিয়ে পনেরো বছরের কম বয়সী 285 শিশুকে টিকা দেন।

দায় কার, দুই রকম ভাষ্য

The Business Standard-এর প্রতিবেদনে গ্রামবাসীর টিকা নিয়ে ভয় ও ঘরোয়া চিকিৎসার বিবরণ আছে, আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক এলাকার মানুষকে “অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন” বলেছেন। সিভিল সার্জনও The Daily Star বাংলার কাছে অভিভাবকদের অনাগ্রহকে দায়ী করেন। উল্টো দিকে পাড়াপ্রধান ও ওয়ার্ড সদস্যের ভাষ্য, এলাকাগুলো টিকাদানের আওতার বাইরেই ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছিল বলে রোগ মারাত্মক হয়, আর যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া গেলে মৃত্যু ঠেকানো যেত।

আমাদের আর্কাইভের লেখাটি আরও আগে একই দুই কারণ পাশাপাশি রেখেছিল: পাহাড়ের শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয় স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো উপস্থিত থাকেন না বলে এবং মায়েদের অসচেতনতার কারণে। পাহাড়ের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলাদা লেখা আছে: পাহাড়ি খাবার: সিদোল, নাপ্পি আর রান্নার সাত পদ্ধতি।

পানি, ডেঙ্গু ও অন্য রোগের ঝুঁকি কতটা?

ম্যালেরিয়ার বাইরে উৎসগুলোতে তিনটি ঝুঁকির কথা আসে: কাপ্তাই হ্রদের দূষিত পানির ওপর নির্ভরতা, 2023 সাল থেকে পাহাড়ে ডেঙ্গুর উপস্থিতি, আর দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব। আমাদের আর্কাইভের লেখায় ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, রক্তশূন্যতা ও যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাবের উল্লেখ আছে; এগুলোর জেলাভিত্তিক সংখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

কাপ্তাই হ্রদের পানি কতজন ব্যবহার করেন?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী হ্রদের চারপাশের জনসংখ্যার 85% পান, রান্না, ধোয়া ও গোসলের জন্য হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে, অথচ প্রতিদিন পাঁচ টনের বেশি মানববর্জ্য ও অন্য বর্জ্য হ্রদে পড়ে বলে উল্লেখ আছে; ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্রভাবে বেড়েছে। নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, রাঙামাটি শহরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরবরাহ করা খাবার পানিতেও গ্রহণযোগ্য মাত্রার দশ গুণের বেশি জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। নিবন্ধে এই পরিমাপের বছর দেওয়া নেই।

পাহাড়ে ডেঙ্গু কবে থেকে?

প্রথম আলোর 10 জুলাই 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 9 জুলাই 2023 পর্যন্ত তিন জেলায় 72 জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন: খাগড়াছড়িতে 47, রাঙামাটিতে 15 ও বান্দরবানে 10 জন; এর 45 জন জুলাইয়ের প্রথম আট দিনেই। 2022 সালের প্রথম ছয় মাসে তিন জেলায় একজনও ছিলেন না। খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, রোগীদের দুজন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত, বাকিদের বেশির ভাগের ঢাকা বা চট্টগ্রামে ভ্রমণের ইতিহাস আছে। রাঙামাটির সিভিল সার্জনের ধারণা ছিল, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে চলাচলকারী বাসে করেই এডিস মশা পাহাড়ে আসে।

শিশুমৃত্যুর হার কত?

UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদনের শুরুর ছকে প্রতি 1,000 জীবিত জন্মে শিশুমৃত্যুর হার দেওয়া আছে খাগড়াছড়িতে 117, রাঙামাটিতে 61, বান্দরবানে 35 এবং পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে 75 (প্রতিবেদনের “Demography” ছক, পৃ. 4)। ছকটিতে এই হিসাবের বছর বা মূল উৎস লেখা নেই, আর খাগড়াছড়ির সংখ্যাটি অন্য দুই জেলার তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি; অন্য কোনো উৎসে এটি মেলানো যায়নি।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া কেন বেশি?

উৎসগুলো কয়েকটি কারণ দেখায়। পাহাড়-জঙ্গলের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর কারণে এখানে সারা বছর সংক্রমণ চলে। বান্দরবানে 2018–19 সালের এক গবেষণা (Pathogens, 2020) বলছে, জুমের জমিতে বা জঙ্গলে রাত কাটাতে হয় বলে মানুষ বেশি বার বাহক মশার সংস্পর্শে আসেন। রাঙামাটির সিভিল সার্জন 2023 সালে দুর্গমতাকে নিয়ন্ত্রণের প্রধান বাধা বলেছেন, আর বিশেষজ্ঞরা সীমান্তের ওপারের সংক্রমণের কথাও বলেন।

বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া রোগীর কত অংশ পাহাড়ে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী 2025 সালে দেশে ম্যালেরিয়া রোগী ছিলেন 10,162 জন। এর মধ্যে বান্দরবানে 5,023, রাঙামাটিতে 3,614 ও খাগড়াছড়িতে 534 জন; তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে 9,171 জন, অর্থাৎ প্রায় 90.2%। কক্সবাজারের 845 জন যোগ করলে চার জেলায় দেশের মোট রোগীর 98.56%। তথ্যটি The Daily Star বাংলা 19 এপ্রিল 2026-এ প্রকাশ করে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কত শয্যার?

রাঙামাটি জেনারেল বা আধুনিক সদর হাসপাতাল 100 শয্যার; চালু হয় 1984 সালে। প্রথম আলোর 16 জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে সাধারণত 200 থেকে 250 জন রোগী ভর্তি থাকেন, বহির্বিভাগে দিনে আসেন 1,000 থেকে 1,200 জন, আর চিকিৎসকের 31 পদে কর্মরত 22 জন। ছয়তলা নতুন ভবন চালু হলে শয্যা 250 হওয়ার কথা; ফেব্রুয়ারি 2026 পর্যন্ত তা চালু হয়নি।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ কোথায়?

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম 2015 সাল থেকে চলছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পাশের একটি ছয়তলা ভবনে। ভবনটি 2009 সালে তৈরি হয়েছিল হৃদ্‌রোগীদের সিসিইউর জন্য, কিন্তু চিকিৎসার কাজে ব্যবহার হয়নি। প্রথম আলোর জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রকল্পের মেয়াদ জুন 2028 পর্যন্ত, তবে তখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

দুর্গম পাড়া থেকে হাসপাতালে যেতে কত সময় লাগে?

জায়গাভেদে আলাদা। জুরাছড়ি থেকে রাঙামাটি শহরে লঞ্চ বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লাগে দুই-তিন ঘণ্টা (প্রথম আলো, 2025)। বরকলের আইমাছড়া ও ভূষণছড়া ইউনিয়নের 12টি দুর্গম গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 12–13 ঘণ্টার পথ (ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, 2024)। UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদন বলছে, কোথাও কোথাও নিকটতম সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লাগে।

পাহাড়ি নারীরা প্রসবের সময় হাসপাতালে যান কতজন?

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলার 438 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নারীর ওপর 2017–18 সালের জরিপে (BMJ Open, 2019) 33% স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করিয়েছেন। প্রসব-পূর্ব সেবা নিয়েছেন 53%, প্রসব-পরবর্তী সেবা 9.8%, আর তিনটিই নিয়েছেন 6.4%। সংখ্যাগুলো কেবল ওই দুই উপজেলার তিন জনগোষ্ঠীর; অন্য জনগোষ্ঠী বা অন্য জেলার বেলায় প্রযোজ্য ধরা যায় না।

পাহাড়ে চিকিৎসকের পদ কত শূন্য?

তিন জেলার মোট হিসাব পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের 31 পদের বিপরীতে কর্মরত 22 জন (প্রথম আলো, জুলাই 2025)। The Daily Star-এর 9 এপ্রিল 2025-এর সম্পাদকীয় অনুযায়ী বান্দরবান জেলায় চিকিৎসকসহ 300-র বেশি জনবলের ঘাটতি আছে, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের প্রায় 59% পদ শূন্য।

বাংলাদেশ কবে ম্যালেরিয়ামুক্ত হবে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের 2024–2030 মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার লক্ষ্য 2027 সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানো এবং 2030 সালের মধ্যে রোগটি নির্মূল করা। অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) এপ্রিল 2026-এ বলেছেন, তাঁরা লক্ষ্যের পথেই আছেন। সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক এম এ ফয়েজ দুটি লক্ষ্যকেই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলেছেন; 2025 সালে মৃত্যু হয়েছে অন্তত 16 জনের।

সাজেকে হামে কত শিশু মারা গিয়েছিল?

2020 সালের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনের তারিখভেদে আলাদা। The Daily Star বাংলা 20 মার্চ 2020-এ 5 শিশুর, বাংলা ট্রিবিউন 23 মার্চে 6 শিশুর মৃত্যুর কথা জানায়। The Business Standard 7 এপ্রিল 2020-এ লেখে, 16 ফেব্রুয়ারি থেকে 31 মার্চের মধ্যে 9 শিশু মারা গেছে এবং 200-র বেশি শিশু আক্রান্ত। আক্রান্ত পাড়াগুলোর বেশির ভাগ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর।

রাঙামাটিতে কি ডায়ালাইসিস করা যায়?

প্রথম আলোর 16 জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট, আইসিইউ বা সিসিইউ নেই; কিডনি রোগীরা প্রায় 60 কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রামে যান। নতুন ছয়তলা ভবনে ডায়ালাইসিস ও 20 শয্যার আইসিইউর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, কিন্তু The Daily Star-এর 26 ফেব্রুয়ারি 2026-এর সম্পাদকীয় অনুযায়ী জনবলের অভাবে তখনো সেখানে সেবা শুরু হয়নি।

পাড়াকেন্দ্রে কী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়?

UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় 4,000 পাড়াকেন্দ্র আছে, যার প্রায় 1,000টি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আউটরিচ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি-পরামর্শ, অণুপুষ্টি-সম্পূরক এবং নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। কেন্দ্রগুলোর আরেকটি কাজ 3–6 বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল কত শয্যার?

খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল 100 শয্যার। প্রথম আলোর 3 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2 আগস্ট সেখানে ভর্তি ছিলেন 230 জন, আর দিনে প্রায় 600 থেকে 2,000 রোগী সেবা নিতে আসেন। 250 শয্যার নতুন ভবনের কাজ শুরু হয় জানুয়ারি 2019-এ, শেষ হওয়ার কথা ছিল 2024 সালে; আগস্ট 2026 পর্যন্ত কাজ হয়েছে প্রায় 75%।

2025 সালে ম্যালেরিয়ায় কতজন মারা গেছেন?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী 2025 সালে বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ায় অন্তত 16 জনের মৃত্যু হয়েছে, যা 2016 সালের 17 জনের পর সর্বোচ্চ। তাঁদের 11 জন মারা যান চট্টগ্রামের হাসপাতালে, 2 জন কক্সবাজারে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে 1 জন করে, আর ঢাকার কেন্দ্রীয় তালিকায় 1 জন। মৃতদের 6 জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিলেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • তিন জেলার স্বাস্থ্য-অবকাঠামোর পূর্ণ সরকারি হিসাব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা, মোট শয্যা এবং অনুমোদিত বনাম কর্মরত চিকিৎসকের জেলাভিত্তিক হিসাব পাওয়া যায়নি। এই পাতার হাসপাতাল-অংশ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি সদর হাসপাতাল নিয়ে সংবাদ-প্রতিবেদনের ওপর।
  • বান্দরবান সদর হাসপাতালের জনবল। সংখ্যাগুলো একটিমাত্র সংবাদ-উৎসের; যাচাই করা যায়নি।
  • খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ও কর্মরত সংখ্যা জানা যায়নি।
  • 2023 ও 2024 সালের পূর্ণ বছরের ম্যালেরিয়া রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা পাওয়া যায়নি। 2018 ও 2019 সালের রোগীসংখ্যায় দুই উৎসে সামান্য অমিল আছে (10,482 ও 10,523; 17,219 ও 17,225)।
  • জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির নিজস্ব প্রতিবেদন। এখানকার সব ম্যালেরিয়া-সংখ্যা সংবাদ ও গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত; কর্মসূচির মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলানো যায়নি।
  • সাজেকের হামে মৃত্যুর চূড়ান্ত সংখ্যা। 9 সংখ্যাটি একটি উৎসে সাজেকের, আরেকটিতে তিন জেলার মোট; প্রাদুর্ভাব শেষে কোনো সরকারি চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। ঘোষিত নয় মাসের টিকা-কর্মসূচি ও পাঁচটি ক্লিনিকের প্রস্তাবের পরিণতিও জানা যায়নি।
  • শিশুমৃত্যুর হার। UNICEF-এর ছকের বছর ও উৎস অজানা; টিকার আওতা, খর্বতা ও দক্ষ হাতে প্রসবের জেলাভিত্তিক জরিপ-সূচক এই পাতায় নেই।
  • ম্রো, খুমি, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, চাক ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর মাতৃস্বাস্থ্য। যে দুটি গবেষণা পাওয়া গেছে তা কেবল খাগড়াছড়ির চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নারীদের নিয়ে।
  • বেসরকারি ও মিশনারি হাসপাতাল, এনজিও-র ক্লিনিক ও সেনাবাহিনীর চিকিৎসা-শিবির। এগুলোর সংখ্যা, অবস্থান ও সেবার পরিধি নিয়ে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি; তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম এখানে নেওয়া হয়নি।
  • প্রথাগত চিকিৎসা। বৈদ্য ও ভেষজ চিকিৎসার ধরন জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা; এ নিয়ে জনগোষ্ঠীভিত্তিক কোনো উৎস এই পাতায় ব্যবহার করা যায়নি।
  • স্বাস্থ্য বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরের সাল ও পরিধি। আর্কাইভের লেখায় কেবল হস্তান্তরের কথাটুকু আছে।
  • পাড়াকেন্দ্রের বর্তমান সংখ্যা এবং 2019-এর পরে সেগুলোর অর্থায়নের অবস্থা জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ

  1. জুমজার্নাল। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী (“স্বাস্থ্য-চিকিৎসায় আদিবাসী পাহাড়ি নারী” অংশ)।
  2. জুমজার্নাল। জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ ও হাসপাতাল সম্প্রসারণ (18 জুলাই, 1974)। মূল উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিতর্ক, খণ্ড 2, সংখ্যা 34।
  3. জুমজার্নাল। জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: মেডিকেল কলেজে চর্ম ও যৌনরোগের অধ্যাপক (22 জানুয়ারি, 1974)।

গবেষণাপত্র ও সংস্থার প্রতিবেদন

  1. Akter S. ও অন্যান্য। Access to maternal healthcare services among Indigenous women in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh: A cross-sectional study। BMJ Open, 2019।
  2. Akter S. ও অন্যান্য। Barriers to accessing maternal health care services in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh: A qualitative descriptive study of Indigenous women’s experiences। PLoS One, 15(8): e0237002, 2020।
  3. Matin M.A., Sarkar N.D.P., Phru C.S. ও অন্যান্য। Precarity at the Margins of Malaria Control in the Chittagong Hill Tracts in Bangladesh: A Mixed-Methods Study। Pathogens, 9(10): 840, 2020।
  4. UNICEF Bangladesh। Many Tracts One Community: UNICEF’s Work in the Chittagong Hill Tracts। আগস্ট 2019।
  5. APLMA। Malaria and Climate in Bangladesh। 29 মে 2026।
  6. বাংলাপিডিয়া। Kaptai Lake।
  7. বান্দরবান জেলা তথ্য বাতায়ন। জেলা পোর্টালের পরিচিতি-পাতা।

সংবাদ-প্রতিবেদন

  1. সুজন ঘোষ। রাঙামাটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা নেই। প্রথম আলো, 16 জুলাই 2025।
  2. সম্পাদকীয়। চার দশক পরেও কেন মৌলিক সেবার অভাব। প্রথম আলো, 17 জুলাই 2025।
  3. প্রথম আলো। ৮ বছরেও নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়নি, বারান্দা-মেঝেতে চলছে রোগীদের চিকিৎসা। 3 আগস্ট 2026।
  4. পার্থ শঙ্কর সাহা। পার্বত্য তিন জেলায় ম্যালেরিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রথম আলো, 10 জুলাই 2023।
  5. Editorial। Make new Rangamati hospital building operational। The Daily Star, 26 ফেব্রুয়ারি 2026।
  6. Editorial। Make upazila health complexes effective। The Daily Star, 9 এপ্রিল 2025।
  7. তুহিন শুভ্র অধিকারী। ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ১৬, আক্রান্ত ১০ হাজার: লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে বাংলাদেশ। The Daily Star বাংলা, 19 এপ্রিল 2026।
  8. The Daily Star বাংলা। সাজেকে ১৩০ শিশু হামে আক্রান্ত। 20 মার্চ 2020।
  9. সঞ্জয় কুমার বড়ুয়া। বাংলাদেশে এখনও হামে শিশু মরে পাহাড়ে। The Daily Star বাংলা (মতামত), 31 মার্চ 2020।
  10. বাংলা ট্রিবিউন। সাজেকে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু। 23 মার্চ 2020।
  11. The Business Standard। Facts behind the measles outbreak in Sajek। 7 এপ্রিল 2020।
  12. The Financial Express। Three CHT districts witness 93pc deaths from malaria। 24 এপ্রিল 2018।
  13. ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, কবিরাজেই ভরসা স্থানীয়দের। 26 মার্চ 2024।
  14. ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দুশ্চিন্তা। 6 আগস্ট 2026।
  15. খবর সংযোগ। সংকটে বান্দরবান সদর হাসপাতাল। 4 আগস্ট 2024।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা