Jumjournal Logo

জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: রাষ্ট্রপতির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং বৈধতার প্রশ্ন (১ এপ্রিল, ১৯৭৩)

Last updated Sep 23rd, 2026

0

Featured image

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিতর্ক — খণ্ড ১ সংখ্যা ৩
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ১৯৭৩
বিষয়: রাষ্ট্রপতির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং বৈধতার প্রশ্ন


শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার সাহেব, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আমরা কয়েকজন যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলাম, সেই প্রস্তাবের বিপক্ষে মাননীয় সদস্য জনাব তাহের উদ্দিন ঠাকুর এবং মাননীয় সদস্য জনাব আব্দুল মমিন তালুকদার যে উক্তি করেছেন এবং সে সম্বন্ধে বক্তব্য রেখেছেন—বিশেষ করে মাননীয় সদস্য আব্দুল মমিন তালুকদার যে ৮২ নম্বর বিধি এবং ৮৪ নম্বর বিধির উল্লেখ করেছেন, সে সম্বন্ধে আমি মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে এই কথা জানাতে চাই যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ কি আইন-প্রণয়নের জন্য জাতীয় পরিষদে বিল—আকারে উত্থাপন করা হয়েছে, না আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের যে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে সেটা সেই কার্যক্রমের জন্য আমাদের পথ-নির্দেশনামা?

রাষ্ট্রপতির ভাষণে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা আলোচনার জন্য যদি কোন সদস্য সংশোধনী-আকারে কোন কিছু উত্থাপন করেন, তাহলে সে সম্বন্ধে আমি কিছু বক্তব্য রাখছি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর কার্যপ্রণালী-বিধির ৩৪ নম্বর বিধির (৩) নম্বর উপবিধির যে উপমা দেওয়া হয়েছে, তা ঠিকই দেওয়া হয়েছে। এতে বিষয়টি আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় সদস্য জনাব তাহের উদ্দিন ঠাকুর তাঁর বক্তব্যে বলেছেন যে, আমরা যে ঐতিহ্য রেখে যাব, তা যেন আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরেরা যুগ যুগ ধরে বহন করে। আমরাও তাই চাই৷ আমি আপনার মাধ্যমে বলতে চাই যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা বাণীর উপর আলোচনার বিষয়ে কার্যপ্রণালী-বিধির ত্রয়োদশ অধ্যায় অপেক্ষা সপ্তম অধ্যায়ই বেশি প্রযোজ্য। কার্যবিধির সপ্তম অধ্যায়টাই এখানে গ্রহণ করা ঠিক হবে এবং এটা গ্রহণ করলে আমরা ভবিষ্যতে এগিয়ে চলার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করত পারব।

আমি এ বিষয়ে আপনার সুস্পষ্ট নির্দেশ পেতে চাচ্ছি।

ধন্যবাদ।

শ্রী লারমা : জনাব স্পিকার সাহেব, বৈধতার প্রশ্ন।

আমি আমাদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২২ নম্বর বিধির প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখানে বৈঠকের সময় নির্ধারিত করা হয়েছে।

জনাব স্পিকার : শ্রী লারমা, আপনি বসুন। আগে ১২ নম্বর সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হোক। …১৪, ১৫, ১৬ নম্বর সংশোধনী প্রস্তাব, শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।

শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার, স্যার, আমি আপনার নিকট একটু আগে যে বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম…

জনাব স্পিকার : আপনি আপনার সংশোধনী-প্রস্তাব উত্থাপন করবেন কিনা?

শ্রী লারমা : উত্থাপন করবো।

মাননীয় স্পিকার, স্যার, আমার ১ নম্বর প্রস্তাব হল :

‘ধন্যবাদ-প্রস্তাবের সঙ্গে নিম্নরূপ কথাগুলো যোগ করা হোক :

‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, সমাজের সবচেয়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মা-বোনদের যাঁরা নিষিদ্ধ পল্লীর অলিতে-গলিতে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন, তাঁদেরকে অতিসত্ত্বর সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিতভাবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান লাভ করেনি।’

জনাব স্পিকার : আপনার বাকি সংশোধনী-প্রস্তাবগুলি আপনি উত্থাপন করে যান।

শ্রী লারমা : আমার ২ নম্বর প্রস্তাব হচ্ছে :

‘ধন্যবাদ প্রস্তাবের সঙ্গে নিম্নরূপ কথাগুলি যোগ করা হোক : “কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণে ‘বিদেশী পুঁজি আকর্ষণ করা দরকার’ কথাটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

আমার ৩ নম্বর প্রস্তাব হল :

‘ধন্যবাদ–প্রস্তাবের সঙ্গে নিম্নরূপ কথাগুলি যোগ করা হোক :

‘পাকিস্তানের যে হানাদার বাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে, আজো সেই হানাদারদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করা হয়নি এবং দুঃখের বিষয় এই বিচার কবে এবং কখন করা হবে, সেই কথাটা রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান লাভ করেনি।’

প্রসঙ্গ:এমএন লারমা, জুম্ম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা