Jumjournal Logo

জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: জুম খাজনা ও বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা (২৩ জুন, ১৯৭৩)

Last updated Sep 24th, 2026

0

Featured image

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিতর্ক — খণ্ড ২ সংখ্যা ১৭
তারিখ: শনিবার, ২৩ জুন, ১৯৭৩
বিষয়: পার্বত্য চট্টগ্রাম জুমচাষী


শ্রী লারমা : ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করিয়া বলিবেন কি

(ক) পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম চাষীদের জুম খাজনা মাফ করার কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়াছে কিনা;

(খ) যদি (ক) প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ-সূচক হয়, তাহা হইলে ইহা কার্যকরী করার পথে কোন প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা; এবং

(গ) যদি কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হইয়া থাকে, তাহা হইলে তাহা দূর করার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে কিনা?

জনাব আব্দুর রব ছেরনিয়াবাত : (ক) না। ইহা পরিবার পিছু কর হিসাবে আদায় করা হয়, জমির উপর খাজনা হিসাবে নয়।

(খ) ও (গ) (ক) প্রশ্নের উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্নগুলি প্রযোজ্য নহে।

বিষয় : ব্যাংক ডাকাতি

শ্রী লারমা : (ক) অর্থমন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করিয়া বলিবেন কি, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর হইতে এই পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক হইতে মোট কত টাকা ডাকাতি হইয়াছে?

(খ) ডাকাতি টাকার মধ্যে মোট কত টাকা এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হইয়াছে?

জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ : (ক) ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর হইতে ১৯৭৩ সালের ২০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক হইতে মোট ৩৭,৬৭,৪২২.২২ টাকা ডাকাতিতে লুণ্ঠিত হইয়াছে।

(খ) ডাকাতিতে লুণ্ঠিত টাকার মধ্য হইতে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে মোট ৬,২০,৮৫০.০০ টাকা উদ্ধার করা হইয়াছে।

বিষয় : বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা

জনাব স্পিকার : মি. মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।

আপনি সংক্ষেপে শেষ করবেন।

শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমাকে কি দশ মিনিটের সীমার মধ্যে রাখতে চান?

জনাব স্পিকার : না, পনের মিনিট। আচ্ছা, আপনি সংক্ষেপে বলতে শুরু করুন।

শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার সাহেব, আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আজ জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম উপস্থাপিত বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করছি। এই মহান জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করার জন্য জনাব তাজউদ্দিন আহমেদকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমরা আজ এমন এক সময়ে উপনীত হয়েছি, যখন দেশে সার্বিক উন্নয়নের জন্য দেশের যাবতীয় সমস্যা ও বাধা-বিঘ্ন প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় পদক্ষেপ, যে দৃঢ় পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছিলাম ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময়ে। সেই সংবিধানে আমরা বাংলাদেশের যে উজ্জল ভবিষ্যতের চিত্র এঁকেছিলাম, সেই চিত্রকে বাস্তবায়িত করার জন্য যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাকল্পে যে বাজেট আজকে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে, সেই বাজেট আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে কতটুকু সফলকাম হবে, বিষয়ে কয়েকটা কথা এই মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছি।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় তাঁর বাজেট বক্তৃতায় যে কথা বলেছেন, তা উল্লেখ না করে পারি না। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, জনগণ বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে জাতীয় মুক্তি অর্জন করেছেন, দুর্গম পথ পেরিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌছাবেনই।’ মাননীয় স্পিকার সাহেব, নিশ্চয়ই পৌছাবেন। তাই মাননীয় অর্থমন্ত্রীর আকুল আহ্বানে সুরে সুর মিলিয়ে একথা আজ আমি ব্যক্ত করতে চাই যে, যে বাজেট সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই বাজেটে সত্যিকারভাবে সংবিধানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটুকু সফলতা বয়ে এনেছে এটাই বিবেচনার বিষয়।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমরা অঙ্গীকার করেছি যে, এমন একটা শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করব, যেখানে সকল নাগরিকের আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিত হবে। মাননীয় স্পিকার সাহেব, সেই শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে যে বাজেট এই মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন, তাতে এই প্রতিশ্রুতি কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? আমি এই বাজেটকে ‘নেগেটিভ’ হিসেবে ধরছি না। এখানে বিবেচ্য বিষয় এই যে, এই বাজেট আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কতটুকু সফলতা বয়ে এনেছে, যে সফলতার উপর নির্ভর করে আগামী বৎসর, তার পরবর্তী বৎসর, এমনি করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার পরবর্তী বৎসরগুলি সফলতা।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, বাজেটে অর্থমন্ত্রী কোন লুকোচুরি করেন নাই। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, খাদ্য-ঘাটতি সব কিছুই খুলে বলেছেন। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, বিদেশ থেকে খাদ্য না আনলে খাদ্য-ঘাটতি পূরণ হবে না। মাননীয় স্পিকার সাহেব, যে কথাটা আমাদের মনে বাজে সে কথাটা হলো—আমাদের অভাব অপরিসীম, আমাদের সমস্যা অসংখ্য। হাজারো সমস্যার মোকাবেলা করেই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো। সংবিধানের মাধ্যমে যে সুখী জীবন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি, সে প্রতিশ্রুতি বাজেটে সংরক্ষিত হয়েছে কিনা সেটাই বিবেচ্য বিষয়। বাজেটে একটা বৎসরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সেখানে গলদ রয়েছে। সে গলদটা হলো, যে শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম সে সম্বন্ধে বাজেটে পুরাপুরি দুর্বলতা রয়েছে।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, এই দুর্বলতা কথাটা বলার সাথে সাথে একটা ছবি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সে ছবিটা হলো, যখন কেনাকাটা করার জন্য কোন দোকানে আমরা যাই, দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দেখা যায় কয়েকজন ছিন্নবস্ত্র পরিহিত লোক এসে বলছে, ‘স্যার, দুইটা পয়সা দেন’। আজ এই বাস্তব জীবনের ছবি নিয়ে যেখানে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে, সেখানে ঐ সমস্ত লোকের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোন নিশ্চয়তা নাই। সুতরাং যে ভিখারী, সেও মানুষ; আর আমি যে এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছি, আমিও মানুষ। কিন্তু এই দুই মানুষের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই দুইয়ের পার্থক্য ঘুচিয়ে দেবার পরিকল্পনা এই বাজেটে স্থান লাভ করেনি। সংবিধানে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাই এই বাজেট শ্রেষ্ঠ সমাজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মূল্যায়ন এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বাস্তবায়নের কথা এই বাজেটের বক্তৃতায় পরিষ্কারভাবে বলেননি। ১৯৭৩-৭৪ সালের বার্ষিক বাজেট সমাজতন্ত্রে রূপান্তরের প্রথম পদক্ষেপরূপে আগামী পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন— এটা তিনি তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন।

সুতরাং পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের সাথে সামাজিক পরিকল্পনা, আমাদের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির জন্য সার্বিক জীবনের আদর্শের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই দিতে হবে। সেই পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রথম বৎসর প্রথম বাজেটে সে প্রতিশ্রুতি যা সংবিধানে দেওয়া হয়েছিল—মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার অধিকার পাবে— আজকের বাজেটে তা কি উল্লেখ করা হয়েছে? বিশেষ করে কৃষি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক যে সমস্ত বিষয় আছে, তার সম্বন্ধে কতটা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের বিবেচনা করতে হবে। আর এ সমস্ত বিষয়ের সাথে জমি ও সম্পদ বন্টন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্পদ বন্টন যদি সত্যিকারভাবে না হয়, তাহলে সব কিছুই ব্যর্থ হবে। তাই এই বাজেটে আয়-ব্যয়ের যে হিসাব শিক্ষা খাতে, স্বাস্থ্য খাতে, প্রতিরক্ষা খাতে, জনকল্যাণ খাতে বা শিল্প খাতে দেখান হয়েছে, যে অর্থ এ সমস্ত খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে জড়িত সম্পদ বন্টনের সাথে। সেই সম্পদ বন্টন কি ধরনের হবে, তার জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হবে, সেই আইনের কিছুই আজ আমরা জানি না। সেই আইন যদি সম্পূর্ণ না হয়, তবে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না৷ সংবিধানে তিন প্রকার মালিকানার ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন- রাষ্ট্রীয় মালিকানা, সমবায়ী মালিকানা ও ব্যক্তিগত মালিকানা। এগুলো পরিষ্কারভাবে কি ধরনের হবে, এখনও সে জন্য কোন আইন করা হয়নি। এই বাজেট পেশ করার আগে দেশের রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী, ব্যক্তিগত মালিকানা কি ধরনের হবে, তা একটা পরিষ্কার আইনের মাধ্যমে প্রত্যেককে জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। যেমন—জমির মালিকানা একশত বিঘা করা হয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত মালিকানা কত হাজার বা কত লক্ষ টাকা হবে, সমবায়ী মালিকানা কত লক্ষ বা কত কোটি টাকা হবে, সেগুলো ঠিক করার উপরই সংবিধানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নির্ভরশীল।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আয়-ব্যয়ের হিসাবে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যদিও তা গত বছরের তুলনায় বেশি, কিন্তু এ বছর কর ধার্য করেছেন অনেক টাকা। অবশ্য এ কথা আমি স্বীকার করি যে, জনসাধারণের উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য কর ধার্যের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের উন্নতির পথে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত সেই টাকা যদি দেশের সত্যিকার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় না হয় এবং সেই টাকা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাদের পরিশ্রমের সুফল না পায়, তাদের কঠোর হাঁড়-ভাঙ্গা খাটুনির ফল না পায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মন হতাশায় এবং নিরাশায় ভেঙ্গে যাবে। আয়-ব্যয়ের উন্নয়ন খাতে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তাতে দেশের সার্বিক উন্নতির কোন ব্যবস্থা হয়নি।

দেশের জনগণ চাই যে, তাদের পরিশ্রম দ্বারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন সার্থক হবে। বাজেটের আগে দেশের সংবিধান প্রণয়ন হয়েছে। সেই সংবিধান কার্যকর করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যদি এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরি, তাহলে দেশের পর্বত-প্রমাণ সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা হয়নি বলা চলে। আজ দেশের বাস্তু-হারাদের সমস্যা, ভিক্ষুকদের সমস্যা, তারপর কুলি-মজুরদের সমস্যা, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবন-যাপন করে, সেই কৃষকদের সমস্যা কিভাবে সমাধান হবে, তার কোন ব্যবস্থা এই বাজেটে আমরা পাইনি। আমি আগেই বলেছি, এই বাজেটকে আমি ‘নেগেটিভ’ হিসেবে নিতে চাই না বা Negative হিসেবে ব্যবহার করবো না।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, যে প্রতিশ্রুতি সংবিধানে দেওয়া হয়েছে, তা যদি দেশের লোক হাঁড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও না পায়, তাদের দু’মুঠো ভাত খাবার অধিকার যদি তারা না পায়, তারা যদি লেখাপড়া করে মানসিক পরিবর্তন না করতে পারে, তারা যদি অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও চিকিৎসা, যার জন্য সংবিধানে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যার জন্য জনগণ দীর্ঘদিন যাবত আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করে আসছে, তা যদি না পায়, তবে আমাদের অবস্থা কি হবে? তাই যে প্ৰতিশ্ৰুতি আমরা মানুষকে দিয়েছি, তা বাস্তবায়িত করতে হবে, দেশের সমস্যার সমাধানও করতে হবে। দেশের শোষণভিত্তিক অর্থনীতিকে ভেঙ্গে আস্তে আস্তে করে সম্পদের অধিকার জনগণকে দিতে হবে। এটা অবশ্য এক দিনে সম্ভব নয়, এক বছরে সম্ভব নয়, এর জন্য দীর্ঘ দিনের সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই এই ভুল যাতে আমরা প্রথম থেকেই না করে বসি, সেই প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা এই বাজেটে দেওয়া উচিত ছিল।

বাজেট হলো একটা রাষ্ট্রের এক বৎসরের কাঠামো, তার জীবন, তার প্রাণ। এই কাঠামোকে যদি প্রথম থেকেই সুদৃঢ়তার সাথে গড়ে না তুলি, তাহলে এক ধাক্কায় তাসের ঘরের মত তা ভেঙ্গে পড়বে। যেসব সমস্যা নিয়ে আমাদের অহরহ চলতে ফিরতে হয়, যেসব সমস্যা আমাদের চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সেসব সমাধান করে প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে দিতে হবে৷ অর্থমন্ত্রী শিক্ষা খাতে বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ করেছেন, সেটা সমগ্র বাজেট বরাদ্দের শতকরা ২০ ভাগ। এটা অন্যান্য খরচের বরাদ্দের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে হয়। কিন্তু এখানে আমার আপত্তি। সেই আপত্তি হলো, শিক্ষা খাতে টাকা যে জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, তা কার্যকরী করার জন্য আমাদের মানসিকতা আছে কিনা। আমিও এককালে আমাদের দেশের গ্রামের এক স্কুলে মাষ্টার ছিলাম। আমি জানি District Education Officer, District Inspector of School, থানা Education Officer এদের কারোর আগের সেই মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি।

কুখ্যাত মোনেম খান, ঘৃণ্য আইয়ুব খানের আমলের সেই মানসিকতা তাদের এখনও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ কোর্ট-কাছারীতে দেওয়া যায় না, কারণ এ সকল কর্মচারীদের সুচতুর বুদ্ধিমত্তায় সেসব সরাসরি প্রমাণ করা যায় না। তাই দেশের মানুষ যদি প্রকৃত শিক্ষা না পায়, তাহলে কোন রাষ্ট্রেই, কোন জাতিই ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না। তাই সুশিক্ষার দিকে আজ আমাদের নজর দিতে হবে। দৃষ্টি দিতে হবে।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আজকে মাননীয় অর্থমন্ত্রী শিক্ষার দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছেন, এ কথা সত্যি, এটা ভালো এবং এটা সুন্দর। সেটাকে বাস্তবায়িত করতে হলে শিক্ষার কাঠামোকে ঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আজকে দেশের মধ্যে দুই রকমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখতে পাই—একটা হলো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আর একটা হলো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা অবিলম্বে দূর করতে হবে। আজ বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জীবনযাপন কি রকম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তা যদি কেউ শিক্ষকতা না করে থাকেন, তাহলে বুঝবেন না। আমি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেছি বলে আমার সে অভিজ্ঞতা আছে। বেসরকারি কলেজও আজকে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি পরিকল্পনামত পুনর্বিন্যাস করা না হয়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে যাবে। যেমন—আজকে পরীক্ষা যেটা, সেটা বাস্তবে পরীক্ষা নয়। আজকে যেটাকে পরীক্ষায় নকল করা বলা হয়, আসলে সেটা নকল নয়, যে যত বেশি পারে সোজাসুজি বই বের করে দেখে দেখে লিখে দেয়। এই মানসিকতার যাতে পরিবর্তন হয়, তার জন্য উপযুক্ত শিক্ষার দরকার।

এখানে একটা বেসরকারি কলেজের উদাহরণ দিচ্ছি। রাঙ্গামাটিতে ১৯৭২ সন পর্যন্ত একটি মাত্র সরকারি মহাবিদ্যালয় ছিল। আরো একটি কলেজের প্রয়োজন ছিল বলে কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি মিলে ঠিক করলেন একটা বেসরকারি নাইট কলেজ খুলতে হবে। কিন্তু টাকা পয়সা নাই। যা হোক কোন রকম করে একটা বেসরকারি কলেজ খোলা হলো। প্রিন্সিপালের বেতন ধার্য হল ১৫০ টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষকদের বেতন ১০০ টাকা। কিন্তু সেই টাকা বেতন হিসেবে নয় Honorarium হিসেবে দেওয়া হবে। এ ধরনের হলে ছাত্র-ছাত্রীরা কি ধরনের শিক্ষাই বা লাভ করবে? তাই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান না ঘটালে এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন না করলে, সেই শিক্ষা মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না এবং কোন ফল হবে না; যে ধরনের সরকারই আসুক-না-কেন দেশের কোন পরিবর্তন আনতে পারবে না। দুর্নীতিপরায়ণ মানুষ দেশের উন্নতি কামনা করে না। পুলিশ, দারোগা থেকে আরম্ভ করে রাজনৈতিক নেতা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যদি দুর্নীতি প্রবেশ করে, তবে সেটা দূর করতে না পারলে সুস্থ সমাজ গড়ে উঠতে পারে না এবং সেই মানসিক পরিবর্তন আনতে পারে একমাত্র সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা।

আমাদের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার দরুন সমাজে একটা Vacuum বিরাজ করছে। সেই শূন্যতা পূরণ করতে হবে। আজকে যদি দুর্নীতিকে সমাজ থেকে দূর করতে আমরা সচেষ্ট না হই, তাহলে আগামী দিনের মানুষ দুর্নীতিপরায়ণ যারা, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করবে। নিপীড়িত কৃষক-শ্রমিক আবার বলবে—আমাদেরকে মানুষের মত বাঁচার অধিকার দিতে হবে। যারা রেলের চাকা ঘুরাচ্ছে, যে শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করছে, জলে ভিজে, রোদে পুড়ে যে কৃষক-সমাজ চাষাবাদ করছে, আজকের সমাজে তাদের কোন অর্থনৈতিক উন্নতি নাই। বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের, কৃষক-সমাজের যদি উন্নতি না করতে পারি, তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে সোনার ফসল ফলে, সেই মাটিকে যদি জীবনের সাথে মিশিয়ে না নিই এবং সোনার ফসল উৎপাদনকারী কৃষককে যদি মূল্য না দিই, তাহলে কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে? সম্পত্তি বন্টনের হিসাব-নিকাশের আগেই আইন করে দেয়া উচিত ছিল কার ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি ধরনের এবং কি পরিমাণ হবে। কৃষককে যদি সমবায়ের ভিত্তিতে জমি বন্টন করা না যায়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। তৎকালীন আইয়ুব-মোনেমের আমলে সমবায় নিয়ে মানুষের মনে একটা ভুল ধারণা আছে। দুর্নীতিপরায়ণ লোক তখনকার দিনে সমবায় পরিচালনা করছিল। কিন্তু আজকে যদি আমরা দুর্নীতি-মুক্ত সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন করতে পারি, আমাদের লক্ষ লক্ষ একর জমি সুন্দরভাবে চাষ করি, তাহলে আমাদের খাদ্য-ঘাটতি দূর হয়ে যাবে।

একটা উদাহরণ দিব। আমাদের পানছড়ি গ্রামের নিকটে একটি এলাকায় একটা ছোট নদী লতিবান ছড়ায় বাঁধ দেয়া হবে শুনে কৃষকরা ঠিক করল সেখানে মাটি কাটতে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল—গরিব মানুষগুলি বলতে লাগল—কাজ করে কি করব? আমরা তো আর জমি পাব না।’ অর্থাৎ গরিব চাষী জমিতে কোন অধিকার পাবে না। যাদের জমি বেশি আছে, তারাই এই জমি ভোগ করবে। এ বাঁধের পানি দিয়ে জমিতে ফসল ফলাবে সারা বছর। তখন একটি কমিটি গঠন করে ঠিক করা হলো, যাদের জমি নেই, তারাও চাষের জন্য জমি ভাগ পাবে।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ একর ধানের জমি রয়েছে। সেই জমি সমবায়ের মাধ্যমে যদি চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করা হয়, তবে খাদ্যের জন্য আমাদের পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। আমাদের এই ধানী জমি কৃষক-মজুরের ভাত-কাপড় যোগাতে পারবে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন খাদ্য-ঘাটতি পূরণের জন্য আমাদেরকে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমি বলব, আমরা কেন শুধু বিদেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকব। আমরা যাতে আত্মনির্ভশীল হতে পারি, সেজন্য আমাদের ধানী জমির মালিকানা সমবায়ের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত। তার ফলে কৃষক জমির মালিক হবে এবং অধিক ফসল ফলাতে যত্নবান হবে এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা সত্যিকারভাবে প্রতিফলিত হবে। তাহলে দেশের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। যারা কল-কারখানায় কাজ করেন, যারা সরকারি চাকরি করেন তারা বলেন চাউলের দাম বেশি। খাদ্যের দাম যদি বেড়ে যায়, তাহলে তার সাথে সাথে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, এই খাদ্য ঘাটতি দূর হতে পারে। এবং জিনিসপত্রের দাম যে বেড়ে যাচ্ছে, তা আস্তে আস্তে কমে যাবে। এরপর আসছে শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা বিষয় সম্বন্ধে।

জনাব স্পিকার : আপনি দীর্ঘ সময় নিয়েছেন। আমার মনে হয় আপনি আপনার বক্তৃতা শেষ করেছেন।

শ্রী লারমা : মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমার বক্তৃতা লম্বা করব না; কয়েকটি প্রয়োজনীয় কথা বলেই শেষ করব।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাজেটের শতকরা ১৬ ভাগ প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ করেছেন।

মানুষের বেঁচে থাকা যেমন প্রয়োজন, রাষ্ট্রের পক্ষে দেশরক্ষাও তেমনি প্রয়োজন। সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করেছেন বলে ঘোষণা করেছেন; আমরা কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হব না; সব রাষ্ট্রই আমাদের বন্ধু। কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকে যায় আত্মরক্ষার। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। তাই দেশ রক্ষার জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। ডিফেন্স বাজেট করা হয়েছে ৪৭ কোটি মাত্র—জল, আকাশ এবং স্থলবাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র-এ সুসজ্জিত করতে হবে।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায় রক্ষীবাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ কোটি ৮২ হাজার টাকা। তারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবে। জল, আকাশ এবং স্থল—এই তিনটির হিসাবে দেখা যায় এক একটির জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আমার মনে হয় প্রত্যেক বাহিনীর জন্য এর ৩ গুণ অর্থাৎ ৪৮ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা প্রয়োজন ছিল। যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে, সিভিল গভর্নমেন্টকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবে, তাদের রণ-সম্ভার বেশি থাকবে। যারা শত্রুর সাথে মোকাবেলা করবে, তাদের থাকতে হবে Heavy arms and ammunition এবং এজন্য সুশিক্ষিত সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলার জন্য সরকারকে মনোনিবেশ করতে হবে। Defence-এর জন্য পাকিস্তান আমলে বাজেটের শতকরা ৮০ ভাগ ব্যয় করা হতো। আমি এতটা অনুরোধ করছি না।

আমার মনে হয় শতকরা ১৬ ভাগ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩০ ভাগ Defence Budget-এ বরাদ্দ করা উচিত ছিল। এতে ক্ষতি হতো না। মাননীয় স্পিকার সাহেব, রাষ্ট্রীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শিক্ষা, কৃষি, দেশরক্ষা এবং তারপর হচ্ছে শিল্প। সুতরাং, সরকার যদি এগুলোর প্রতি যথাযথ দৃষ্টি না দেন, তাহলে কোনদিনই মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমার কথা আর লম্বা করতে চাই না। সমাজকল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেটা বাজেটে আয়-ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। সব কিছুর সার্বিক মূল্যায়ন করতে হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সঠিকভাবে গড়ে না উঠলে মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা আসবে না। তারপর, জনাব স্পিকার সাহেব, নিষিদ্ধ পল্লীতে যারা পড়ে আছে, তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পণ্যদ্রব্যের মত অসহায় অবস্থায় তারা নিজের জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। সংবিধানে, Part II, যেখানে Fundamental Principles of State Policy-এ আছে, সেখানে Clause 18(2)-তে এই অবস্থা প্রতিকারের উল্লেখ আছে। আইন করে এই নীতিকে কার্যকরী না করলে সংবিধানে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মানবিকতার মূল্যায়ন করতে হবে।

সংবিধান করার সময় যদি আমরা এ বিষয়ে অনুধাবন করতে না পারতাম, তাহলে এই অনুচ্ছেদ সংবিধানে সন্নিবেশিত হতো না। তাই মাননীয় স্পিকার সাহেব, আপনার মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ করব আইন করে একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অসহায় নারীদের সমাজে পুনর্বাসন করতে হবে, যাতে তারা খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে এবং প্রকৃত মানুষের মত সমাজে বাস করতে পারে। আর একটা কথা, মাননীয় স্পিকার সাহেব, বাজেট বক্তৃতায় কোথাও কারাগারের আমূল সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কারা-জীবন সম্বন্ধে অনেকেরই কারাগারে কয়েদীরা যে কিভাবে বন্দী জীবন-যাপন করছে, যারা কারাগারে গিয়েছেন, তা-রা-ই তা পরিষ্কারভাবে জানেন। বিশেষ করে, তৃতীয় শ্রেণির বন্দীরা কিভাবে সেখানে জীবন-যাপন করছেন। তৃতীয় শ্রেণির বন্দীর সেটা জীবন নয়।

জনাব স্পিকার : শ্রী লারমা, আপনি কি কখনও কারাগারে গিয়েছেন?

শ্রী লারমা : আইয়ুব খান আমাকে ২ বৎসর জেলে রেখেছিলেন এবং ১ বৎসর গৃহে অন্তরীণ রেখেছিলেন।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আমি তৃতীয় শ্রেণির কয়েদী হিসেবে দুই বৎসর জেলে ছিলাম। নিরাপত্তা আইনে বন্দী হয়ে আমি জেলে যাই এবং আমাকে তৃতীয় শ্রেণির বন্দী হিসেবে রাখা হয়। ‘একখানা থালা আর ২ খানা কম্বল—এই হল জেলখানা সম্বল’ জেলখানার সবাই এই ছড়া বলত। যেখানে জীবন বলতে কিছুই নাই। সেখানকার কষ্টের কথা কত আর বলব। প্রথম প্রথম আমি প্রসাব পায়খানায় যেতে পারতাম না। একটা ড্রামের মধ্যে প্রসাব-পায়খানা, তাও আবার পর্দা নাই। জেলখানার সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন আজও হয় নাই। একটা লম্বা শেডে যে রকম অবস্থার মধ্যে মানুষকে রাখা হয়, সেখানে কোন মানুষ থাকতে পারে, সে কথা কেউ চিন্তা করতে পারবেন না। একজন যদি রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে বা অন্য কোন ফৌজদারী অপরাধে বন্দী হয়ে জেলে থাকে, তাহলে তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসার সুব্যবস্থা রেখে দেওয়া উচিত। জেলে যেসব Criminal আসামী থাকে, তাদের জন্যও এমন কোন ব্যবস্থা নাই যে, তারা জেল থেকে ফিরে এসে সৎ জীবন-যাপন করতে পারবে। একজন আসামী যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে জেলে থেকে ১২ বৎসর পরে যখন সে বাইরে আসে, তখন যে তার সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখে না। একেবারে বৃদ্ধ বয়সে ফিরে এসে তার বাঁচার কোন অবলম্বন থাকে না। একজন অপরাধ করে জেলে গেলে জেল থেকে তাকে ঠিকভাবে পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা সরকার করেন না। জেলে থাকাকালে তার অপরাধ-প্রবণতা থেকে তাকে মুক্ত করার কোন চেষ্টা করা হয় না।

মাননীয় জজ সাহেব বিচার করে একজন খুনীকে জেলে পাঠালেন বা চোরকে জেলে পাঠালেন। সে কারাগারে গেল। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হলো না। এ পর্যন্ত কতজনের প্রাণদণ্ড হলো, কতজনের সশ্রম কারাদণ্ড হলো, কিন্তু তবুও কি অপরাধের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হলো? তাই দেখতে হবে সমস্যা কোথায়। মানুষ যদি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারে তাহলে সে অপরাধ করে না। আজকে মানুষের সামনে যে প্রধান সমস্যা রয়েছে, সেগুলি আমি জাতীয় সংসদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

আজকে প্রশ্ন হলো যে, দেশকে যদি উন্নতির পথে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে একটা মৌল পরিবর্তনের প্রয়োজন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা—এই প্রধান সমস্যা দূর করতে পারলে সব সমস্যাই সমাধান হয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে কর আরোপের ব্যবস্থা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ছাতার কাপড়ের উপর কর এবং ছাতার শিকের উপর কর। এ সম্বন্ধে অনেক সদস্য আলোচনা করেছেন। ছাতা এমনিতে আমাদের দেশে ৩৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। তার উপর যদি ছাতার কাপড় এবং শিকের উপর কর আরোপ করা হয়, তাহলে তার দাম অনেক বেড়ে যাবে। বাজেট পাস হবার আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরকারের উচিত এইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা যারা আমাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র আঁটছে, তাদেরকে উৎখাত করে সাবলীল জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মপন্থা গ্রহণ করা।

‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ প্রকাশিত একটি আবেদনে বলা হয়েছে যে, কর আরোপের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিতে উৎপন্ন দ্রব্যের মূল্য যেন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা না হয় এবং আইন-মত যেন জিনিসের দাম বেঁধে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সংবিধানের ৮৩ ধারা অনুযায়ী ‘সংসদের কোন আইনের দ্বারা বা কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাইবে না।’ একথা পরিষ্কার করে লেখা আছে। সুতরাং অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে যে দাম বাড়াবার ব্যবস্থা করছে, সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রাখতে হবে। দেশের সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করে তার বন্টন ও মূল্য নির্ধারণ সরকারকেই ঠিক করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা তা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করলে তাদের দমন করতে হবে।

আজ মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগছে যে, কত সরকার এল আর গেল, কিন্তু মানুষের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন এল না। সুতরাং আজকে যে সরকার রয়েছে, জনগণের সরকার, এদের উচিত খুটিনাটি সব সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়া। খুটিনাটি সমস্যার দিকে দৃষ্টি না দিলে তাঁরা বড় বড় সমস্যার সমাধান করবেন কি করে।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, আজকে সিগারেটের উপর সামান্য কর আরোপের প্রস্তাবে বাজারে সিগারেটের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমি মনে করি সিগারেটের উপর এই কর প্রত্যাহার করা উচিত। অর্থমন্ত্রী সাহেব যে কর আরোপ করেছেন, আমি তার সমালোচনা করব না, আমি তাকে অনুরোধ করব এই কর প্রত্যাহার করুন। টেউটিনের উপর যে কর বৃদ্ধি করেছেন, তা প্রত্যাহার করা উচিত। সিমেন্টের উপর যে কর ধার্য করেছেন, তাও প্রত্যাহার করা উচিত।

তারপর আমি বলব পশমী কাপড়ের উপর ধার্য কর সম্বন্ধে। পশমী কাপড়ের উপর কর বৃদ্ধি করে ১২৫ টাকা থেকে ১৭৫ টাকা করা হয়েছে। এই কর প্রত্যাহার করা উচিত। ১৯৭২ সালে অক্টোবর, নভেম্বর মাসে ABC Wool-এর পাউন্ড ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা; আর এখন হয়েছে পাউন্ড প্রতি ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। আর এই কর আরোপের ফলে কি অবস্থা হবে তা আমরা বেশ বুঝতে পারছি। অবশ্য আমাদের দেশে কিছু সংখ্যক লোক আছে, যারা যে কোন দামে যে কোন জিনিস কিনতে পারবে।

আমি সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, গরিব, মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকের কি গরম কাপড়ের প্রয়োজন হয় না? আমি মনে করি পশমী কাপড়ের উপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা উচিত। এবার আমি কৃষি আয়কর সম্বন্ধে বলব। মাননীয় অর্থমন্ত্রী কৃষি আয়কর আইন সংশোধন করে কৃষি আয়কর সাধারণ আয়করের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন। এর ফলে ১০০ বিঘার মালিক যে চাষী, তার কৃষি আয় ২০০০ টাকার বেশি হলে তা তার সাধারণ আয়ের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে। এর ফলে চাষীর উপর অধিক কর পড়বে। সরকার একদিকে ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মাফ করার ব্যবস্থা করেছেন, অন্যদিকে তাদের উপর অধিক কর চাপাবার জন্য আইনের পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন। সরকারের কর আরোপের এই প্রস্তাব বাতিল করা উচিত।

মাননীয় স্পিকার সাহেব, এবার আমি উন্নয়ন ও পুনর্গঠন সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলব।

আমরা আমাদের উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ কোন কোন দেশ হতে কিভাবে নেবো, তা মাননীয় অর্থমন্ত্রী সাহেব পরিষ্কার করে কিছু বলেন নাই। এই প্রকার বৈদেশিক ঋণ ও বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে কত দেশ, কত রাষ্ট্র আজকে গৃহযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে হলে তা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। অনেক রাষ্ট্র আছে, যারা বন্ধুসেজে ঋণ দিয়ে পরে তার অছিলায় আমাদের ঘর ভাঙ্গার চেষ্টা করতে পারে। যে সব বৈদেশিক ঋণের সঙ্গে কোন শর্ত থাকে সেইসব শর্ত কি এবং ঋণ স্বল্পমেয়াদী না দীর্ঘমেয়াদী সবকিছুই ভালোভাবে বিচার বিবেচনা করে তবে যেন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হয়।

কৃষির উন্নয়নের দিকে যেমন আমাদের নজর দিতে হবে, তেমনি আমাদের শিল্প ও কল-কারখানার দিকেও নজর দিতে হবে। শিল্প ক্ষেত্রে আমরা যেন পিছনে পড়ে না থাকি এবং শিল্পোন্নতিতে আমরা যেন অন্য রাষ্ট্রের বা উন্নতিশীল দেশের সম মর্যাদায় পৌছতে পারি, সেদিকে আমাদের চেষ্টা করতে হবে।

আমাদের যেসব কল-কারখানা এখনও অকেজো বা অক্ষম হয়ে পড়ে আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে কর্মক্ষম করতে হবে এবং ধীরে ধীরে সেগুলিকে উন্নতমানে নিয়ে যেতে হবে। আমরা যেন সব বিষয়ে স্বনির্ভরশীল হতে পারি। সেদিকে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সম্পদ ও শক্তির সঠিক ও সার্বিক মূল্যায়ন, তার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ সুখ চায়, চায় তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠা। এই জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনার সময়ে আমি একটা আবেদন রেখে যেতে চাচ্ছি।

যে অঞ্চল থেকে আমি এসেছি, সে অঞ্চল বাংলাদেশের একটা পিছিয়ে-পড়া অঞ্চল। আপনারা বিশ্বাস করতে পারবেন না যে, আমাদের ওখানে এখনও আদিম যুগের মানুষ রয়েছে। সেই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য এই বাজেটে তেমন কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ‘ফলের বাগানের’ জন্য বাজেটে একটা বরাদ্দ হয়েছে—যেটা প্রত্যেক বছর হতো—সেটাই হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম যদি পিছনে পড়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের স্বাভাবিক যে উন্নতি, তা ব্যাহত হবে। আমাদের এই পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মগ, ত্রিপুরা, লুসাই, বম, পাংখো, খুমি, খিয়াং, মুরুং ও চাক—এই দশটি ছোট ছোট উপজাতি বাস করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে মুরুং, খুমি, খিয়াং, পাংখো ও বোম উপজাতিরা পিছিয়ে পড়ে আছে।

আপনারা বিশ্বাস করবেন না এরা অর্ধ-উলঙ্গ অবস্থায় এখনও বাস করে। পাহাড়ের পর পাহাড়। তার উপর আমরা বাস করি। সেই পাহাড়ের উঁচু উঁচু চূড়া; যেখানে চিরহরিৎ বৃক্ষের বন। এক পর্বতশ্রেণির পর আর একটি পর্বতশ্রেণি মাঝখানে রয়েছে উপত্যকা। দুঃখের ব্যাপার, বর্তমান যুগের শিক্ষা কিংবা উন্নতির কোন আলোই আমরা আজো পাইনি। মাননীয় স্পিকার সাহের, বৃটিশের সময়ে এবং পাকিস্তানের আমলে আমাদেরকে চিড়িয়াখানার জীবের মতো করে রাখা হয়েছিল।

তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের আমলে আমাদেরকে পাকিস্তান বিরোধী এবং ভারতের দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পাকিস্তান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছি এবং কামনা করেছি আমাদের জন্য পরিবর্তন আসবে। যে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নতি সাধিত হচ্ছে সেই কাপ্তাই বাঁধ এলাকার উচ্ছেদকৃত লোকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনো শেষ হয়নি। কাপ্তাই বাঁধ ঐ এলাকার মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে দিয়েছে। কাপ্তাই বাঁধ আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। এ বাঁধের এলাকার উচ্ছেদকৃত লোকের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নাই। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থাই সরকার করেনি।

একবার হয়তো তাদের কিছু পুনর্বাসন করা হয়, আবার সরকারের নির্দেশে তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। এটা একটা মহা সমস্যা। এটা একটা জগদ্দল পাথরের মতো আমাদের উপর চেপে আছে। পাকিস্তান সরকার এই সমস্যার সৃষ্টি করে দিয়েছে। এবং সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কোন বাস্তব ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার এটা দূর করে দিয়ে কাপ্তাই-এ হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে সার্বিক উন্নতির সঙ্গে জড়িত করেননি—এই আমার আবেদন। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতির সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিও দৃষ্টি দিন। সেখানে রাস্তাঘাট বলতে তেমন কিছু নেই।

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম-কাপ্তাই—এই দুইটি মাত্র পাকা রাস্তা পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় আছে। আমার বাড়ি রাঙ্গামাটি থেকে ৫৬ মাইল দূরে। একবার বাড়ি গেলে রাঙ্গামাটি আসতে ইচ্ছা হয় না। রাঙ্গামাটি আসলে আবার বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছা হয় না। ঝোলা কাঁধে নিয়ে পরিধেয় কাপড় হাঁটু পর্যন্ত ভাজ করে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। মাননীয় সদস্যা এবং সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ থাকল—আপনারা বৃটিশ আর পাকিস্তান পার্বত্য চট্টগ্রামকে যেভাবে রেখেছিল সেভাবে আর রাখবেন না। আপনারা যদি আমাদেরকে পেছনে রাখেন, তাহলে কোনদিন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি হবে না।

একটা ক্ষত যদি শরীরে থাকে, তবে সর্বশরীরে যেমন তীব্র যন্ত্রণা অনুভব হয়, সেরকমভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পেছনে রেখেও বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। তাই আমার নিবেদন-পরিকল্পনা যেন এমনভাবে গ্রহণ করা হয়, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা থেকে পেছনে পড়ে না থাকে। আমরাও যেন আপনাদের সাথে সমান তালে উন্নতির পথে চলতে পারি, আপনাদের সাথে সমানভাবে এগিয়ে যেতে পারি, সেইভাবে আপনারা পরিকল্পনা গ্রহণ করুন।

পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় পরিকল্পনা এমনভাবে গ্রহণ করা উচিত, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রতিটি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল একটা তালে এগিয়ে যেতে পারে। মাননীয় সদস্যা এবং সদস্যদেরকে আর বিরক্ত করব না। আমার বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত করলাম।

ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গ:এমএন লারমা, জুম্ম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা