জুমজার্নাল পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লেখা, গান, ছবি ও বইয়ের একটি উন্মুক্ত আর্কাইভ। পড়তে কোনো টাকা লাগে না, কোনো বিজ্ঞাপন নেই। কিন্তু সার্ভারের বিল প্রতি মাসেই আসে।
পাহাড়ের গল্প, গান আর ইতিহাস ছড়িয়ে আছে ছাপা বইয়ে, পুরোনো পত্রিকায় আর মানুষের মুখে। জুমজার্নাল সেগুলো এক জায়গায় এনে বাংলায় পড়ার ও খোঁজার উপযোগী করে রাখে — যাতে পরের প্রজন্মকে আর শূন্য থেকে শুরু করতে না হয়।
দুর্লভ বই, পত্রিকা ও মাঠপর্যায়ের রেকর্ডিং খুঁজে এনে ডিজিটাল করা হয়। যেগুলোর একটিমাত্র কপি টিকে আছে, সেগুলোই আগে।
প্রতিটি দাবির পাশে উৎস দেওয়া হয়। যেখানে উৎসে বিরোধ আছে, সেটি গোপন না করে পাশাপাশি লেখা হয়।
সব পাঠ বিনামূল্যে, লগইন ছাড়া, বিজ্ঞাপন ছাড়া। আর্কাইভ বন্ধ হয়ে গেলে এর অনেক উপকরণ আর কোথাও পাওয়া যাবে না।
জুমজার্নাল স্বেচ্ছাশ্রমে চলে। যা খরচ হয় তা মূলত যন্ত্রের — সার্ভার, সংরক্ষণ ও ডোমেইন — আর মাঠের কাজের যাতায়াত। নিচের হিসাব পুরোটাই প্রকাশ্য।
এগুলো নিয়মিত খরচ নয় — নির্দিষ্ট সময়ের কাজ, নির্দিষ্ট ফল। কোনো প্রকল্পের জন্য আলাদা করে দিতে চাইলে পাঠানোর সময় প্রকল্পের নাম লিখে দিন।
পাহাড়ের প্রবীণেরা যা মনে রেখেছেন — পুরোনো দিনের ঘটনা, প্রথা, উৎসব, বিয়ে ও শোকের রীতি, জুমের নিয়ম, গান আর গল্প — তাঁদের নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করে রাখা।
রেংমিটচ্য ভাষার সাবলীল বক্তা আছেন ছয়জন, আর ভাষাটির নিজের কোনো লিপি নেই। এর প্রথম অভিধানটি দশ বছরে নিজ খরচে তৈরি, ম্রো লিপিতে লেখা। খেয়াং, খুমী ও চাক ভাষাও একই পথে।
আর্কাইভে ৬৩১টি ট্র্যাক আছে, কিন্তু বেশিরভাগের গায়ক, জনগোষ্ঠী, স্থান ও কথার অর্থ লেখা নেই। সেগুলো যোগ না করলে গানগুলো শোনা যায়, গবেষণা করা যায় না।
যেসব বইয়ের হাতে গোনা কপি টিকে আছে — স্ক্যান করে, ওসিআর করে, খোঁজার উপযোগী করে রাখা।
পুরো আর্কাইভ যন্ত্রে-পড়ার উপযোগী করে প্রকাশ — উন্মুক্ত লাইসেন্সে, উদ্ধৃতি দেওয়ার মতো করে। এতেই আর্কাইভটি দেশ-বিদেশের গবেষণায় ব্যবহৃত হবে।
মৌখিক ইতিহাস, গান বা পুরোনো বই — কোনোটিই ফোনের ক্যামেরায় ঠিকভাবে ধরা যায় না। একবার ভালো যন্ত্র হলে প্রতিটি প্রকল্পের মান বদলে যায়, আর খরচটা আর ফিরে আসে না।
ছবি তোলা, কথা-বলা মানুষের ভিডিও, পুরোনো নথির প্রতিলিপি
ল্যাভেলিয়ার ও শটগান মাইক, উইন্ডশিল্ড, হেডফোন
হাঁটাপথ, নৌকা, জুমের ঢাল — যেখানে বড় ক্যামেরা চলে না
ঘরের ভিতরে সাক্ষাৎকার, আর যন্ত্র নিরাপদে বয়ে নেওয়া
দুর্লভ বই মেরুদণ্ড না ভেঙে স্ক্যান করা
অডিও-ভিডিও সম্পাদনা, আর দুই কপি ব্যাকআপ
এখন রেকর্ডিং হয় যেখানে জায়গা মেলে সেখানেই — পাখির ডাক, গাড়ির শব্দ আর বিদ্যুতের গোলমাল নিয়েই। একটি ছোট, শব্দ-নিরোধক ঘর হলে সাক্ষাৎকার, গান আর বই স্ক্যান — সবই এক জায়গায়, সারা বছর।
নিয়মিত ছোট অঙ্ক একবারের বড় অঙ্কের চেয়ে বেশি কাজে লাগে — কারণ সার্ভারের বিলও প্রতি মাসে আসে।
আর্কাইভ একদিন চালু থাকে — পাঠক পড়তে পারেন, কিছুই বন্ধ হয় না।
একজনেই পুরো মাসের যন্ত্রের খরচ বহন করেন। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
এক বছরের ডোমেইন ও হোস্টিং নবায়ন — ঠিকানাগুলো হাতছাড়া হয় না।
পেমেন্ট গেটওয়ে এখনো যুক্ত হয়নি। মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠান, তারপর স্ক্রিনশটসহ হোয়াটসঅ্যাপ বা মেইল করুন — আমরা প্রাপ্তি নিশ্চিত করব।
পাঠানোর আগে একবার হোয়াটসঅ্যাপ করুন — কোন দেশ থেকে পাঠাচ্ছেন তার ওপর ফি অনেকটা বদলায়, আমরা সস্তা পথটি জানিয়ে দেব।
নাম প্রকাশে রাজি থাকলেই কেবল এখানে লেখা হয়। চাইলে যেকোনো সময় নাম সরিয়ে নিতে পারেন।
এখন পর্যন্ত এটি একটি স্বাধীন, অলাভজনক উদ্যোগ — কোনো কোম্পানি বা এনজিও নয়। তাই এই সহায়তা করমুক্ত অনুদান হিসেবে দেখানো যাবে না। হিসাব প্রকাশ্য রাখা হয় সেজন্যই।
প্রতি ছয় মাসে একটি হিসাব প্রকাশ করা হয় — কত এল, কোন খাতে কত গেল। সার্ভার ও ডোমেইনের বিল আলাদা করে দেখানো হয়।
পারেন। পাঠানোর সময় প্রকল্পের নাম লিখে দিন, ওই টাকা কেবল সেখানেই খরচ হবে।
ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠানো যায়। পাঠানোর আগে একবার হোয়াটসঅ্যাপ করুন, আমরা সুবিধাজনক পথটি জানিয়ে দেব।
কোনো সমস্যা নেই। নাম কেবল অনুমতি নিয়ে লেখা হয়; না বললে কিছুই লেখা হবে না।
একটি আর্কাইভ একদিনে তৈরি হয় না, আর একদিনেই হারিয়েও যায় না — ধীরে ধীরে যায়, যখন বিল বাকি পড়ে।
সহায়তা করুন