Last updated Oct 17th, 2026
0

খাসি সমাজে সন্তান মায়ের গোত্রের নাম নেয়। মায়ের পৈতৃক ঘর আর বংশের সম্পত্তির দায়িত্ব পান পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে, আর ছেলেরা বংশের সম্পত্তির কোনো ভাগ পান না। মৌলভীবাজারের দুটি পুঞ্জিতে মাঠ-গবেষণা, বাংলাপিডিয়া আর দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন এই খাসিয়া মাতৃসূত্রীয় উত্তরাধিকারের মূল নিয়মে একমত। তবে কনিষ্ঠ কন্যা কি মালিক, না কেবল রক্ষক, আর বাকি বোনেরা কতটা পান — এ নিয়ে উৎসগুলোর কথা এক নয়।
এই লেখা বাংলাদেশের খাসিদের নিয়ে — সিলেট বিভাগের পুঞ্জিতে যাঁরা থাকেন। ভারতের মেঘালয়ে খাসিদের সংখ্যা অনেক বেশি, তাঁদের নিয়ে লেখাও অনেক বেশি; কিন্তু সেখানকার নিয়ম, আইন আর বিতর্ক বাংলাদেশের পুঞ্জিতে হুবহু খাটে কি না, তা আলাদা প্রশ্ন। তাই প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে বলা আছে উৎসটি কোন দেশের খাসিদের কথা বলছে। কোন কোন জাতি মাতৃসূত্রীয় আর “মাতৃতান্ত্রিক” শব্দটি কেন ভুল, সে আলোচনা আমাদের আরেকটি লেখায় আছে — “বাংলাদেশের কোন জাতিগুলো মাতৃসূত্রীয়, কোনগুলো নয়”। এখানে তার পুনরাবৃত্তি নেই।
এই লেখায় যা আছে
খাসি (সরকারি নথিতে “খাসিয়া/খাসি”) বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তাঁদের ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের, গ্রামকে তাঁরা বলেন পুঞ্জি, আর জীবিকার মূল ভিত্তি পান চাষ। ভারতের মেঘালয়ের খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের খাসিদের সঙ্গে তাঁদের ভাষা ও বংশের নিয়মে মিল আছে, তবে বাংলাদেশের খাসিরা এদেশেরই নাগরিক জনগোষ্ঠী।
নাম নিয়ে দুটি রূপ চালু। 2022 সালের জনশুমারির সারণিতে সারিটির নাম “খাসিয়া/খাসি” — দুটোই একসঙ্গে। বাংলাপিডিয়ার নিবন্ধের শিরোনাম “খাসিয়া”, ভেতরে লেখা “খাসিয়া (বা খাসি)”। জুমজার্নালের আর্কাইভে নাহার পুঞ্জির মান্ত্রি ডিবারমিনের আত্মকথনে শব্দটি “খাসি”। এই লেখায় “খাসি” ব্যবহার করা হয়েছে, উদ্ধৃতি ও সরকারি নামের ক্ষেত্রে ছাড়া।
নিজেদের তাঁরা কী নামে ডাকেন? Independent University, Bangladesh-এর গবেষক Rajmoni Singha-র 2014 সালের গবেষণাপত্র লিখেছে, খাসিরা নিজেদের বলেন Ki Hynniewtrep — অর্থ “সাতটি কুঁড়েঘর”; আর বেশির ভাগ খাসি বিশ্বাস করেন, সব নারী সাত আদি মায়ের বংশধর। নামটির বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই এখানে রোমান হরফে রাখা হলো।
খাসিরা কোথা থেকে এসেছেন, তা নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। বাংলাপিডিয়া (লেখক আলি নওয়াজ) লিখেছে, খাসিয়ারা “প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে”, আর আসামে এসেছিল “সম্ভবত তিববত থেকে”। Ethnic Community Development Organization-এর জার্নালে 2005 সালে Md. Faisal Ahmmed লিখেছেন, খাসিদের উৎপত্তি “a very vexed question” — বিতর্কিত প্রশ্ন; Gurdon-এর মতে খাসিরা মোন জাতির একটি শাখা, তবে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস “এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি”। একই লেখায় Rahman (2004)-এর বরাতে আছে, জৈন্তিয়া রাজ্য সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করত, আর 1835 সালের পর ব্রিটিশরা রাজ্যটি দখল করে।
খাসিদের ইতিহাসের একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। আমাদের আর্কাইভের “বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা” লেখায় আছে কাঁকন বিবির কথা — স্থানীয় মানুষ যাঁকে “খাসিয়া মুক্তিবেটি” নামে ডাকতেন; জন্ম মেঘালয়ে, বড় হয়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে। খাসি লোককথার একটি নমুনাও আর্কাইভে আছে: “খাসিয়া রূপকথা: কুকুর ভক্ত মনিব“, যার ঘটনা ঘটে একটি পুঞ্জিতে।
বাংলাদেশের প্রায় সব খাসি সিলেট বিভাগে থাকেন: 2022 সালের শুমারিতে 12,422 জনের মধ্যে 12,120 জন, অর্থাৎ 97.6 শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পুঞ্জি মৌলভীবাজার জেলায়, বিশেষ করে কুলাউড়া উপজেলায়; বাকিগুলো সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে, বেশির ভাগ ভারত সীমান্তের কাছে। পুঞ্জির মোট সংখ্যা নিয়ে উৎসভেদে 71 থেকে 85-এর মতো হিসাব পাওয়া যায়।
পুঞ্জির হিসাব একেক উৎসে একেক রকম:
Rahman (2004)-এর 71টি পুঞ্জির উপজেলাভিত্তিক ভাগ Ahmmed তাঁর লেখায় এভাবে দিয়েছেন:
| জেলা | উপজেলা | পুঞ্জি |
|---|---|---|
| মৌলভীবাজার | কুলাউড়া | 38 |
| বড়লেখা | 11 | |
| শ্রীমঙ্গল | 7 | |
| কমলগঞ্জ | 4 | |
| সিলেট | গোয়াইনঘাট | 5 |
| জৈন্তাপুর | 3 | |
| হবিগঞ্জ | বাহুবল | 1 |
| চুনারুঘাট | 1 | |
| সুনামগঞ্জ | তাহিরপুর | 1 |
| মোট | 71 | |
উৎস: Md. Faisal Ahmmed, “The Khasis in Bangladesh”, Journal of Ethnic Affairs, ECDO, খণ্ড 1, আগস্ট 2005, পৃ. 20 (Rahman 2004-এর বরাতে)। হিসাবটি প্রায় দুই দশক পুরোনো।
পুঞ্জিগুলো কেমন জায়গায়, তার একটি ছবি পাওয়া যায় আমাদের আর্কাইভের “সেং ভালাং – এক সাহসী আদিবাসীর আত্মকথন” লেখায়। শ্রীমঙ্গলের আসলম (নাহার-১) পুঞ্জি একটি ছোট পাহাড়ের ওপর; চা-বাগানের ভেতর দিয়ে কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়, আর পানজুমের সীমানা যেখানে শেষ সেখানে বাংলাদেশ-ভারত সীমানার পিলার। দৈনিক জনকণ্ঠের 2018 সালের একটি প্রতিবেদন হবিগঞ্জের একটি পুঞ্জির কথা লিখেছে, যেখানে প্রায় 125টি পরিবার থাকে; তাঁদের পূর্বপুরুষের আদিবাস ছিল জাফলং, আর 1955 সালে তাঁরা হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় বসতি গড়েন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর 2022 সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে খাসিয়া/খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্য 12,422 জন — পুরুষ 6,357 ও নারী 6,065। এর মধ্যে 12,120 জন সিলেট বিভাগে। বাকি 302 জন ছড়িয়ে আছেন অন্য সাত বিভাগে, সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (122 জন)।
| বিভাগ | মোট | পুরুষ | নারী |
|---|---|---|---|
| সিলেট | 12,120 | 6,205 | 5,915 |
| ঢাকা | 122 | 54 | 68 |
| চট্টগ্রাম | 66 | 37 | 29 |
| ময়মনসিংহ | 61 | 36 | 25 |
| রাজশাহী | 38 | 18 | 20 |
| খুলনা | 6 | 3 | 3 |
| রংপুর | 5 | 2 | 3 |
| বরিশাল | 4 | 2 | 2 |
| বাংলাদেশ | 12,422 | 6,357 | 6,065 |
উৎস: BBS, Population and Housing Census 2022, National Report (Volume I), Table P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022″।
জেলা পর্যায়ের হিসাব পুরোটা মেলানো যায়নি, তবে হবিগঞ্জের জেলা প্রতিবেদন একটি টুকরো দেয়। সেখানে Table P17 অনুযায়ী জেলায় খাসিয়া/খাসি 521 জন (পুরুষ 282, নারী 239): বাহুবল উপজেলায় 451, চুনারুঘাটে 67, হবিগঞ্জ সদরে 2 এবং বানিয়াচংয়ে 1 জন। অর্থাৎ সিলেট বিভাগের বাকি 11,599 জন খাসি মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায়। Ahmmed (2005)-এর তালিকায় বাহুবল আর চুনারুঘাটে একটি করে পুঞ্জি, আর বাংলাপিডিয়া হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সীমান্তে 5টি পুঞ্জির কথা বলেছে।
পুরোনো হিসাবগুলো একে অন্যের সঙ্গে মেলে না। 1991 সালের শুমারির সংখ্যা বাংলাপিডিয়া লিখেছে 12,300, আর Singha (2014) লিখেছেন প্রায় 12,280। একই বাংলাপিডিয়া নিবন্ধ অনুযায়ী “বাংলাদেশ খাসিয়া সমিতি” সংখ্যাটি 30,000 বলে দাবি করে। Singha, SIL International-এর 2007 সালের একটি সমীক্ষার বরাতে, লিখেছেন 1961 সালের শুমারিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে 80,000 খাসি ছিলেন, আর এর ব্যাখ্যা হিসেবে বলেছেন যে বেশির ভাগ খাসি ভারতে চলে গেছেন। 1961 সালের শুমারির মূল নথিটি এই লেখার জন্য মিলিয়ে দেখা যায়নি।
শুমারির পুরুষ-নারী অনুপাতও একটি প্রশ্ন তোলে, যার উত্তর উৎসে নেই: জাতীয়ভাবে খাসিদের মধ্যে পুরুষ 51.18 শতাংশ, নারী 48.82 শতাংশ। Singha লিখেছেন, অ-খাসিকে বিয়ে করলে সামাজিক চাপ এড়াতে অনেক খাসি পরিবারসহ মেঘালয়ে চলে যান। এই অভিবাসন নারী-পুরুষ অনুপাতকে প্রভাবিত করে কি না, সে বিষয়ে কোনো সমীক্ষা পাওয়া যায়নি।
খাসি ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের মোন-খমের শাখার। বাংলাপিডিয়া জানাচ্ছে, একসময় খাসি ভাষা বাংলা হরফে লেখা হতো, বাইবেলের কিছু অংশ প্রথম বাংলা হরফেই খাসিতে অনূদিত হয়েছিল, আর শিক্ষিত খাসিরা এখনো নিজেদের মধ্যে বাংলা হরফে খাসি ভাষায় চিঠি লেখেন। সীমান্তের ওপারে ভারতে ভাষাটি রোমান হরফে লেখা হয়।
ভাষাপরিবারের কথাটি Singha (2014) লিখেছেন SIL-এর 2007 সালের সমীক্ষার বরাতে। আমাদের আর্কাইভের “বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা: এ যেন আলো আঁধারি পথ রেখায় অন্তহীন পদযাত্রা” লেখাও খাসিকে অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারে রেখেছে, সাঁওতালি ও মুন্ডারির সঙ্গে।
বাংলাপিডিয়া আরও লিখেছে: “বাংলাদেশে খাসিয়া ভাষার কোনো সর্বজনীন রূপ নেই”, আর খাসিরা দ্বিভাষী — খাসি ও বাংলা দুটোতেই কথা বলেন। Singha-র মাঠ-গবেষণায় সাক্ষাৎকারের জন্য দোভাষী লাগত, কারণ খাসি ভাষা মূলধারার বাংলা থেকে একেবারে আলাদা; তিনি লিখেছেন বেশির ভাগ খাসি নিজের ভাষার পাশাপাশি কেবল সিলেটি আঞ্চলিক ভাষা বলতে পারেন।
বাংলাদেশের খাসিদের সবাই একই উপভাষা বলেন না। ইংরেজি উইকিপিডিয়া, ভাষাবিজ্ঞানী Paul Sidwell-এর 2018 সালের বইয়ের বরাতে, লিখেছে যে খাসি শাখার আরেকটি ভাষা War (War-Jaintia) বাংলাদেশে প্রায় 16,000 মানুষ বলেন। এই সংখ্যা শুমারির মোট খাসি সংখ্যার চেয়ে বেশি; দুটি হিসাব কীভাবে মেলে, তা কোনো উৎসে ব্যাখ্যা করা নেই।
মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রশ্নে খাসি সরকারি পরিকল্পনায় আছে। আর্কাইভের ওই লেখা অনুযায়ী, 14 জুলাই 2013 তারিখে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা নিয়ে সরকারের জাতীয় কমিটির সভায় প্রথমে পাঁচটি ভাষায় উপকরণ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়; দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা চালুর জন্য যে ছয়টি ভাষার তালিকা করা হয়, খাসি তার একটি। সেই পর্যায় শুরু হয়েছে কি না, তার কোনো সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের খাসিদের বেশির ভাগ খ্রিষ্টান। Society for Environment and Human Development (SEHD)-এর 2007 সালের জরিপের বরাতে Singha (2014) লিখেছেন, 81.63 শতাংশ খাসি খ্রিষ্টধর্ম, 11.8 শতাংশ প্রথাগত বিশ্বাস আর প্রায় 3.6 শতাংশ হিন্দুধর্ম মানেন। বাংলা বাংলাপিডিয়া বলছে 80–90 শতাংশ খ্রিষ্টান; ইংরেজি সংস্করণে লেখা “80 শতাংশের বেশি”।
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী দেড় শতাধিক বছর আগে খ্রিষ্টান মিশনারিরা খাসিদের মধ্যে ধর্মপ্রচার শুরু করেন; প্রায় প্রতিটি পুঞ্জিতে গির্জা আছে, খ্রিষ্টান খাসিরা মূলত প্রোটেস্টান্ট, আর সম্প্রতি কিছু খাসি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। রবিবারের প্রার্থনার পর পুঞ্জির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়, আর খ্রিষ্টান যাজকেরা অনেক সময় পুঞ্জির বিচার-আচারের দায়িত্ব পালন করেন। Ahmmed (2005) একই পরিবর্তনকে দেখেছেন অন্যভাবে: তাঁর ভাষায় গির্জা “ক্ষমতাশালী কর্তৃপক্ষ” হয়ে উঠেছে, আর খাসিদের সামাজিক জীবন চলতে শুরু করেছে গির্জার নিয়মে।
খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ মাতৃসূত্রীয় নিয়ম ভেঙে দেয়নি। বাংলাপিডিয়া স্পষ্ট লিখেছে, “খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলেও খাসিয়ারা মাতৃনাম পরিত্যাগ করে না।” প্রথাগত বিশ্বাস সম্পর্কে একই নিবন্ধ বলছে, খাসিরা গোড়া থেকেই একেশ্বরবাদী, গ্রাম-দেবতায়ও বিশ্বাস করেন, আর তাঁদের কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। Singha লিখেছেন, ধর্ম যা-ই হোক, খাসিরা বিশ্বাস করেন তাঁরা এক দেবীর সৃষ্টি।
পুঞ্জি হলো খাসি গ্রাম — টিলার ওপর কয়েকটি পরিবারের বসতি, যার প্রধানকে বলা হয় মন্ত্রী বা মান্ত্রি। জীবিকার কেন্দ্রে পান: SEHD-এর জরিপের বরাতে Singha লিখেছেন, প্রায় 75.5 শতাংশ খাসি পান চাষে যুক্ত। পুঞ্জির জীবন আর পান-জুমের অর্থনীতি নিয়ে আলাদা একটি বিস্তারিত লেখা আসছে; এখানে কেবল যেটুকু উত্তরাধিকার বোঝার জন্য দরকার।
পানের কাজ নারী-পুরুষে ভাগ করা। Singha-র মাঠ-গবেষণা অনুযায়ী পুরুষেরা পানগাছ লাগান, যত্ন করেন ও পাতা তোলেন; নারীরা পাতা বাছাই করে গুনে বাঁধেন — 12 পাতায় এক গুশি, 144 পাতায় এক গুটা, 2,880 পাতায় এক কুড়ি — আর বাজারের জন্য তৈরি করেন। নাহার পুঞ্জির মান্ত্রি ডিবারমিনও আর্কাইভের লেখায় বলেছেন, পুঞ্জির অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অংশ — পান বাছাই, বাঁধাই ও বিক্রি — দেখেন নারীরা।
উত্তরাধিকারের আলোচনায় একটি তথ্য বারবার ফিরে আসবে: বেশির ভাগ পুঞ্জির জমি আইনত খাসিদের নামে নেই। এ নিয়ে নিচে আলাদা অংশ আছে।
খাসি প্রথাগত নিয়মে সম্পত্তি যায় মায়ের দিক থেকে মেয়েদের কাছে। পুরুষেরা বংশের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না। মা মারা গেলে পৈতৃক ঘর আর বংশের সম্পত্তির দায়িত্ব নেন কনিষ্ঠ কন্যা, তবে পরিবারের সম্মতি ছাড়া তিনি তা ছেড়ে দিতে বা হস্তান্তর করতে পারেন না — অর্থাৎ তিনি মালিকের চেয়ে বেশি রক্ষক।
এই বর্ণনার সবচেয়ে বিস্তারিত বাংলাদেশি উৎস Rajmoni Singha-র গবেষণাপত্র। তিনি 2003 সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের দুটি পুঞ্জিতে মাঠ-গবেষণা করেন — শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মাঝে বনের ভেতরের মাগুরছড়া (তখন জনসংখ্যা 205) আর কমলগঞ্জে ভারত সীমান্তের কাছের Doublechera (তখন 277)। 2014 সালের মে মাসে তিনি আবার পুঞ্জি দুটিতে যান, কী বদলেছে দেখতে। তাঁর মূল কথাগুলো:
কনিষ্ঠ কন্যার খাসি নামটির বানান উৎসভেদে আলাদা: Singha লিখেছেন khatduh, Ahmmed (2005) লিখেছেন Ka Khudduh। বাংলা হরফে নামটি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই “খাতদুহ” জাতীয় কোনো বানান এখানে বানিয়ে দেওয়া হয়নি।
বাংলাপিডিয়ার নিয়মটিও প্রায় একই, তবে ভাষা একটু আলাদা: “সম্পত্তির মালিক কনিষ্ঠ কন্যা কিন্তু অন্য বোনরাও ভাগ পায়, তবে তাদের সম্পত্তি বিক্রয় করার অধিকার নেই।” দ্য ডেইলি স্টারে 2019 সালে গবেষক Philip Gain লিখেছেন, গারোদের মতো খাসি নারীরাও জমির মালিক এবং মা-বাবার জমির উত্তরাধিকারী।
কনিষ্ঠ কন্যা বেশি পান, কারণ তাঁর দায়িত্বও বেশি। উৎসগুলোর হিসাবে তিনি পরিবারের ধর্মীয় আচার পালন করেন ও তার খরচ বহন করেন, বৃদ্ধ মা-বাবাকে দেখাশোনা করেন, আর অবিবাহিত ভাইবোন ও নির্ভরশীল আত্মীয়দের দায়িত্ব নেন। মাতৃগৃহ তাঁর কাছে থাকে বলেই পরিবারের মিলনকেন্দ্রও তাঁর ঘর।
Singha লিখেছেন, khatduh-কে hoktoy (একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান) ও অন্ত্যেষ্টির মতো আচারের আয়োজন করতে হয় এবং সব খরচ তাঁকেই দিতে হয়। পরিবারের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক প্রয়োজনে অর্থ জোগানো ও বণ্টনের দায়িত্বও তাঁর, আর মা-বাবার দেখাশোনা তাঁর কর্তব্য। পরিবারের গোত্র-পরিষদের বৈঠক সাধারণত বসে তাঁর বাড়িতেই।
Ahmmed (2005) একই কথা লিখেছেন, তবে Barch (1974)-এর বরাতে: কনিষ্ঠ কন্যাকে পারিবারিক আচার পালন করতে হয়, বৃদ্ধ মা-বাবার যত্ন নিতে হয়, আর মায়ের ঘরে থাকা অবিবাহিত ভাইবোন বা নির্ভরশীল আত্মীয়দের ভার নিতে হয়।
বাংলাপিডিয়া এই নিয়মের একটি দৃশ্যমান দিক বর্ণনা করেছে। বিয়ের পর কন্যার মাতৃগৃহের পাশে নবদম্পতির জন্য নতুন কুঁড়েঘর তৈরি করে দেওয়া হয়, কোনো কোনো পুঞ্জিতে তা বাধ্যতামূলক। “কনিষ্ঠ কন্যার জন্য আলাদা ঘর নির্মাণ করা হয় না। কারণ সে মাতৃগৃহ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী।” পারিবারিক পূজা-অর্চনা ও অনুষ্ঠানের দায়িত্বও “ছোট বোনের উপর অর্পিত”।
কনিষ্ঠ কন্যার ক্ষেত্রে একটি শর্তের কথাও আছে। Singha লিখেছেন, কনিষ্ঠ কন্যা ধর্মান্তরিত হতে পারেন না; হলে তিনি বংশের সম্পদ হারান। এই কথার উৎস হিসেবে তিনি দিয়েছেন শিলং থেকে প্রকাশিত A. S. Khongphai-এর Principles of Khasi Law (1974) — মেঘালয়ের একটি আইনগ্রন্থ। বাংলাদেশের খাসিদের 80 শতাংশের বেশি যেহেতু খ্রিষ্টান, নিয়মটি এখানে কীভাবে প্রয়োগ হয়, তার কোনো বাংলাদেশি বিবরণ পাওয়া যায়নি।
ভাইয়েরা বংশের সম্পত্তির কোনো ভাগ পান না — এ বিষয়ে সব উৎস একমত। বাকি বোনদের ভাগ নিয়ে উৎসগুলো আলাদা কথা বলছে: কেউ বলছে তাঁরা সমান ভাগ পান, কেউ বলছে ভাগ পান কিন্তু বিক্রি করতে পারেন না, কেউ বলছে “ভাগ পেতে পারেন”। আর উপার্জিত সম্পত্তির নিয়ম বংশের সম্পত্তি থেকে আলাদা।
Singha (2014), B. S. Rana-র The People of Meghalaya (1989) বইয়ের বরাতে, লিখেছেন উপার্জিত সম্পত্তি থেকে সব বোন সমান জমি পান, কেবল কনিষ্ঠ কন্যা আচার পালনের বাড়তি দায়িত্বের জন্য বাড়তি সম্পত্তি পান। বাংলা বাংলাপিডিয়া বলছে অন্য বোনেরা ভাগ পান কিন্তু বিক্রির অধিকার তাঁদের নেই; ইংরেজি বাংলাপিডিয়া বলছে কনিষ্ঠসহ সব মেয়েই ভাগ পান এবং কেউই তা বিক্রি করতে পারেন না। Ahmmed (2005), Dutta (1982)-এর বরাতে, লিখেছেন অন্য বোনেরা “ভাগ পেতে পারেন”, তবে সবচেয়ে বড় অংশ সবসময় কনিষ্ঠ কন্যার, আর ভাইয়েরা বংশের সম্পত্তির সব ভাগ থেকে বাদ।
Ahmmed-এর লেখা অনুযায়ী একটিমাত্র মেয়ে থাকলে তিনিই পুরো সম্পত্তি পান। কোনো মেয়ে না থাকলে মাতৃগৃহ ও সম্পত্তি যায় বড় বোনের বংশধারায়। Singha যোগ করেছেন, বংশের জমি অব্যবহৃত পড়ে থাকলে খালাতো বোনেরা তা ব্যবহারের অধিকার রাখেন, আর আর্থিক সংকটে পড়লে তাঁরা কিছু সময়ের জন্য জমি ব্যবহার করতে khatduh-এর কাছে চাইতে পারেন।
পুরুষ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী না হলেও উপার্জন করেন, আর সেই উপার্জনের গন্তব্য নিয়েও নিয়ম আছে। Singha লিখেছেন, বিয়ের আগে পুরুষের উপার্জন (Kamai Iing Kur) যায় তাঁর মায়ের দিকে; বিয়ের পরের উপার্জন (Kamai Iing Khun Iing Tnga) যায় স্ত্রীর দিকে। Ahmmed অন্য একটি নিয়মের কথা লিখেছেন: ঘরে মেয়ে না থাকলে স্বামীর স্বোপার্জিত সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরা পেতে পারেন, আর বাবা নিজের বিবেচনায় তাঁর স্বোপার্জিত সম্পত্তি সন্তানদের দিতে পারেন।
দ্য ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদনও বলছে, যেসব পুরুষের চাকরি ও আয় আছে, তাঁরা উপার্জিত সম্পত্তি নিজের নামে রাখতে পারেন এবং সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিতে পারেন।
| সম্পত্তির ধরন | কে পান / কার দায়িত্বে | উৎস |
|---|---|---|
| মাতৃগৃহ ও বংশের সম্পত্তি | কনিষ্ঠ কন্যা, রক্ষক হিসেবে; ভাই-বোন-মামার সম্মতি ছাড়া ছাড়তে পারেন না | Singha 2014 |
| মা-বাবার উপার্জিত জমি | সব বোন সমান, কনিষ্ঠ কন্যা বাড়তি | Singha 2014 (Rana 1989-এর বরাতে) |
| বাকি বোনদের ভাগ | ভাগ পান, বিক্রি করতে পারেন না | বাংলাপিডিয়া |
| ভাইদের ভাগ (বংশের সম্পত্তি) | নেই | Singha 2014; Ahmmed 2005 |
| পুরুষের বিয়ের আগের উপার্জন | মায়ের দিকে | Singha 2014 |
| পুরুষের বিয়ের পরের উপার্জন | স্ত্রীর দিকে | Singha 2014 |
| পুরুষের স্বোপার্জিত সম্পত্তি (আজকের চর্চা) | নিজের নামে রাখা ও সন্তানদের মধ্যে সমান ভাগ করা যায় | ডেইলি স্টার 2019 |
| একমাত্র মেয়ে | পুরো সম্পত্তি | Ahmmed 2005 |
| কোনো মেয়ে নেই | বড় বোনের বংশধারা | Ahmmed 2005 |
খাসি বংশের একক হলো kur — মায়ের দিক থেকে চলা গোত্র। প্রতিটি গোত্রের একটি iing বা মূল ঘর থাকে, যেটি পারিবারিক আচারের কেন্দ্র। কনিষ্ঠ কন্যা যে ঘরটি রক্ষা করেন, সেটিই এই iing। গোত্রের ভেতরে বিয়ে নিষিদ্ধ, আর নিয়ম ভাঙলে সম্পত্তির অধিকারও যায়।
Singha লিখেছেন, খাসি মাতৃসূত্রীয় সংস্কৃতির উৎস kur; একটি খাসি বাক্য Long Kur Na Kakynthei-র অর্থ তিনি দিয়েছেন “নারী গোত্রের জন্ম দেন”। সব সন্তান মায়ের গোত্রনামকে পদবি হিসেবে ব্যবহার করে। iing হলো আত্মীয়দের মিলনের জায়গা — hoktoy বা অন্ত্যেষ্টির মতো আচারে পরিবারের সবাই সেখানে আসেন। কনিষ্ঠ কন্যার বোনেরা বিয়ের পর নতুন ঘর তুলতে পারেন, যা তাঁদের সন্তানদের নতুন iing হয়; আর খাসি-সিনতেং ইতিহাস নিয়ে Shadap-Sen-এর 1981 সালের বইয়ের বরাতে Singha লিখেছেন, প্রতি তৃতীয় প্রজন্ম একটি পুরোপুরি স্বাধীন iing গড়তে পারে।
বংশের শিকড় একটি পুরাণে। Singha-র ভাষ্যে প্রত্যেক খাসি বিশ্বাস করেন তিনি সাত আদি মায়ের কোনো একজনের বংশধর, আর তাঁদের গোত্রগুলো এসেছে এই মায়েদের থেকে। প্রত্যেকের একজন আদি মা বা Lawbei Tynrai আছেন, যাঁর থেকে ধাপে ধাপে উপগোত্র ভাগ হয়েছে।
গোত্রের ভেতরে বিয়ের শাস্তি কঠোর। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, স্বগোত্রে বিয়ে করলে ছেলে-মেয়ে “সম্পত্তির অধিকার হারায়, গ্রাম থেকে বহিষ্কৃত হয় এবং মৃত্যুর পর এদের কবর দেওয়া হয় না।” Singha-র বর্ণনায় এই নিষিদ্ধ বিয়ের নাম lishang; পুঞ্জি নবদম্পতিকে shang (নিষিদ্ধ মানুষ) ঘোষণা করে, আর বিশ্বাস করা হয় মৃত্যুর পর তাঁদের আত্মা পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলতে পারে না। কখনো কখনো একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। বন্ধুর সন্তানকেও নিজের সন্তান ধরা হয়, তাই বন্ধুর সন্তানকে বিয়ে করা ভাইবোনের বিয়ের সমান পাপ।
বাংলাপিডিয়ার দুই সংস্করণে এই নিয়মের একটি অনুবাদগত পার্থক্য আছে। বাংলায় লেখা “স্বগোত্রে বিবাহ নিষেধ”; ইংরেজিতে লেখা “Marriage within one’s own tribe is forbidden” — অর্থাৎ নিজের জাতির ভেতরে বিয়ে নিষেধ, যা বাংলা পাঠের সঙ্গে মেলে না। Singha ও Ahmmed দুজনেই নিষেধটিকে গোত্রের (clan) ভেতরের বিয়ে বলেছেন।
খাসি সন্তান মায়ের পদবি নেয় এবং মায়ের গোত্রের সদস্য। বাবা নিজের মায়ের গোত্রেই থেকে যান, তাই সন্তানদের সঙ্গে তাঁর গোত্রগত সম্পর্ক নেই। মেয়েদের অভিভাবক মামা। তবু বাবা পরিবারে কাজ করেন, সম্মান পান, আর বিপত্নীক বৃদ্ধ বাবাকে দেখাশোনা করা সন্তানদের ধর্মীয় দায়িত্ব।
Singha-র ভাষায় স্ত্রীর বাড়িতে বাবা “অতিথির মতো”। বাবার গোত্র স্ত্রীর বাড়িতে “নিষ্ক্রিয়”; সন্তানেরা বাবার গোত্রনাম ব্যবহারের অধিকার রাখে না। মৃত্যুর পর খাসির দেহাবশেষ নেওয়া হয় তাঁর মায়ের কবরে, আর খাসি নিয়মে স্ত্রী স্বামীর দেহাবশেষ রাখতে পারেন না, কারণ পুরুষটি তাঁর মায়ের গোত্রের।
মায়ের ভাই বা মামা (u-mama) এই কাঠামোর কেন্দ্রে। Singha লিখেছেন, দম্পতির সব মেয়ে স্ত্রীর ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে থাকেন; মামা ভাগনিদের অভিভাবক, পরিবারের পাহারাদার ও অতিথি, এমনকি ভাগনিদের পরিবারের ধর্মীয় আচারের পুরোহিতও। প্রথম সন্তান ছেলে হলে তিনি পরিবারের গোত্র-পরিষদের প্রধান হন, আর ছোট বোনের ক্ষেত্রে তাঁর বড় ভূমিকা থাকে।
বাবার প্রতি দায়িত্বও লেখা আছে। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, “বিপত্নীক বৃদ্ধ পিতার লালন-পালনের ধর্মীয় দায়িত্ব সন্তানদের।” স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হলে সন্তানেরা মাতৃনামেই পরিচিত হয়, আর পুরুষটি অন্যত্র বিয়ে করে চলে যেতে পারেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রশ্নে Singha লিখেছেন, খাসি সমাজ ও আইন দ্বিতীয় বিয়ে অনুমোদন করে না, আর দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানেরা বাবার কাছ থেকে কোনো সম্পত্তি পায় না; তারা মায়ের গোত্র ব্যবহার করে।
বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে যান। দম্পতি মায়ের বাড়িতে থাকলে স্ত্রীর উপার্জন যায় মায়ের সংসারে; আলাদা হলে তাঁদের আয় তাঁদেরই। তালাক হলে সন্তানেরা মায়ের কাছে থাকে — কারণ তারা মায়ের গোত্রের। উৎসগুলো এ বিষয়ে একমত, তবে তালাকের ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাংলাপিডিয়ার দুই সংস্করণে দুই রকম।
Singha লিখেছেন, বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে যান এবং স্ত্রীর মা পরিবারের প্রধান; তিনি মারা গেলে কনিষ্ঠ কন্যা প্রধান হন। Ahmmed (2005), Dutta (1982)-এর বরাতে, লিখেছেন স্ত্রী যতদিন মায়ের ঘরে থাকেন, তাঁর সব উপার্জন সংসার চালাতে মায়ের হাতে যায়; সন্তান হওয়ার পর এবং স্বামী নিজের আয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে তবেই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শাশুড়ির বাড়ি ছাড়তে পারেন। বাংলাপিডিয়াও লিখেছে, বিয়ের পর দম্পতি আলাদা খানায় থাকলে “তাদের আয়ও হয় নিজস্ব। এতে মায়ের অধিকার থাকে না।” সংসারের টাকা-পয়সার লেনদেন হয় “স্ত্রীর হাত দিয়ে”।
বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় তালাকের আগে পুঞ্জির মাতব্বর ও বিয়ের সঙ্গে যুক্তদের জানাতে হয়; তাঁরা দম্পতিকে পুনর্বিবেচনার সময় দেন, তারপরও মত না বদলালে বৈঠকে বিয়ে ভাঙার ঘোষণা হয় এবং ঢোল পিটিয়ে তা পুঞ্জিতে জানানো হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক অসিদ্ধ। তালাকের পর ছেলেমেয়েরা মায়ের সঙ্গেই থাকে। অধিকাংশ তালাক স্ত্রীরাই দেন।
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে বাংলাপিডিয়ার দুই সংস্করণ মেলে না। বাংলায় লেখা, একতরফা তালাকে স্ত্রীর ক্ষেত্রে “আট আনা ক্ষতিপূরণ” আর পুরুষের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত স্ত্রীকে “দু প্রস্থ কাপড়”; ইংরেজিতে লেখা, তালাক স্ত্রী শুরু করলে তাঁকে “ক্ষতিপূরণের 50 শতাংশ” দিতে হয়, আর স্বামী শুরু করলে দুই প্রস্থ কাপড়। Singha লিখেছেন তালাকের বৈঠক ডাকেন মান্ত্রি। Ahmmed-এর লেখা বলছে সন্তানেরা তালাকে প্রভাবিত হয় না, কারণ তারা মা ও মায়ের গোত্রের।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর স্ত্রী পুনর্বিবাহ করতে পারেন। Singha লিখেছেন, স্ত্রী মারা গেলে পুরুষকেও এক বছর অপেক্ষা করতে হয়; প্রথমে তিনি স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ের চেষ্টা করেন, আর স্ত্রীর গোত্রকে shang-এর দাম দিতে হয় — যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ পান। তবে স্ত্রীর বড় বোনকে বিয়ে করা নিষেধ।
বিয়ের ধরন নিয়ে বাংলাপিডিয়ার দুই সংস্করণে আরেকটি অমিল আছে: বাংলায় লেখা “বিভিন্ন পুঞ্জিতে তাদের বিবাহ প্রক্রিয়ায় ও মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কিছু পার্থক্য আছে”, আর ইংরেজিতে লেখা নিয়মগুলো পুঞ্জিভেদে “খুব বেশি আলাদা নয়”।
বাংলাদেশের উৎসগুলো বলছে, খাসি পরিবারের ভেতরে সিদ্ধান্ত নেন নারী, কিন্তু পুঞ্জির রাজনীতি ও বিচার মূলত পুরুষের হাতে। মান্ত্রি সাধারণত পুরুষ, গোত্র-পরিষদ গঠিত হয় বয়স্ক পুরুষদের নিয়ে, আর গ্রামের সভায় পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বামী। তবে নারী মান্ত্রি আছেন, আর নাহার পুঞ্জির নারীরা নিজেদের সংগঠন গড়েছেন।
Singha লিখেছেন, খাসি প্রথা অনুযায়ী পরিবারের প্রধান হবেন একজন নারী — স্ত্রীর মা; তিনি পরিবারের সিদ্ধান্তদাতা। নববিবাহিত স্বামীর অবস্থান “তুলনামূলক দুর্বল”: তিনি স্ত্রীর পরিবারে অতিথিও, কর্মীও, ক্ষমতা সীমিত।
একই গবেষণাপত্র বলছে, পরিবারে নারীর নেতৃত্ব সত্ত্বেও নারীরা সাধারণত গ্রামের সভায় যেতে পারেন না; গ্রামের বিষয়ে পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন কেবল স্বামী। ঐতিহ্যগতভাবে কেবল পুরুষেরা পুঞ্জির রাজনীতিতে অংশ নেন, তবে কিছু নারী গ্রাম-পরিষদে যোগ দিতে শুরু করেছেন। Doublechera ও মাগুরছড়ায় পরামর্শক সদস্যদের মধ্যে কোনো নারী ছিলেন না, যদিও কোনো কোনো পুঞ্জিতে আছেন।
গ্রাম-পরিষদের আকার নিয়ে Singha-র লেখায় দুটি সংখ্যা আছে: এক জায়গায় “প্রায় এগারোজন সদস্য”, আরেক জায়গায় পুঞ্জির মানুষের নির্বাচিত “চৌদ্দজন পরামর্শক সদস্য”। প্রতিটি পুঞ্জিতে একজন বড় মান্ত্রি ও একজন ছোট মান্ত্রি থাকেন। নির্বাচন হওয়ার কথা প্রতি চার-পাঁচ বছরে, কিন্তু Doublechera ও মাগুরছড়ায় মান্ত্রি পদ বংশানুক্রমিক — আগের মান্ত্রির দুই ছেলে দুই পুঞ্জির মান্ত্রি।
Ahmmed (2005) আরও সরাসরি লিখেছেন: মাতৃধারা প্রবল হলেও নারীরা সব জায়গায় পুরুষের চেয়ে ক্ষমতাশালী নন; বাইরের বা জনপরিসরের বিষয়ে নারীর অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়, আর পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ মেটান পুরুষ নেতারা, মান্ত্রি ও মূলত বয়স্কদের নিয়ে গঠিত পরামর্শক বোর্ড।
Singha-র বর্ণনায় প্রতিটি গোত্রের একটি kur darbar বা গোত্র-পরিষদ আছে, গঠিত হয় বয়স্ক পুরুষ সদস্যদের নিয়ে, প্রধান নির্বাচিত হন মায়ের গোত্র থেকে। বেশির ভাগ পুঞ্জিতে বড় মামাই গোত্রপ্রধান। বংশের সম্পত্তি ও প্রথা রক্ষা আর গোত্রের পরিবারগুলোকে জমি বরাদ্দ দেওয়া গোত্রপ্রধানের দায়িত্ব।
দ্য ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, তখন পাঁচজন নারী খাসি মান্ত্রি ছিলেন বলে জানা যায়। একই প্রতিবেদন বলছে, খাসি নারীরা পান বাছাই, বিক্রি ও হিসাবের খাতা রাখার কাজ করেন, কিন্তু বন বিভাগ ও চা-বাগানের সঙ্গে জমির বিরোধে সামনের সারিতে থাকেন মূলত মান্ত্রি ও পুরুষেরা।
নাহার পুঞ্জির অভিজ্ঞতা আমাদের আর্কাইভে আছে। মান্ত্রি ডিবারমিন জানিয়েছেন, 2012 সালের দিকে পুঞ্জির আগের মান্ত্রি পুঞ্জি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি দায়িত্ব নেন এবং একক নেতৃত্বের বদলে পুঞ্জিবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করে 7 সদস্যের একটি কমিটি গড়েন। 2014 সালের 30 মে পুঞ্জিতে হামলার পর পুরুষদের বিরুদ্ধে মামলা হলে রাতে পুঞ্জি পাহারায় “প্রধান ভূমিকা রাখলেন নারীরা”। তাঁর ভাষায়, পুরুষেরা তখনো একটি সংগঠন দাঁড় করাতে পারেননি, কিন্তু নারীরা গড়ে তুলেছেন “সেং ভালাং” নামের সংগঠন, যার বাংলা অর্থ তিনি দিয়েছেন “সবার ভালোর জন্য”।
উত্তরাধিকারের নিয়ম জমির ওপর দাঁড়িয়ে, অথচ বাংলাদেশের বেশির ভাগ খাসি পুঞ্জির জমির আইনি মালিকানা খাসিদের নামে নেই। দ্য ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মান্ত্রির হিসাবে 85টি পুঞ্জির মাত্র 11টির জমির দলিল খাসিদের নামে। 15টি পুঞ্জি চা-বাগান এলাকায়, আর বাকি প্রায় সবগুলো নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে বিরোধ আছে — খাসিদের দাবি তাঁরা অনাদিকাল থেকে এই জমিতে আছেন, বন বিভাগ পরে জমিটি গেজেটভুক্ত করেছে।
Singha লিখেছেন, অল্প কিছু পুঞ্জির নিজস্ব চাষযোগ্য জমি আছে, কিন্তু বেশির ভাগ পুঞ্জি পানের জমির আনুষ্ঠানিক মালিক নয়; তারা সাধারণত সরকারের কাছ থেকে ইজারায় বনভূমি পায়, আর ইজারার শর্তে জমি সাধারণত 99 বছর ব্যবহার করা যায়। বনভূমি পাওয়া “পুরোপুরি” নির্ভর করে মান্ত্রির ওপর, কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনিই। দ্য ডেইলি স্টারও লিখেছে, পুঞ্জির জমি একটি সমষ্টিগত সম্পত্তি, যা পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টনের তদারকি করেন মান্ত্রি।
এই অবস্থা কীভাবে তৈরি হলো, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন Ahmmed (2005), Rahman (2004)-এর বরাতে। 1950 সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের পর প্রজাদের নিয়মিত খাজনার দলিল দিয়ে দখল প্রমাণ করতে হতো; সে সময় খাসিরা মালিকানা নথিভুক্ত করতে পারেননি, ফলে তাঁদের পূর্বপুরুষের জমি সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যায় এবং অধিগৃহীত বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত হয়, আর তাঁরা নিজেদের জমিতেই “অবৈধ দখলদার” হয়ে যান।
নাহার পুঞ্জির অভিজ্ঞতা একই ছবি দেয়। আর্কাইভের আত্মকথন অনুযায়ী 1984 সালে পাশের চা-বাগানের মালিকেরা কাগজপত্র হাতে পুঞ্জির জমির মালিকানা দাবি করেন; পুঞ্জিবাসী সাব-লিজ চুক্তিতে সই করেন, আর সর্বশেষ চুক্তিতে বছরে 20 লক্ষ টাকা দিতে হতো। 2016 সালের 9 জুন জেলা প্রশাসন তাঁদের “অবৈধ দখলদার” বলে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়, যার বিপরীতে বিভাগীয় কমিশনার স্থগিতাদেশ দেন। আর্কাইভের “আদিবাসী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক অধিকার ও বর্তমান অবস্থা” লেখাও সিলেটের চা-বাগানের মাধ্যমে “খাসিয়াদের পানপুঞ্জি উচ্ছেদ”-এর কথা লিখেছে।
এর অর্থ দাঁড়ায়: উৎসগুলোতে কনিষ্ঠ কন্যার যে উত্তরাধিকার বর্ণিত, তা প্রথাগত — পুঞ্জির ভেতরে ঘর, পানের জমি ব্যবহারের অধিকার আর পরিবারের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের ভূমি-নথিতে ইজারার জমি কার নামে থাকে, কনিষ্ঠ কন্যার নামে হস্তান্তর হয় কি না, বা বাংলাদেশের আদালত খাসি প্রথাগত উত্তরাধিকার কীভাবে দেখে — এ বিষয়ে কোনো উৎসে তথ্য পাওয়া যায়নি।
বদলাচ্ছে, তবে ধীরে এবং মূলত শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারে। বাংলাদেশের উৎসগুলো তিন ধরনের পরিবর্তনের কথা বলছে: শিক্ষিত খাসিরা একক পরিবার পছন্দ করছেন, কিছু সচ্ছল পুরুষ বিয়ের পর স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আনছেন, আর উপার্জনকারী পুরুষেরা নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে সমান ভাগ করতে পারছেন। মাতৃসূত্রীয় নিয়ম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে — এমন কথা কোনো উৎস বলেনি।
Ahmmed (2005) আরেকটি পরিবর্তনের কথা লিখেছেন — সচ্ছল মা-বাবা এখন ছেলেদেরও সম্পত্তির ছোট একটি ভাগ দিচ্ছেন, আর বাইরের সমতলের পিতৃসূত্রীয় সমাজের সংস্পর্শে কিছুটা পিতৃধারা ঢুকে পড়েছে। কিন্তু দুটি কথারই উৎস হিসেবে তিনি দিয়েছেন Barch (1974) ও Dutta (1982)-কে, আর দ্বিতীয় কথাটি স্পষ্টভাবে “খাসি পাহাড়ের” বাইরের গ্রামগুলোর কথা। কথাগুলো বাংলাদেশের পুঞ্জির মাঠ-পর্যবেক্ষণ কি না, লেখায় তা স্পষ্ট নয়।
না, আইনগতভাবে নয়। মেঘালয়ে খাসি প্রথা নিয়ে আইন বানায় সেখানকার স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ, যার এখতিয়ার কেবল ভারতের ভেতরে। বাংলাদেশের খাসি উত্তরাধিকারের নিয়ম প্রথাগত, আর এর কোনো লিখিত বাংলাদেশি আইন বা বিধি এই লেখার উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি। তবে মেঘালয়ের বিতর্ক বোঝায়, একই প্রশ্ন সীমান্তের ওপারেও উঠছে।
দ্য শিলং টাইমস জানিয়েছে, 8 নভেম্বর 2021 তারিখে Khasi Hills Autonomous District Council (KHADC)-এ “Khasi Inheritance of Property Bill, 2021” উত্থাপিত হয়। বিলটি পাস হলে মা-বাবা চাইলে ছেলে-মেয়ে সব সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করতে পারবেন; যে কনিষ্ঠ কন্যা মা-বাবার দেখাশোনা করেন না, তিনি বৈধ উত্তরাধিকারী দাবি করতে পারবেন না; আর অ-খাসিকে বিয়ে করে স্বামীর প্রথা গ্রহণকারী খাসি নারী উত্তরাধিকার হারাবেন। বংশের সম্পত্তির ক্ষেত্রে মা-বাবাকে মামার উপস্থিতিতে লিখিত পারিবারিক ঘোষণায় সই করতে হবে। একই প্রতিবেদন বলছে, যিনি Khasi Social Custom of Lineage Act, 1997 অনুযায়ী খাসি মর্যাদা হারিয়েছেন, তিনি উত্তরাধিকারও হারাবেন।
দ্য হিতবাদ 21 নভেম্বর 2023 তারিখে লিখেছে, বাছাই কমিটির পরামর্শে বিলটিতে সংশোধন করা হয়েছে, খসড়া তৈরি, আর KHADC-র ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার P. N. Syiem-এর অনুমান অনুযায়ী পাস হতে আরও এক বছর লাগতে পারে। তিনি বলেছেন, কনিষ্ঠ কন্যার উত্তরাধিকারের ঐতিহ্য চলবে, আর বিলের উদ্দেশ্য ছেলেদের বঞ্চিত না করা। বিলটি এরপর পাস হয়েছে কি না, তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাঠকের জন্য একটি সতর্কতা: বাংলাদেশের খাসিদের নিয়ে যে অল্প কয়েকটি গবেষণা আছে, সেগুলোও প্রায়ই মেঘালয়ের বই থেকে নিয়ম উদ্ধৃত করে। Ahmmed (2005)-এর উত্তরাধিকার অংশের প্রায় সব নিয়ম Dutta (1982), Barch (1974) ও Gurdon-এর বরাতে লেখা, আর তাঁর উদ্ধৃতিতেই বারবার “খাসি পাহাড়ের” প্রসঙ্গ আসে; Singha (2014)-ও কয়েকটি নিয়মের জন্য Rana-র মেঘালয়বিষয়ক বই (1989), শিলংয়ে প্রকাশিত Khongphai-এর আইনগ্রন্থ (1974) ও Shadap-Sen (1981)-এর ওপর নির্ভর করেছেন। এ কারণেই এই লেখায় প্রতিটি নিয়মের পাশে বলা আছে কথাটি মাঠ থেকে, না বই থেকে।
নিচের ছকে বাংলাদেশের খাসিদের নিয়ে চারটি উৎস পাশাপাশি রাখা হলো। “উল্লেখ নেই” মানে উৎসটি প্রশ্নটির উত্তর দেয়নি — উত্তর “না” নয়।
| প্রশ্ন | Singha 2014 (মৌলভীবাজারে মাঠ-গবেষণা) | বাংলাপিডিয়া (আলি নওয়াজ) | Ahmmed 2005 | ডেইলি স্টার 2019 |
|---|---|---|---|---|
| বংশের সম্পত্তি কার দায়িত্বে | কনিষ্ঠ কন্যা, রক্ষক হিসেবে | কনিষ্ঠ কন্যা “মালিক” | কনিষ্ঠ কন্যা, সবচেয়ে বড় অংশ | নারীরা উত্তরাধিকারী |
| বাকি বোনেরা | উপার্জিত সম্পত্তিতে সমান ভাগ | ভাগ পান, বিক্রি নিষেধ | ভাগ পেতে পারেন | উল্লেখ নেই |
| ছেলেরা | কোনো অধিকার নেই | উল্লেখ নেই | বংশের সম্পত্তি থেকে বাদ | স্বোপার্জিত সম্পত্তিতে সমান ভাগ সম্ভব |
| সন্তানের পদবি | মায়ের গোত্র | মাতৃনাম, খ্রিষ্টান হলেও | মা ও মায়ের গোত্রের | মায়ের নাম |
| বিয়ের পর বসবাস | বর কনের বাড়িতে | কনের মাতৃগৃহের পাশে নতুন ঘর | শাশুড়ির বাড়িতে, পরে আলাদা হতে পারেন | উল্লেখ নেই |
| তালাকের পর সন্তান | উল্লেখ নেই | মায়ের কাছে | মা ও গোত্রের | মায়ের কাছে |
| পুঞ্জির নেতৃত্বে নারী | সাধারণত সভায় যান না; কিছু নারী পরিষদে আসছেন | উল্লেখ নেই | জনপরিসরে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয় | পাঁচজন নারী মান্ত্রি |
| জমির আইনি মালিকানা | বেশির ভাগ সরকারি ইজারা | অনেকেরই জমি নেই | 1950-এর আইনের পর সরকারি নিয়ন্ত্রণে | 85টির 11টিতে দলিল |
খাসি প্রথায় মায়ের সম্পত্তি পান মেয়েরা, আর মাতৃগৃহ ও বংশের সম্পত্তির দায়িত্ব পান কনিষ্ঠ কন্যা। মৌলভীবাজারের দুটি পুঞ্জিতে 2003 সালের মাঠ-গবেষণায় Rajmoni Singha লিখেছেন, পুরুষেরা কোনো ধরনের সম্পত্তি উত্তরাধিকারে পান না। বাংলাপিডিয়াও কনিষ্ঠ কন্যাকে সম্পত্তির মালিক বলেছে।
Singha-র 2014 সালের গবেষণা অনুযায়ী পারেন না। কনিষ্ঠ কন্যা বংশের সম্পত্তির রক্ষক; ভাই, বোন ও মামার সম্মতি ছাড়া তিনি তা ছেড়ে দিতে পারেন না, আর বাবাও একা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে নিজের উপার্জনের ওপর তাঁর কোনো সীমা নেই।
বংশের সম্পত্তি নয় — Singha (2014) ও Ahmmed (2005) দুজনেই তা বলেছেন। তবে দ্য ডেইলি স্টারের 7 মার্চ 2019-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী উপার্জনকারী পুরুষেরা নিজের নামে সম্পত্তি রাখতে ও তা সন্তানদের মধ্যে সমান ভাগ করতে পারেন। Ahmmed-এর মতে মেয়ে না থাকলে বাবার স্বোপার্জিত সম্পত্তি ছেলেরা পেতে পারেন।
উৎসভেদে উত্তর আলাদা। Singha (2014) লিখেছেন উপার্জিত সম্পত্তিতে সব বোন সমান ভাগ পান, কনিষ্ঠ কন্যা বাড়তি পান। বাংলা বাংলাপিডিয়া বলছে অন্য বোনেরা ভাগ পান কিন্তু বিক্রি করতে পারেন না। Ahmmed (2005) লিখেছেন তাঁরা “ভাগ পেতে পারেন”, সবচেয়ে বড় অংশ কনিষ্ঠ কন্যার।
মায়ের। খাসি সন্তান মায়ের গোত্র বা kur-এর সদস্য, আর মায়ের গোত্রনামই তার পদবি। বাবা তাঁর মায়ের গোত্রেই থেকে যান। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলেও খাসিরা মাতৃনাম ছাড়েন না, আর স্ত্রী মারা গেলেও সন্তানেরা মাতৃনামেই পরিচিত হয়।
কারণ পরিবারের দায়িত্ব তাঁর। Singha লিখেছেন, hoktoy ও অন্ত্যেষ্টির মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন ও খরচ, মা-বাবার দেখাশোনা আর পারিবারিক প্রয়োজনে অর্থ বণ্টন কনিষ্ঠ কন্যার কাজ। বাংলাপিডিয়া বলছে পারিবারিক পূজা-অর্চনার দায়িত্বও ছোট বোনের, আর তাঁর জন্য আলাদা ঘর তৈরি হয় না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর 2022 সালের জনশুমারি অনুযায়ী 12,422 জন — পুরুষ 6,357, নারী 6,065। এর মধ্যে 12,120 জন সিলেট বিভাগে। 1991 সালের শুমারির সংখ্যা বাংলাপিডিয়ায় 12,300, আর বাংলাদেশ খাসিয়া সমিতি সংখ্যাটি 30,000 বলে দাবি করে।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় — মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। সবচেয়ে বেশি পুঞ্জি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়: Rahman (2004)-এর 71টি পুঞ্জির তালিকায় 38টি কুলাউড়ায়, 11টি বড়লেখায়, 7টি শ্রীমঙ্গলে আর 4টি কমলগঞ্জে। মোট পুঞ্জির সংখ্যা Singha ও দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে 85টি।
বেশির ভাগ খ্রিষ্টান। SEHD-এর 2007 সালের জরিপের বরাতে Singha লিখেছেন, 81.63 শতাংশ খ্রিষ্টান, 11.8 শতাংশ প্রথাগত বিশ্বাসের আর প্রায় 3.6 শতাংশ হিন্দু। বাংলাপিডিয়া বলছে 80–90 শতাংশ খ্রিষ্টান, মূলত প্রোটেস্টান্ট, আর প্রায় প্রতিটি পুঞ্জিতে গির্জা আছে।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী একসময় খাসি ভাষা বাংলা হরফে লেখা হতো, বাইবেলের কিছু অংশ প্রথম বাংলা হরফেই অনূদিত হয়, আর শিক্ষিত খাসিরা এখনো বাংলা হরফে খাসিতে চিঠি লেখেন। ভারতে ভাষাটি রোমান হরফে লেখা হয়। বাংলাদেশে খাসি ভাষার কোনো সর্বজনীন লিখিত রূপ নেই।
না। সম্পত্তি ও বংশ মায়ের ধারায় চললেও পুঞ্জির নেতৃত্ব মূলত পুরুষের। Singha লিখেছেন নারীরা সাধারণত গ্রামের সভায় যান না, আর গোত্র-পরিষদ বয়স্ক পুরুষদের নিয়ে গঠিত। দ্য ডেইলি স্টার 2019 সালে জানিয়েছে, তখন পাঁচজন নারী মান্ত্রি ছিলেন বলে জানা যায়।
মায়ের কাছে। বাংলাপিডিয়া ও দ্য ডেইলি স্টার দুই উৎসই তা বলেছে। Ahmmed (2005) লিখেছেন, সন্তানেরা মা ও মায়ের গোত্রের বলে তালাকে তারা প্রভাবিত হয় না। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক অসিদ্ধ, আর তালাকের ঘোষণা হয় পুঞ্জির বৈঠকে।
না। মেঘালয়ের Khasi Hills Autonomous District Council-এর আইন কেবল ভারতে প্রযোজ্য। সেখানে 2021 সালে উত্থাপিত Khasi Inheritance of Property Bill মা-বাবাকে ছেলেমেয়ের মধ্যে সমান ভাগের সুযোগ দিতে চায়; 2023 সালের নভেম্বরে বিলটি তখনো পাস হয়নি। বাংলাদেশে খাসি উত্তরাধিকার প্রথাগত নিয়মে চলে।
জুমজার্নালের নিজস্ব সংগ্রহ
সরকারি পরিসংখ্যান
গবেষণা ও বিশ্বকোষ
সংবাদমাধ্যম
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয়ের জন্য দেখতে পারেন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:উত্তরাধিকার, খাসি, সিলেট
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।