সাহিত্য চর্চায় সিলেটের মণিপুরী সমাজ

0
3

বাংলাদেশে বাঙালি অর্থাৎ বাংলাভাষী ছাড়াও নানা জাতিসত্তার লোকজন দীর্ঘকাল থেকে বসবাস করে আসছেন। যে কোনো দেশেই এমন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অস্তিত্ব থাকা স্বাভাবিক।

রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনীতিক প্রভৃতি নানা কারণে একদেশের মানুষ অন্য দেশে অভিবাসী হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বব্যাপী মানব বসতির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।

বাংলাদেশে যে সব ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বসবাস করছে তার মধ্যে অপরিচিত না হলেও অনালোচিত একটি সংস্কৃতিবান জনগোষ্ঠী মণিপুরী।

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলায় তাদের বসবাস। কয়েক শতাব্দী ধরে মণিপুরীগণ এদেশে বসবাস করলেও এবং তারা আমাদের কাছের মানুষ আপন জন হলেও, তারা আমাদের অজানা-অচেনা।

কেননা তাদের জীবনধারা, সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা-সাহিত্য সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এ ব্যাপারে আমাদের অনাগ্রহ ও নির্লিপ্ততাই দায়ী।

‘নৃতাত্ত্বিক বিচারে মঙ্গোলীয় মহাজাতির তিব্বত-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের মণিপুরী জনগণ যে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এককালের স্বাধীন রাজ্য- মণিপুর থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল তা তাদের পরিচিতিজ্ঞাপক মণিপুরী শব্দের ব্যবহার থেকেই সুস্পষ্ট।’

(শেরাম ১৯৯৬:২১) অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই নানা কারণে কিছু সংখ্যক মণিপুরী বাংলাদেশে বসতিস্থাপন করেন। পরে কেবল মণিপুর নয় – আসাম ও ত্রিপুরা থেকেও মণিপুরীরা সিলেটে এসে বসতি স্থাপন করেছেন।

মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রতিভাবান কবি সাহিত্যিকদের উজ্জ্বল মেধা ও মননের আলোকসম্পাতে মণিপুরী সাহিত্যের প্রাণময় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে বহুবর্ণা পুষ্পের সম্ভারে।

১৯৭২ সালে মণিপুরী ভাষা ভারতের সাহিত্য একাডেমীর স্বীকৃতি লাভ করে। তারপর থেকেই শুরু হয় মণিপুরী কবি সাহিত্যিকদের একাডেমী অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করার পালা।

এছাড়াও সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ভারত সরকার প্রদত্ত মর্যাদাবান উপাধি পদ্মশ্রী-তে ভূষিত হয়েছেন মণিপুরী ভাষার অনেক কবি ও সাহিত্যিক। এ যাবৎ মণিপুরী শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে পদ্মশ্রী উপাধি প্রাপ্তির সংখ্যা ২১ জন।

স্বকীয় সাহিত্যেই শুধু নয়, অনুবাদের ক্ষেত্রেও মণিপুরী সাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।

মণিপুরী ভাষায় অনূদিত হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত-এর মতো কালজয়ী সাহিত্যকর্ম; মেঘদূত, ইলিয়াড, ওডেসীর মতো ক্লাসিক সাহিত্য; ঋগ্বেদ, বিভিন্ন পুরাণ, শ্রীমদ্ভগবতগীতা, উজ্জ্বল নীলমণি, ভক্তিরসামৃত, মনুসংহিতা, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মের বিখ্যাত গ্রন্থাবলী; কালিদাস, ভাস, ভবভূতি, বাণভট্টসহ প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত সাহিত্যিকবৃন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপীয়ার, টলস্টয়, হোমার, বার্নাড শ’, সোফোক্লিস, বঙ্কিম, শরৎসহ বিশ্ব সাহিত্যের মহৎ রূপকারদের অনন্য সব সাহিত্যকর্ম ।

বঙ্কিমচন্দ্রের সকল উপন্যাস এবং শরৎচন্দ্রের প্রায়সমগ্র রচনাবলীই অনূদিত হয়েছে মণিপুরী ভাষায়। মণিপুরী সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অনেক সৃষ্টিকর্মও আজ অনূদিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়।’

(শেরাম ২০০৯:১২-১৩)। মণিপুর, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স অধ্যয়নের ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশে প্রায় তিনশত বছর ধরে মণিপুরীরা বসবাস করছেন। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলেন, বাংলায় লেখাপড়া করেন, কিন্তু তাদের পারিবারিক ভাষা মণিপুরী।

‘এক উন্নত এবং উজ্জ্বল ভাষা-সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ প্রভাববলয়ে অবস্থান করেও আপন সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য এবং শুধুমাত্র পারিবারিক ভাষা হিসেবেই ব্যবহৃত মণিপুরী ভাষাকে সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী কাল ধরে বাঁচিয়ে রাখা নিতান্তই এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।’

(শেরাম ১৯৯৬:৭২)। সিলেটে বসবাসরত মণিপুরীগণ মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় নিষ্ঠাবান । প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখানে মণিপুরীভাষা ও সাহিত্যচর্চার কোনো সুযোগ না থাকলেও তারা মণিপুরী ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন।

১৯৭৫ সালে উৎসাহী মণিপুরী কবি সাহিত্যিকগণ একটি সাহিত্য সংগঠন, পূজারী সাহিত্য সংসদ, গড়ে তোলেন।

১৯৭৭ সালে এই সংগঠনের নামকরণ হয় ‘বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ’।

এই সংসদ গঠনের পূর্বে যারা মণিপুরী সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পণ্ডিত থোংখাতাবম নবকিশোর শর্মা, প্রফেসর সোনামণি সিংহ, থাকচোম মনিহার সিংহ শোণী প্রমুখ।

বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠার পর এর মুখপত্র “দীপান্বিতা” প্রকাশের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় বাংলাদেশে মণিপুরী সাহিত্য চর্চার উজ্জ্বল ইতিহাস।

দীপান্বিতাকেন্দ্রিক সাহিত্যধারায় পুষ্ট হয়ে অনেক সাহিত্যকর্মী পরবর্তীতে গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন এবং প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকী।

বাংলাদেশের মণিপুরীরা বাংলা সাহিত্যের মতো এক উন্নত সাহিত্যের প্রত্যক্ষ প্রভাব বলয়ে অবস্থান করেও মণিপুরী ভাষা-সাহিত্যের চর্চায় এগিয়ে এসেছে এবং এই ধারা ক্রমশ বেগবান হচ্ছে।

এ যাবৎ প্রকাশিত বাংলাদেশের মণিপুরী সাহিত্য সাময়িকীগুলোর মধ্যে দীপান্বিতা/মৈরা, মতম, থাজ, থরো-থাম্বাল-থারিকথ্রা, খোল্লাউ, অনৌবা মঙাল, তাম্না, মণিপুরী দর্পণ, মীৎকপ থোকপা, প্রয়াস, ইপোম, শজিবু, ইচেল, লৈচল, ঔগ্রী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।’

(নিরঞ্জন ২০০৯:২৫-২৬)। ‘মৈরা’-এর ৪৪তম সংখ্যা মণিপুরী ভাষা উৎসব ২০১১ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। সিলেট বিভাগ থেকে মণিপুরী ভাষায় একুশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ।

প্রকাশকাল ১৯৮২ থেকে ২০১০ সাল। তন্মধ্যে একক গ্রন্থ সতেরটি, সম্পাদিত সংকলনগ্রন্থ চারটি।

একক গ্রহের মধ্যে কবিতাগ্রন্থ তেরটি এবং গল্প, নিবন্ধ, প্রবন্ধ, ধর্মীয় গ্রন্থ একটি করে। সম্পাদিত গ্রন্থ চারটির মধ্যে তিনটি কবিতা সংকলন এবং একটি প্রবন্ধ সংকলন।

প্রকাশনার দিক থেকে মণিপুরী সাহিত্য সংসদ থেকে নয়টি, ঈনাৎ পাবলিকেশন্স থেকে সাতটি, হামোম পাবলিকেশন্স থেকে তিনটি এবং ইমা বাংলাদেশ থেকে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মণিপুরী কাব্যগ্রন্থ তেরটির মধ্যে এ কে শেরামের দুটি, শেরাম নিরঞ্জনের তিনটি, হামোম প্রমোদের একটি, সনাতন হামোমের তিনটি, মুতুম অপুর একটি, খোইরোম ইন্দ্রজিৎ-এর একটি, মাইস্নাম রাজেশের একটি এবং ইমোদম রবিনের একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

গল্পগ্রন্থ, প্রবন্ধগ্রন্থ ও নিবন্ধ গ্রন্থের লেখক যথাক্রমে এ কে শেরাম, শেরাম নিরঞ্জন এবং খোইরোম ইন্দ্রজিৎ। প্রবন্ধ সংকলন এবং একটি কাব্য সংকলন সম্পাদনা করেছেন এ কে শেরাম।

অন্য দুটি কাব্য সংকলন এর একটি মুতুম অপু এবং অপরটি যৌথভাবে শেরাম নিরঞ্জন, এন যোগেশ্বর অপু ও নামব্রম শংকর সম্পাদনা করেছেন। ধর্মীয় গ্রন্থটির লেখক শ্রী কে কূলচন্দ্র সিংহ।

সিলেটের মণিপুরী কবি সাহিত্যিকগণ কেবল মণিপুরীভাষায় সাহিত্যচর্চা করেন না; বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্যও তাদের মমতা আছে।

বাংলায় তাদের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তেরটি; তন্মধ্যে একক কাব্য সাতটি, গবেষণাগ্রন্থ তিনটি, অনুবাদগ্রন্থ একটি, ধর্মীয় গ্রন্থ একটি এবং সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ একটি।

কাব্যগ্রন্থের মধ্যে দু’টি করে গ্রন্থ রচনা করেছেন এ কে শেরাম ও সনাতন হামোম। অপর তিনটির রচয়িতা হলেন যথাক্রমে অরুণ কুমার শর্মা, শেরাম নিরঞ্জন এবং থোঙাম সনজয়।

গবেষণাগ্রন্থ দুটি রচনা করেছেন এ কে শেরাম; অপর গ্রন্থটির রচয়িতা থোঙাম ধীরেন। অনুবাদ গ্রন্থটি অনিল কিষণ সিংহ অনূদিত। ধর্মীয় গ্রন্থটির রচয়িতা মিলাউ সিংহ লৈচম্বম।

প্রবন্ধ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন হামোম প্রমোদ। এছাড়া বাংলা বা মণিপুরী ভাষায় দীর্ঘদিন লেখালেখি করলেও অনেকের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। দুঃখের বিষয়, কয়েকজন লেখক পান্ডুলিপি রেখে পরলোক গমন করেছেন।

সিলেট বিভাগের মণিপুরী লেখকদের মধ্যে প্রবীণতম হলেন থোংখাতাবম নবকিশোর শৰ্মা। ১৯০৯ সালের অক্টোবর মাসে তিনি চুনারুঘাটের শিবনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতার নাম থোংখাতাবম লালচান শর্মা। তার প্রথম লেখা মণিপুর থেকে প্রকাশিত ‘ললিতমগুরী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে । মণিপুর ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ-সাময়িকপত্রে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। তবে তাঁর লেখা কয়েকটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে এবং প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৯১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন।

সিলেটের মণিপুরী লেখকদের মধ্যে যাদের মণিপুরী গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রবীণতম হলেন শ্রী কে কুলচন্দ্র সিংহ।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ কমলগঞ্জের কাটাবিল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কে বাবু সিংহ। মণিপুরী ভাষায় ধর্মীয় বিষয়ে লেখা তার গ্রন্থ ‘পুন্সিগী মমল পীবা’ (জীবনের মূল্য দেওয়া) ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

ধর্মীয় বিষয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের প্রণেতা মিলাউ সিংহ লৈচম্বম। ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি সিলেট শহরের লামাবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম গোকুল চান সিংহ। তার ধর্মীয় গ্রন্থ ‘শ্রীকৃষ্ণপ্রীতে শ্রাদ্ধসমাচার’ ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

সিলেটের অধিবাসী যে প্রবীণতম কবির মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তিনি হলেন ইমোদম রবিন। ১৯৩৫ সালের ৪ মার্চ তিনি সিলেটের লালাদিঘিরপাড়ে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম গনেশ্বর সিংহ। তাঁর মণিপুরী কবিতাগ্রন্থ ‘ওয়াখলগী মঙাল’ (ভাবনার আলো) ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

মণিপুরী সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র থোকচোম মনিহার শোনী । ১৯৪১ সালে সিলেট শহরের লালদিঘিরপাড়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম থোকচোম সোনামনি সিংহ। ১৯৬২ সালে ‘একটি মানুষ ও একটি সন্ধ্যা’ ছোটগল্পের জন্য তিনি বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। তিনি মণিপুরী সাহিত্যের সুপরিচিত লেখক। ব

র্তমানে তিনি কানাডায় বসবাসরত। একসময় মণিপুরের রাজধানী শহর ইস্ফাল থেকে তাঁর সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘লাসানী’ প্রকাশিত হয়েছিল।

তাঁর প্রকাশিত মণিপুরী ভ্রমণকাহিনী ‘খোংচৎ’ (যাত্রা, ১৯৯৯), ‘থওয়ানমিচাক’ (নক্ষত্র, ২০০৩) ও ‘অরোইবা খোঙচৎ’ (শেষ যাত্রা, ২০০৬) পাঠকনন্দিত গ্রন্থ। এছাড়া ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ ‘ঐ লাই নীংবা চৎলে’ (আমি উপাসনায় গেলাম, ২০০৮)।

থোকচোম মনিহার শোনীর ভ্রমণকাহিনী ‘খোঙচৎ’ বাংলায় অনুবাদ করে সুখ্যাত হয়েছেন প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনিল কিষণ সিংহ।

গ্রন্থটির বাংলা নাম ‘পথ চলতে চলতে’, প্রকাশিত হয়েছে ২০০৬ সালে। অনূদিত গ্রন্থটি মৌলিক রচনার মত সাবলীল। অনিল কিষণ সিংহ ১৯৩৭ সালের ২৫ মে সিলেট শহরের লালাদিঘিরপাড়ে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম অশ্বিনী কুমার সিংহ। তিনি একজন দক্ষ প্রাবন্ধিক ও লোকসংস্কৃতিবিদ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাম নীলবাবু ১৯৪৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চুনারুঘাটের গোবরখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মণিপুরী ভাষায় তিনি নিয়মিত কবিতা লিখতেন। তাঁর কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি-কয়েকটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তার কবিতায় আধুনিক চেতনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ছিল।

তিনি ‘অনৌবা মঙাল’ নামে একটি সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন। ২০০৬ সালের ১৭ মে তিনি পরলোক গমন করেছেন।

মণিপুরী লেখিকাদের মধ্যে প্রবীণা হলেন এল. পদ্মামনি দেবী। ১৯৪৭ সালের ১৩ জুন তিনি সিলেট শহরের আম্বরখানায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সাল থেকে তিনি মণিপুরী ভাষায় নিয়মিতভাবে কবিতা ও গল্প রচনা করে যাচ্ছেন। তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। কয়েকটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

ইতিহাস সচেতন লেখক থোঙাম ধীরেন। ১৯৫১ সালের ৩ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম থোঙাম ধ্বজ সিংহ।

মণিপুরী বিষয়ক তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের মণিপুরী জাতি’ ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

তিন দশক ধরে মণিপুরী ও বাংলা ভাষায় প্রবন্ধ ও কবিতা লিখছেন হামোম তনুবাবু। ১৯৫১ সালের ১৯ মে কমলগঞ্জের ছনগাঁও গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম হামোম চাউবা সিংহ। তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি । ‘মণিপুরী ভাষা’ নামক একটি পাণ্ডুলিপিসহ তার কয়েকটি পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

সিলেট বিভাগে মণিপুরী লেখকদের মধ্যে প্রধান হলেন এ কে শেরাম। তিনি কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক, সংকলক, ছোটগল্প লেখক ও সম্পাদক।

মণিপুরী ও বাংলা উভয় ভাষায় কবিতা ও প্রবন্ধ রচনায় তিনি সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। সমান দক্ষতায় তিনি দু’টি ভাষায় নিয়মিত লিখছেন।

মণিপুরী লেখকদের মধ্যে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ১৯৫৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাটের গোবরখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নবকিশোর সিংহ।

১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

১৯৮২ সালে তাঁর মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ ‘বসন্ত কুন্নিপালগী লৈরাং’ (আটাশ বসন্তের ফুল) প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ।

দীর্ঘ বিরতির পর তার দ্বিতীয় মণিপুরী কবিতাগ্রন্থ ‘মঙলানগী অতিয়াদা নুমিৎ থোকপা’ (স্বপ্নের আকাশে সূর্যোদয়) ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

২০০১ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার মণিপুরী ছোটগল্প সংকলন ‘নোঙ্গৌবী’ (চাতক পাখি)। গ্রন্থটি বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম মণিপুরী ছোটগল্প গ্রন্থ।

বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম মণিপুরী কবিতা (বঙ্গানুবাদসহ) সংকলন এবং মণিপুরী প্রবন্ধ সংকলন সম্পাদনার কৃতিত্বও এ কে শেরাম-এর।

তাঁর সম্পাদিত ‘বাংলাদেশী মণিপুরী শৈরেং’ (বাংলাদেশের মণিপুরী কবিতা) ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হলে মণিপুরী কবিতা বাঙালি কবি ও গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

গ্রন্থে প্রতিটি কবিতার বঙ্গানুবাদও পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে। ২০১১ সালে গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে সতের জন মণিপুরী কবির মণিপুরী কবিতা বঙ্গানুবাদসহ সংকলিত হয়েছে।

১৯৯৯ সালে তার সম্পাদিত মণিপুরী প্রবন্ধের সংকলন ‘মণিপুরী শক্তাক খুদম’ প্রকাশিত হয়েছে। এ কে শেরাম এর বত্রিশটি বাংলা কবিতার সংকলন ‘চৈতন্যে অধিবাস’ (১৯৮৮) এবং ছিয়াশিটি বাংলা কবিতার সংকলন ‘প্রেমে-অপ্রেমে আছি, আছি দ্রোহী চেতনায়’ (২০১০) পাঠকনন্দিত গ্রন্থ।

এ কে শেরামের দুটি বাঙলা গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । এ গুলো হচ্ছে, ‘মণিদীপ্ত মণিপুরী ও বিষ্ণুপ্রিয়া বিতর্ক-ইতিহাসে দর্পণে দেখা’ (১৯৯৩) এবং ‘বাংলাদেশের মণিপুরী : ত্রয়ী সংস্কৃতির ত্রিবেণী সঙ্গমে’ (১৯৯৬, দ্বিতীয় মুদ্রণ ২০০৬)।

মণিপুরী ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে এ কে শেরাম দীর্ঘদিন ধরে পড়াশুনা করে যাচ্ছেন। মণিপুরী সম্পর্কে বাংলাভাষীদের অবহিতকরনের মহান দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন।

তার দুটি গবেষণা গ্রন্থ পাঠ করলে বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরীগণের জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা সম্ভবপর।

মণিপুরী কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে আর একজন মণিপুরী লেখকের। তার নাম খোইরোম ইন্দ্রজিৎ। ১৯৫৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ভানুবিল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতার নাম ঘোইরোম আমুজাউ। তাঁর প্রকাশিত মণিপুরী প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘মচু নাইবা মঙ’ (রঙিন স্বপ্ন) ২০০৩ সালে এবং মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ ‘ইন্নাফি’ (ওড়না) ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

মণিপুরী ও বাংলাভাষায় প্রবন্ধ ও কবিতা লিখেন খোইরোম কামিনী কুমার। ১৯৫৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাটের যাত্রাগাঁও গ্রামে তার জন্ম। তার পিতার নাম খোইরোম মিলং সিংহ।

তিনি সম্পাদনা করেছেন সাহিত্য সংকলন ‘তাম্না’। তাঁর কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। তার কয়েকটি পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

সমকালীন আর একজন মণিপুরী কবি ও প্রাবন্ধিক য়েনশমম শান্তকুমার | বাংলা ও মণিপুরী ভাষায় তিনি কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেন। তার জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ লা জুলাই কমলগণ্ডের ভানুবিল গ্রামে।

তাঁর পিতার নাম য়েনশমম ব্রজমোহন সিংহ। তিনি সম্পাদনা করেছেন সাহিত্য সংকলন মতম ও দীপান্বিতা। তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি তবে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে কয়েকটি পাণ্ডুলিপি।

বাংলা ও মণিপুরী ভাষার কবি সনাতন হামোম ১৯৫৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ছনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হামোম চাউবা সিংহ।

তার প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ কল্পবধূ (১৯৮৮) ও ‘ইস্পিত বাসনা’ (১৯৮৯)। নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর কবি নারীর ভালোবাসার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার নৈরাশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

সমাজের নানা গ্লানি তাঁর কবিচিত্তকে ব্যথিত করে। তাঁর তিনখানা মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ- ‘লৈনম য়াওদ্রিবী লৈরাং’ (গন্ধহীন ফুল, ২০০০), ‘থওয়াইগী নুংশিরৈ’ (হৃদয়ের নুংশিরৈ, ২০০৩) এবং ‘মঙ মরক্তা’ (স্বপ্নের মাঝে, ২০০৬) প্রকাশিত হয়েছে।

কবি অরুণ কুমার শর্মা ১৯৬০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাটের আরাদগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কমলকিশোর শর্মা।

১৯৮৩ সালের মে দিবসে তার বাংলা কবিতা গ্রন্থ ‘চব্বিশের হ-য-ব-র-ল’ প্রকাশিত হয়েছে। সমাজচেতনা, যুক্তিবাদ এবং প্রচলিত নিগড় ভাঙার আহবান তাঁর কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

কবি-প্রাবন্ধিক শেরাম নিরঞ্জন ১৯৭০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চুনারুঘাটের গোবরখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম নবকিশোর সিংহ। তার তিনটি মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘মঙ মপৈ মরক্তা’ (স্বপ্নপুণ্ডের ভিড়ে, ১৯৯৫), ‘অতোপ্পগী পিরাং’ (অন্যজনের অশ্রু, ২০০৪) ও ‘নাতৈ চান্দ্রবা পৃথিবী’ (অন্যরকম পৃথিবী, ২০০৫)।

এছাড়া তার বাংলা কবিতাগ্রন্থ ‘স্বপ্নজন্ম ব্যর্থ হলে’ (২০০৬) এবং মণিপুরী প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘ফরংজাই ওয়াখল’ (অর্থহীন ভাবনা, ২০০৭) প্রকাশিত হয়েছে। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মণিপুরী কবিতা সংকলন ‘ইচেল ইরাওখোল’ (স্রোতের ধ্বনি, ২০০০)।

কবি-সম্পাদক হামোম প্রমোদ কমলগঞ্জের ছনগাঁও গ্রামে ১৯৭১ সালের ১ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হামোম গোপাল সিংহ।

তিনি বাংলা ও মণিপুরী ভাষায় কবিতা লিখেন। বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী এই কবির মণিপুরী কাব্যগ্রন্থ ‘ওয়াখলগী নাচোম (ভাবনার সমষ্টি, ২০০৪) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সম্পাদনা করেছেন মণিপুরী সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘মণিপুরী প্রবন্ধ গ্রন্থমালা-১’ (১৯৯৭)।

মণিপুরী কবি মাইস্নাম রাজেশ ১৯৭৭ সালের ৩০ মার্চ সিলেট শহরের শিবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাইস্নাম রাঘব সিংহ। তাঁর মণিপুরী কবিতাগ্রন্থ ‘মোংকম থম্মোয়গী নুংশিবা’ (শ্মশান হৃদয়ের প্রেম) ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

কবি-সম্পাদক মুতুম অপু ১৯৭৭ সালের ২৭ অক্টোবর সিলেট শহরের শিবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ভুবেন্দ্র সিংহ।

তাঁর মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ ‘লৈরাংগী লৈরোং’ (ফুলের সৌন্দর্য, ২০০৪) প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সম্পাদিত ‘এক বসন্তের ভালোবাসা’ (২০০১) বাংলা কবিতার মণিপুরী অনুবাদ এবং মণিপুরী কবিতার বাংলা অনুবাদ।

কবি থোঙাম সন্জয় ১৯৮১ সালের ৩ জানুয়ারি কমলগঞ্জের নয়াপত্তন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ব্রজগোপাল সিংহ। তাঁর বাংলা কবিতাগ্রন্থ ‘গ্রামবিশ্বের তৃণলতা’ ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ শতকের সত্তরের দশকে যে সব মণিপুরী কবি-সাহিত্যিক সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তারা হলেন মাইবম তলেন, তৌরেম রবিন, এ কে শেরাম, কারাম নীলবাবু, এল পদ্মামনি দেবী, শান্ত খুমন, খোইরোম ইন্দ্রজিৎ, খোইরোম কামিনী কুমার সিংহ, কন্থৌজম সুবোধ সিংহ, শেরাম শরৎ প্রমুখ।

পরবর্তীতে লেখালেখিতে এসেছেন ইমোদম রবিন, সনাতন হামোম, এল শ্যামল, অহৈবম রণজিৎ কুমার সিংহ, টিএইচ কৈনাহল ও অন্যান্যরা।

বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের মণিপুরী সাহিত্যে প্রকৃত আধুনিকতার সূত্রপাত হয়। এ সময় মণিপুরী কবিতার বিষয়বস্তুতে, প্রকাশভঙ্গীতে, শব্দপ্রয়োগে, উপমা-উৎপ্রেক্ষার ব্যবহারে পূর্ববর্তী কবিদের থেকে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

এ সময়ের কবিদের মধ্যে ইতোমধ্যে হামোম প্রমোদ ও শেরাম নিরঞ্জন নিজস্ব চরিত্র অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এ সময়ের অন্যান্য কবিদের মধ্যে এন যোগেশ্বর অপু, নামব্রম শংকর, মাইস্নাম রাজেশ, মুতুম অপু, কে বীরলাল, এন শান্ত, অ গুণমনি মৈতৈ, ওয়াই চন্দ্রজিত প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখের দাবী রাখে।

পরবর্তীতে এ ধারাকে আরো পরিপুষ্ট করে তুলেন থোঙাম সন্জয়, কন্থৌজম সুরঞ্জিত, মাইবম সাধন, পারী চিংথাম, শ্যামল সিংহ, শেরাম রিপন, শেরাম চীংখৈ প্রমুখ।

মণিপুরী সাহিত্যের মূল স্রোতোধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বিধায় বাংলাদেশে মণিপুরী সাহিত্যচর্চার ধারা খুব একটা বেগবান হতে পারছে না এটা সত্য।

কিন্তু বাংলা সাহিত্যের বিপুলায়তন ভাণ্ডারের প্রত্যক্ষ প্রভাবে পুষ্ট হওয়ার কারণে বাংলাদেশের মণিপুরী কবিতাগুলো বিষয়-ব্যাপ্তিতে এবং গভীরতায়, শৈলী ও চেতনায় প্রায়শই নানা মাত্রাকে ছুঁয়ে যায় বলে এগুলো মণিপুরী সাহিত্যের মূলভূমি মণিপুরেও যথেষ্ট সমাদৃত। (নিরঞ্জন ২০০১:২৬-২৭)।

একুশ শতকে বাংলাদেশে মণিপুরী সাহিত্যচর্চা আরো বেগবান হবে এবং মণিপুরী লেখকগণ বাংলা সাহিত্যেও মূল্যবান অবদান রাখবেন এই প্রত্যাশা আমাদের।

 

তথ্যপঞ্জি

এ কে শেরাম       ১৯৯৬ : নাংলাদেশের মণিপুরী : ত্রয়ী সংস্কৃতির ত্রিবেণী সঙ্গমে, ঢাকা। ২০০৯ : মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য (প্রবন্ধ), মৈরা ৪১তম সংখ্যা, সিলেট।

এ কে শেরাম  সম্পাদিত ২০১১ : বাংলাদেশের মণিপুরী কবিতা।

নন্দলাল শর্মা ২০০৯ : সিলেটের সাহিত্য ; স্রষ্টা ও সৃষ্টি, সিলেট।

শেরাম নিরঞ্জন ২০০৯ : বাংলাদেশে মণিপুরী সাহিত্য (প্রবন্ধ), মৈরা ৪১তম সংখ্য, সিলেট।

*অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা: অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ, সিলেট এমসি কলেজ । বর্তমানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট।

(লেখকের ‘প্রসঙ্গ সিলেট’ (২০১২) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধটি লেখকের অনুমতিক্রমে এখানে পুনর্মুদ্রিত হলো)


লেখকঃ এ কে শেরাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here