Last updated Oct 7th, 2026
1

Chittagong, Hill Tracts Regulation 1900: বৃটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন পরিচালনা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য ‘Chittagong Hill Tracts Regulation 1900’ প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts প্রণীত হয়। এই আইনের বিধানাবলীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন কিভাবে চলবে, ভূমি ও পাহাড় কিভাবে ব্যবহার এবং কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিধি ৩৪ -এ ভূমি বন্দোবস্তি, লিজ, বিক্রি ইত্যাদি কিভাবে হবে এবং কোন ব্যক্তি বা কারা জমি ভোগ করবে বা কোন ব্যাক্তি ভূমি লিজ নিতে পারবে তা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বিধি ৩৮ থেকে ৫০ পর্যন্ত রাজা ও হেডম্যানদের ক্ষমতা ও পরিধি বিধানাবলী রয়েছে। বিধি ১ থেকে ৩৩ পর্যন্ত দেওয়ানী সংক্রান্ত মামলার কার্যবিধি কিভাবে হবে এবং রেজিষ্ট্রেশন কিভাবে হবে তা উল্লেখ রয়েছে। একারণে Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর বিধানাবলী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য হয় না।
বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসক, রাজা ও হেডম্যানের গুরুত্ব অনেক বেশী। এই রেগুলেশন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক হচ্ছে জেলার সর্বোচ্চ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি।৪০ জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসনের সমস্ত প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনা করেন। জেলা প্রশাসক ভূমি ও দেওয়ানী সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা জজ হিসেবে শুনানী গ্রহণ করেন এবং ফৌজদারী বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বসেন। তবে ১লা জুলাই, ২০০৮ থেকে জেলা প্রশাসকের দেওয়ানী ও ফোদারী বিচার করার ক্ষমতার এখতিয়ার উঠে যায়।৪১ একদিকে প্রশাসক হিসেবে যেমন কাজ করেন, অন্যদিকে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচারক হিসেবে বসেন। এ কারণে জেলা প্রশাসক তার নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারেন না। তার পক্ষপাতিত্বের কারণে ভূমি সমস্যা সমস্যায় থেকে যায় এবং এই সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পায়।
হেডম্যান মূলত: মৌজার প্রধান এবং কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি মৌজা গঠন হয়। হেডম্যান সামাজিক ও পারিবারিক বিচারের পাশাপাশি মৌজার সামাজিক শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা, জায়গা-জমি সংক্রান্ত দলিল তৈরী করা ও সংরক্ষণ করে রাখা, ভূমি ও জুমের খাজনা আদায়, বন-জঙ্গল সংরক্ষণ ও পরিচর্যা এবং মৌজার সীমানা সংরক্ষিত করে রাখেন। এছাড়া, সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেয়া প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করেন। কোন ভূমির বন্দোবস্তি করতে হলে বা সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করতে হলে প্রথমেই হেডম্যানের রিপোর্ট নিতে হয়। এটি আইনে পরিষ্কার উল্লেখ না থাকলেও হেডম্যান তার মৌজার ভূমি ও বন-জঙ্গল সংরক্ষণ ও খাজনা সংগ্রহ করেন বলে তার প্রতিবেদন প্রয়োজন। এছাড়া, শত শত বছর ধরে রেজিষ্ট্রী দলিল ছাড়া ভূমি (বন, ভূমি,জুম ও গোচারণ ভূমি) ভোগ দখল করে আসা পাহাড়িদের ভূমির বিষয়ও হেডম্যান লিপিবদ্ধ করে রাখেন। এই জন্য হেডম্যান প্রশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ১৯০০ সালের রেগুলেশন আইনের বিধি- ৩৪(১)(এ)(ii) বিধিতে উল্লেখ রয়েছে,…………….. কোন জমির লীজ বা বন্দোবন্তি নিতে হলে হেডম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। পরে হেডম্যান তা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করবে।৪২ অর্থাৎ হেডম্যানের অনুমতি ব্যতীত কোন জমি বন্দোবস্তি বা লীজ করা যাবে না। অথচ সরকার ১৯৮০-৮১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সেটলার বাঙালিদের যে ৫ বা ৪ একর জমির লীজ বা বন্দোবস্তি দিয়েছে সেসব হেডম্যানের প্রতিবেদন ছাড়া দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। এমনকি, তাদের বন্দোবস্তি দেওয়ার সময় কোন কানুনগোর সরেজমিন তদন্ত রিপোর্ট ছিল না। কোন মৌজায় কোন হোল্ডিং বা দাগে ভূমি দেয়া হয়েছে তা অস্পষ্ট, কাল্পনিক চৌহদ্দির সৃজন করে সিডিউল তৈরী করে বন্দোবস্তি করা হয়। জেলা প্রশাসকের অফিসে বসে বিশেষ বন্দোবস্তি খাতা খুলে সেটলার বাঙালিদের ৫ একর করে ভূমি দেয়া হয়। এছাড়া, এখানে উল্লেখ করা যায় যে, দেশের বিদ্যমান সেটেলম্যান্ট আইন অনুযায়ী ভূমি বন্দোবস্তি বা বীজ অথবা বেচা-কেনা করতে গেলেও রাজা কর্মকর্তা ও কানুনগোর সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন। অথচ সেটলারদের ভূমি বন্দোবস্তির সম্পাদনে তাও অনুসরণ করা হয়নি।
হেডম্যান মৌজার সকল সম্পদের সংরক্ষণ করবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী বা অ-অধিবাসী তাদের গৃহস্থালী কাজ ব্যতীত অন্য কোন কালে মৌজার বাঁশ, কাঠ, ও অন্যান্য বনজ দ্রব্য হেডম্যানের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করতে পারবে না। যদি ব্যবহার হয় তাতে হেডম্যান সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন। Regulation 1900- এর বিধি ৪১. এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।৪৩ অথচ গবেষণায় লক্ষ্য করা যায়, সেটলার বাঙালিরা যেখানে বসতি স্থাপন করেছে সেখানে বাগান, বন-জঙ্গল, বাঁশ, বনজদ্রব্য, গাছ ও কাঠ বিনা অনুমতিতে কেটে ফেলতে এবং তা বিক্রি করছে। এই সব ক্ষেত্রে হেডম্যানের বিধি নিষেধ রয়েছে এবং তা ব্যবহার করতে গেলে সংশ্লিষ্ট হেডম্যানের অনুমতি অবশ্য লাগবে। এছাড়া, পাহাড়িরা তাদের ঐতিহ্য ও প্রথাগতভাবে জুম চাষের জন্য পাহাড়গুলো অথবা বনজ সম্পদ ব্যবহারের জন্য বনগুলো কোন কোন সময় যৌথ মালিকানা অর্থে ব্যবহার করে। যৌথ মালিকানা সাংবিধানিকভাবেও স্বীকৃত।৪৪ গবেষণা এলাকায় হেডম্যানের অনুমতি ব্যতীত সেই সব কিছু পাহাড় সেটলার বাঙালিরা জোর করে বেদখল করে নিয়েছে অথবা সেনা ক্যাম্প ও চেকপোষ্ট স্থাপন হয়েছে। যা বেআইনী ও অবৈধ ছিল।
Regulation 1900- বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত এক সার্কেল থেকে আরেক সার্কেলে অভিবাসন, অভিবাসন নীতি ভঙ্গকারী ও ফেরারীকে সার্কেল প্ৰধান ও হেডম্যান আটক করবার বা সম্পত্তি জব্দ করবার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া, হেডম্যান তার মৌজার সকল শ্রেণীর জমির নিকট হতে খাজনা আদায় করবেন।৪৫ অথচ, সেটলার বাঙালিরা বিদ্যমান বিধি উপেক্ষা করে হেডম্যানের অনুমতি ব্যতীত এক মৌজা থেকে আরেক মৌজায় বসতি করে যাচ্ছে এবং এই দখলি জমির উপর হেডম্যানের নিকট কোন খাজনা প্রদান করে যাচ্ছেন না। এসবের কারণে পার্বত্যভুমি সমস্যা আরো জটিল হচ্ছে।
হেডম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে পৌর এলাকার বাইরে যে কোন পাহাড়ি বসতবাড়ির ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ৩.৩০ একর খাস ভূমি দখল করতে পারেন। এক্ষেত্রে, জেলা প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্তি প্রয়োজন পড়ে না।৪৬ এই আইন অনুযায়ী অনেক পাহাড়ি হেডম্যানের অনুমতি নিয়ে নিজেদের বাড়ীর আশেপাশে জমিতে চাষ-বন-বাগান করে ভোগ-দখল করে যাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা যায়, পাহাড়িদের ভোগ দখলকৃত জায়গায় সেটলার বাঙালিদের বসিয়ে দিয়েছে, নতুবা সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করেছে। এক্ষেত্রের পাহাড়িরা ভূমির ক্ষতিপূরণও পায়নি অথবা ভূমি উদ্ধারও করতে পারেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার The Chittagong Hill Tracts (Land acquisition) Regulation, 1958 আইন প্রণয়ন করে। ১৯৫৮ সালে এই আইনের ৩(১) এর অনুযায়ী কাপ্তাই বাঁধ নির্মানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করে।৪৭ এই প্রবিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ভূমি অধিগ্রহণের আগাম কোন নোটিশ না দিয়ে এবং ভূমির মালিককে না জানিয়ে সরাসরি “ভূমি অধিগ্রহণ করা হইল” এবং “সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ নিয়ে যাবার” নোটিশ প্রদান করেন। যদি সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিক ভূমি দিতে অপরাগ প্রকাশ করেন তাহলে জেলা প্রশাসক বল প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমি দখল করবেন। এই আইন অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আপীল করার বিধান নেই, তবে ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে সরকারের বরাবর আপীল করা যায়। ১৯৫৮ সাল থেকে এই আইনের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলে আসছে। এই আইন অনুযায়ী সরকার তার প্রয়োজন অনুসারে সেনাবাহিনী, বিডিআর, আনসার ও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বা প্রশাসনিক কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে যাচ্ছে। সরকার যখন তখন এই আইনের বলে তার প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করছে। তবে, অনেক ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সরকার এই আইনটি প্রয়োগও করে নাই। একারণে Regulation, 1958 আইন পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুমি সমস্যা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এই আইন বাংলাদেশের সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বর্তমানে এই আইনের কয়েকটি ধারা সংবিধান ও মৌলিক অধিকারে পরিপন্থি প্রশ্নে মাননীয় হাইকোর্টে শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে।৪৮ তবে সরকারের পাহাড়ি জনগণের সাথে আলোচনা করে এই আইন বাতিল বা সংশোধন করা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাজার ফান্ড বিধিমালা, ১৯৩৭: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার জেলা প্রশাসকবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাজার এলাকায় ভূমি ইজারা প্রদান ও রাজস্ব আদায়, ভূমি ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ ও কর আদায়, রেস্ট হাউসের ভাড়া, নৌ-কর, চারণ ভূমি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষন ও আদায়কৃত কর ইত্যাদি বিষয় পরিচালনা করে থাকেন। একারণে জেলা প্রশাসক একদিকে যেমন প্রশাসন পরিচালনা করেন, অন্য দিকে বাজার ফান্ডের বিধানাবলী থেকে উদ্ভূত বিরোধ মিমাংসার ক্ষেত্রেও বিচারক হিসেবে কাজ করেন। এতে জেলা প্রশাসকের একক ক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্ব মতামত দেখা যায়। ফলে বাজার এলাকায় ভূমি সমস্যাসমুহ রয়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ আইন অনুযায়ী বাজার ফান্ড ব্যবস্থাপনা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর হলে পরিষদের চেয়ারম্যানগন বাজার ফান্ডের প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে জেলা প্রশাসকগন ভূমি-প্লট সম্পর্কিত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পরবর্তী আইনসমূহ: পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে বাংলাদেশ সরকারের “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি” হয় এবং এই চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি স্থানীয় সরকার পরিষদ’ ১৯০৯” আইন সংশোধন ও পরিবর্তন হয়ে তিন জেলায় তিনটি ‘জেলা পরিষদ আইন’ ১৯৮৯, “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮” আইন এবং “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়” গঠিত হয়।৪৯ এরপর ২০০১ সালে, বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরোধীর ভূমি সমস্যা নিস্পত্তির জন্য “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১” আইন প্রণয়ন করেন।
জেলা পরিষদ আইনসমূহ

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খড়াছড়ি জেলা পরিষদ আইনে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ের বিধানাবলী রয়েছে। জেলা পরিষদ আইনের ভূমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধি নিষেধের ব্যবস্থা ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের বিষয় বিধানাবলী রয়েছে।৫০ এছাড়া, প্রথম তফশীলে বর্ণীত দফায় কৃষি ও বন রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ ও স্থাপন, জনসাধারণের ব্যবহার্য খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থানের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং জুম চাষ ব্যবস্থা পরিচালনা করার বিধানাবলী রয়েছে।৫১ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্পত্তি, সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পরিষদ অইনের ৬৪ (১) ধারাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৬৪(১) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, “আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা থাকুক না কেন-
(ক) (খাগড়াছড়ি/রাঙ্গামাটি/বান্দরবান) পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য থাসজমিসহ যে কোন জায়গা-জমি, পরিষদের পুর্বোনুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা এলাকা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনাও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
এই বিধানাবলীর মাধ্যমে অর্থাৎ “আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন” বিধানাবলীর মাধ্যমে ভূমি লীজ, বিক্রি, হস্তান্তর ইত্যাদি বিষয়ে জেলা পরিষদ আইনই সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বলবৎ হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘Regulation 1900’ আইন ও ‘বাজার ফান্ড রুলস’ অনুসারে জেলা প্রশাসকের ভূমি ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা বিষয়ে যে একক ক্ষমতা রয়েছে তা রহিত হয়। কিন্তু জেলা পরিষদ আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলী থাকা সত্ত্বেও তিন পার্বত্য জেলায় জেলা প্রশাসকগণ তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাচ্ছে। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় জমি হস্তান্তর, বন্দোবস্তি নিষেধ রয়েছে। তবে সরকার পাহাড়ি এলাকার ভূমি পূর্ব হতে ভোগদখলকারী পাহাড়িদের মধ্যকার ভূমি লীজ বা স্থায়ীভাবে ভূমির মালিকানার কাগজপত্র তৈরী করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে।৫২
এখানে আরো উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় প্রণীত আইন “স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯” এর ৬৪ ধারায় ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় ভূমি বন্দোবস্তির সময় জেলা পরিষদের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের নিকট ভূমি হস্তার নিষিদ্ধ করা হয়েছে’। যা ভূমি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে খুবই উল্লেখযোগ্য বিধান ছিল। ১৯ জুলাই ১৯৮৯ সালে এই উল্লেখযোগ্য ধারাটি তিন পার্বত্য জেলায় মেনে চলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারী করেন, “সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন জায়গা
জমি বন্দোবস্ত এবং উক্ত রূপ জায়গা-জমি জেলার বাসিন্দা নহেন এরূপ কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না।”৫৩ কিন্তু কার্যত দেখা যায়, ১৯৮৯ সাল থেকে এই বিধানাবলী লঙ্ঘন করে তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকবৃন্দ সময়ে সময়ে বাঙালিদের জন্য বিভিন্ন ভুমি-পাহাড় বন্দোবস্তি বা লীজ সম্পাদন করেছে। যা সব কিছুই আইনত অবৈধ ছিল।
জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারাটি ভূমি সমস্যার সমাধানের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। কাজেই যদি ভূমি লীজ, বিক্রি, হস্তান্তর বিষয়ে সরকার জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারা অনুসরণ করে তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিম্পতি কমিশন আইন, ২০০১: পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে বিরাজমান জটিল ভূমি সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন একমাত্র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা এলাকায় অধিকাংশ জনগণই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে। তারা মনে করেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান প্রচলিত, ঐতিহ্য ও রীতি-নীতির ভিত্তিতে ভূমি সমস্যার সমাধান করবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ এ বলা হয়েছে,
২(ছ) ধারা- “প্রচলিত আইন” বলিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইন বলবৎ হইবার পূর্বে যে সমস্ত আইন, ঐতিহ্য, বিধি, প্রজ্ঞাপন প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেইগুলিকে বুঝাইবে;
৬ ধারা, কমিশনের কার্যাবলী ও ক্ষমতা।- (১) কমিশনের কার্যাবলী নিম্নরূপ হইবে, যথা:-
(ক) পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা;
(খ) আবেদনে উল্লেখিত ভূমিতে আবেদনকারী বা ক্ষেত্রমত সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের, স্বত্ব বা অন্যবিধ অধিকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নির্ধারন এবং দখল পুনর্বহাল;
(গ) পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত অইন বহির্ভুতভাবে কোন ভূমি বন্দোবস্তি প্রদান করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং উক্ত বন্দোবস্তিজনিত কারণে কোন বৈথ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল;
ভূমি কমিশন মুলত: প্ৰচলিত আইনের তিথিতে কাজ করবে। প্রচলিত আইন কি, তা কমিশন আইনে বলা হয়েছে যেমন “প্রচলিত আইন” বলিতে “পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইন বলবৎ হইবার পূর্বে যে সমস্ত আইন, ঐতিহ্য, বিধি , প্রজ্ঞাপন প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেইগুলিকে বুঝাইবে”। এই ক্ষেত্রে বলা যায়, পাহাড়িরা ঐতিহ্যগত ভাবে যে ভূমি বা বন ভোগ দখল করে আসছে তা ভূমি কমিশনের মাধ্যমে স্বীকৃত। কাজেই, ভূমি কমিশনের ভিত্তিতে অবিলম্বে কাজ শুরু করা উচিত। এছাড়া এখানে উল্লেখ করা যায় যে, বাংলাদেশ সংবিধানে প্রচলিত আইন ও প্রথা বা রীতি-নীতি স্বকৃতি রয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে আইনের ব্যাথা দেয়া হয়েছে যেমন- “আইন অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি” এবং “প্রচলিত আইন অর্থ এই সংবিধান প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় বা উহার অংশবিশেষে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সক্রিয় থাকুক, অন্য কোন কর্ম”।৫৪
তবে ভূমি কমিশনের কাজ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে কিছু মত পার্থক্য রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দাবী হচ্ছে ভূমি কমিশন চুক্তির আলোকে প্রণয়ন হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ না করে “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১” সংসদে পাশ করা হয়। এর ফলে পার্বত্য চুক্তি আলোকে আইনটিতে অনেক কিছু সংযোজন হয়নি এবং অনেক প্ৰয়োজনীয় বিষয় বাদ পড়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভূমি কমিশন সংশোধনের প্রস্তাব চুক্তির আলোকে হওয়ার জন্য সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রূপ হচ্ছে নিম্নরূপ:৫৫
Ø কমিশন আইনে ২(চ) ধারায় ‘পুনর্বাসিত শরণার্থী’ বলতে ২০ দফাভিত্তিক ৯ মার্চ ১৯৯৭ সালে চুক্তি অনুসারে শরণার্থীদের বুঝাবে, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ছিল ১৯৯২ সালে ১৬ দফা ভিত্তিক জুম্ম শরণার্থীদের বুঝানো হয়েছে। এহাড়া চুক্তিতে উল্লেখ ছিল এযাবৎ যেসব জায়গা-জমি সেটলার বাঙালিকর্তৃক বেদখল হয়ে যায় সেসব জমি সংক্রান্ত বিষয় কমিশন সমাধান করবে। কিরা কমিশন আইনে শুধুমাত্র ২০ দফা ভিত্তিক শরণার্থীদের ভূমি নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।
Ø কমিশনের ৬(১)(ক) তে কেবল মাত্র ‘পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি বিরোধ’ নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। এতে পুনর্বাসিত শরণার্থী ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ভূমি বিরোধীয় বিষয় অমিমাংসীত থেকে যাবে।
Ø ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’তে আইন, রীতি ও পদ্ধতি’ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কমিশন আইনে “পদ্ধতি” শব্দটির কথা উল্লেখ করেনি। “জলেভাসা জমি” সমাধানের বিষয়ও কমিশন আইনে উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে কমিশনের কার্যালয়ে উপজাতীয়দের চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কমিশন আইনে উল্লেখ করা হয়নি।
সরকার ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কমিশনারের’ পদে পর পর তিন জন কমিশনার নিয়োগ দেন। কিন্তু কেউ কাজ করতে পারেননি। সর্বশেষ, কমিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি মাহমুদুর রহমান গত ৮ জুন ২০০৫ সালে খাগড়াছড়ির সার্কিট হাউজে প্রথম সভা করেন। এই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ভূমি বিরোধ নিস্পতি কমিশন আইন, ২০০১ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে সংশোধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে কিনা পরে কমিশন আর কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করলে কমিশনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
বিভিন্ন সমস্যা সত্বেও সরকারের উচিত হবে যত তে সম্ভব পার্বত্য চটগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে কাজ শুরু করা। কমিশনের কাজ শুরু করতে যত দেরী হবে তত ভূমি সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হবে।
পদিবীর প্রত্যেক দেশের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা রয়েছে। এই জন্য জাতিসংঘ তথা তার অঙ্গ সংস্থাগুলো আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা স্বরূপ বিভিন্ন চুক্তি, কনভেনশন ও সুপারিশ করে যাচ্ছে। এমনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও আদিবাসী, ট্রাইবেল ও সেমি-ট্ৰাইবেলদের জন্য ILO Convention on Indigenous and Tribal Peoples 107 (আইএলও কনভেনশন ১০৭) অনুমোদন করে।৫৬ এই কনভেনশনের ১৩(২) অনুচ্ছেদে রয়েছে, আইনের অজ্ঞতা অথবা আদিবাসী ও ট্রাইবেল ব্যক্তির কার্যের কারণে আদিবাসী ও ট্রাইবেল জনগোষ্ঠীর ভূমি অন্য কোন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর হইবে না এবং এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। এছাড়া ‘ILO Recommendation 104’ (সুপারিশ ১০৪) আইএলও অনুমোদন করে। এই সুপারিশে পার্ট ২, এ বলা হয়েছে, “আদিবাসী ও ট্রাইবেল জনগোষ্ঠী ভূমি ব্যবহার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে এবং এই বিষয়ে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় আইন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে”। এছাড়া ILO Convention 169 57 (আইএলও কনভেনশন ১৬৯) আদিবাসীদের ব্যক্তি ও যৌথ ভূমি অধিকারের বিষয় গুরুত্ব দিয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার আইএলও কনভেনশন ১০৭ অনু-সমর্থন দিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার কনভেনশন ১০৭ অনুসরণ করতে বাধ্য। এই কনভেনশনের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার বাংলাদেশ সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া, International Convention of the Elimination of All Forms of Racial Discrimination (ICERD), International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR), International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights (ICESCR)58 এইসব আইনে ও কনভেনশনে আদিবাসী ও ট্রাইবেলদের ভূমি অধিকার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ICERD, ২০০০ সালে ICCPR, এবং ১৯৯৯ ICESCR অনু-সমর্থন করেছে।৫৯ কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এইসব আইন বা সনদের ভিত্তিতে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার বিষয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য আইন দেশে প্রণয়ন করেননি। আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আইন হচ্ছে UN Declaration on Rights of IPs, 2007। এই আইন ২০০৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদন হয়। এই আদিবাসী ঘোষণায় আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের বিষয় খুবই গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ রয়েছে। আর্টিকেল ২৬ বলা হয়েছে- উত্তরাধিকার সূত্রে, দখলীসত্ত্বে বা অন্য যেকোন ভাবে দখলীসত্ত্বে ভূমি, ভৌগলিক অঞ্চল ও সম্পদ ব্যবহারের অধিকার ও বর্ধিত করার অধিকার আদিবাসীদের রয়েছে এবং রাষ্ট্র এক্ষেত্রে আদিবাসীদের প্রথা, ঐতিহ্য ও প্রচলিত রীতি-নীতি অনুসারে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য থাকবে।৬০ বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতি এখনো দেয়নি এবং UN Declaration on Rights of IPs, 2007 ঘোষণাটি অনুসমর্থন দেয়নি।
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভূমি সমস্যা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।