icon

বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষা ও অহমীয়া ভাষার সাথে চাকমা ভাষার নৈকট্য: অ হতে ঔ পর্যন্ত বর্ণনাক্রমিক শব্দচয়ন

Jumjournal

Last updated Jan 19th, 2020 icon 131

আধুনিক বা নব্যভারতীয় আর্যভাষাগুলির জন্য প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা সংস্কৃত ও প্রাকৃত (আরও আগে বৈদিক সংস্কৃত) থেকে। সংস্কৃত থেকে নব্যভারতীয় আর্যভাষাগুলির ধাপগুলি হবে- বৈদিক সংস্কৃত সংস্কৃত প্রাকৃত ও পালি অপভ্রংশ বা অবহটঠ নব্যভারতীয় আর্যভাষা।

নব্যভারতীয় আর্যভাষাগুলির মধ্যে হিন্দী, পাঞ্জাবী, মারাঠী, বাংলা, উড়িয়া, অহমীয়া প্রধান। ভারতবর্ষের আর্যভাষা সস্তুত উপরোক্ত প্রধান ও শক্তিশালী ভাষাগুলি ছাড়াও আঞ্চলিক সীমারেখা ও জনগোষ্ঠীর সংখ্যার সীমাবদ্ধতা বা সংখ্যার নিরিখে আরও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি, ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা রয়েছে।

এই ক্ষুদ্র ভাষাগুলির অনেকগুলি আজ বৃহত্তর ভাষাগুলির সাথে একীভূত হয়ে যাচ্ছে। যে গুলি টিকে আছে সেগুলিও বিপন্ন অবস্থায় টিকে আছে। তন্মধ্যে চাকমা ভাষাও একটি বিপন্ন (Endangered) আর্যভাষা।

ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চলীয় নব্যভারতীয় আর্যভাষাগুলির মধ্যে বাংলা, উড়িয়া, অহমীয়া ভাষাগুলি অপভ্রংশ পর্যায়ে (খ্রি: ৬ শতক থেকে ফ্রি ১২ শতক আনুমানিক) প্রায় একই ছিল।

বাংলার ভাষা-পণ্ডিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক তার চট্টগ্রাম বাংলার রহস্যভেদ গ্রন্থে উল্লেখ করেন। অতি বেশি দিনের কথা নয়, আধুনিক উড়িয়া ও অহমীয়া ভাষা বাংলা ভাষার ক্রোড়শুন্য করিয়া স্বাধীনতা অবলম্বন করিয়াছে। (চট্টগ্রাম বাংলার রহস্যভেদ; ৪৯৫ পৃষ্ঠা, মুহম্মদ এনামুল হক, রচনাবলী ১ম খণ্ড ১৯৯১, বাংলা একাডেমী) এজন্য চর্যাপদের ভাষা ও চর্যাপদের পদকর্তাদের নিয়ে বাঙালি, উড়িয়া, অহমীয়া এমনকি হিন্দীভাষী ভাষা পণ্ডিতদের মধ্যে কাড়াকাড়ি মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

চাকমা ভাষা যতই কম সংখ্যাক লোকের ভাষা হোক না কেন, চর্যাপদের সেই কাড়াকড়িতে সেও যোগ দিতে পারে বৈকি! কারণ, চাকমা ভাষায় বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে এরকম শব্দও চর্যাপদে রয়েছে।

অপভ্রংশ পর্যায়ের অনেক শব্দ আরও অপভ্রংশিত (corrupted) হয়ে আঞ্চলিক ভাষায় বা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষায় বিপন্ন। আকারে হলেও অদ্যাবধি টিকে আছে। তাই এতদ অঞ্চলের ভূমি সন্তানদের কাছে এখনও ভাষাগত বা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলির মধ্যে ঐক্য লক্ষ্য করা যায়।

বহু শতাব্দী ধরে চট্টগ্রামের বাংলা ভাষা-ভাষীদের সংস্পর্শে থাকার কারনে চাকমা ভাষা ও চট্টগ্রাম বাংলার নৈকট্য লক্ষ্যণীয়। এক্ষত্রে ড. এনামুল হকের বক্তব্য হলো, ‘প্রাক ঐতিহাসিক যুগ হইতে চট্টগ্রামে নানা জাতীয় আদিম অধিবাসী বাস করিত।

এ জেলায় আর্য ও মুসলমান জাতির আগমনে ইহারা এখন সমতল স্থান হইতে বিতারিত হওয়া পর্বত কন্দরে আশ্রয় লইয়াছে। ইহাদের মধ্যে দ্রাবিড়, চাকমা, জুমিয়া, খুমি, কুঁই, মঘ আরাকানী প্ৰভৃতি চট্টলবাসী আদি জাতির নাম করা যায়।’ (৫০২ পৃষ্ঠা, মুহম্মদ এনামুল হক, রচনাবলী ১ম খণ্ড ১৯৯১, বাংলা একাডেমী)।

চাকমা ভাষার সাথে বাংলা ভাষার বা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষার মিল লক্ষ্য করা যায়। তদসত্ত্বেও এ ভাষাতে শব্দগঠন, শব্দরূপ, ধাতুরূপ, অব্যয়, অনুকার ইত্যাদির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

শব্দের বিচারে বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমের জেলাগুলির চেয়ে উত্তর-পূর্বের জেলাগুলির ভাষার সাথে চাকমা ভাষার বেশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অহমীয়া ভাষার সাথে মিল তো আরও আশ্চর্যজনকভাবে বেশি।

এ পর্যায়ে আমি ঢাকার বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ এবং ‘অসমিয়া আরু ইংরাজি অভিধান’ (American Baptist Mission Press, Sibsagar, Assam) অবলম্বনে চাকমা ভাষার সাথে মিল রয়েছে এমন কতগুলি শব্দের বাংলাদেশের অবিভক্ত জেলাগুলির আঞ্চলিক ভাষা ও অহমীয়া ভাষার শব্দের তালিকা দেখান হল।

চট্টগ্রাম জেলার শব্দগুলি চাকমা শব্দের সাথে প্রায় মিল থাকায় চট্টগ্রাম জেলার তালিকা দেখানো হল না। এখানে শুধুমাত্র অ হতে ঔ পর্যন্ত শব্দের তালিকাতে সীমাবদ্ধ রাখা হল। প্রথমে বর্ণানুক্রমে অহমীয়া শব্দের তালিকা দেয়া হল-

অহমিয়া

অঁকা – অঘা

আজার – আছার গাছ

অকথা – বাজে কথা, বকা

আজোট – অসুবিধা

অকির্তিম – শুদ্ধ

আজো-নাতি – দাদু-নাতি

অখ্যর – অক্ষর

আদকপালি – মাইগ্রেন

অখ্যমা – বদমেজাজী

আর – আড়াল, পর্দা

অঘাইত – দুষ্ট

আলগ – আলাদা

অঘিন – ঘৃণা না করা

আলক – আলাদা করা

অজামিল – দুষ্ট স্বভাবের লোক। অজাবিন(চাকমা)

আলগোআ – উপরে তোলা

অতক – অনেক বেশি

উই বাহ – উইয়ের ঢিবি

অতমান – কতটুকু

অপার – অসীম

অথির – অস্থির

অভং – নির্লজ। ভং সং নেই(চাকমাতে)

অধ্যাপক – ওঝা পহোআ পণ্ডিত(অহমিয়াতে)

উদ – উদবিড়াল

অমাত – নিঃশব্দ

অমুক – কোন একজন

উলাহ্ -নামানো

অলর – অস্থির

উলু – উলুগাছ (চাকমাতে উলুগো)

আঁউজি – হেলান দিয়ে রাখা

আওচ – জমিতে লাঙ্গল চাষের রেখার পরিধি

আঁকনি বারি – রংতুলি

আঁচুর-আচাড়ানো

উজু – সোজা

আঁচোর – আঁচর

আঠুর ঘিলা – হাঁটু

আঁঠ পরা – নত জানু হয়ে বসা

আখর – অক্ষর

আচিনাই – আঁচিল

আচার – মাটিতে পড়ে যাওয়া

আজরি – কাজহীন (আজের-চাকমা)

ইয়াত – এখানে

উভ – খাড়া

উরহ – ছারপাকা

উরিআম – এক প্রকার পাহাড়ি আম

উজনি – উজানে

উম – অল্প তাপ

এইয়া – এই যে

এ সঁজ – এক বেলা (one meal)

একো – একটা

এই মান – এইটুকু

একেলগ – একসঙ্গে

ওন্দোলা – কর্দম যুক্ত (চাকমাতে আন্দল)

ওদা — আর্দ্র (চাকমাতে অদা)

ওঝা – শিক্ষক, বৈদ্য

কুমিল্লা

হযম – হজম

আইযং – বর্বর, ইয়েং (চাকমা)

অযেআয় – আসল

আটট্যা – আটি কলা

অটটে – হরিতকি

অনদল – অন্ধ

অরিং – হরিণ

অরগোমা – অন্দ্রিা (উরঘুমা-চাকমা)

আইচ্যাল – বারান্দা, আচ্চালা (চাকমা)

আলাম – চাদর

আইলা – আগুন রাখার পাত্র। আলসি চারি(চাকমা)

উবতি লেংরা – চোরকাটা। উব লেংড়া (চাকমা)

আইল্যা দেওয়া – টেকিতে ধান ভানার সময় ধান নেড়ে দেওয়া। আলসিয়া দেয়া (চাকমা)

খুলনা

অ-ওকত – অসময়

অলড় – নিশ্চল

আগান – তৃপ্তি

আজল – অঞ্জলি। আজুল (চাকমা)

ইর – আইল

উন্দর – ইদুর

উয়ার লাগা – খারাপ নজর পড়া। উঘোর পারানা (চাকমা)

ঢাকা

 অযাইত্যে – অজাতের

আওলা – আতপ আললো চোল (চাকমা)

অরিং – হরিণ

অরগমা – অন্দ্রিা (উরঘুমা)

আখর –  অক্ষর

আইট্যা – এটো খাবার। এদা (চাকমা)

উদিশ-তালাশ

এ্যাব – এখনও

আউনদা – ঝুল। আনুয়া (চাকমা)

আলগ — আলাদা করা

আজল – অঞ্জলি। আজুল (চাকমা)

আবাইত্যা – লোভী

আইলা – আগুন রাখার পাত্র

আইড়াকুত্তি – হাড়িচাচা। আরিকুরি (চাকমা)

আবজানো – ঠেকিয়ে রাখা। আবুজানা (চাকমা)

আইল্যা – তেঁকিতে ধান ভানার সময় ধান নেড়ে দেওয়া। আলসিয়া দেয়া (চাকমা)

উগোল মাছ – এক প্রকার টাকি মাছ। উগোল মাছ (চাকমা)

অউন – জোয়ালের দড়ি। আগুন দুরি (চাকমা)

উশারা – বাড়ির সামনের মাচা। ইজোর (চাকমা)

দিনাজপুর

আঘানো – তৃপ্তি। আংখা (প্রাকৃত)

উড়শ – ছারপোকা

আঙেরা – অঙ্গার। আঙাড়া (চাকমা)

উশনা – সিদ্ধ করা। উজিখানা (চাকমা)

আলক – আলাদা করা

নোয়াখালী

আওলা – আতপ। আল্লোচোল(চাকমা)

এততুম – এতবড়

আমুলি — অভ্যাস (নেশা দ্রব্যে)

পাবনা

অবতার – অদ্ভুত ব্যক্তি

আকচালি/আগচালা – বারান্দা, আধচলা

আয়রান – শ্রান্তি

আনদোল – পাক

অরিফ – ধুর্ত, চালাক, অলিপ<অলিপ্ত

এততুম – এতবড়

এ্যাকরে – একেবারে

আইল্যা – টেকিতে ধান ভানার সময় ধান নেড়ে দেওয়া। আলসিয়া দেয়া (চাকমা)

ফরিদপুর

অবতার – অদ্ভুত ব্যক্তি

আউনদা –ঝুল। আনুয়া (চাকমা)

অম্বা – ঐ রকম, এতবড়

আলক – আলাদা করা

অলানো – হাতে উল্টাইয়া দেয়া

উগির – মাচা, (উৎ+গির)

আইড় – আরি (সুবিধা)

উর – ভির। উহ্ (চাকমা)

আইশশাল গাছ – আচ্ছোল গাছ

ওনদল – তরল কাদা

বাকেরগঞ্জ

অরিপ – ধুর্ত, চঞ্চল

ইর – আইল। ইহর (চাকমা)

অলানো – হাতে উল্টাইয়া দেয়া

আইড় – সুবিধা। আরি (চাকমা)

এ্যারে যাওয়া – আঁচড় লাগা। এ্যারে যানা (চাকমা)

আইডালি – এটেল পোকা। আদালী (চাকমা)

ওওলা – মর্দা বিড়াল। অহলা বিলেই (চাকমা)

ময়মনসিংহ

অকত – সময়

আগ্তা – হঠাৎ। আবাদা (চাকমা)

অদিন্ন্যা – অসময়ে

আগচালা – ঘরের বারান্দা

অদ্দদ – চরম

আযৈল – অঞ্জলি। আজুল (চাকমা)

অদ্দিশ – সন্ধান (উদিশ)

আটপ্কা – হঠাৎ

অয়রান – শ্রান্ত

আতেকবা – অতর্কিতে

অররি – হুড়মুর করিয়া, (উরউরি)

আপাইত্যা – লোভী

অরাত্ – ধপাস

আমলি – নেশার অভ্যাস। আমল (চাকমা)

অরান – শেষ (উড়ান)

ইসা ইসা – একটু গরম। ইজে ইজে (চাকমা)

অরিং – হরিণ

এংকুর – সাবাশ

অলান – নামান

আলুয়া – আতপ

ইড্যা – ঢিল

ইলেবিলে – নদী নালায়, যেদিক সেদিক

আইযং বর্বর, ইয়েং (চাকমা)

উগদা – উল্টা। উগদা (চাকমা)

উপৈত – উপুর

উরুইশ – ছারপোকা

উরুম্বা – উরুম্বো(উড়ু উড়ু ভাব)

উল – (১) অণ্ডকোষ, (২) ওল কচু

আওলা – আতপ। আল্লো চোল।(চাকমা)

আগল পাগল – আগল পাগল (চাকমা)

আয় পায় – যোগসাযোশ। (আশপাশে) আইফাই (চাকমা)

আইংগ্যা – বাশের আড়াআড়ি খুটি। আর, আংঙে (চাকমা)

আইরা কুততি – হাড়িচাচা। আরি কুরি (চাকমা)

আইল্যা – আগুন রাখার পাত্র। আলস্যে চারি (চাকমা)

আউন – জোয়ালের দড়ি। আগুন দুরি।(চাকমা)

আউস – লাঙ্গল চাষের এক পাক। আগুজো, আউজো (চাকমা)

ওয়াপ – এক প্রকার বনবিড়াল। ওয়াগ (চাকমা)

যশোর

অঃওকতব – অসময়

উইল মাছ – এক প্রকার টাকি মাছ। উগোল মাছ (চাকমা)

রাজশাহী

অঘা – অকেজো

আঁটল – এটেল পোকা। আদালী (চাকমা)

অচুদি – বদবাইশ, (অযৌক্তিক)

আইল্লা – প্রচুর। আলাহ্ (চাকমা)

অদ্দেক – অর্ধেক

আড় – কাপড় শুকানের বাশ

অমূবা – ঐ রকম, এতবড়

আরি – ধান মাপার পাত্র

অরমকা – দুষ্ট। উরম্বা (চাকমা)

উজু – সোজা

অলড় – নিশ্চল

উড়োইশ – ছারপোকা

উশা – সিদ্ধ। উজিখানা (চাকমা)

আইড়্যাম – খুব জেদী। আড়াল্লো (চাকমা)

আকচালি – বারান্দা, আধচালা উজুদি (চাকমা)

অলা – গাছের নতুন ডাল। গাজত্তুন অহ্লা পজ্যে পা (চাকমা প্রবাদ)

উশারা – বাড়ির সামনের মাচা ইজোর (চাকমা)

এ্যারা যাওয়া – আচড় পড়া। এরেই যানা (চাকমা)

রংপুর

অগোড় – খুব বেশি অগুর। (চাকমা)

উজানি – উজান

অপলিশ – দিশাহীন। আপদাস্যা (চাকমা)

উশা – সিদ্ধ

একচিতে একচেটিয়া

অলা – গাছের ডাল

ওগলানো – বমি করা

আড় – কাপড় শুকানো বাঁশ

আলম – পতাকা

সিলেট

আগুর – গভীর

উপৈত – উপুর

অনাদল – অন্ধ

উমাইয়া – ভাপে গরম। উমেইয়া (চাকমা)

অলান – নামান

উরনি – ওড়না

আকতা – হঠাৎ। আবাদা (চাকমা)

আগরি – আগে

এ্যাংগল – মর্দা কুকুর। এংলা (চাকমা)

এ্যাকেরে – একেবারে

আয়-পায় – যোগসাযোশ। আইফাই (চাকমা)

উশরা – বাড়ির সামনের মাচা। ইজোর (চাকমা)

বগুড়া

আউজ্যা দে – ঠেকিয়ে রাখ। আবুযেই দে (চাকমা)

আঁটল – এটেল পোকা। আদালী (চাকমা)

উজু – সোজা


লেখক: শান্তি কুমার চাকমা, সহকারী অধ্যাপক, পালি বিভাগ, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ।

Share:
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - [email protected] এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *