মারমা রূপকথা: অলস ছেলে

Jumjournal
Last updated Jan 17th, 2020

928

featured image

সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম। তার পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে একটি নদী। সেই গ্রামে বাস। করত একটি অনাথ ছেলে। যাকে সবাই “অলস ছেলে” বলে ডাকত। অলস ছেলেকে নিয়ে মুখে মুখে প্রচলিত (মারমা সমাজে) যে গল্পটি আমি লিপিবদ্ধ করছি সেটা আজ থেকে অনেক অনেক আগের কথা।

জন্মের পর পরই কি এক কঠিন অসুখে তার মা-বাবা মারা যায়। মামা-মামীর সংসারেই সে প্রতিপালিত। মামা যদিও তাকে স্নেহ করতেন কিন্তু মামীর চোখে সে ছিল কাঁটার মত।

সকালে মামা কাজে বেরিয়ে যাবার পরই তার উপর শুরু হত অত্যাচার। সংসারের সব কাজই তাকে করতে হত। এক দুপুরে গরুগুলোকে মাঠে ছেড়ে দিয়ে সে একটি গাছের নীচে বিশ্রাম নিতে নিতে ভাবতে লাগল, “আমি এত কাজ করি, তারপরও আমি অলস ছেলে? এত কাজ করার পরও মামী আমার নাম “অলস ছেলে” রাখল কেন?”

তার চিন্তায় ছেদ পড়ল মামীর ডাকে, “বলি, সারাদিন কি বসে বসেই কাটাবি? সেই কোন সকালে বলেছি গাছের গুড়ি কেটে লাকড়ি বের করতে। আমার কথা কি কানে যায় না? অলসের পেঁকি কোথাকার।”

সে তার আপন চিন্তা-ভাবনাগুলো আপাততঃ স্থগিত রেখে একটি কুঠার হাতে নিয়ে কাজে লেগে পড়ল। এমনিতেই কোন কিছু চিন্তা করতে তার ভাল লাগত না। শুধু একটা ভাবনাই তার মাথায় থাকত। সেটা হচ্ছে, মামীর গাল-মন্দ এড়াতে মামির কথা মত কাজ করা।

এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। ছেলেবেলা থেকে শুধু গাল-মন্দ ছাড়া একটু স্নেহ-আদর কখনও সে পায়নি। এভাবেই কাটে সময়। তার বয়স এখন উনিশ। গেল বছর তার মামা মারা যাওয়াতে সংসারের আয় রোজগারের ভার এখন তার কাঁধে।

সে শহরে গেল কাজের খোঁজে, কাজও মিলল এক কৃষকের ঘরে। পারিশ্রমিক হিসেবে সে যে টাকা পেল, সেটা হাতে নিয়ে সে খুশী মনে বিকেলে গ্রামের দিকে পা বাড়াল।

কিন্তু পথেই ঘটল বিপত্তি। বাড়ীতে পৌছার আগেই পথিমধ্যে সে টাকাটা হারিয়ে ফেলল। তা শুনে মামী তো রেগে আগুন।

বাজখাই কণ্ঠে বলল, “তোর বুদ্ধি কি সব লোপ পেয়েছে? টাকা রাখতে হয় পকেটে যাতে না হারায়। এবার থেকে তাই করিস, বুঝেছিস?” “তুমি ঠিক বলেছ মামী, এবার থেকে আমার আর ভুল হবে না,”

ছেলেটি উত্তর দিল। সত্যি বলতে কি, একজন লোক যদি সারাক্ষণই শুধু গাল-মন্দ শুনে বা গাল-মন্দ শোনার ভয়ে আতঙ্কিত থাকে তাহলে তার চিন্তা-শক্তি এমনিতেই ভোঁতা হয়ে যাবে।

পরদিন সে কাজ নিল শহরের এক গোয়ালার ঘরে। তার কাজে খুশি হয়ে গোয়ালা তাকে বড় এক জগ ভর্তি দুধ দিল। মামীর কথা মত দুধের জগ পকেটে ভরাতে গিয়েই সে ঘটাল বিপত্তি। সব দুধ পড়ে গেল।

সব শুনে মামী রেগে গিয়ে চিৎকার করে বলল, “দুধের জগ আনতে হয় মাথায় করে। বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারিস না? এবার থেকে আর যেন ভুল না হয়।” “তুমি ঠিক বলেছ, মামী, তোমার কথাই ঠিক, এরপর থেকে আমি সাবধান হয়ে যাব ?”ছেলেটি উত্তর দিল ।

তারপরের দিন সে কাজ নিল শহরের এক খ্রীষ্টান খামার বাড়িতে। কাজ শেষে সে পেল বেশ বড় এক পনির। পনির খন্ডটি মাথায় নিয়ে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল। সূর্যের তাপে সেই পানির খন্ডটি গলে তার সারা শরীরে মিশে একাকার হয়ে গেল।

এই অবস্থা দেখে মামী তো প্রথমেই তার পিঠে কয়েক ঘা পিটাল। তারপর বলল, “বলি তোর কি কোনদিনও আক্কেল-জ্ঞান হবে না? পনির টুকরাটা হাতে করে যত্ন সহকারে তোর আনা উচিত ছিল বুদ্ধ কোথাকার! সরে যা আমার চোখের সামনে থেকে”।

ছেলেটি মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “তুমি যথার্থই বলেছ মামী, এবার থেকে তোমার কথা। মতই কাজ করব। আর ভুল হবে না” কথাটা বলেই সে তার নিজের ঘরে চলে গেল। মামী অগ্নিচোখে তার প্রস্থান দেখলেন।

তার পরদিন একটি হোটেলে সে কাজ নিল। হোটেলের ম্যানেজার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে দিল বেশ হৃষ্ট-পুষ্ট দু’টো মুরগীর বাচ্চা। ঘরে গিয়ে যাতে মামীর বকুনি খেতে না হয় সে জন্য চঞ্চল মুরগীর বাচ্চা দুটোকে হাতের তালুতে করে বয়ে আনতে লাগল।

কিন্তু বাচ্চাগুলো তো আর হাতের তালুতে থাকার নয়। তাই সুযোগ পাওয়া মাত্র বাচ্চা দু’টো হাতের তালু থেকে নেমে ভোঁ দৌড় দিল। অবস্থা দেখে অলস ছেলের মুখ আষাঢ়ের কালো মেঘের মত রূপ নিল। ঘরে নির্ঘাৎ লংকা কান্ড বাঁধবে।

সব শুনে মামী এবার ভয়ংকার রূপ নিল। ইচ্ছে মত অলস ছেলের কান মলে দিয়ে বলল, “তোকে নিয়ে আর পারি না, সেগুলো একটি থলেতে ভরে কাঁধে বয়ে আনিসনি কেন?

তাহলে সেগুলো হাতছাড়া হত না। কি সুন্দর চাটনি বানিয়ে খেতে পারতাম! হাদারাম কোথাকার”। “ভুল আমারি হয়েছে!” ছেলেটি বলল, “আগামীতে আর ভুল হবে।”

এবার সে কাজ নিল শহরের আরেক অবস্থাপন্ন কৃষকের কাছে। কাজ শেষে সে পেল একটি মোটা তরতাজা বাছুর। মামীর কথানুযায়ী বাছুরটিকে সে কাঁধে বয়ে নিয়ে আসতে লাগল।

কিন্তু বাছুর তো আর কাঁধে চড়ার পাত্র নয় কাঁধ থেকে নেমে তিড়িং-বিড়িং করে লাতে লাফাতে জঙ্গলের দিকে চলে গেল। ছেলেটি অনেকক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পেল না। এদিকে বেলাও পড়ে আসছে।

পথের দু’ধারের বন থেকে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন পশুর গর্জন তর্জন। শোনামাত্র ছেলেটি বাড়ির দিকে ভোঁ দৌড় লাগাল।

ঘরে পৌছে সে প্রচন্ডভাবে হাঁপাতে লাগল। তা দেখে মামী জিজ্ঞেস করল, “অমন হাঁপাচ্ছিস কেন? কি হয়েছে?” “না মামী, তেমন কিছু হয়নি। তোমার কথা মত বাছুরটি কাঁধে বয়ে আনতে গিয়ে সেটি পথের ধারের জঙ্গলের ভেতর চলে গেছে।

অনেক খোজাখুঁজির পরও তাকে পেলাম না”, ছেলেটি উত্তর দিল। “আমি তোকে বাছুর কাঁধে করে আনতে বলেছি?” মামি বলল, “বের হ আমার ঘর থেকে, গাধা কোথাকার”। এই বলে মামী তাকে বেদম প্রহার করে ঘর থেকে বের করে দিল।

চোখ ভর্তি কান্না আর বুক ভর্তি দুঃখ নিয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে ভাবতে লাগল, “এই ভর সন্ধ্যায় আমি এখন কোথায় যাব? মামী আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করলোনা”।

উপায় না দেখে বুকে একটু সাহস সঞ্চয় করে সে শহরে যাবার রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগল। কিছু দূর হাঁটার পর সে পথের ধারের একটি গাছের নীচে বিশ্রাম নিতে বসল। প্রচন্ড ক্লান্তি আর ক্ষুধায় সে নিজের অজান্তেই সেখানে ঘুমিয়ে পড়ল।

পাশের গ্রামের এক কাঠুরিয়া সেই পথ ধরে তার নিজের গ্রামে ফিরছিল। সে দেখল পথের ধারে একটি খুব সুন্দর, নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখ। ছেলেটির ঘুমন্ত মুখটি দেখে নিঃসন্তান কাঠুরিয়ার পিতৃহৃদয়ে হাহাকার ধ্বনিত হল।

ছেলেটিকে ডেকে সে বলল, “তুমি এই ভর সন্ধ্যায় এখানে ঘুমাচ্ছো কেন? কি হয়েছে তোমার? মুখ এত মলিন দেখাচ্ছে কেন? অলস ছেলে তার আদ্যোপান্ত সবই কাঠুরিয়াকে খুলে বলল।

তার ঐ সব ঘটনার কথা শুনে কাঠুরিয়া প্রথমে প্রাণ খুলে হেসে নিল। হাসি থামিয়ে অলস ছেলের মাথায় পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে বলল, “এত চিন্তা কিসের? তুমি আজ থেকে আমার কাছেই থাকবে। তুমি আমার ছেলে। আমার ঘরে আদর-স্নেহ, খাওয়া-পরার কোন অভাব তোমার হবে না, বাবা”।

কাঠুরিয়ার কথা, ভালবাসার স্পর্শ পেয়ে অবাক বিস্ময়ে স্তব্দ অলস ছেলের মুখে শুধু একটি শব্দই উচ্চারিত হল “বাবা”! কাঠুরিয়া তাকে তাদের গ্রামে নিয়ে গেল। কাঠুরিয়ার। বউ অলস ছেলেকে নিজের ছেলের মতই পরম স্নেহে বুকে তুলে নিল। গ্রামবাসীরাও তাকে জানাল উষ্ণ অভ্যর্থনা।

 অলস ছেলে এবার একজন দক্ষ কাঠুরিয়া। সে চমৎকারভাবে কাঠ কাটতে পারত। কাঠ কেটে, বিক্রি করে সে যে টাকা পেত, সেটার অর্ধেক টাকা দিত তার কাঠরে মা-বাবার। হাতে আর বাকী অর্ধেক টাকাটা সে গ্রামের অসহায়, দুঃস্থ মানুষের সাহায্যার্থে বিলিয়ে দিত। পরিচিত-পরিজনের বিপদে-আপদে সে নিজের প্রাণ বাজী রেখে সাহায্য করত।

তার কাছে সাহায্যের আশায় আসা কোন লোককেই সে নিরাশ করত না। পরোপকারী অলস ছেলেকে সবাই এক নামেই চিনত।

এক বিকেলে কাঠ কেটে, সেগুলো বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিল অলস ছেলে। হঠাৎ পথের ধারের জঙ্গল থেকে সে শুনতে পেল ভয়জড়ানো একটি কণ্ঠস্বর। শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে সে দেখতে পেল একটি হরিণ শিকারীর পাতা ফাঁদে পড়ে কাঁতরাচ্ছে।

হরিণটিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করে তাকেও ঘরে নিয়ে গেল অলস ছেলে। ঘরে এনে হরিণটিকে প্রথমে সে পেট পুরে খাওয়াল। তারপর আদর করে তাকে জঙ্গলের ধারে ছেড়ে দিয়ে বলল, “তোমার আর কোন ভয় নেই। তুমি তোমার আপনজনদের কাছে ফিরে যাও”।

হরিণটি তার কথা বুঝল কি-না কে জানে। সে জঙ্গলের দিকে হাঁটা শুরু করল। জঙ্গলে ঢোকার আগে হরিণটি পিছু ফিরে একবার অলস ছেলের দিকে তাকাল। তারপর সন্ধ্যার আঁধারে আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল।

তার পরদিন সে কাঠ কাটতে কাটতে ক্ষুধার্ত হয়ে একটি গাছের নীচে বসল দুপুরের খাবার খেতে। তখন অলস ছেলে দেখতে পেল একটি থুড়থুড়ে বুড়ি লাঠিতে ভর করে তার দিকে আসছে। অলস ছেলে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে বুড়িকে নিয়ে গাছের ছায়ায় বসল।

তারপর জিজ্ঞেস করল, “বুড়ি মা, তুমি এই ভর দুপুরে এখানে কি করছ? তাছাড়া তোমাকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে।” বুড়ি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, “আজ দু’দিন ধরে কিছুই খায়নি, বাবা।” একথা শোনামাত্র অলস ছেলে তার পুরো খাবারটাই বুড়িকে দিয়ে দিল।

বুড়ি সেই খাবার পরম তৃপ্তিসহকারে খেল। যাবার আগে বুড়ি ছেলেটিকে কিছুই বলল না, তার দিকে একটু করে চেয়ে শুধু হাসল। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াতে পেরে অলস ছেলে তার নিজের ক্লান্তি-ক্ষুধা ভুলে গেল। কারণ এর আগে দু’দিন উপোস এমন কেউ তার কাঝে সাহায্যার্থে আসেনি।

তারপরের দিনের ঘটনা, সকালে অলস ছেলে হাতে কুঠারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কাঠ কাটতে বের হল। কিছুদূর যাবার পর অলস ছেলে একটি জলার ধারে ডানা ঝাপটাবার শব্দ শোনামাত্র সেখানে গিয়ে দেখল তীর বেঁধা একটি খুব সুন্দর পাখি ব্যথায় ছটফট করছে। পাখিটিকে দেখে তার খুব কষ্ট হল।

তাড়াতাড়ি পাখিটিকে ঘরে এনে ডানা থেকে তীরটি খুব যত্ন করে খুলে, ক্ষতস্থানে গাছ-গাছালীর তৈরী ঔষধ লাগিয়ে দিতেই পাখিটি বেশ সুস্থ হয়ে উঠল। তারপর অলস ছেলে পাখিটিকে ভালমত খাবার খাইয়ে দিয়ে আকাশে উড়িয়ে দিল।

এই যে হরিণ, বুড়ি মা বা পাখি, এরা কেউই সত্যিকারের হরিণ, বুড়ি মা বা পাখি ছিল না। পরোপকারী অলস ছেলের মন যাচাই করতে বনের দেবতা এই তিন ধরনের রূপধারণ করেছিল।

একথা তো বলাই বাহুল্য যে, অলস ছেলে বনের দেবতার তিনটি পরীক্ষাতেই কৃতকার্য হল খুব সফলতার সাথে। সেদিন রাতেই অলস ছেলে স্বপ্নে দেখল এক অপূর্ব সুন্দর যুবরাজ তাকে বলছে, “তোমার আর কষ্ট করতে হবে না।

আমি তোমার ব্যবহারে খুবই সন্তুষ্ট হয়েছি। বনের পূর্ব দিকে যে একটি মাত্র সেগুন গাছ আছে, তার গুড়ির মাটির নীচেই পােতা রয়েছে তােমার সুন্দর মন আর ভাল ব্যবহারের উপযুক্ত পুরস্কার।”

পরদিন সকালে স্বপ্নের যুবরাজের নির্দেশ মত অলস ছেলে বনের পূর্ব দিকের একটি মাত্র সেগুন গাছের গোড়ার মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল তিনটি মোহর ভর্তি কলসি। এতগুলো মোহর এক সাথে দেখে অলস ছেলের চক্ষু তো চড়ক গাছ। বেশ কিছুক্ষণ সে।

হতভম্ব হয়ে সেগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। সম্বিত ফিরে পেতেই মোহর ভর্তি কলসীগুলো সে বহু কষ্টে ঘরে বয়ে আনল।

মোহর পাওয়ার পর সে যে কাজটি প্রথমেই করল সেটি হচ্ছে, গ্রামের পুরানো, জীর্ণ “কেয়াং”-এর আদল সে বদলে দিল এমনভাবে যে, সূর্যের রশ্মি বা চাঁদের আলো পড়লে “কেয়াং”-এর দেয়ালে বসানো বিভিন্ন দামী পাথরগুলো থেকে যে আলো নিঃসৃত হত তাতেই সবার চোখ ঝল্‌সে উঠত।

শুধু আলোতেই নয় অন্ধকারেও তা জ্বলজ্বল করত, যা ছিল সত্যিই অপূর্ব এবং নয়নাভিরাম। সবাই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকত। কেয়াং-এর বাইরের দৃশ্যই শুধু সুন্দর ছিল তা নয়, এর ভেতরটাও ছিল অপূর্ব, মনোরম ও স্বর্গীয় আলোতে পরিপূর্ণ।

মোহরগুলো পাবার পর গ্রামবাসীর এবং তার নিজের পরিবারের অবস্থারও উন্নতি হল। গ্রামের কারও ঘরে আর দুঃখ-কষ্ট দারিদ্র্য রইল না। সবার ঘরে বইতে লাগল সুখস্বাচ্ছন্দ্য-আনন্দ-এর সুর। মা-বাবা আর গ্রামবাসী সবাইকে নিয়ে অলস ছেলের সময় বেশ ভালভাবেই কাটতে লাগল।

কৃতজ্ঞতাবোধ অলস ছেলের চরিত্রের একটি উজ্জ্বল দিক। সে যখনই তার অত্যাচারী মামীর দুরবস্থার কথা শুনল, সে ছুটে গেল তার মামীর কাছে এবং বাড়িয়ে দিল সাহায্যের হাত।

মামী অপলক নয়নে তাকিয়ে ছিল অলস ছেলের মুখের দিকে। “একদিন কতই না অত্যাচার করেছি এই অনাথ ছেলেটির উপর, অথচ আজ সে-ই আমার দুঃখের দিনে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।”

অলস ছেলে তার মামীকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি এমন করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কি দেখছ মামী”? মামী কিছুই বলল না। তার চোখ দিয়ে তখন ঝরতে লাগল অঝোরে অনুতপ্তের তপ্ত অশ্রু।


লেখক: রূপশী নেওয়ার মণি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা