icon

ডুবুরী থেকে শহীদ জননী – সুষমা বালা চাকমা

Jumjournal

Last updated Dec 10th, 2020 icon 90

সুষমা বালা চাকমা
সুষমা বালা চাকমা

আচ্ছা নানু, তােমার বয়স এখন কত? জানি না। আমাদের জন্মের বছর তারিখ কি মা-বাবারা লিখে রেখেছিল? তবে মনে হয় আমার বয়স হবে এখন আশি বা তার বেশি। কাপ্তাই বাঁধের পূর্ববর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার লংগদুর একটা গ্রাম। হাক্কনচন্দ্র পাড়া হাক্কনচন্দ্র গ্রামের অধিবাসী ধলচান চাকমা।

এই ধলাচান চাকমার দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম হরিশচন্দ্র চাকমা ওরফে চেলা মাস্টার আর ছােট ছেলের নাম কল্পতরু চাকমা। চাকমাদের অনেক গােজার মধ্যে বড় হাম্বে গােজা একটি। এই পরিবার বড় হাম্বে গােজার উত্তরসূরী। হরিশচন্দ্র চাকমা ওরফে চেলা মাস্টার সেসময়ে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। আর কল্পতরু চাকমা ছিলেন হাতীর দাঁতের একজন কারুশিল্পী।

পরবর্তীকালে যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মােদের মধ্যে প্রথম কারুশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। এই পরিবারের বড় ছেলে হরিশচন্দ্র চাকমা আর আলিয়া চাকমার মেয়ে সুষমা চাকমা। সুষমার চাকমার জন্ম কত সালে কোন মাসে কোন তারিখে সেটা বলা এখন কঠিন।

তবে তিনি মনে করেন তাঁর বয়স এখন ৮০ বছরের উপরে। তিন ভাই তিন বােনের স্বচ্ছল সংসার ছিল সুষমা চাকমার পরিবারের। বাবা ছিলেন শিক্ষক তাই এলাকার লােকজন তাদের খুবই সম্মান করতাে। স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম আম বড় হবার কারণে জীবনের প্রথম ভাগে অভাব অনটন দুর্দশা অশান্তির সাথে তার পরিচয় হয়নি।

এই সুষমা বালা চাকমা হচ্ছেন আমার মায়ের মা। আমার নানু । নানুর পুরাে নাম হচ্ছে সুষমা বালা চাকমা। তবে নানু সবসময় বলেন ওর নাম সষমা চাকমা। আমরা তার মেয়ের ঘরে নাতনিরা এই নিয়ে সুযােগ পেলেই খোঁচায় । বলি, না না না, নানু তােমার নাম তাে সুষমা বালা চাকমা।

কিন্তু বালা’ শব্দটা নানুর বড়ই অপছন্দ। তাই নাম থেকে বালা শব্দ বাদ। শুধু সুষমা। সুষমা চাকমা। সুষমা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে আলােচিত সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী , যে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চল কাপ্তাই বাঁধের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে। চিরতরে, সঙ্গে তলিয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ একর ফসলি উর্বর, টিলা পাহাড়ি জমি।

ফলে লক্ষ লক্ষ চাকমা ক্ষতির মুখােমুখি হয়েছেন সঙ্গে কিছু হাজং, মার্মা আর কিছু পুরাতন বাঙালি অধিবাসীরাও তাদের সবকিছু হারিয়েছেন। সবচেয়ে অবস্থাপন্ন পরিবারও উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যেতে হয়েছে চিরদিনের জন্য।

শুধু তাই নয় অর্ধলক্ষাধিক চাকমা, হাজং এবং কিছু ত্রিপুরা অধিবাসীকে চিরতরে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, যেতে হয়েছিল ভারতে। তিনি কাপ্তাই বাঁধের নির্মাণ দেখেছেন আর এর ফলে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন একেবারে সামনে থেকে, একই সঙ্গে নিজেই হারিয়েছিলেন জন্মভূমি, নিশ্চিন্ত সুখের জীবন, স্বামীর সরকারি চাকরি, অতি চেনা আত্মীয়-স্বজন আর মুখােমুখি হতে হয়েছে অভাব অনটনের, বেছে নিতে হয়েছে শরণার্থীর মতােএইখানে একটা কথা বলা জরুরি। আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল ধনসম্পদে আর শান্তিতে ভরপুর এক পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকা।

এই এলাকার ভূমি ছিল উর্বর। গ্রামের সকলে নিজস্ব জায়গা জমি নিয়ে স্বচ্ছল আর শান্তিপূর্ণভাবে জীবন কাটাতাে। কাউকে কারাের কাছে কখনও হাত পাততে হতাে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে তখন বাঙালিদের বসতি ছিল শূন্যের কোঠায়।

তবে সকল জুম্মাে পরিবারে ধানী জমি আর চাষাবাদের কাজ করতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসতেন বছরের একটা সময় সমতলের বাঙালিরা। তাই বাঙালিরা ছিলেন কামলা নামে এক অতিথি, যারা শুধু কাজের জন্য পাহাড়ে আসা যাওয়া করতাে আর কাজ শেষ হলেও চলে যেতাে নিজেদের এলাকায় পরিবার পরিজনের ওখানে। যদিও পাহাড়ের চিত্র এখন ভিন্ন।

বর্তমানে জুম্মাে অধ্যুষিত এলাকা দিনকে দিন পরিণত হচ্ছে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়। এখন পাহাড়ের এমন এলাকা দেখা যায় যেখানে বাঙালি আছে জুম্মাের অস্তিত্ব নেই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলে রাষ্ট্রের অসহযােগিতার কারনে জুম্মােরা নিজেদের বসতি থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেছে ইতােমধ্যে।

জীবন সঙ্গে সম্বল ছিল শুধুমাত্র হাজারাে পুরােনাে স্মৃতি আর যেকোনােভাবে বেঁচে থাকতেই হবে এই মনােবল। পুরাতন জায়গা ছেড়ে আসার পর নতুন জায়গায় বছরের পর বছর নিঘুম কাটিয়েছেন বাঘ আর সাপের ভয়ে। পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মা হয়ে সংসারের হাল ধরেছেন তাদের লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করেছেন।

লড়াইয়ের এই পর্যায়ের কঠিন সংগ্রামে যখন জিতে গেলেন তখন তাঁর মাঝ বয়স। কিন্তু এই বয়সে এসেও সুখ ধরা দেয়নি তাঁর কাছে। এবার অন্যরকম লড়াই। তার এক ছেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মােদের স্বাধিকার আন্দোলনে যােগ দিয়েছিলেন এবং সেনাবাহিনী গুলিতে নিহত হয়ে আন্দোলনের ময়দানে শহীদ হন।

এই ছেলে হারানাের শােক একাকী নিজে নিজে লড়াই করেছেন সারাটা জীবন। এটি এমন এক কষ্ট যা অন্য কারাের সাথে ভাগ করা যায় না। তাছাড়া নিজের আর পরিবারের বাকি সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের ছেলের মৃত্যুর কথা কাউকে বলতে পারেননি দীর্ঘসময় ।

নিজের কত না বলা দুঃসহ স্মৃতিকে সাথে নিয়ে আজ তিনি জীবন সায়াহ্নে। কাপ্তাই বাঁধ বানানাে শুরু হবার বেশ আগে এক আষাঢ় মাসে সুষমা চাকমার বিয়ে হয়। পুরাতন রাঙামাটি শহরে কাছের গ্রাম বড়াদাম, সেই গ্রামের ছেলে ত্রৈলক্য চন্দ্র চাকমার সাথে। তার শ্বশুর বাড়ির লােকেরা ধামেই হােজার মুত্তি গােষ্ঠীর বংশধর।

ত্রৈলক্য চন্দ্র চাকমা ছিলেন পুলিশের দারােগা। তখনকার সময়ে জুম্মােদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী খুব কম ছিলেন। এজন্য মনে হয় প্রায় তিনি খুব গর্ব করে বলেন তােমার দাদুর চাকরির কারণে আমি অনেক জায়গা যেতে পেরেছি। প্রথমে মালছড়ি মানে মহালছড়ি, তারপর রামগড় এবং পানছড়িতে যেতে পেরেছিলাম।

তখন তাে এখনকার মতাে রাস্তাঘাট ছিল না। আসা-যাওয়া করতে হতাে হেঁটে বা নৌকায়। একেকটা জায়গায় গেলে অনেক দিন লেগে যেতাে। আমরা একেক জায়গা থেকে থেমে থেমে আরেক জায়গা যেতাম। তবে চুরি-ডাকাতির বা এই সময়ের বাঙালিদের ভয় ছিল না। মানুষজন কম থাকলেও ভয় ধর ছিল না সেসময়।

নানু তােমার ডুবে যাওয়া শ্বশুরবাড়ি দেখতে কেমন ছিল? তখনকার জীবন কেমন ছিল? | ‘ঘরদোর দেখতে খুব সুন্দর ছিল। অনেক বড় না হলেও দেখতে সুন্দর ছিল। গুদাম ঘর। তবে বিশাল রান্না ঘর ছিল আর ছিল লম্বা পাকা সিঁড়ি।

আমার যে বাড়িতে বিয়ে হয় সে বাড়ির লােকজন হয়তাে জমিদারদের মতন ধনী ছিল না, কিন্তু গিরিত্তি মানে অবস্থাপূর্ণ পরিবার বলতে যা বােঝায় তাই ছিল। তােমার আজুরা ছিল তিন ভাই দুই বােন। জীবন সহজ সরল সুখের আনন্দপূর্ণ ছিল। তখন কোনাে চুরি-ডাকাতি ছিল না।

যদিও গ্রামের বাড়ি ঘর এক একটা থেকে একটু দূরে দূরে তারপরও আরামে থাকতে পারতাম আমরা। ভয়ের কিছু ছিল না। অবশ্য চাকরির কারণে আমি অনেকটা সময় গ্রামের বাইরে ছিলাম।’ কিন্তু সুষমা চাকমার সেই সুন্দর ঘর নিয়ে বেশিদিন আনন্দের সংসার করা হয়নি।

বিয়ের কয়েক বছর পর কাপ্তাই এলাকায় কর্ণফুলির নদীর উপর বাঁধ বানানাে শুরু হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। আজো এই বয়সে সেই সব স্মৃতি জ্বলজ্বল করে মনে।। আচ্ছা, তুমি কি কাপ্তাই বাঁধ বানানাে দেখতে গিয়েছিলে? ‘হা। দুবার গিয়েছিলাম।

একবার বানানাের সময়, আরেকবার বানানাে শেষ হবার পর । প্রথমবার দেখতে গিয়ে হা হয়ে ছিলাম। কত্ত বড় বড় গর্ত। না দেখলে বিশ্বাসই হতাে না। আর কত বড় বড় মেশিন। কত লােক কাজ করছে। আর শুধু মেশিনের শব্দ।

অনেক দূর থেকে সেই শব্দ শােনা যায় । আমার আরেকবার কাপ্তাই বাঁধ দেখতে ইচ্ছে করে খুব । তবে আর হয়তাে দেখা হবে না। (দীর্ঘশ্বাস) তােমরা কি জানতে এই বাঁধের পানিতে তােমাদের সবকিছু ডুবে যাবে? ‘জানতাম। সবাইকে জানানাে হয়েছিল। গ্রামে গ্রামে বলে দিয়েছিল জায়গা জমি সব ডুবে যাবে আর কে কোথায় গিয়ে জায়গা নিতে চাই সেসব তালিকায় নাম লিখতে।

আমরা জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম মারিশ্যা কাজলং-র এলাকা। এরপরেই তাে আমরা কাজলং চলে আসি। তবে পুরােনাে বড়াদাম পানিতে তলিয়ে যাবার আগে নানু আজু আর তাদের দুই সন্তান নিয়ে কিছুদিনের জন্য চলে যান বাবার বাড়ি হাক্কনচন্দ্র গ্রামে। এই গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাবার আগ পর্যন্ত নানু এখানেই ছিলেন।

পানি আসার পরও নানু আর আজু চলে যান নতুন জায়গায় বাবা আর ভাইদের সাথে দুরছড়িতে। বেশ কিছু সময় এখানেই ছিলেন নানু ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাবা আর ভাইদের সাথে । আজু তখন নতুন জায়গায় চলে গেছেন জায়গা দখলে নিতে। তাহলে কি আজু আর চাকরিতে ফিরে যাননি?

আজুকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল কাপ্তাই বাঁধের কারণে? ‘হ্যা। তােমাদের আজু আর চাকরিতে ফিরে যাননি। কাপ্তাই বাঁধের ফলে আমাদের সবকিছু তাে ডুবে যাবে। নতুন জায়গায় যেতে হবে। সেখানে গিয়ে জায়গা দখল নিয়ে নিজের দখলে আনতে হবে। বাসযােগ্য করতে হবে। তাছাড়া মানুষ গুনেই তখন জায়গা বরাদ্দ দিচ্ছিল সরকার। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ছিল অনেক কম।

হঠাৎ করে জায়গা হারা হয়ে গেছি সবাই। চাকরিতে থাকলে ভালাে জায়গা পাবাে না, কম জায়গা ভাগ পাবাে তাই তােমার আজু চাকরি ছেড়েছিলেন। কিন্তু কী জানাে, এতকিছুর পরও আমরা ভালাে জায়গা পাইনি। খুব কম জায়গা পেয়েছি। শুধু এই জায়গাটা পেয়েছিলাম। কারণ হাজার হাজার মানুষের জন্য বসবাস করার মত জায়গা খুব কম ছিল।

তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকেই আরাে ভালাে জায়গা আর বেশি জায়গা পাবার আশায় অন্যত্র চলে গিয়েছিল । প্রথম দিকে আমরা ছিলাম কাজলং নদীর চরে ছােট্ট ছােট্ট চার বেড়ার লম্বা ঘর করে অনেক বছর অনেক পরিবার একসঙ্গে মিলে। এইযে এই ভিটেটাতে, এখন আমরা যেখানে বাড়ি করেছি এখানে সেসময় জুম করতাম।

কিন্তু বর্ষার পানিতে কাজলং চর ডুবে যেতাে তাই বাধ্য হয়ে এই ভিটায় এসে ঘর করেছি। তবে আমার আজো মনে আছে তখন পাকিস্তান সরকার কাপ্তাই বাঁধে ডুবে যাবে এমন এলাকার লােকদের নতুন জায়গায় যাবার জন্য বড় বড় নৌকা ভাড়া করে দিয়েছিল। এক একটা নৌকায় ৩/৪টি পরিবার একসঙ্গে। গ্রাম ছেড়ে নৌকায় করে আসার সেই স্মৃতিগুলাে আজো জ্বলজ্বল করে মনে।

নৌকায় আমরা, সঙ্গে তােমার ছােট্ট মা আর মামু, পুরােনাে বাড়ির কিছু জিনিসপত্র, সঙ্গে আরাে দুই/ তিন পরিবার। আস্তে আস্তে পানি উপরে যাচ্ছে, আমরাও উজানে যাচ্ছি। বাঁধের কারণে নদীর পানিও বাড়ছে পানি আস্তে আস্তে, উপরে দিকে উঠছে আমাদের নৌকা সেই পানির উপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । একসঙ্গে অনেক নৌকা, আমরা চলছি নতুন জায়গায় নতুন দিনের সন্ধানে।

সেই এক দেখার মতাে। রাতের বেলায় দেখা যেতাে শুধু লাইন ধরে অনেক মিটিমিটি আলাে এগিয়ে চলছে। রাতে তাে নৌকা দেখা যায় না শুধু ল্যাম্পের আলাে ছাড়া। যাচ্ছি তাে যাচ্ছি । চারিদিকে ঘন জঙ্গল। মাঝে মাঝে নদীর পাড় ঘেঁষে কিছু ঘর বাঁধা। সেখানেও কিছু মিটমিট আলাে । যারা যাবে তাদের জিরােবার ঘর।

সেই স্মৃতি কি ভােলা যায়? তাে মারিশ্যায় আমরা যখন পৌছালাম দেখলাম শুধু জঙ্গল। আর জঙ্গল । বাঘ সাপ চারিদিকে। বাঘের গর্জন এখনাে কানে লেগে আছে। মনে হতাে বাঘটা একেবারে বাড়ির উঠোনে। আমি তাে বাঘের ভয়ে রাতে ঘুমুতে পারতাম না। প্রথম প্রথম নতুন জায়গায় এসে নানুদের অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হয়েছে। যে জায়গায় ওরা এসেছিল সেটা ছিল এক ঘন অরণ্য। কী নেই সেখানে।

বাঘ থেকে শুরু করে সব ধরণের বণ্যপ্রাণী। শুধু ছিল না বাস আর চাষযােগ্য জমি। তাই এসেই আজুদেরকে চাষবাষ আর বসবাসের জন্য জমি তৈরি করতে ঘন জঙ্গল কেটে সাফ করতে হয়েছিল বছরের পর বছর। তখন কিন্তু বাসযােগ্য জমি তৈরি করা এত সহজ ছিল না, যত সহজে এখন আমরা বলছি।

ঘন অরণ্য, বিশাল বিশাল গাছ, শাপদ শঙ্কুলে ভরা জঙ্গল, কলেরা টাইফয়েডের মতাে অসুখ বিসুখসহ সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বেঁচে থাকা এত সহজ ছিল না তাদের। কতজন যে মারা গেছে রােগে ভুগে। বিশেষ করে শিশুরা আর বৃদ্ধরা। সে হিসেব কেউ রাখেনি।

এইভাবে নতুন জায়গায় সম্পূর্ণ জঙ্গলের ভিতর নতুন গ্রামের পত্তন হলাে। নাম দেয়া হলাে পুরােনাে গ্রামের নামে ‘বড়াদাম আদাম’ কিন্তু পুরােনাে গ্রামের লােকজন এই গ্রামে থিতু হলাে খুব কম সংখ্যায়। সবাই অন্য আরাে ভালাে। জায়গার খোজে চলে গেল এদিক-সেদিক ।

আত্মীয়-স্বজন পরিজন সবাই সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেল নতুন ভালাে জায়গার আশায়। অনেকে চলে গেল ভারতে ‘নেফায়’ । চাকমাদের কাছে এই চলে যাওয়ার নাম হলাে বর-পরং’। তােমার বাবাদের খবর কি হলাে? ভাইদের? বাবা তাে অনেক আগে মারা গিয়েছে। আমাদের সেই গ্রামও ডুবে গেছে।

আমার বাবার পরিবারের বাকিরা দুরছড়িতে চলে গেল সেখানেই থিতু হলাে। তাে এই নতুন বড়দাম গ্রামে সুষমা চাকমা পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে নতুন করে সংসার শুরু করলেন। থিতু হলেন। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হতে লাগলাে। আজু এখানে মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হলেন বেশ কবার । সবাই ত্রৈলক্যচন্দ্র মেম্বার বললেই একনামে চিনে। তাদের বাড়িতে একবার চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় বেড়াতে এসেছিলেন।

এইটা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার বেশ আগে। রাজার এই আসার কিছুদিন পর নানুদের বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। কীভাবে আগুন। লাগলাে সেটা তারা জানে না। তবে নানুরা ভাবেন রাজা আসার কারণে পুড়ে গেছে। চাকমাদের কাছে একটা মিথ আছে এই ব্যাপারে কারাের বাড়িতে যদি রাজা বা রাজবাড়ির কেউ পা দেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এবং বাড়ির লােকজনকে সাফ-সতুরা হতে হবে বা মাথা ধুতে হবে।

কিন্তু নানুরা তা করেনি। সেজন্য ওরা ধরেই নিয়েছিল রাজার কারণে তাদের ঘর পুড়ে গিয়েছে। এভাবেই নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে সুষমা চাকমার সংসার স্থিতি পেল। কাজলং বড়াদামে। একটু সুখ আর স্বচ্ছলতা নিয়ে সংসার চলছে। ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা শিখে যার যার জায়গায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। ঠিক এই সময়ে তাঁর এই সুখের সংসারে আবার অশান্তি এসে হাজির হলাে।

তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন তুংগে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে। সেনাবাহিনী যখন তখন যাকে তাকে যেখানে পাচ্ছে সেখান থেকে শান্তিবাহিনী।

মনে করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে আর গ্রামে গ্রামে প্রতিদিন শান্তিবাহিনীর খোঁজে চালাচ্ছে অপারেশন। তাদের টার্গেট হচ্ছে ছেলে যুবক ছাত্র। এমনকি সরকারি চাকরিজীবীদেরও আর্মিদের হাত থেকে রক্ষা পাবার কোনাে উপায় ছিল না।

তাদের চোখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জুম্মাে মানেই সে শান্তিবাহিনীর সদস্য। কারাের উপর যদি একবার সন্দেহ হয় তাহলে তার আর রক্ষা নেই। আর একবার সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়া মানে মহাবিপদ। সারা জীবনের জন্য পঙ্গ। খুব বিপদে না পড়লে কেউ বাড়ি বা এলাকা ছাড়া হতাে না ।

শান্তিবাহিনীর নেতারা ছাত্র যুবকদের আহবান জানাচ্ছে সরাসরি লড়াইয়ে যােগ দিতে । স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের সৈনিক হতে। ঠিক এমন এক মুহুর্তে জনসংহতি সমিতির আহ্বানে আমার মেঝাে মামা একদিন শান্তিবাহিনীতে যােগ দিলেন । আমার এই মেঝাে মামা হচ্ছে সুষমা চাকমার পাচ ছেলের এক ছেলে, নাম ‘ভিত্তি’।

আমি তখন ছােট, মামুকে খুব আবছা মনে পড়ে। তবে এই মামু আমার ভীষণ প্রিয় ছিলেন। নানুদের বাড়ি মারিশ্যা, খাগড়াছড়ি থেকে অনেক দূরে হওয়াতে নানু বাড়ি আমাদের যাওয়া হতাে না বললেই চলে। তাছাড়া তখন। গাড়ির রাস্তাঘাট ছিল না। হেঁটে যেতে হতাে।

প্রথমে দীঘিনালায় গিয়ে একরাত থেকে তারপরদিন ভাের বেলা হাঁটা-পথে বেরােতে হতাে। কয়টা মােন মানে বড় বড় পাহাড় পার হতে হতাে জানেন? অনেকগুলাে বারাে হাপ্যে মােন, যােলাে হাপ্যে মােন, আদারাে হাপ্যে মােন তারপর ছড়া সমতল পথ জঙ্গল গ্রাম পেরিয়েই তবেইতাে নানুর বাড়ি- বড়াদাম। তখন এখান থেকে ওখানে যাওয়া মােটেই নিরাপদ ছিল না।

আমার মনে আছে আমার প্রথম নানু বাড়িতে যাওয়া। হয়েছিল যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। এবং আমার সেই প্রথম শান্তিবাহিনীর সাথে দেখা। খাগড়াছড়ি থেকে আমরা প্রথমে হতােনালায় গেলাম। সেখানে রাতে কয়েকজনের সাথে দেখা হলাে, মা চিনত তাদের। তারাও নাকি মারিশ্যা যাবে।

তাে তাদের সাথে করে আমরা এতবড় বড় মােন পার হয়েছিলাম। পরে জেনেছি এরাই নাকি শান্তিবাহিনীর সদস্য। শুধু দূরের পথের জন্য না, আমার মনে হয় নিরাপত্তার কারণেও আমাদের ভাইবােনদের নানুর বাড়ি বেড়ানাে হয়নি তখন। অবশ্য বাবার চাকরির কারণে আমার বড় ভাই বােনের জন্ম হয়েছিল মারিশ্যায় বড়াদাম গ্রামে নানুদের বাড়িতে।

কিন্তু পরে বাবামা খাগড়াছড়ি চলে আসেন। নানুর বাড়ি আর আমাদের বাড়ির সেতু ছিলেন আমার এই ভিত্তি মামু। মামু বলতেই আমি তাকে চিনতাম। শেষ কবে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে সেটা আমার আর মনে পড়ে না। তাে আমার এই মামু হারিয়ে গেলেন একদিন আমাদের মাঝ থেকে।

একদিন দেখি মা আর বাবা ফিসফিস করছে, ভিত্তি মামু শান্তিবাহিনীতে যােগ দিয়েছে। আর একদিন জানলাম মামুর আরেকটা নাম ‘জুনান’ মানে পূর্ণিমার চাদ, শান্তিবাহিনীতে যােগ দেবার পর এই নতুন নামকরণ তার।

স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনে যােগ দেবার পর আর কখনাে আমাদের মামুর সাথে দেখা হয়ান। তবে অনেক দিন পর পর মামু লােক মারফত খবর পাঠাতেন তিনি ভালাে আছেন। অমুক এলাকায় আছেন। এভাবে সময় চলে যায়।

শেষ দিকে ভিত্তি মামু * বারাে হাপ্যে মােন, যােলাে হাপ্যে মােন, আদাররা হাপ্যে মােন : বারাে মােলাে আঠারাে বাসে পাহাড় রাঙামাটির কাছে কোনাে একটা এলাকায় বদলি হলেন। সেটা ঠিক কোথায়। আমরা জানতাম না। আমার দিদি নানুদের দিকের বড় নাতনি। তার কদরই আলাদা।

তাই ভিত্তি মামু শুধু দিদিকে মাঝে মাঝে দেখতে চাইতেন লােক মারফত। কিন্তু মা আর বাবা তােক জানাজানি এবং সেনাবাহিনী যদি জেনে যায় এই ভয়ে দিদিকে কখনও মামুর সাথে দেখা করতে পাঠাননি। শেষবার তিনি খবর পাঠালেন দিদিকে যেতে। দিদিকে একবার দেখতে চান।

মা বাবা সেনাবাহিনীর ভয়ে না করে দিলেন। দিদি তখন কলেজে পড়ে। এটা কি ১৯৯০ বা ৮৯-এর দিকে? এই শেষবার মামুর সাথে অন্যের মারফত যােগাযােগ। হঠাৎ একদিন মা বাবা আবার ফিসফিস করে আমাদের জানালেন যে মামু মারা গেছেন সেনাবাহিনীর গুলিতে।

সাথে অনেক সহযােদ্ধা এমনকি যে বাড়িতে মামুরা ছিলেন সেই বাড়ির মালিকও মারা গেছেন। তিনি একজন নারী। কিন্তু ঠিক কখন কোন জায়গায় তিনি নিহত হয়েছেন সেটা আমরা কেউ জানি না। সেই ঘটনার অনেক অনেক বছর পর্যন্ত আমরা কারাের কাছে বলতে পারিনি, বলা বারণ ছিল নিরাপত্তার কারণে সেনাবাহিনীর ভয়ে যে আমাদের মেঝাে মামু স্বাধিকারের জন্য শহীদ হয়েছেন।

তবে আমার মামু আমার মনে সবসময় ঘুরঘুর করতাে। মনে মনে অনেক প্রশ্ন আসতাে যেতাে। মামু যে জায়গায় নিহত হয়েছেন সেই জায়গাটা দেখতে কীরকম, খুব মন চাইতাে। সেই পর্যন্ত। এভাবে অনেক বছর কেটে যায়। অনেক বছর পরে আমার জীবনে একটা কাকতালীয় ঘটনা ঘটে।

আমার নিজের সাংগঠনিক কাজে একেবারে কাকতালীয়ভাবে আমি রাঙামাটির সেই জায়গায় গিয়েছিলাম এবং লােকেমুখে মামুর শহীদ হবার সময়ের কাহিনী আর তার লাশকে কীভাবে সেনাবাহিনী নিয়ে গিয়েছিল সেই কাহিনী শুনেছিলাম । আমার জীবনে এটি একটি অদ্ভুত ঘটনা ।

কিন্তু সেই কাহিনী অন্য আরেকদিন।। মামু মারা যাবার পর আমরা নানুর সামনে এই মামুর কথা কখনাে বলতাম না। হয়তাে নিজেরা নিজেরা বলাবলি করতাম। এখন নানুর বয়স আশি (৮০) বা তারচেয়ে বেশি। এই সেদিন আমি নানুর সাথে গল্প করার সময় জানতে চাইলাম। ভিত্তি মামুর কথা, জানতে চাইলাম তার লাশ ফেরত পেয়েছিল কিনা? মামুর সাথে নানুর শেষ কবে কথা হয়েছিল?

এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন। ‘২০ বছরের মতাে হলাে ভিত্তি মারা গেছে। তার মৃত্যুর খবর আমি জেনেছি সে মারা যাবার অনেক পরে, শুনেছি তার লাশকে আর্মিরা রাঙামাটি নিয়ে গেছে । কিন্তু আমি তার লাশ হাতে পাইনি। চোখেও দেখিনি। আর্মিরা লাশ ফেরত দেয়নি। কী করেছিল তাও জানি না।

মাটিতে চাপা দিয়েছে না আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে সেসব আমরা কিছুই জানি না আজো। তবে ভিত্তি যখন মারা যায় আমিও তখন রাঙামাটিতে। আমার ছেলেদের কাছে। একদিন একজন এসে বললাে শান্তিবাহিনীর একজন নেতা মারা গেছে আর্মিদের গুলিতে রাঙামাটি এলাকায় সাথে আরাে কয়েকজন।

মানুষের মুখেই শুনলাম সে মারিশ্যার বাসিন্দা। কিন্তু আমি ও আমার পরিবারের কেউ বুঝতেই পারিনি সে আমারই ছেলে ভিত্তি। কারণ তখন শান্তিবাহিনীতে অনেক মারিশ্যার ছেলে কাজ করতাে। তাই এই ঘটনা শােনার পরও নিজের ছেলের কথা আমার মনেই আসেনি। মনে হয়েছিল হয়তাে অন্য কারাের ছেলে ।

এই ঘটনার কিছুদিন পর আমি মারিশায় চলে আসি। তখনাে পর্যন্ত আমরা কেউই জানি না ভিত্তি আর পৃথিবীতে নেই। তাে বাড়িতে এসেই আমি তার একটা চিঠি পাই। আমার ছেলে ভিত্তির লেখা । এই চিঠিটা সে মৃত্যুর আগে লিখেছিল এবং আমাকে পাঠিয়েছিল। কিন্তু আমি রাঙামাটিতে অবস্থান করার কারণে চিঠিটা ঠিক সময়ে পাইনি।

এটাই ছিল তার শেষ চিঠি । তার চিঠির মতাে আমি তার জন্য অপেক্ষা করি। দিন যায় রাত যায়, মাস চলে যায়। তার আর খবর আসে না। তারপর একদিন তােমার ছােট মামু খাগড়াছড়ি থেকে বাড়িতে আসে। তার কাছ থেকেই প্রথম আমরা সব জানলাম । ভিত্তি মারা গেছে। আর্মির গুলিতে নিহত হয়েছে।

শুনলাম ভিত্তি যে বাড়িতে ছিল সে বাড়ির ওপর হামলা করে আর্মিরা। বাড়ির মালিক ছিলেন একজন বিধবা। চাকমা নারী। সে ও সেনাবাহিনীরা ওই হামলায় মারা যায়। ঘটনাটা ঘটেছে রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকার একটা পাহাড়ের গ্রামে। আমার ছেলে ঐসময় অসুস্থ থাকার কারণে ঐ বাড়িতে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল।

এই অবস্থায় সে মারা যায়। আর এই খবরের সাথে সাথে তার জন্য আমার অপেক্ষার পালাও শেষ হয় এভাবে । আমার ভাবতে এখনাে কষ্টে বুক ফেটে যায় যে, তার লেখা চিঠি পেয়েছি সে মারা যাবার পর অথচ আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকতাম আমাকে সে নিতে লােক পাঠাবে। আমি দেখতে যাবাে তাকে। ভিত্তি মামু তার শেষ চিঠিতে কি লিখেছিল নানু?

অনেক কিছু লিখেছিল। তবে আমার এই কটা লাইন স্পষ্ট মনে আছে। লিখেছিল- মা, তুমি এখন এসাে না। আমি এখনাে কোন জায়গায় থিদ’ হতে পারিনি। যদি একটা জায়গায় ‘থিদ’ হতে পারি তাহলে তােমাকে আমি খবর দিব। তখন এসাে। লােক পাঠাবাে, সেই তােমাকে আনতে যাবে।

এরপরে তাে তােমার মামু আমার কাছে ইতিহাস হয়ে গেল। আমি তার কথা কাউকে বলতেও পারি না। মানুষজনও আমার সামনে তার কথা বলে না এই কারণে যদি আমার মন খারাপ হয়ে যায়। এভাবেই লুকোচুরি করে বাকি জীবনটাও কেটে যাবে। বি.দ্র. সুষমা বালা মৃত্যুবরণ করেন ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর।

১. এইখানে একটা কথা বলা জরুরী আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল ধনসম্পদে আর শান্তিতে ভরপুর এক পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকা। এই এলাকার ভূমি ছিল উর্বর। গ্রামের সকলে নিজস্ব জায়গা জমি নিয়ে স্বচ্ছল আর শান্তিপূর্ণভাবে জীবন কাটাতো। কাউকে কারোর কাছে কখনও হাত পাততে হতো না। পার্বত্য চট্টগ্রামে তখন বাঙালিদের বসতি ছিল শূণ্যের কোঠায়। তবে সকল জুম্মো পরিবারে ধানী জমি আর চাষাবাদের কাজ করতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসতেন বছরের একটা সময় সমতলের বাঙালিরা। তাই বাঙালিরা ছিলেন কামলা নামে এক অতিথি, যারা শুধু কাজের জন্য পাহাড়ে আসা যাওয়া করতো আর কাজ শেষ হলেও চলে যোতো নিজেদের এলাকায় পরিবার পরিজনের ওখানে। যদিও পাহাড়ের চিত্র এখন ভিন্ন। বর্তমানে জুম্মো অধ্যুষিত এলাকা দিনকে দিন পরিণত হচ্ছে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়। এখন পাহাড়ের এমন এলাকা দেখা যায় যেখানে বাঙালি আছে জুম্মোর অস্তিত্ব নেই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলে রাষ্ট্রের অসহযোগিতার কারনে জুম্মোরা নিজেদের বসতি থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।
২. বারো হাপ্যে মোন, ষোলো হাপ্যে মোন, আদারো হাপ্যে মোন : বারো ষোলো আঠারো ধাপের পাহাড়

লেখকঃ সুষমা বালা চাকমা, মারিশ্যা, রাঙামাটি।

তথ্যসুত্র : “কাপ্তাই বাঁধ : বর-পরং – ডুবুরীদের আত্মকথন” – সমারী চাকমা।

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - [email protected] এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator