জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক

0
505

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি পার্বত্য জেলা নিয়ে ঘটিত, যথাঃ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এবং এটি বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণপূর্ব অংশ।

এটি উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও পূর্বে মিজোরাম রাজ্য, দক্ষিণপূর্বে মায়ানমারের চিন রাজ্য এবং দক্ষিণে রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে ঘেরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ১১টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাসভূমি, এই জাতিগোষ্ঠীগুলোঃ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চংগ্যা, ম্রো, লুসাই, খুমি, চাক, খিয়াং, বম, পাংখুয়া এবং একত্রে তাঁরা জুম্ম নামে পরিচিত।[1]

বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয় নিয়ে একটি বিতর্ক আছে যা আজও চলমান, একদিকে জুম্মরা তাঁদের নিজেকে আদিবাসী দাবি করে আর অন্যদিকে রাষ্ট্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালিদের এক বিরাট অংশ জুম্মদের সেই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বিপরীতভাবে বরং তাঁরাই নিজেদেরকে বাংলাদেশের আসল আদিবাসী হিসেবে দাবি করে।

এই প্রসঙ্গে ২০১১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির দেওয়া বক্তব্য উল্লেখযোগ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যঃ

২০১১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বিদেশি কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীগুলো ১৬শ শতাব্দীর আগে সেখানে বাস করতো না কিংবা তাঁদের সেখানে অস্তিত্ব ছিল না এবং কোন ধরণের ঐতিহাসিক রেফারেন্স বই, আত্মজীবনী অথবা আইনী দলিলে তাঁদেরকে আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।[2] তিনি আরও বলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মরা বাংলায় সর্বশেষ বসতিস্থাপনকারী (settlers) এবং বাঙ্গালিরা জুম্মদের তুলনায় এখানে ৪০০০ বছর আগে থেকে বসবাস করছে।[3]

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে- বিপক্ষ যুক্তিসমূহঃ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের যুক্তিগুলো শুধু মিথ্যাপূর্ণই নয় বরং বিভিন্নক্ষেত্রে ভিত্তিহীন।

১। প্রথমত, তিনি বলেছিলেন যে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীগুলো খুব সম্ভবত ১৬শ শতাব্দীর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করতো না কিংবা তাঁদের সেখানে অস্তিত্ব ছিল না।[4] উনার এই বক্তব্য মিথ্যা, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্ত্বাগুলো স্মরণাতীতকাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছে[5] এবং তাঁরাই পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল বাসিন্দা।[6]

২। দ্বিতীয়ত, তিনি আরও বলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্ত্বাগুলোকে কোন ধরণের ঐতিহাসিক রেফারেন্স বই, আত্মজীবনী অথবা আইনী দলিলে তাঁদেরকে আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।[7]

উনার এমন বক্তব্যও ভুল। উদাহরণস্বরূপঃ অত্র অঞ্চলের সর্বপ্রথম ও সর্বব্যাপী আইন পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০- যে আইনের বলবৎ এ অঞ্চল একসময় শাসিত হতো- সেই আইনে জুম্মদেরকে সম্বোধন করার জন্য “আদিবাসী ট্রাইব (indeigenous tribe)” এবং “পাহাড়ি আদিবাসী (indigenous hillman)” পদদ্বয় পরষ্পর-পরিবর্তনীয়ভাবে (interchangeably) ব্যবহার করা হয়েছে।[8]

উক্ত আইনের বিধি ৪ ও ৫২ তে উল্লেখ করা হয়েছে, ” একজন চাকমা, মগ (মারমা) অথবা যেকোন ট্রাইবের সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী”।

অধিকন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০-য়ের তফসিলে বেশ কিছু আইন আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ১৯২২ সালের আয়কর আইনে নিম্নোক্ত বাক্যে “পাহাড়ি আদিবাসী” পদটি ব্যবহার করা হয়েছে, “পাহাড়ি আদিবাসী ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে”।

পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেশ কিছু পত্রেও জুম্মদেরকে “পাহাড়ি আদিবাসী” হিসেবে সম্বোধন করা হয়।[9]

৩। তৃতীয়ত, তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্ত্বাগুলোই বাংলার মাটিতে শেষ বসতি স্থাপনকারী অথচ বাঙালিরা তাদের তুলনায় বিগত ৪০০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে।[10]

উনার এমন মন্তব্যও মিথ্যাপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর এবং অযৌক্তিক।

ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলার অংশ ছিল না, বরং এটি স্বাধীন একটি অঞ্চল ছিল এবং ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনে অন্তর্ভুক্তির আগ পর্যন্ত এটি কোন রাষ্ট্রের সাথে যুক্ত ছিল না।[11]

ইতিহাস বলে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক স্বাধীন স্বত্ত্বা ছিল।[12] পার্বত্য চট্টগ্রাম যে একটি স্বাধীন স্বত্ত্বা ছিল এবং পৃথকভাবে শাসিত হতো- আমার এই যুক্তিকে সাপোর্ট করার জন্য বেশ কিছু বিশেষ আইন রয়েছে, যেমনঃ Act XXII of 1860, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০, ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫- এসব আইনগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “সম্পূর্ণ শাসন-বহির্ভূত অঞ্চল” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে শাসন-বহির্ভূত অঞ্চলের পদমর্যাদাকে পরিবর্তন করে ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “ট্রাইবাল অধ্যুষিত অঞ্চলের” পদমর্যাদা দেওয়া হয়, যদিও ১৯৬৪ সালে সেই পদমর্যাদা বাতিল করা হয়।[13]

ঐতিহাসিকভাবে, বাংলায় ১৬শ শতাব্দীতে পর্তুগিজদের আগমনের অনেক পূর্ব থেকেই পাহাড়ি কিংবা জুম্মরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করতো।[14] অথচ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জাতিসত্ত্বা অর্থাৎ বাঙালিরা ১৯শ শতাব্দীর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনও শুরু করেনি।[15]

বিশেষ আইন, যেমনঃ আভ্যন্তরীণ সীমা বিধি , ১৮৭৩, তফসিলি জেলা আইন, ১৮৭৪ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০-এর ৫২ নং বিধি পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা স্থানীয় নয় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতো।[16] যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা স্থানীয় হিসেবে গণ্য হতো না, তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের চলাচল ও স্থানান্তর পূর্বে-উল্লেখিত বিশেষ আইন অনুযায়ী সেসব আইন যতদিন বলবৎ ছিল ততদিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হতো।[17]

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করার আগে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বাঙালিদের অনুমতি নেওয়া লাগতো এবং জেলা প্রশাসককে হেডম্যান অথবা সার্কেল প্রধানের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া লাগতো, এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০- পার্বত্য চট্টগ্রামের অ-আদিবাসীদের অনুপ্রবেশ সীমাবদ্ধ রাখতো।[18]

আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী কারা আদিবাসী?

আদিবাসী সংক্রান্ত সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক আইনী দলিল হচ্ছে আইএলও কনভেনশন নং ১০৭, কিন্তু এই আইন “আদিবাসী” পদটিকে পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করে না।

পরবর্তীতে আইএলও কনভেনশন নং ১৬৯ গৃহীত হয় এবং এটি আইএলও কনভেনশন নং ১০৭-কে প্রতিস্থাপিত করেছে কারণ আইএলও কনভেনশন নং ১০৭-এ অন্তর্নিহিতভাবে আত্তীকরণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা প্রকৃতিগতভাবে বিধ্বংসী এবং সেকেলে।[19] আইএলও কনভেনশন নং ১৬৯-ও “আদিবাসী” পদটির পরিষ্কার কোন সংজ্ঞা দেয়নি বরং তার পরিবর্তে এটি কিছু মুখ্য ও গৌণ নির্ণায়ক দিয়েছে।[20]

আইএলও কনভেনশন নং ১৬৯-এ আত্ম-সনাক্তকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যেন যেসব রাষ্ট্রে আদিবাসীরা বসবাস করছে সেসব রাষ্ট্রগুলো (host states) আদিবাসী পরিচয়ের দাবিকে তাদের সীমানার মধ্যে নাকচ করে দিলে আদিবাসীরা সেটার সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।[21]

মুখ্য নির্ণায়ক গৌণ নির্ণায়ক
আদিবাসী জনগণ আদিবাসী হিসেবে নিজেদেরকে আত্ম-সনাক্তকরণ এমন জনসমষ্টির বংশধর যাঁরা রাজ্য দখল, উপনিবেশায়ন অথবা বর্তমান রাষ্ট্রীয় সীমানা প্রতিষ্ঠার সময় উক্ত রাষ্ট্রে কিংবা ভৌগোলিক ভূখন্ডে বাস করতো।

 

তাঁরা তাঁদের আইনী পদমর্যাদা নির্বিশেষে কিছু কিংবা তাঁদের সকল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বজায় রেখেছে।

ট্রাইবাল জনগণ ট্রাইবাল হিসেবে নিজেদেরকে আত্ম-সনক্তকরণ তাঁদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা অপর জাতীয় সম্প্রদায়ের অংশ থেকে ভিন্ন।

 

তাঁদের পদমর্যাদা পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে তাঁদের প্রথা অথবা ঐতিহ্য কিংবা বিশেষ আইন বা বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

 

এখন দেখা যাক জুম্মরা আদিবাসী জনগণের মুখ্য এবং গৌণ নির্ণায়কগুলো পূরণ করতে পারে কিনা।

১। জুম্মরা নিজেদেরকে আদিবাসী জনগণ হিসেবে আত্ম-সনাক্ত করে।

২। ইতিহাস বলে যে জুম্মরা সেই জনসমষ্টির বংশধর যাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল, উপনিবেশায়ন এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় সীমানা প্রতিষ্ঠার আগে থেকে বসবাস করে আসছে।[22]

৩। জুম্মরা তাঁদের আইনী পদমর্যাদা নির্বিশেষে এখনও কিছু সামাজিক, অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বজায় রেখেছে।[23]

সুতরাং, উপরে উল্লেখিত আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে জুম্মরা মুখ্য এবং গৌণ উভয় মানদণ্ডই পূরণ করে এবং তাই এটি বলা যায় যে তাঁরা সঠিক অর্থে “আদিবাসী জনগণ” পরিচয়ের অধিকারী।

আদিবাসী জনগণের আন্তর্জাতিক আইনী সংজ্ঞায় অপরিহার্য মানদণ্ড হিসেবে কর্তৃত্বহীনতা বা অধীনতাঃ

১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের বিশেষ দূত (Rapporteur) মার্টিনেজ কোবো (Martinez Cobo) আদিবাসী পরিচয়ের একটি কার্যক্ষম সংজ্ঞা তৈরি করেন যেখানে তিনি আদিবাসীদেরকে সমাজের ক্ষমতাহীন (non-dominant sectors) অংশ হিসেবে উল্লেখ করেনঃ

“আদিবাসী সম্প্রদায়, জনগণ এবং জাতিসত্ত্বাগুলো… বর্তমানে সমাজের ক্ষমতাহীন অংশ দ্বারা গঠিত…”

আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং গবেষক বেনেডিক্ট কিংসবারিও (Bennedict Kingsbury) ১৯৯৮ সালে  The American Journal of International Law- তে প্রকাশিত “‘Indigenous Peoples’ in International Law: A Constructivist Approach to the Asian Controversy”– শিরোনামের এই আর্টিকেলটির ৪৫৫ পৃষ্ঠায়- ক্ষমতাহীনতাকে (non-dominance) আদিবাসী পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী নির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেন।

কাওসার আহমেদ, যিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, তাঁর মতে আদিবাসী জনগণের কর্তৃত্বহীন বা ক্ষমতাহীন অবস্থাই আদিবাসী জনগণকে তাঁদের বৈধ অধিকারগুলোর স্বীকৃতি লাভের জন্য ন্যায্যতা প্রদান করে।

তিনি যুক্তি দেন যে, “আদিবাসী জনগণের অধিকারগুলোর বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হতো না, যদি সামাজিক অথবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন অংশের হাতে আদিবাসীদের নিপীড়িত হওয়ার ঘটনা না ঘটতো।”[24]

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাঙালিরা প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন অবস্থানে কিন্তু অপরদিকে বাংলাদেশের আদিবাসীরা (বিশেষ করে জুম্মরা) ক্ষমতাহীন বা কর্তৃত্বহীন অবস্থানে।

আদিবাসীদের অধীনতা কিংবা ক্ষমতাহীনতা তাঁদের নিজস্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ, বিতাড়ন, নির্মূল এবং  পরিচয় ও সংস্কৃতি হারানোতে পর্যবসিত করে।[25] এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে পাহাড়ের জুম্মরা দীর্ঘ দিন ধরে রাষ্ট্র, বাঙালি সেটলার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যা, ধর্ষণ, সাম্প্রদায়িক হামলা ও গণহত্যার শিকার হয়ে আসছে[26] এবং তাঁদের কর্তৃক জোরপূর্বকভাবে নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে জুম্মরা উচ্ছেদ ও বিতাড়নের শিকার হচ্ছে, যার ফলে তাঁদের সংস্কৃতি, স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে।[27]

সেক্ষেত্রে, প্রশ্ন থেকে যায় যে বাঙালিরা এ দেশে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন জাতিসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় পাওয়ার দরকার আছে কি?

কাওসার আহমেদের মতে বাঙালিদের আদিবাসী পরিচয়ের দরকার নেই, যেহেতু তাঁরা এ দেশে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন অংশ এবং তাঁরা নিজেদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাঁদের হাতে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার এবং আকাঙ্ক্ষা নির্ধারণের জন্য সার্বভৌমিক রাজনৈতিক ক্ষমতা রয়েছে- তাই যেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর সত্যিকার অর্থে আদিবাসী পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে শুধুমাত্র তাঁদের দাবিকে নাকচ করে দেওয়ার জন্য বাঙালিদের যেই দাবি যে তাঁরাই এ দেশের আদিবাসী তা কোন অর্থেই যুক্তিসঙ্গত নয়।[28]

কাওসার আহমেদ অধিকন্তু বলেন যে আদিবাসী জনগণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনী ধারণা আদিবাসীদের জন্য বিকল্প এক পথ খুলে দিয়েছে যেন তাঁরা নিজেদের পরিচয় না হারিয়ে এবং নিজেদেরকে একটি নতুন রাষ্ট্রে সংঘটিত না করে তাঁরা তাঁদের সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার অর্জন করতে পারে।[29]

রাষ্ট্রের আদিবাসী পরিচয়ের অস্বীকৃতিঃ

বাংলাদেশের সমতলে এবং পাহাড়ে বসবাসরত প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো সত্যিকার অর্থেই আদিবাসী জনগণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনী ধারণার মানদণ্ডগুলো পূরণ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার তাঁদেরকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার জানাই।

বাংলাদেশের আদিবাসীরা ১৯৯৩ সাল থেকে “আদিবাসী পরিচয়ের” স্বীকৃতি চাচ্ছে- যেই বছরকে জাতিসংঘ দ্বারা বিশ্ব আদিবাসীদের আন্তর্জাতিক বছর ঘোষণা করা হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশ বলছে যেহেতু বাংলাদেশের পুরো জনসংখ্যা এ দেশের মাটিতে বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে তাই তাঁরা সবাই এখানকার আদিবাসী সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে “আদিবাসী জনগণ” পদটি প্রযোজ্য নয়।[30]

এই প্রসঙ্গে কাওসার আহমেদ বলেন যে, “বাংলাদেশের বক্তব্য যে বাংলাদেশের পুরো জনসংখ্যাটাই আদিবাসী- তা আসলে প্রতারণাপূর্ণ (fallacious)। মূলত অবাস্তব বা কাল্পনিক সমতার অজুহাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকদেরকে তাঁদের আদিবাসী অধিকার এবং আদিবাসী পদমর্যাদার দাবিকে নাকচ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বক্তব্য করা হয়েছে- যেটি রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রকাশ করে।”[31]

এমন বক্তব্যে অন্তর্নিহিতভাবে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীগুলো যাঁদের “আদিবাসী জনগণ” হিসেবে পরিচয় লাভের যোগ্যতা রয়েছে তাঁদের প্রতি রাষ্ট্র কর্তৃক চাপানো একগুঁয়ে (monolithic) এবং কর্তৃত্ববাদী (hegemonic) এক মনোভাব রয়েছে। এই বক্তব্যে আত্তীকরণ এক আচরণও (assimilationist approach) রয়েছে, যেটি বাংলাদেশে বসবাসরত সবাই এ দেশের আদিবাসী- এই সরলীকরণ বক্তব্য থেকে প্রতিফলিত হয়।[32]

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২)-ও কর্তৃত্ববাদী (hegemonic) এবং আত্তীকরণ (assimilationist) মনোভাব পোষণ করে, এই অনুচ্ছেদটি বাংলাদেশের সকল নাগরিককে বাঙালি পরিচয়ে ভূষিত করে এ দেশে বসবাসরত বহুজাতির পরিচয়কে নাকচ করে এবং এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই তথ্যটিও সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা হয়েছে যে বাংলাদেশে বাঙালি ব্যতীতও আরও অনেক জাতিসত্ত্বা বসবাস করছে।

২০১১ সালে সংবিধানের ১৫শ সংশোধনী করা হয়, যেটির মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২৩ক সন্নিবেশিত করা হয় যেখানে আদিবাসীদের সম্বোধন করা হয়েছে “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়” হিসেবে। কিন্তু আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক কর্মী এবং অধিকার কর্মীরা এই সংশোধনীটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের আদিবাসীরা এখনও “আদিবাসী জনগণ” পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করছে কিন্তু সংবিধানের ১৫শ সংশোধনীর পর অনুচ্ছেদ ২৩ক আর সংশোধনযোগ্য নয় কারণ তাতে অনুচ্ছেদ ৭খ বাঁধা দেয়।[33]

সুতরাং, এটি বলা সমীচীন হবে যে এ দেশের আদিবাসীদের “আদিবাসী জনগণ” হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাওয়াটা খুবই দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমন স্বীকৃতিলাভ শুধুমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা কোন কারণে ১৫শ সংশোধনী অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষিত হবে।

শেষকথাঃ

পরিশেষে, বাংলাদেশের আদিবাসীদের জন্য সাংবিধানিকভাবে “আদিবাসী জনগণ” পরিচয়ের স্বীকৃতি পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় হলেও রাষ্ট্র তাঁদের “আদিবাসী জনগণ” পরিচয়ের ন্যায্য দাবিকে চাইলেই ধ্বংস করে দিতে পারে না।

যেহেতু আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ (উভয় পাহাড় এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য) খুবই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই এক কথায় বলতে গেলে আদিবাসীদের ব্যাপক প্রান্তিকীকরণ প্রক্রিয়া এখন পশ্চাৎ দিকে ফেরানো প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু রাষ্ট্র চাইলে তাঁর “সমতা এবং ন্যায়”-এর ন্যায্য নীতি[34], যেটি কিনা আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় রক্ষিত হয়ে আছে- তার ভিত্তিতে আদিবাসীদের এবং তাঁদের অধিকারগুলোকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত করতে পারে।[35]

এটি উল্লেখ করা যথার্থ হবে যে আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০ মুক্তকণ্ঠে “…মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ করা”- এ আদর্শ ব্যক্ত করে[36] এবং এই আদর্শ যেটি কিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোর একটি, সেটি কখনও আদিবাসী জনগণের এবং তাঁদের অধিকারগুলোর স্বীকৃতি প্রদান ব্যতিত অর্জন সম্ভব হবে না।

এটি উল্লেখ করা যথার্থ হবে যে, রাজা দেবাশীষ রায়, যিনি চাকমা সার্কেলের পরম্পরাগত প্রধান, যিনি জুম্ম জনগণের একজন সদস্য- তিনি জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (UNPFII) একজন সদস্য হিসেবে ২ বার নিযুক্ত হন এবং তাঁর বড় বোন রাজকুমারি চন্দ্রা রায় একই ফোরামের দপ্তর প্রধান (Chief of the Secretariat) হিসেবে নিযুক্ত হন।

অধিকন্তু, এটিও গুরুত্বপূর্ণভাবে উল্লেখযোগ্য যে জুম্ম সম্প্রদায় ও সমতলের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর অসংখ্য লোক বহু বছর ধরে একই ফোরামে (UNPFII) বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করছে।

সুতরাং, এ দেশের আদিবাসী জনগণকে (বিশেষ করে জুম্মদেরকে) সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক অস্বীকার করা হলেও জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম ও অন্যান্য আদিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরাম ও সংস্থাগুলোতে জুম্মদের জড়িত থাকা, অংশগ্রহণ এবং নিযুক্তকরণ থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে আদিবাসী জনগণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরাম এবং সংস্থাগুলো জুম্মদেরকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে “আদিবাসী জনগণ” হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে।

আদিবাসী জনগণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমনঃ আইএলও (International Labour Organization), ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইন্ডিজেনাস অ্যাফেয়ার্স (IWGIA), এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (AIPP)ও তাদের প্রকাশনায় (publications) জুম্মদেরকে “আদিবাসী জনগণ” হিসেবে সম্বোধন করেছে।

এটিও গুরুত্বপূর্ণভাবে উল্লেখযোগ্য যে যেসব একাডেমিশিয়ানরা (academicians) পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখালিখি করেছেন তাঁদের প্রায় সবাই জুম্মদেরকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে অবিসংবাদিতভাবে (unanimously) অন্য কোন পদ ব্যবহারের পরিবর্তে “আদিবাসী জনগণ” পদটি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

অধিকন্তু, এটিও উল্লেখযোগ্য যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ ২০০০ সালের একটি মামলার বাদী সম্প্রীতি চাকমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন “আদিবাসী পাহাড়ি” (indigenous hillman) হিসেবে স্বীকার করেছেন।[37]

শেষে এইটুকুই বলতে চাই, একটি জাতিসত্ত্বা বা নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী “আদিবাসী জনগণ” কিনা তা আন্তর্জাতিক  নিয়ম (norms), মানদন্ড (standards), রীতি (practices), চুক্তি (treaties) এবং আইন (laws) অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া উচিত যেন কোন রাষ্ট্র তাঁর একগুঁয়ে (monolithic) এবং কর্তৃত্ববাদী (hegemonic) চরিত্রের কারণে কোন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে তাঁর আদিবাসী পরিচয়ের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করতে না পারে।


রেফারেন্সঃ

[1] “Chittagong Hill Tracts” (UNPO) <https://unpo.org/members/7867> accessed May 24, 2019.

[2] Correspondent D, “Ethnic Minority, Not Indigenous People” (The Daily Star July 26, 2011) <https://www.thedailystar.net/news-detail-195963> accessed May 24, 2019.

[3] ibid.

[4] Ibid.

[5] Roy RCK, Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh (IWGIA, International Work Group for Indigenous Affairs 2000) 22.

[6] Chowdhury K, “Politics of Identities and Resources in Chittagong Hill Tracts, Bangladesh: Ethnonationalism and/or Indigenous Identity” (2008) 36 Asian Journal of Social Science 61.

[7] Correspondent (n 2).

[8] Roy RD, The ILO Convention on Indigenous and Tribal Populations, 1957 (No. 107) and the Laws of Bangladesh: a Comparative Review (ILO 2009) 6.

[9] See, for example, (i) Central Board of Revenue, Memo C. No. 5(3)-ST/65 dated, 06.04.1967; (ii) National Board of Revenue Memo C. No. 4(6) Kar-5/77/589 dated, 04.09. 1980 (iii) National Board of Revenue, Memo 4(6)/Kar-5/77/28 dated 10.03.1988; (iv) Board of Revenue Notification No. 8/Income Tax/92 dated 17.10.1992; (v) National Board of Revenue Memo No. 6(57) Kar-3/94/114 dated 15.12.1994; and (vi) National Board of Revenue Notification No. 7(Income Tax)/94 as circulated through Memo No. 6(54) Kar-3/94 dated 02.01.1995, cited in Roy (n 8) 8.

[10] Correspondent (n 2).

[11] Uddin I, “Conflict between Government and the Indigenous People of Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” (2013) 16 IOSR Journal Of Humanities And Social Science 97; Schendel WV, “The Invention of the ‘Jummas’: State Formation and Ethnicity in Southeastern Bangladesh” (1992) 26 Modern Asian Studies 97.

[12] Mey, 1981 cited in Chakma B, “The Post-Colonial State and Minorities: Ethnocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh” (2010) 48 Commonwealth & Comparative Politics 283.

[13] Roy RD, “Challenges for Juridical Pluralism and Customary Laws of Indigenous Peoples: The Case of Chittagong Hill Tracts” (2004) 21 Arizona Journal of International & Comparative Law 118.

[14] ibid 116.

[15] See (i) Lewin, 1869 (ii) Serajuddin, 1968 (iii) Chakraborty, 1977 (iv) Van Schendel, 1992 (v) Van Schendel, et al, 2000, cited in Roy (n 8) 9.

[16] See Ishaq (1975:256) cited in Roy (n 8) 9.

[17] পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০- এর বিধি ৪ এবং ৫২ তে বলা আছে “একজন চাকমা, মগ (মারমা) অথবা যেকোন ট্রাইবের সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী”। পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০- তে বাঙ্গালিদেরকে “পাহাড়ের আদিবাসী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত অন্য কোন ঐতিহাসিক দলিলেও বাঙ্গালিদেরকে পাহাড়ের “ট্রাইব” হিসেবে সম্বোধন করা হয়নি।

[18] Uddin (n 11) 97-98.

[19] See generally Barsh RL, “Revision of ILO Convention No. 107” (1987) 81 The American Journal of International Law 756; Swepston L, “A New Step in the International Law on Indigenous and Tribal Peoples: ILO Convention No. 169 of 1989 ”15 Oklahoma City University Law Review 687; “International Labour Standards Regarding Indigenous and Tribal Peoples” (International labour standards regarding indigenous and tribal peoples July 22, 2016) <https://www.ilo.org/global/topics/indigenous-tribal/WCMS_502755/lang–en/index.htm.> accessed May 24, 2019.

[20] See Article 1 of ILO Convention No. 169.

[21] Corntassel J, “Who Is Indigenous? ‘Peoplehood’ and Ethnonationalist Approaches to Rearticulating Indigenous Identity” (2003) 9 Nationalism and Ethnic Politics 75.

[22] See Roy (n 5); Chowdhury (n 6); Uddin (n 11); Chakma (n 12) and Roy (n 14).

[23] See generally Roy (n 13) 113-182.

[24] See Ahmed K, “Defining Indigenous in Bangladesh: International Law in Domestic Context” (2010) 17 International Journal on Minority and Group Rights 54.

[25] ibid 56.

[26] For detailed analysis, see Life Is Not Ours: Land and Human Rights in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh (IWGIA 1991), AN UPDATE (IWGIA 1991), UPDATE 2 (IWGIA 1994), UPDATE 3 (IWGIA 1997), UPDATE 4 (IWGIA 2000); Militarization in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh: the Slow Demise of the Regions Indigenous Peoples (IWGIA, Organising committee CHT campaign and Shimin Gaikou centre 2012); BANGLADESH: UNLAWFUL KILLINGS AND TORTURE IN THE CHITTAGONG HILL TRACTS (Amnesty International Publications 1986); Levene M, The Chittagong Hill Tracts: a Case Study in the Political Economy of Creeping Genocide; Gray RA, “Genocide in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh” (1994) 22 Reference Services Review 59; Arens J, “Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh” [2017] Genocide of Indigenous Peoples 117; Yasmin L, “The Tyranny of the Majority in Bangladesh: The Case of the Chittagong Hill Tracts” (2014) 20 Nationalism and Ethnic Politics 116; Chakma B, “The Post-Colonial State and Minorities: Ethnocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh” (2010) 48 Commonwealth & Comparative Politics 281.

[27] For detailed analysis, see Adnan S, Migration, Land Alienation and Ethnic Conflict: Causes of Poverty in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh (Research & Advisory Services 2004).

[28] ibid 73.

[29] ibid 56, 73.

[30] See U.N. Doc. E/CN.4/Sub.2/1995/24, para 57 cited in Ahmed K, “Defining Indigenous in Bangladesh: International Law in Domestic Context” (2010) 17 International Journal on Minority and Group Rights 50.

[31] Ahmed (n 24) 60.

[32] For detailed analysis, see Mohsin A, The Politics of Nationalism: The Case of the Chittagong Hill Tracts Bangladesh (2nd Ed) (University Press 2000) 49-75.

[33] অনুচ্ছেদ ২৩ক বাংলাদেশের সংবিধানের ২য় ভাগের একটি অনুবিধি (Provision) হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ৭খ সংবিধানের ২য় ভাগে বর্ণিত সকল অনুচ্ছেদসমূহকে স্পষ্টভাবে সংবিধানের অন্যতম মৌলিক কাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং অধিকন্তু এটি  “সংবিধানের মৌলিক কাঠামো… সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে”- উক্ত বাক্যের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর যেকোন সংশোধনীকে স্পষ্টভাবে বাঁধা প্রদান করছে।

[34] বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা আছে, “আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।”

[35] বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(৩)(ক) তে বলা আছে, “এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই- নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।”

[36] বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০- যেটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোর একটি, সেখানে বলা আছে, “মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”

[37] Sampriti Chakma v. Commissioner of Customs & Others (5 BLC, AD, 2000, 29) cited in Roy (n 8) 7.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here