মারমা জ্যোতিষ শাস্ত্রঃ জন্মবার অনুসারে ভবিষৎবাণী

0
540

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ তা উৎকর্ষতার লক্ষ্যে জ্যেতিষ শাস্ত্রের চর্চা আরম্ভ করে সমাজে। এ শাস্ত্র ব্যক্তির সংস্কারে বড় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে এসেছে যুগে যুগে। জ্যোতিষ বিচারে বিভিন্নভাবে একজন ব্যক্তির চরিত্র ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ করা হয়। তারই একটি অন্যতম ভাগ ‘বার’ বিচার। কোন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ বাণী মারমা জ্যোতিষ শাস্ত্রেও প্রচলিত। যা মারমা বর্ণমালায় রচিত। সাধারনত এই শাস্ত্রের আলোকে বৈদ্যগণ গননা করে ব্যক্তির সম্ভ্যাব্য ভবিষ্যৎ বাণী করে থাকেন। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নের বাইরেও বিষয়টি একটি জাতি/জনগোষ্ঠীর লোকজ বিষয় হওয়ায় এর গুরুত্ব কম নয়। অন্যদিকে বংশানুক্রমে চর্চিত এই শাস্ত্র ঐতিহ্যের অন্যতম দিক হওয়ায় এ বিষয়ক আলোচনা ও বৃহৎ পাঠক সমাজের কাছে উপস্থাপন প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা সমাজে বর্তমান সময়েও গুরুত্ব সহকারে এ শাস্ত্রের চর্চা হচ্ছে। মারমা জ্যোতিষ শাস্ত্রের অন্যতম ভাগ ‘জন্মবার’ বিচারে কিছুদিক সংক্ষেপে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এ নিবন্ধের অবতারণা।

রবিবার: রবিবারে জন্মগ্রহণকারী ২২ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহের প্রভাবে নিকট আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ, বিচ্ছেদসহ নানা কাজে ঝামেলার সম্মুক্ষীণ হবে। এ সময় চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, বিবাহ ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করা সম্ভব হবে না। বুধ গ্রহের প্রভাবে ৩০ বছর থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে যে কোন কাজে সফলতার মুখ দেখবে। শনিগ্রহের প্রভাবে ৪৭ থেকে ৫৬ বছর পর্যন্ত ধনক্ষয়, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, সহজনদের সাথে বিচ্ছেদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। এসময় সংসার ভাঙ্গন, অধিক লোকসান, আগুনে ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়া ও দেশ ত্যাগ এ চারটি মহাবিপদের যে কোন একটির সম্মুখীন অনিবার্য। ৫৭ বছর পর থেকে বৃহস্পতি গ্রহের দ্বারা উন্নতি ঘটবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সম্ভাব্যতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক শান্তির জন্য বাড়ির পূর্ব এ ঈশান কোণে পায়খানা, প্রসাবখানা, ময়লা আর্বজনা, গবাদী পশুর পায়খানা রাখা ও ফেলা থেকে এ বারে জন্ম গ্রহণকারীদের বিরত থাকতে হবে;

আ. বাড়ির উত্তর দিকে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে সফলতা বয়ে আসবে;

ই. বায়ু কোনে গবাদী পশুর ঘর বা রাখার ব্যবস্থা করলে পারিবারিক উন্নতি হবে;

ঈ. বাড়ির আশে-পাশে আমলকী গাছ লাগানো বা রাখা নিষেধ। এতে ব্যক্তি ও পরিবারের অমঙ্গল হয়;

সোমবার: ১৬ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত সোমবারে জন্মগ্রহণকারী মঙ্গল গ্রহের প্রভাবে ঝগড়া-বিবাদ ও নানামুখী ঝামেলার সম্মুখীন হবে। এ সময় সে কোন কাজে সহজে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে না। বুধগ্রহের প্রভাবে ২৪ থেকে ৪০ বছর মধ্যে বিভিন্ন কাজে সফলতা অর্জন হবে। ৪১ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত শনিগ্রহের দ্বারা ধনক্ষয়, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, স্বজনদের সাথে বিচ্ছেদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। এসময় সংসার ভাঙ্গন, অধিক লোকসান, আগুনে ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়া ও দেশত্যাগ এ চারটি মহাবিপদের যে কোন একটির সম্মুক্ষীণ অনিবার্য। বৃহস্পতি গ্রহের দ্বারা ৫১ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সম্ভাব্যতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. সোমবারে জন্মগ্রহণকারী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির পূর্ব ও পূর্ব দক্ষিন কোণে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আবর্জনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বাড়ির পাশে পরিবারের মঙ্গলের জন্য আমলকী গাছ লাগানো/রাখা থেকে বিরত থাকতে হয়;

ই. ঈষাণ কোণে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে;

ঈ. ১৮, ২৪, ২৬, ৩২ বছর বয়সে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ১৯, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ৩১ ও ৩৩ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে;

ঊ. ২১, ২৩, ২৫, ২৯, ৩১ ও ৩৩ বছর বয়সে চাকুরি লাভের সম্ভাবনা থাকে;

এ. ১, ৪, ৭, ১০, ১৬, ২৫, ২৮, ৩১, ৩৭, ৪০, ৪৬, ৪৯, ৫৮, ৬১, ৬৪, ৬৭ ও ৭০ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লেখিত বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান, ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

মঙ্গলবার: মঙ্গলবারে জন্মগ্রহণকারী ২৬ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত শনি গ্রহের দ্বারা ধনক্ষয়, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, সহজনদের সাথে বিচ্ছেদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হবে। এসময় সংসার ভাঙ্গন, অধিক লোকসান, আগুনে ঘর-বাড়ি পুরে যাওয়া ও দেশত্যাগ এ চারটি মহাবিপদের যে কোন একটির সম্মুক্ষীণ অনিবার্য। ৩৬ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাবে বিবিধ আয় বৃদ্ধি পাবে। ৫৫ থেকে ৬৬ বছর পর্যন্ত রাহু গ্রহের দ্বারা শনি গ্রহের ন্যায় অনুরূপ প্রভাব পড়বে। ৬৭ বছর পর থেকে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে এবং সাংসারিক জীবনে শান্তি বিরাজ করবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সম্ভ্যাবতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির পূর্ব দক্ষিন কোণ ও দক্ষিন দিকে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আবর্জনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বাড়ির পাশে নিজ ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য নারিকেল গাছে লাগোনো/রাখা থেকে বিরত থাকতে হয়;

ই. পূর্বদিকে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। ঈষাণ কোণে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগী রাখলে সুফল বয়ে আসে;

ঈ. ১৭, ২৩, ২৫ বছর বয়সে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ১৮, ২২, ২৪, ২৬, ৩০ ও ৩২ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে;

. ২০, ২২, ২৪, ২৮, ৩০, ও ৩২ বছর বয়সে চাকুরি লাভের সম্ভাবনা থাকে;

এ. ৩, ৬, ৯, ১২, ১৮, ২১, ২৪, ৩০, ৩৩, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৪৮, ৫১, ৫৪, ৫৭, ৬০, ৬৩, ৬৬, ৬৯, ৭২ ও ৭৫ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লিখিত বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান, ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

বুধবার: ১৮ থেকে ২৭ বছর পর্যন্ত বুধবারে জন্মগ্রহণকারী শনি গ্রহের প্রভাবে ঝগড়া-বিবাদ ও নানামুখী ঝামেলার সম্মুক্ষীন হয়। এ সময় সে কোন কাজে সহজে সফলতা অর্জন করতে পারবে না। ২৮ থেকে ৪৬ বছর পর্যন্ত বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাবে মান-সম্মান বৃদ্ধি, বিভিন্ন কাজে সফলতা অর্জন, ধন-সম্পত্তি বৃদ্ধি হবে। ৪৭ থেকে ৫৮ বছর পর্যন্ত রাহু গ্রহের দ্বারা শনিগ্রহের  অনুরুপ ধনক্ষয়, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, সহজনদের সাথে বিচ্ছেদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানারকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করতে হবে। শুক্র গ্রহের দ্বারা ৫৮ বছরের পর সর্বক্ষেত্রে সফলতা ও আয়-উন্নতি লাভ করবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ন উপদেশ, সম্ভ্যাবতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আবর্জনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বাড়ির পূর্ব দিকে নিজ ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য সেগুন গাছ লাগানো/রাখা থেকে বিরত থাকতে হয়;

ই. অগ্নিকোণে কোণে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পূর্বদিকে গৃহপালিত পশু রাখা ভালো;

ঈ. ১৬, ২২, ২৪, ও ৩০ বছর বয়সে প্রমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ১৭, ২১, ২৩, ২৫, ২৯ ও ৩১ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে;

ঊ. ১৯, ২১, ২৩, ২৭, ২৯, ও ৩১ বছর বয়সে চাকুরি লাভের সম্ভাবনা থাকে;

এ. ২, ৫, ৮, ১১, ১৪, ২৩, ৩৫, ৩৮, ৪৪, ৫৬, ৬৫, ৭১, ও ৭৭ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লিখিত বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আ্শংকা থাকে।

বৃহস্পতিবার: বৃহস্পতিবারে জন্মগ্রহণকারী ২০ থেকে ৩১ বছর পর্যন্ত রাহু গ্রহের প্রভাবে কোন কাজে সহজে সফলতা অর্জন করতে পারবে না। এ সময় বিভিন্ন রকম ঝামেলা নিত্য সঙ্গী হবে। শুক্র গ্রহের প্রভাবে ৩২ থেকে ৫২ বছর পর্যন্ত যে কোন কাজে সফলতা অর্জন করতে পারবে। এর মধ্যে জনপ্রিয়তা, সম্পত্তি অর্জন, মান-সম্মান বৃদ্ধি ঘটবে। ৫৩ থেকে ৫৮ বছর পর্যন্ত রবি গ্রহের দ্বারা নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি, মান-সম্মান হ্রাস, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, সহজনদের সাথে বিচ্ছিদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। ৫৮ বছর থেকে সব সমস্যা সমাধান হয়ে সর্বক্ষেত্রে সফলতা আসবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ন উপদেশ, সম্ভ্যাবতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. এবারে জন্মগ্রহণকারী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির পশ্চিম দিক ও পশ্চিম উত্তর কোনে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আর্বজনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বাড়ির পাশে মঙ্গলের জন্য ভেরেন্দা গাছে লাগানো/রাখা থেকে বিরত থাকতে হয়;

ই. নৈস্বত কোণে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে; দক্ষিন দিকে গৃহপালিত পশুর থাকার ব্যবস্থা করা উত্তম;

ঈ. ২০, ২২ ও ২৮ বছর বয়সে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ১৯, ২১, ২৩, ২৭, ২৯ ও ৩১ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লিখিত বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান, ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

শুক্রবার: শুক্রবারে জন্মগ্রহণকারী ২২ থেকে ২৭ বছর পর্যন্ত রবি গ্রহের প্রভাবে কোন কাজে সহজে সফলতা অর্জন করতে পারবে না। এ সময় বিভিন্ন রকম ঝামেলা নিত্য সঙ্গী হবে, রোগ-ব্যাধি, মান-সম্মান হ্রাস, শত্রু বৃদ্ধি, মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি, সহজনদের সাথে বিচ্ছেদ, বিভিন্ন কাজে বাঁধা ব্যর্থতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। সোমগ্রহের প্রভাবে ২৮ থেকে ৪২ বছর পর্যন্ত যে কোন কাজে সফলতা অর্জন করতে পারবে। এর মধ্যে জনপ্রিয়তা, সম্পত্তি অর্জন, মান-সম্মান, জনসংযোগ বৃদ্ধি ঘটবে। ৪৩ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহের দ্বারা নানান ধরনের পারিবারিক ঝামেলা, বিচার-আচার, অধিক লোকসান, ঝগড়া-বিবাদ, সকল ধরনের কাজে বাঁধার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। বুধগ্রহের দ্বারা  ৫১ বছর থেকে সব সমস্যা সমাধান হয়ে সর্বক্ষেত্রে সফলতা আসবে।

এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সম্ভ্যাবতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. শুক্রবারে জন্মগ্রহণকারী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির উত্তর দিক ও উত্তর পূর্ব কোণে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আবর্জনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বায়ু কোণে টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে; পশ্চিম দিকে গৃহপালিত পশুর থাকার ব্যবস্থা করা উত্তম;

ই. ১৮, ২০, ২৬ ও ২৮ বছর বয়সে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

ঈ. ১৯, ২১, ২৫, ২৭, ২৯ ও ৩১ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ২৩, ২৫, ২৭ ও ৩১ বছর বয়সে চাকুরি লাভের সম্ভাবনা থাকে;

ঊ. ৩, ৬, ৯, ১২, ১৮, ২১, ২৪, ৩০, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৬৩ ও ৭২ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লিখিত বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান, ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

শনিবার: ২০ থেকে ৩১ বছর পর্যন্ত শনিবারে জন্মগ্রহনকারী রাহু গ্রহের প্রভাবে ধনক্ষয়, ঝগড়া-বিবাধ বৃদ্ধি, নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবে। শুক্র গ্রহের প্রভাবে ৪২ থেকে ৬২ বছর পর্যন্ত যে কোন কাজে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে না। এর মধ্যে জনপ্রিয়তা, সম্পত্তি অর্জন, মান-সম্মান বৃদ্ধি ঘটবে। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সম্ভ্যাবতা ও করণীয় বিষয় থাকে যা উক্ত বারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে:

অ. শনিবারে জন্মগ্রহণকারী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য বাড়ির দক্ষিন পশ্চিম কোণ ও পশ্চিম দিকে পায়খানা, প্রস্রাবখানা, ময়লা আবর্জনা, গৃহপালিত পশুর পায়খানা রাখা/ফেলা নিষেধ;

আ. বাড়ির পাশে মঙ্গলের জন্য আমলকী গাছে লাগানো/রাখা থেকে বিরত থাকতে হয়;

ই. বাড়ির দক্ষিন টিউবওয়েল, পুকুর ও বাগান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে; দক্ষিন দিকে গৃহপালিত পশুর থাকার ব্যবস্থা করা উত্তম;

ঈ. ১৫, ১৯, ২১ ও ২৩ বছর বয়সে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে;

উ. ২০, ২২, ২৪, ২৮, ৩০ ও ৩২ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে;

ঊ. ২০, ২২, ২৬, ২৮ ও ৩০ বছর বয়সে চাকুরি লাভের সম্ভাবনা থাকে;

এ. ৩, ৬, ৯, ১৮, ২১, ২৪, ৩০, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৮, ৫৭, ৬৩, ৬৬ ও ৭২ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর উল্লিখিত বয়সে শারীরিকভাবে  অসুস্থ না হলেও মূল্যবান বস্তু চুরি, বড় ধরনের লোকসান, ঝগড়া কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে ধর্ম ও দর্শনের সংশ্লেষণ আছে। তাই বর্ণিত ঘটনাগুলোর মধ্যে বহু যুক্তি, মূল্যবোধ, সর্তকতা, কার্যকারণ ও উপদেশের কথা রয়েছে। এ ধারণা বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের আলোকে আরও বেশি প্রযোজ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার মাঝে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। বিচ্ছিন্নতার দেওয়াল সরে যাচ্ছে ক্রমাগত। আধুনিকতার প্রভাবে তাঁদের জীবনধারা থেকে নানা ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সমাজে কোন সতর্কতা বা দুঃখবোধও তৈরি হয় না; হলেও তা অসংগঠিত। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রয়োজনীয় উপাদান মূল্য হারায়; ছেঁড়া কাগজ, ঝরাপাতা কিংবা ময়লাটে পালকের মত এগুলোকে ঝাট দেওয়া হয়। মারমাদের জীবন থেকে সমাজ থেকেও স্বাভাবিকভাবে অনেক কিছুই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। কিন্তু এ জীবন-সমাজে জ্যোতিষ শাস্ত্র মেরুদন্ড সোজা করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এখানে শৈল্পিকতা ও সৌন্দর্য আছে। মারমাদের এই জ্যোতিষ শাস্ত্র মারমা বর্ণমালায় সংরক্ষিত। অন্যদিকে বর্তমান মারমারা নিজস্ব বর্নমালা শিক্ষা থেকে ক্রমশ সরে যাওয়ায় এর অনুরস গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ক্রমাগত; বৃহৎ পাঠক সমাজতো অবশ্যই। তাই বর্তমান এর অনুবাদও জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্র হিসেবে টিকে থাকার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ন উপাদান হিসেবে পরিগণিত হবে এ শাস্ত্র।

তথ্যসূত্র:

*ভবিষৎ বাণী নির্দেশিকা, অনুবাদ: মংচা মারমা (মংঞো), ১৯৯৬, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

* থৈইহ্লা অং বৈদ্য, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

* অংগ্যজাই বৈদ্য, রামগড়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।


লেখক: চিংলামং চৌধুরী, প্রাবন্ধিক, খাগড়াছড়ি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here