icon

বিজু ও পাহাড়ি ছড়ার জলের রং

Jumjournal

Published on Dec 4th, 2019 icon 61

দন্ডটি কার্যকর করার ভার শেষ পর্যন্ত তার ঘাড়েই এসে পড়লো! দিশেহারা হয়ে যায় বিজু। এই নামটি নাকি তার কাকাই দিয়েছিলেন আদর করে।

উৎসবের নামে নাম। বিজু উৎসবের সময়ে যখন পাড়ার সকলে আনন্দে মাতোয়ারা তখন বিজুর মা প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। ফুল বিজুর রাতে জন্ম হয় বিজুর।

পরে স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষিত মাষ্টার বাবু তাঁর দায়িত্ব-কর্তব্যের অংশ হিসেবে নতুন ছাত্রের একটি ‘শালীন’ নাম ঠিক করে দিয়েছিলেন বিজয় কৃষ্ণ।

বিজুর কাকার এতে মৃদু আপত্তি থাকলেও কিছু বলতে পারেন নি। কারণ সব মাষ্টার একই কাজ করে থাকেন।

এটি তাঁদের ‘ডিউটি’র মধ্যে পড়ে। অনেক মাষ্টার মশাই আবার বিচিত্র সব নাম দেন, যার নেই কোন বাংলা অর্থ- নেই আদিবাসী সাংস্কৃতিক স্পর্শ।

বিজুর কাকার স্কুলের সহপাঠী একজনের নাম ছিল হলংরাই। মাষ্টার মশাই এই নামটির শালীন রূপ দিয়েছেন হলেন্দ্র, যার কোন অর্থ কোন ভাষায় নেই।

বিজুর কাকা বুঝতে পারেন নি শিশুর নামটি নিজের ভাষায় হলে সমস্যা কি! একই কায়দায় বিজুর সার্টিফিকেট নাম এখন বিজয় কৃষ্ণ। সে যাই হোক। বিজয় তবুও সুন্দর একটি অর্থবোধক নাম হয়েছে।

কাকা তাই মৃদু আপত্তিকে চাপা দিয়ে রেখেছিলেন হয়তো বা। স্বপ্নের মধ্যে যেন কেটে যায় বিজুর শৈশব।

ঝাঁকে ঝাঁকে ঘিলা- লাটিম খেলা, দলে দলে স্কুলে যাওয়া, স্কুলের হাফ ছুটিতে গুংগ্লা ছড়ার স্বচ্ছ জলে উদোম গায়ে ঝাঁপ দেওয়া।

ক্লাস ফোর পর্যন্ত ক্লাসের ছেলেবন্ধু- মেয়েবন্ধু সকলে মিলে তারা উদোম গায়ে স্নান করেছে। অনেক মেয়েবন্ধু অবশ্য ক্লাস থ্রি’র পর আর উদোম গায়ে স্নান করেনি।

বাড়তি কাপড় নিয়েই তারা ছড়ায় যেতো। বিজুও ক্লাস ফোরের পর আর উদোম গায়ে স্নান করেনি। বিশেষ করে মেয়েবন্ধুরা থাকলে তার লজ্জা লাগতে শুরু করে।

স্কুল ছুটির পর গ্রামের পাশের জঙ্গলে ছুটে যেতো কিশোর বাহিনী। কেউ পাখির ডিম সংগ্রহ করতো, কেউ পাখি শিকার করতো, কেউ বা বুনো ফুল-ফল সংগ্রহ করতো।

কে যে কী খেয়ালে চলতো বোঝা মুশকিল ছিল। জঙ্গলে সবুজ রঙের এক ধরণের ছোট দানার মতো দেখতে গমের দানার প্রায় দ্বিগুণের মতো এক ধরণের ফল পাওয়া যেতো।

কাঁচা বাঁশের ছোট নলে এই ফলটি টাইট করে ঢুকিয়ে পেছন দিয়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গুঁটো দিলে খই ফোটার চেয়ে একটু বেশি শব্দের এক ধরণের আওয়াজ হয়।

তাই এটি তখন কিশোর বাহিনীর খেলার অস্ত্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই ‘আসার’  বিচির গুলি দিয়ে বিজুরা কত্ত ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ খেলেছে!

কখনো সাজতো আর্মি, কখনো বা শান্তিবাহিনী। তুমুল যুদ্ধ বাঁধতো দু’দলের মধ্যে। গাছের আড়ালে লুকিয়ে ঝোপের মাঝে গা-ঢাকা দিয়ে যুদ্ধ করতো কিশোর যোদ্ধারা।

যার গায়ে আসার গুলি লাগতো, তাকে মৃত ঘোষণা করা হতো অথবা সে নিজেই যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতো। কী সুন্দর নিয়মে বাঁধা জীবন।

কেউ সে নিয়ম যেমন বাতলে দেয়নি, তেমনি কেউই সে নিয়ম লংঘনও করেনি। হেরে যাওয়ার পরেও যুদ্ধ করার জন্য গোঁ ধরেনি কেউ।

– অ্যাই বিজু ঘুমিয়েছ নাকি?
পাছায় বুটের লাত্থি অনুভব করে বিজু। হকচকিয়ে পিঠ সোজা করে আওয়াজ দেয়-
– না স্যার! ঘুমাইনি।

জবারঙা চোখ দু’টো তুলে আশাপাশ তাকিয়ে দেখে সে। আন্দাজ করার চেষ্টা করে সে এখানে কেন! এতক্ষন কি সে ঘোরের মধ্যে ছিল?

নাকি স্বপ্ন দেখছিল? কোলের উপর আড়াআড়িভাবে রাখা একে ৪৭-এর অস্তিত্ব অনুভব করে সে। চকচকে অস্ত্র!

এর নিয়ন্ত্রণ আপাতত তার হাতে মনে হলেও বিজুর প্রায়ই মনে হয়, এই যন্ত্রটাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

হাই কমান্ড থেকে বলা হয়েছিল এটি আগের প্রজন্মের বিপ্লবীদের পরিত্যক্ত বাংকার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া অস্ত্র। তার কেমন যেন সন্দেহ লাগে!

হ্যাঁ, এখন সে পাহারায় আছে। তার কাকাকে ধরে আনা হয়েছে ‘দালালি’ করার দায়ে। বিচার সভায় তাঁর সাজা নির্ধারণ হয়ে গেছে।

আর সাজা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজুকে। তাদের কমান্ডার হয়তো এখনো জানেন না, আসামী বিজুর কাকা।

কে জানে- হয়তো বা জেনেই এই দায়িত্ব দিয়েছেন! হ্যাঁ, এই সেই কাকা, যিনি বিজুকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু কাকার চলাফেরা দেখে বিজুর বরং তাকেই অনুসরণ করার ইচ্ছে করতো। তাই সে সংকল্প করে সে ‘বিপ্লবী’ই হবে। তার কাকার মতো।

পাহাড়ের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন কাকা আগের প্রজন্মের বিপ্লবীদের ছাত্র সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নামকরা একজন নেতা ছিলেন।

কেন্দ্রের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তো, বিধায় তৃণমূলের আসল ঝক্কি-ঝামেলা কাকার উপর দিয়েই যেতো।

পাড়ার মিলিটারি ক্যাম্পের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিপ্লবীদের সাথে দেখা করা, তাদের এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করা, গণলাইনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা নানা কাজ করতেন কাকা।

মাঝে মধ্যে বিজুদের বাড়িতেও মিটিং হতো। চুল লম্বা লম্বা লোকজন মাথায় কাপড় বেঁধে হাতে বড়ো বড়ো অস্ত্র নিয়ে মিটিঙে আসতো। মিটিঙের মাঝেই কাকার কোলে লুটোপুটি খেতো বিজু।

অতিথিদের জন্য দেওয়া বিস্কুট-নাস্তা ইত্যাদির প্রথম ভাগটি বিজুই পেতো। কাকা খুব ভালো চুল কাটতেন। বিজু ও তার বন্ধুদের ডেকে নিয়ে তিনি চুল কেটে দিতেন। শহর থেকে আসলে নানা খাবার নিয়ে আসতেন।

– কাকার নামে কি অভিযোগ তোলা হয়েছে? অভিযোগটি কতখানি সত্যি তা যাচাই করতে হবে। বিড় বিড় করে বিজু।

সহযোদ্ধা রাইদাং উঠে আসে তার পাশে।
– বিড় বিড় করে কি বলছো বিজু?
বিজু সম্বিত ফিরে পায়। বলে-
– না না কিছু বলিনি।

রাইদাং তার খুব বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। একে অপরের জীবনের সব সুখ দুঃখের সব কথা তারা জানে।

কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে। ঘাসের উপর তাই শীতের শিশিরের মতো এখনও লেগে আছে বৃষ্টি ফোঁটা।

ছড়ার তীরে আকাশ-ছোঁয়া গর্জন গাছ থেকে লতায় ঝুলে আছে লম্বা ঘিলা ফল। তার সমান্তরালে আরেক ধরণের লতা ঝুলছে। লতাটি দেখতে ঘিলা ফলের মতোই।

কিন্তু আরো বেশি আঁকা-বাঁকা এবং নির্দ্দিষ্ট কিছু দূরত্বে খাঁজ কাটা। দূর থেকে দেখে মনে হবে যত্ন করে কোন জুমিয়ার নিপুন হাতে বানানো মই। তাই বিজুরা ছোটকালে এই লতার নাম দিয়েছে ‘কাকের মই’।

  এত পাখি থাকতে কাকের হলো কেন- তার কোন ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে। অনেক দূরে কালিত্র পাহাড়টি দেখা যাচ্ছে।

কালিত্র পাহাড়, তার উপর দিয়ে ডুবন্ত সূর্যের লাল আভা, আকাশসমান গাছগাছালি আর আকাশে হালকা মেঘের ছুটোছুটি সব মিলিয়ে শিল্পীর আঁকা চিত্রপটের মতো আধাজাগতিক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।

সূর্যের আভাটা আজ একটু বেশিই লাল রং ছড়িয়েছে মনে হচ্ছে বিজুর কাছে। আর ঘন্টা দুয়েক পরই ডুবে যাবে সূর্যদেব, তার সাথে একটি প্রিয় প্রাণ।

ছড়ার উজানে দূরে কোথাও একাকি এক হরিণী ডেকে চলেছে। কালিত্র পাহাড়ের পথ ধরে এক ঝাঁক জুম ফেরত গ্রামবাসী ছড়া পার হয়ে গ্রামের দিকে যাচ্ছে।

কমান্ডার অংসি বাবু তাঁর গানম্যানদের সাথে নিয়ে পাড়ার দিকে চলে গেছেন অনেকক্ষণ হলো। কারবারির বাড়িতে তিনি মিটিং করবেন।

রাতের জন্য ৩০ জনের খাবার রান্না করার জন্য বলা হবে পাড়াবাসীদের। ভোর হওয়ার আগেই তাদের কাজ শেষ করে অংসি বাবুর বাহিনী দক্ষিণের দিকে চলে যাবে।

তাদের গুলি ও রসদ বহনের জন্য পাড়ার যুবসমাজের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এই গুলি আর রসদ বহনকারী যুবকদের মধ্যেই কেউ কেউ আর ফিরবে না।

বিজুরা এখন যেখানে আছে তার ঠিক ৫০ গজের মতো উপরে ছড়ার উজানে বিভিন্ন দিক থেকে এসে চারটি গ্রামীণ রাস্তা মিলিত হয়েছে। রাস্তা বললে ভুল হবে।

পায়ে হাঁটার পথ। ছড়ার দু’টো শাখা যেখানে এসে মিলিত হয়েছে, তার কাছেই এসে মিলিত হয় পথগুলো। প্রকৃতির কি অপূর্ব সৃষ্টি দেখুন!

কেউ ফরমান জারি করে বলে দেয়নি, হয়নি কোন সংলাপ-চুক্তি।

এক একটা পথের আকার, ব্যবহার, দূরত্ব ও সীমা এক এক ধরণের হলেও চারদিক থেকে চারটি পথ প্রাকৃতিকভাবে এমন এক জায়গায় এসে মিলিত হয়েছে, যেখানটায় ছড়ার পানিটা একটু গভীর এবং ছড়ার পারটা একটু প্রশস্ত।

প্রশস্ত ছড়ার পারে বসে ক্লান্ত শরীরে চারপথের সব পথিক কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেয়। প্রাকৃতিক বাতাসে শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে পথিক ডুব দেয় ছড়ার স্বচ্ছ হিমজলে।

তারপর ফুরফুরে মেজাজে নতুন উদ্যমে নতুন শক্তি নিয়ে আবারও রওনা দেয় নিজ নিজ গন্তব্য পথের দিকে। এই চারটি পায়ে হাঁটা পথের মধ্যে একটি এসেছে পাড়ার দিক থেকে।

দ্বিতীয়টি এসেছে বাজারের দিক থেকে। একটি খাড়া পথ মাড়িয়ে একটুখানি ছড়ার ভাটির দিকে নেমে আবার উজানের দিকে উঠে আসতে হয়।

তারপর এই মিলনক্ষেত্রটা। তৃতীয় রাস্তা এসেছে কালিত্র পাহাড়ের দিক থেকে। এই পথটি সরাসরি কালিত্র পাহাড় থেকে নেমে ক্রমে নিচে নেমে ছড়ার সেই মিলনক্ষেত্রে এসে পড়েছে।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল লম্বা এক অজগর সাপ ছড়ায় মুখ ডুবিয়ে পানি খাচ্ছে। চতুর্থ পথটি এসেছে ছড়ার উজানের দিক থেকে।

আগে এটিই গ্রামবাসীদের বাজারে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। এটি এখন বিকল্প পথ।

রাস্তা সংক্ষিপ্ত করার জন্য গ্রামবাসীরা এখনও এই পথটি ব্যবহার করে। কিন্তু ছড়া বেয়েই চলতে হয় বিধায় বর্ষাকালে এই পথটি চলাচলের উপযোগি কম থাকে।

কিছুক্ষণ পরপর বাজার থেকে ফেরা মানুষ, জুম থেকে ফেরা জুমিয়া কিংবা ছড়ায় মাছ খুঁজতে যাওয়া নানাবয়সী মানুষের গলার আওয়াজ আর নানা আলাপন স্পষ্ট শোনা যায়।

কোন দলের আলোচনার বিষয় বাজার দর, কোন দলের আবার চলমান রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, কোন দলের আলোচনা হয় দূর কোন গ্রামে নিমন্ত্রণ খেতে যাওয়া- না যাওয়া, কোন দলের আবার রোমান্টিক নানা প্রসঙ্গ।

বিশেষ করে জুম ফেরত তরুণ-তরুণীদের মাঝে যে আলাপগুলো হয়, তার অধিকাংশ সময়ে হয়তো তারা সবার সামনে বলতে পারে না এমন বিষয়ই বেশি আলোচনা করে।

কে কার সাথে কোথায় দেখা করেছে, কোন তরুণী কার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত, কোন তরুণ কোন প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে খুন করতে পারবে এবং কোন তরুণ কোন তরুণীকে না পেলে জঙ্গলে চলে যাবে বিপ্লবীদের সাথে ইত্যাকার বিষয় তাদের আলোচনায় স্থান পায়।

বিজু হঠাৎ শঙ্কিত মনে নিজের কথা ভাবে- আমি কি শেষের জনের মতো কিছু করেছি!

বিজু একবার ভাবে রাইদাং-এর বুকে ছোরা বসিয়ে দিয়ে কাকাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে শহরের দিকে। একবার কালিত্র পাহাড়টা পার হতে পারলে আর কেউ ধরতে পারবে না তাদের।

তারপর সোজা গুংগ্লা ছড়ার ভাটি দিয়ে নেমে রাইতৈসা পাড়ার পাশ দিয়ে বিরাশি মুড়াটা পার হতে পারলেই পৌঁছে যাবে মাইনি নদীর তীরে।

নদী পার হলেই সোজা শহরের রাস্তা। সন্ধ্যায়ও অনেক চাঁদের গাড়ি এখন আসা-যাওয়া করে। একটা ধরতে পারলেই খেল খতম।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। পশ্চিম আকাশের শেষ সীমানায় এখনও জীবনের শেষ আশার আলোর মতো রঙিন সূর্যের আভা আটকে আছে।

হঠাৎ ছড়ার উজানের দিক থেকে একটি হুতুম পেঁচা ডেকে ওঠে। বিজুদের সামাজিক বিশ্বাস অনুসারে সূর্য ডুবার প্রাক্কালে হুতুম পেঁচার ডেকে ওঠা আসন্ন অমঙ্গলের প্রকাশ।

এক দুই তিন চার পাঁচ। পাঁচবার ডাকে। ওহ তাহলে এই ব্যাপার! হে ঈশ্বর, এটি যাতে প্রাকৃতিক কাকতাল হয়!

তার মিনিট আড়াই পরে কালিত্র পাহাড়ের দিক থেকে একটি বুনো কাঠবিড়ালির ডাক শোনা যায়। এক দুই তিন চার পাঁচবার। না!

মুছড়ে পড়ে বিজু। হ্যাঁ এটি প্রাকৃতিক নয়। একে ৪৭-এর উপর রাখা তার বাম হাতটা শক্ত হয়ে ওঠে।

অন্য হাতটি কোমড়ে রাখা ছোরাটির উপর। পাড়ায় ঢোকার রাস্তার দিক থেকে একটি শিয়াল ডেকে ওঠে, তারপর তার সাথে আরো কয়েকটি।

গুণে গুণে পাঁচবার হুক্কা হুয়া- হুক্কা হুয়া- হুক্কা হুয়া- হুক্কা হুয়া- হুক্কা হুয়া করে। বিজুর কয়েক হাত সামনে ঝুঁকে বসে পাথরের উপর কার যেন এঁকে যাওয়া পুরনো ছকের উপর একা একা ‘ষোল গুট্টি’ খেলছিল রাইদাং।

তার ডাকার কথা ল্যাজ-কাটা বানরের ডাক। বানরের আওয়াজ তুলে রাইদাং ডেকে ওঠে ‘খুক খুক খুক’। তিনবার !?! তিনবার !?!

হ্যাঁ তিনবারই। আওয়াজ উঠে গররর্র—। বিজুর পায়ের কাছে পাহাড়ি ছড়ার স্বচ্ছ জলের রঙ বদলে যায়।


লেখকঃ মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা

Share:
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - [email protected] এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *