নির্বাসন থেকে ফিরে দেখাঃ এক চাকমা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা (পর্ব ০১)

0
1097

এই লেখাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের “ ঐতিহ্যগত জীবনধারা”-র শেষোক্ত দিনগুলোর বর্ণনা রয়েছে। লেখাটিতে বর্ণিত আছে এক চাকমার শৈশব এবং যৌবন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তার অন্তর্বেদনা, আতঙ্ক থেকে বাঁচার জন্য তার পালিয়ে বেড়ানো এবং শেষে ভিনদেশে তার পাড়ি জমানোর গল্প।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আমার শৈশব:

আমার পিতার দিককার প্রপিতামহরা (Great Grandfathers) ছিলেন দীঘিনালার নিবাসী[1]। তাঁরা ছিলেন লারমা গোজা এবং চার্ব্য গুত্তির লোক।

তাঁদের গ্রাম ছিল লারমা গোজার আবাসস্থল[2]। আমার মায়ের দিককার প্রপিতামহ দেওয়ানদের[3] অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাঁর ভাইকে নিয়ে উত্তরের দিকে চলে যান এবং জঙ্গল পরিষ্কার করার পর সেখানে একটি গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন[4]

আমার পিতার দিককার প্রপিতামহ তাঁর গ্রামেই থেকে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁকে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ ছাড়া দেওয়ানদের অত্যচার সহ্য করে যেতে হয়।

দেওয়ানরা সাধারণ লোকদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভৃত্য-চাকরের কাজ করাতো, বিনা পারিশ্রমিকে শষ্যক্ষেতে কাজ, কাঠ কাটার কাজ, পানি আনার কাজ, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কাজ- এসব কাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল[5]

চাকমাদের মধ্যে কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিকের রেওয়াজ ছিল না। তারা বিনা পারিশ্রমিকে একে অপরের ঘরবাড়ি বানানোর কাজে, জুম কাটার কাজে, ফসল বুনা এবং তোলার ইত্যাদি কাজে সাহায্য করত এবং এসব করা হতো পারষ্পরিক সহযোগিতা এবং সমান শ্রদ্ধাশীলতার ভিত্তিতে।

কিন্তু দেওয়ানরা কখনও সাধারণ চাকমাদের জন্য কোন কাজ করত না। তারা পারষ্পরিক সহভাগিতার ঐতিহ্যগত ধারণাকে উপেক্ষা করত (যে ব্যক্তি ধনসম্পত্তি পুঁজিত করে কিন্তু কারো সাথে ভাগাভাগি করে না, তাকে আমরা বলি ‘হুলি্’ , একজন কৃপণ ) এবং সাধারণ চাকমাদের গ্রামে বাস করে তারা নিজেদেরকে সাধারণ চাকমাদের কর্তা হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

ছায়াচিত্রে একটি চাকমা গ্রাম, Photo Courtesy: Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

দেওয়ানরা সাধারণ চাকমাদের আবেগ-অনুভূতিকে কখনও তোয়াক্কা করত না। অনেক সাধারণ চাকমা দেওয়ানদের গ্রাম থেকে পালিয়ে দেওয়ানদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিজস্ব স্বাধীন গ্রাম গড়ে তুলেছিল।

এই ধরণের কাজ চাকমা সমাজে প্রোথিত সাম্যবাদী (Egalitarian)  ধারণার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার উপর জোর দেওয়া ছিল চাকমা সমাজের ক্রমাধিকারতন্ত্রকে টপকানোর আরেক মাধ্যম।

দেওয়ানদের অত্যাচার ছিল বাংলার জমিদারদের অত্যাচারের মতো। সাধারণ চাকমারা দেওয়ানদের সামনে ভালো জামাকাপড় কিংবা জুতা পরতে পারতো না।

সামাজিক এবং ধর্মীয় সব অনুষ্ঠানে সাধারণ চাকমাদের বসতে হত অধস্তন জায়গায় এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধাগুলো ছিল দেওয়ানদের জন্য বরাদ্দকৃত।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সাধারণ চাকমারা টিনের চাল কিংবা ইটের তৈরি বাড়িঘর বানাতে পারত না। ভালো বাড়িঘর তোলার জন্য এবং ছেলেমেয়েদের ভালো শিক্ষাদানের জন্য অনুমতি লাগত।

সাধারণ চাকমা ছেলেদের জন্য শিক্ষা ছিল সীমাবদ্ধ। দেওয়ান এবং চাকমার মধ্যে বিয়ে হতে পারত না। দেওয়ানদের অত্যাচারের তালিকার নজির বেশ লম্বা, উল্লেখিত অত্যাচারগুলো তার কিছু উদাহরণ মাত্র।

এটি বলা চলে, সময়ের পরিক্রমায় দেওয়ানদের অত্যাচার এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে এখন একজন সাধারণ চাকমা কোন দেওয়ানকে বিয়ে করতে নাকচ করবে।

আমার পিতার দিককার প্রপিতামহ তার এক ছেলেকে রাঙ্গামাটির স্কুলে পাঠান। তিনি ছিলেন প্রবল আগ্রহপূর্ণ এবং পরিশ্রমী বালক, তিনি সাফল্যের সাথে সব পরীক্ষায় পাস করে হয়ে ওঠেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করা চাকমাদের প্রথম একজন।

সুশিক্ষিত ছিলেন বলে তিনি সিভিল সার্ভিসে চাকরি পান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তারের জন্য অবদান রাখেন। চাকমাদের শিক্ষিত করে তোলা ছিল ওনার সারা জীবনের স্বপ্ন, তারা যেন দেওয়ানদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে পারে।

দেওয়ানদের অহংকার ভাঙার জন্য তিনি গ্রামের এক দেওয়ানকে বিয়ে করেন এবং যতটুকু সম্ভব তার স্ত্রীর আত্মীয়দের সাথে কম সম্পর্ক বজায় রাখেন। তিনি তার বউকে বাকি সব চাকমা বউদের মতো নদী থেকে পানি আনার কাজ, জ্বালানি কাঠ  সংগ্রহের কাজ ইত্যাদি করাতেন।

সাঙ্গু নদী, ডিসেম্বর ১৯৯০, Photo Courtesy: Jenneke Arens

উনাকে চাকমাদের মধ্যে শিক্ষার অগ্রদূত মানা হত। অনেকেই বলেন যে উনিই নাকি সেই লোক যিনি দেওয়ানদের অহংকার ভেঙে বাধ্য করেছেন সাধারণ চাকমাদের মত সমান হওয়ার জন্য।

উনার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুল এবং তিনি সেখানে চাকমা শিক্ষক নিয়োগ দেন। চাকমা ছেলেমেয়েদের শিক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য তিনি গ্রামের পর গ্রাম সাইকেলে করে এবং অনেকসময় পায়ে হেঁটে ঘু্রে বেড়াতেন।

উনি ক্লান্তহীনভাবে পরিশ্রম করেছেন যতক্ষণ না উনি টি.বি. রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং উনার যাত্রা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

আমার পিতা যেসময় তাঁর পিতাকে হারান তখন তিনি ১০-১২ বছরের মাঝামাঝি বয়সের বালক ছিলেন। তিনি তার লেখাপড়া অনেক কষ্টে চালিয়ে নিয়ে যান এবং কলকাতা মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হন।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে তাঁকে মেডিকেল স্কুলে পড়া ছাড়তে হয়। পরে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষিবাহিনীতে যোগ দান করেন এবং লেফটেন্যান্ট পদপ্রাপ্ত হন। কয়েক বছর পর তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরি করা শুরু করেন।

আমার মা-ও লারমা গোজা থেকে। তিনি ৮ সন্তানের পরিবারের দ্বিতীয়তম মেয়ে। আমার ছোট মামা ব্যতীত বাকি সব মামারা ছিলেন কৃষক।

শৈশবকাল:

আমার মায়ের আত্মীয়দের বসবাস ছিল মহালছড়ি এলাকায়, সেখানেই আমার জন্ম। গ্রামের লোকেরা ছিল সমতল ভূমির চাষী, তন্মধ্যে কয়েকজন ছিল জুমিয়া (জুমচাষী)। সেখানে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দিনমজুরও ছিলেন।

পঞ্চাশের দশকে গ্রামের লোকসংখ্যা বড়জোর ছিল ৩০০ জনের মত। ১৯৬৬ সালে যখন আমি পুনরায় গ্রামে যাই, তখন আমি সেখানে অনেক নতুন বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থান দেখতে পাই। কাপ্তাই বাঁধের কারণে উদ্বাস্তুদের সংখ্যাই সেখানে বেশি ছিল।

আমার তিন ভাই এবং চার বোনের মধ্যে এক বোন ছিলেন সবার বড়। আর ভাইদের মাঝে জ্যেষ্ঠ আমি। আমার জীবনের শুরুর দিকে, ১৯৪০ সালের সময়, তখন আমরা পিতার কর্মসূত্রে পানছড়িতে বসবাস করতাম।

সেখানে আমাদের একটি বাড়ি ছিল। তখন এলাকাটি ছিল প্রধানত মারমা অধ্যুষিত। ছোট শহরতলীর চারদিকে ছিল অসংখ্য মারমা পরিবারের বসবাস। আমাদের পরিবারের সাথে তাদের সকলেরই অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আমার বড় বোন এবং আমাকে সকলেই অনেক স্নেহ করত।

আমার পিতা মারমা ভাষা সাবলীলভাবে বলে যেতে পারতেন আর সেজন্য তারা তাকে ভালোবাসত। প্রায়ই বাড়িতে তাদের তরফ থেকে শাকসবজী, ফল, উৎকৃষ্ট মানের চাল এবং বাড়িতে তৈরি মদ উপহার হিসেবে পাঠানো হত।

কিছুদিনের মাথায় আমার পিতাকে রাঙামাটি বদলী করা হয় এবং আমরা সপরিবারে জায়গাটি ছেড়ে যায়। রাঙামাটিতে আমরা থাকতাম আমাদের পিতার আত্মীয়স্বজনদের সাথে। আমাদের পানছড়ির বাড়ি এবং লাগোয়া ধানক্ষেতটি একজন মারমাকে প্রদান করা হয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

শর্ত মোতাবেক সে প্রতি বছর ধানক্ষেতের ফলন থেকে কিছু চাল আমাদেরকে পাঠাচ্ছিল। কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে আমরা তার কাছ থেকে আর চাল পাইনি। আমার পিতা একজন উদার মনের মানুষ হিসেবে তাকে এ ব্যাপারে কোনো চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

আমাকে ভর্তি করানো হয় ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত একটি খ্রিস্টান মিশনারী স্কুলে। আমার বড় বোন এবং একজন জ্যাঠাতো ভাইও আমার স্কুলে পড়ত।

আমাদেরকে চার্চের সিস্টার এবং ব্রাদাররা বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ে পাঠদান করতেন। কেবলমাত্র একজন চাকমা নারী সেখানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আমরা চার্চ থেকে মাঝে মাঝে নতুন কাপড়, মাখনের টিন এবং দুধ পেতাম। স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ছিল চাকমা। তবে কিছু লুসাই শিক্ষার্থীও আমাদের সাথে পড়াশোনা করত। তারা বাস করত চার্চ সংলগ্ন ছাত্রাবাসে।

ছায়াচিত্রে বম পাড়ায় আখের ক্ষেত,
Photo Courtesy: Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

পরবর্তীতে আমি জুনিয়র হাই স্কুলের প্রাথমিক শাখায় ভর্তি হই। নদীর তীরে অবস্থিত ইংরেজি এল আকৃতির একটি স্থাপনায় ছিল স্কুলটি।

স্কুলের দেওয়াল মাটির প্রলেপ দেওয়া আর চালা হিসেবে দেওয়া ছিল টিন। নদীর একদম উলটো পাড়ে আমার দাদার সরিষার শষ্যক্ষেত আর তার থেকে একটু দূরে উত্তরে আমাদের গ্রাম।

পানছড়িতে থাকাকালীন আমি আমাদের পিতামহ-পিতামহীর স্নেহেই দিন কাটিয়েছি। রামায়ণ ও মহাভারতের অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প তারা আমাকে শুনিয়েছেন।

আমার পিতামহ গ্রামে পরিচিত ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে। গ্রামপ্রধান যাকে কার্বারি বলা হয়; তিনিও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পিতামহর সাথে বসে পরামর্শ করতেন।

তিনি সাধাসিধে জীবনযাপনে আগ্রহী ছিলেন। তবে তার দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শে ছিলেন সুদৃঢ়। শেষ বয়সে এসে তিনি ধর্মের দিকে খুবই আকৃষ্ট হন এবং গ্রামে একটি বৌদ্ধ মন্দির গড়ে তোলা হলে সেখানেই দিনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করতেন। আমার পিতামহী তার স্বামীকে অনেক মান্য করতেন।

বছরের শেষ দিকে উদযাপন হওয়া বিঝু উৎসব আমার অনেক প্রিয় ছিল। বছরের শেষ দুইদিন যথাক্রমে ফুলবিজু এবং মূলবিজু নামে পালিত হত।

ফুলবিজু অর্থ ফুল দ্বারা পালিত বিজু আর মূল বিজু দ্বারা মূল বিজু অনুষ্ঠানের দিন বোঝানো হয়। ফুলবিজুর দিন আমরা খুব ভোরে উঠে গোসল সেরে নিই, তারপর নতুন পোষাক পরিধান করি, পোষা মুরগিদের খাবার দিই, ফুল সংগ্রহ করি, বাড়িঘর সুন্দর করে সাজাই এবং পোষা প্রানীগুলোকে মালা পরিয়ে দিই।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে আমরা বুদ্ধ মূর্তির সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করি। মূলবিজু পালনের প্রথাও প্রায় একই; তবে সেদিন আমরা ফুল তুলি না।

প্রতিটি ঘরে ঘরে হালকা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা একসাথে দল বেঁধে দূরের গ্রামগুলোতে ঘুরতে যায়। তারা খুব গর্বের সাথে বলে বেড়ায় যে তারা অন্য গ্রাম থেকেও বিজুর খাবার খেয়ে এসেছে।

এদিনে সকলেই সবার গৃহে অতিথী বলে গণ্য হয়। একই গ্রামে থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ তার আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে না যায় তাতে তারা খুবই দুঃখ পেয়ে থাকে। তবে তা হয় কদাচিৎ ।

দুপুরবেলায় গ্রামের অবিবাহিত তরুণীরা নদী বা কুয়া থেকে পরিষ্কার পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। তা দিয়ে তারা গ্রামের বয়স্ক ও গুরুজনদের গোসল করিয়ে দেয়। তারপর গুরুজনেরা আশির্বাদ করেন যেন তরুণীরা সকলেই একদিন এক ভালো পরিবারের ভালো স্বামী পায়।

এ দিনটি বিজুর খাদ্যদ্রব্য ও মদজাতীয় পানীয় দ্বারা খুবই আনন্দের সাথে পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরণের মদ তৈরি করা হয় শুধু এই দিনটির জন্যই।

এর পরদিনটি “গজ্জেপজ্জে দিন” নামে পরিচিত। যার অর্থ হচ্ছে “শুয়ে থাকার দিন”। এ দিনটি কেবলই বিশ্রামের। এ দিনে সাধারণত কোনো কাজ করা হয় না। তবে ঘরের মোরগ মুরগি জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হয় এবং তাতে আত্মীয়স্বজনেরা আমন্ত্রিত হন।

(চলবে…)


[1] এই লেখাটিতে সকল নাম এবং তারিখ পরিবর্তিত করা হয়েছে।

[2] গোজা হচ্ছে আসলে জ্ঞাতিকূল। আগেকার সময়ে তারা কমবেশি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বসবাস করত। একটি গোজা আবার কয়েকটি গুষ্টি কিংবা গুত্তিতে বিভক্ত।

গত শতাব্দীতে চাকমা রাজা কর্তৃক রাজনৈতিক এককেন্দ্রিকরণের ফলে সুচিহ্নিত এইসব এলাকাভিত্তিক এককগুলো তুলনামূলকভাবে ভেঙে পড়ে।

[3] দেখুন Mey 1980:144ff। যতই দেওয়ানদেরকে রাজার সৃষ্ট ক্রমাধিকারতন্ত্রে যুক্ত করা হল, তারা ততই অত্যাচারী হয়ে উঠল এবং তারা গোজাপ্রধান হিসেবে তাদের ঐতিহ্যগত দায়িত্বে অবহেলা করতে লাগল।

‘দেওয়ান’ শব্দের অর্থটি শীঘ্রই একটি পদাধিকারের নাম থেকে সরে এসে হয়ে উঠল একটি শ্রেণির পরিচয় (Mills 1927I:32)।

[4] দেওয়ানদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিভাজন (Segmentation) একটি কার্যকরী প্রতিবন্ধক ছিল।

[5] ঐতিহ্যগতভাবে দেওয়ানরা গোজার প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা ভোগ করত (দেখুন, Mey 1980:12)।


মূল লেখাটি প্রকাশিত হয়েছেঃ Genocide in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Wolfgang Mey (ed.), IWGIA Document 51

লেখকঃ এ.বি. চাকমা (ছদ্মনাম)

লেখাটির অনুবাদকারীঃ সায়ক চাকমা, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here