icon

মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান

Jumjournal

Last updated Mar 12th, 2020 icon 113

ষোল শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত আলুটিলার পূর্বনাম ছিল আঁড়বাড়ি, যা মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান।

অবৈধ “আলুটিলা পর্যটন সম্প্রসারণ প্রকল্প” বাতিলের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বরে আমরা (টিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির দেবাশীষ ত্রিপুরা, মলেন বিকাশ ত্রিপুরা, ভিক্টর ত্রিপুরা ও আমি) যখন আলুটিলার সরেজমিনে গিয়েছিলাম, তখন আমরা যে এলাকাটিতে সর্বপ্রথম পা রেখে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছিলাম, সেটির নাম ছিল “আঁড়বাড়ি”। [তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সহযোগিতা করেছিলেন স্থানীয় তপেন বিকাশ ত্রিপুরাসহ বেশ কয়েকজন।]

সরকারী নথিপত্রে এই নামে কোন পাড়া বা গ্রাম অত্র অঞ্চলে নেই। কিন্তু সেখানকার প্রতিটি ত্রিপুরার কাছে এই নামটি বেশ পরিচিত। যদিও তারা এর কারণ জানেন না।

যাদের জীবন চলে নুন আনতে পান্তা ফুরাইয়ের মতো, তাদের এসব ইতিহাস-পাতিহাস নিয়ে মাথা ঘামানোর আবশ্যকতা নেই বললেই চলে। যদি আমরা বই না পড়তাম, আমরাও হয়তো এ সম্পর্কে জানতাম না।

বিশিষ্ট লেখক জামাল উদ্দিনের “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস” নামক গ্রন্থ থেকে (পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫০) জানা যায়ঃ-

“গোবিন্দ মাণিক্য দীঘিনালা ত্যাগ করে আরাকান শাসিত চট্টগ্রামের সামন্তরাজার প্রধান কার্যালয় দেয়াঙে যান এবং সেখান থেকে রামুতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

যাবার পথে খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্বতে এক রাত্রি যাপন করেন। এতে স্থানীয় অধিবাসীরা রাজার রাত্রি যাপনার্থে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে দেন।

ত্রিপুরা ভাষায় বাঁশের কেল্লার নাম হয় ‘আঁড়বাড়ি’। এই আঁড়বাড়িটিই আলুটিলার পূর্বনাম। আজও আলুটিলা পর্বতে আঁড়বাড়ি নামে একটি গ্রাম রয়েছে।”

আবার, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরার লেখা “খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ইতিহাস” নামক বইয়ের ১৫৭ ও ১৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ্য তথ্য থেকে জানা যায়ঃ-

ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য তাঁর নির্বাসিত জীবনে সৎ ভাই ত্রিপুরা মহারাজা নক্ষত্র মাণিক্য কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে দীঘিনালা থেকে আরাকান যাবার পথে এ পর্বতের শিখরে এক রাত্রি যাপন করেন।

মহারাজার রাত্রি যাপনার্থে নির্মিত বাঁশের কেল্লা নামানুসারে পর্বতের নামকরণ হয়েছিল আঁড়বাড়ী। ত্রিপুরীগন বাঁশের কেল্লাকে আঁড়বাড়ী বলে।

পরবর্তীকালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাগড়াছড়ি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এলাকার মানুষ খাদ্যের সন্ধানে এ পর্বতশ্রেণী থেকে বন্য আলু সংগ্রহ করে খেয়ে বাঁচে।

এ পর্বতশ্রেণীতে বর্তমানকালেও প্রচুর বন্য আলু পাওয়া যায়। আলুর প্রাচুর্য্য থেকে এই পর্বতশ্রেণীর আধুনিক নামকরণ হয় আলুটিলা।”

লেখক: মুকুল ত্রিপুরা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - [email protected] এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Jumjournal

Administrator

Follow Jumjournal

One thought on “মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *