icon

যে ১০ টি কারণে আদিবাসীরা পৃথিবীর সেরা পরিবেশ সংরক্ষক

Reshmee Chakma

Last updated Mar 7th, 2020 icon 4733

আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা পৃথিবীর সেরা পরিবেশ সংরক্ষণকারী হওয়ার পিছনের ১০ টি কারণ

বিভিন্ন প্রামাণিক তথ্য প্রমাণ করে আদিবাসী জনগণ অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক ভালোভাবে পরিবেশ  সম্পর্কে বোঝেন  এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা করতে পারেন।  এখানে তার ১০ টি কারণ রয়েছেঃ

১। তাঁরা প্রাণীর আচরণ বুঝতে অভিজ্ঞ

মধ্য আফ্রিকার বাকা জনগণ হাতির আচরণ বুঝতে ১৫ টি ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেন যেগুলো হাতির বয়স, লিঙ্গ এবং প্রকৃতিভেদে ভিন্ন হয়। তারা বিশ্বাস করেন তাদের পূর্বপুরুষরা বনের ভিতরে পশুদের সাথে আসা যাওয়া করতো ।

২। তাঁরা বিশ্বমানের উদ্ভিদবিদ

ইয়ানোমামি জনগোষ্ঠী প্রায় নিত্য প্রয়োজনীয় ৫০০ প্রকার ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ব্যবহার করেন। তাঁরা জানেন কোন গাছপালা বাড়ি তৈরিতে, অস্ত্র এবং যন্ত্রপাতি তৈরিতে, জ্বালানির জন্য, দড়ি তৈরি এবং বাঁধার জন্য, ঝুড়ির জন্য, অস্থায়ী দোলনা তৈরিতে, রঙ, বিষ, ঔষধ, অলংকার, প্রসাধনী, দৃষ্টিভ্রমকারী ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করতে হয় … এবং আরো অনেক!

ইয়ানোমামি মহিলা এবং শিশুরা এক বন-বাগানে বিশ্রাম করছে, ব্রাজিল। তাঁরা এসব বাগানে প্রায় ৬০ ধরণের শষ্য ফলায়, যা তাঁদের ৮০% খাদ্য যোগান দেয়।
© Fiona Watson/Survival

৩। তাঁরা তাঁদের জমি পরিবেশবান্ধবভাবে ব্যবহার করে

বাংলাদেশের জুম্ম জনগণ ‘জুম চাষ’ এর মাধ্যমে তাঁদের জমির পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করেন; তাঁরা অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পাহাড়ের ছোট অংশের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন করেন। তাঁরা বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন শস্য উৎপাদনের জন্য প্রতিটি গর্তে মিশ্র বীজ বপন করেন।

৪। তাঁরা পরিবেশ সম্পর্কে ভালোভাবে জানে

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের ট্রাইবাল জনগণ তাঁদের পরিবেশ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারার দক্ষতার কারণে ২০০৪ সালের এশিয়ান সুনামির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। তাঁরা সুনামির আভাস পেয়ে আগেভাগেই উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।

৫। তাঁরা বনের রক্ষক

বাকা জনগোষ্ঠীর একজন আমাদের বলেছেন,’’ অবৈধ শিকারীরা বনের কোথায় এবং কখন থাকে আমরা জানি, কিন্ত আমাদের কথা কেউ শুনবে না। যদিও ট্রাইবাল জনগণ অন্যদের চেয়ে ভালোভাবে তাঁদের ভূমি এবং বন্যকূলকে রক্ষা করতে জানলেও তাঁরা মূলধারার সংরক্ষণ কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত।

৬। তাঁরা ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ করেন

কলম্বিয়ার সিয়েরা নেভাদায় বসবাসকারী আরুয়াকো জনগোষ্ঠী আমাদের থেকে ভিন্ন উদ্যোগ নেয়, তাঁরা পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে কারণ তাঁরা মনে করেন মাতৃতুল্য পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখা তাঁদের দায়িত্ব। তাঁদের মতে মানবজাতির পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার ফলাফল হচ্ছে খরা এবং দুর্ভিক্ষ।

৭। ভূমির সাথে তাঁদের সম্পর্ক তাঁদের পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

ভারতের নিয়ামগিরি পাহাড়গুলো বর্ষা মৌসুমের পানি শোষণ করে ফলে ভমশাধারা নদীসহ ১০০ টির বেশি স্থায়ী জলপ্রবাহ এবং নদীর সৃষ্টি হয়। এই সবুজে পরিপূর্ণ ভূমিতে বাস করা ডংরিয়া কোন্ধ ট্রাইবাল লোকেরা নিজেদেরকে “ঝরণিয়া” হিসেবে পরিচয় দেন, যার অর্থ হচ্ছে ঝরণার রক্ষক।

৮। তাঁরা প্রাণীকূলকে তাঁদের আত্মীয় মনে করেন

সোলিগা জনগণ যখন উঁচু গাছ থেকে মধু সংগ্রহ করেন তখন তাঁরা কিছু মধু নিজেদের জন্য রেখে বাকি অংশ মাটিতে বাঘের জন্য রেখে আসেন। কারণ বাঘগুলো উঁচু গাছ থেকে নিজেদের জন্য মধু সংগ্রহ করতে পারে না । তাঁরা বাঘগুলোকে নিজেদের পরিবারের সদস্যই মনে করেন।

ওরাং রিম্বা শিশুরা সোকোলা রিম্বার কাছ (বন বিদ্যালয়) থেকে শিখছে, ইন্দোনেশিয়া
© Aulia Erlangga

৯। তাঁদের সংস্কৃতি এবং জীবনধারণের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে প্রকৃতির যত্ন নেয়া

ইন্দোনেশিয়ার ট্রাইবাল ঘরে যখন নবজাতক শিশুর  জন্ম হয় তখন তাঁরা শিশুটির নাভিরজ্জু সেততাবাং গাছের নিচে পুঁতে রাখেন। যার ফলে জীবনের পুরো অংশ শিশুটির সাথে ঐ গাছের পবিত্র বন্ধন অটুট থাকে। ওরাং রিমবাদের কাছে উৎপন্ন গাছ কেটে ফেলা খুন করার সামিল।

১০। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষাই বনের বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখার উপায়

বিভিন্ন প্রামাণিক তথ্যে দেখা যায় যে আমাজনে বন নিধনে আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলো সর্বোত্তম বাঁধা হিসেবে কাজ করছে। প্রায় ১০০ টির বেশি আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী আমাজনের চারপাশে ঘনবর্ষণ বনাঞ্চলে বাস করেন, তাঁরা যেহেতু শিকারী-সংগ্রহকারী (Hunter-gatherers) তাই তাঁরা পরিবেশের সাথে অসাধারণভাবে মিশে গেছেন ফলে তাঁদের রয়েছে উদ্ভিদ ও প্রাণীবিদ্যায় অগাধ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞ্যান।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আদিবাসী অভয়ারণ্যগুলোই আমাজনে বন নিধণে মূল বাঁধা
© Google Earth

পৃথিবীর ৮০% জীববৈচিত্র্য আদিবাসীদের এলাকায় অবস্থিত এবং যখন আদিবাসীদের নিজেদের জমির উপর সুরক্ষিত অধিকার থাকবে তখন তাঁরা পরিবেশ সংরক্ষণে কমপক্ষে সমান যদি না তার চেয়ে অধিক ভালো ফলাফল আনতে পারবে এবং তাও মাত্র যৎসামান্য খরচে।


বিস্তারিত পড়ুন…

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - [email protected] এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

Reshmee Chakma

Author
Currently she is studying in Department of Pali and Buddhist Studies, University of Dhaka. She likes to do social voluntary works and has a very keen interest in social research.

Follow Reshmee Chakma

4 thoughts on “যে ১০ টি কারণে আদিবাসীরা পৃথিবীর সেরা পরিবেশ সংরক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//script for defer js