একুশ শতকের প্রথম বিষু ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

0
34

একবিংশ বা একুশ শতাব্দী সবেমাত্র শুরু হয়ে গেল। দ্বি-সহস্রাব্দ অর্থাৎ যীশু খৃষ্টের জন্মের পর দু’হাজার বছর পেড়িয়ে গেছে। মহাকালের অনন্ত পরিক্রমায় এতে দু’হাজার বছর কিছুই না। যেন এক পলক কিংবা তার ও কম মুহুর্ত মাত্র। কিন্তু মানুষের পরমায়ুর তুলনায় দু’হাজার বছর অনেক-অনেক বছর। মানুষের পরমায়ু গড়ে একশ বছর ধরলেও পর্যায়ক্রমে বিশ পুরুষের বয়সের সমান। যীশু খৃষ্টের পর প্রত্যেকেই একশ বছর বেঁচে থাকলে অামাদের বিশ জন পূর্বপুরুষ অতীত হয়ে গেছেন। অার যদি শত বর্ষের কম বেঁচে থাকলে, বিশ জনের কত অধিক জন অতীত হয়ে গেছেন তার সঠিক হিসাব বের করা মুশকিল।

একুশ শতকের প্রথম বিষুর বর্ণনা করার প্রসঙ্গ এটা নহে। প্রসঙ্গটা হল অন্যখানে। যেখানে একুশ শতক অর্থাৎ দু’হাজার এক খৃষ্ট বর্ষের কথা বারবার স্মরণ হয় বা মনে উঁকিদেয়। যীশু খৃষ্টের জন্ম হয়েছিল দু’হাজার বছর পূর্বে এবং অনেকেই মনে করেন যেন মানব জাতি বা বিশ্ব ব্রহ্মান্ড মাত্র দু’হাজার বছর পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছিল। ইহা ভ্রান্তি বিলাস নিরসনের জন্য তার ও পূর্বেকার কথা স্মরণ করে দেওয়াই এই কল্প প্রসঙ্গের অবতারণা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল বা অার্বিভাব ঘটেছিল যীশু খৃষ্টের জন্মের ছয শত বছর পূর্বে। তিনি এক বৈশাখী পূর্ণিমায় গয়াধামে সম্যক সম্বোধি লাভ করেন এবং তখন থেকে বুদ্ধ বর্ষ গণনা করা হয়। বর্তমানে ২৫৪৪ বুদ্ধ বর্ষ বা বুদ্ধাব্দ চলছে। মহাভারতের কাহিনী অনুসারে কুরু পাস্তবের যুদ্ধ হয়েছিল তারো কয়েক হাজার বছর অাগে। তখন বিষ্ণুর অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। মহাভারতের কাহিনীতে বিশেষতঃ কুরুপাঞ্জাবের যুদ্ধে তাঁর উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মিশর, পারস্য এবং চীন সভ্যতা তারো কয়েক হাজার বছর অাগে। মিশরের ফারাউনদের কথা বাদ দিলেও পারস্যের জুরথুষ্ট্র, চীনের কনফুসিয়াস এক একজন মহাপুরুষ এবং ধর্মগুরু। বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, শ্রীকৃষ্ণ, জুরথুষ্ট্র প্রভৃতির মানবজাতির বিশেষ বিশেষ অঞ্চলের এক একজন স্মরণীয় মহাপুরুষ। তাঁদের জন্ম সাল কিংবা মহাপ্রয়ানের বছর ভিত্তি করে সাল বা অব্দ গণনা করে সেই সাল বা অব্দের নব বর্ষের ভিত্তিতে অর্থাৎ অব্দ অারম্ভের প্রথম দিন কি কোন উৎসব করা যায়না! তাহলে অামরা এখন হয়ত একুশ শতকের প্রথম দিনের কথা না বলে, বলতে পারতাম পঁচিশ শতক কিংবা তিরিশ শতক এবং অারো অধিক শতকের নববর্ষের দিন। তাহলে মনুষ্য জাতির সভ্যতা অারো প্রাচীনতম প্রতীয়মান হতে পারত। কিন্তু কেন সবাই একুশ শতকের শুরুর দিনে হৈ চৈ করে উঠল! বিশ্ববাসী স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উল্লাসে হৈচৈ করেনি, করানো হয়েছে মাত্র। ইন্টারনেটের বদৌলতে খৃষ্টানেরা সমগ্র বিশ্বব্যাপী তুমুল হৈচৈ এর ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। ইহা শুধু যীশু খৃষ্টকে স্মরণ করা, যীশু খৃষ্টের স্মৃতি ধরে রাখা। তবে একথা ঠিক, বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে(১৯৭১ সালে) পৃথিবী হতে দু’লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার মাইল দূরের উপগ্রহ চাঁদে মানুষ অবতরণ করেছে। এতদিন চাঁদ ছিল স্বপ্নকল্প এবং শুধু কল্পবাহিনীর স্বপ্নজাল দিয়ে ঘেরা।

১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর মধ্যরাত্রির পর বিশ্বজুড়ে নূতন সহস্রাব্দের জন্য উল্লাস করেছিল। অাসলে নূতন সহস্রাব্দ শুরু হয়েছে ২০০০ সালের ৩১ শে সিসেম্বর মধ্যরাত্রির পর। অামাদের মধ্যে অনেকেই ২০০০ সালের ১২-১৪ই এপ্লিল একুশ শতকের বিষু উৎস উদযাপন করেছিল। তাদের এই উৎসব অবশ্য বিংশ শতাব্দীর শেষ বিষু উৎসব গণ্য হতে পারে। এবছরের বিষুই হবে একুশ শতকের বা একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিষু। তাই এই বিষুকেই উল্লাস অানন্দের মাধ্যমে ঐতিহ্যপূর্ণ, কৃষ্টিমন্ডিত নান্দনিক সমারোহে উদযাপন করে সবাই অাসুন একুশ শতাব্দীকে স্বাগতম জানাই।

বিংশ শতাব্দীকে পিছনে ফেলে এসে একুশ শতকের শুরুতে জুম্মদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব করা যায় কি? ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামকে জুম্ম বা উপজাতীয় অঞ্চল হিসাবে স্বীকার করে বা স্বীকৃতি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং অান্দোলনকারী জনসংহতি সমিতির মধ্যে। সেই অনুসারেই পার্বত্য চট্টগ্রাম অাঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর সমাপ্তি লগ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের ইহা একটি বড় প্রাপ্তি বা অর্জন মনে করার কারণ অাছে। চির অবহেলিত জুম্মজাতি এতদঅঞ্চলে শত শত বছর ধরে যবনিকার অন্তরালে অাবৃত হয়ে বিশ্ব ভূবনের কাছে একদম অপরিচিত ছিল। এই শান্তি চুক্তির ফলে জুম্মগণ বিশ্বের লাইম লাইটে চলে এসেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি সম্পাদন করায় অর্থাৎ জুম্মগণের স্বাধীকার মেনে নেওয়ায় জাতিসংঘ কর্তৃক তিনি ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। জরথুষ্ট্রের দেশ ইরানের মর্যাদা সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত। এই মহান ইরান এই শান্তি চুক্তিকে অভিনন্দন জানিয়েছে অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোর ন্যায়।

মানুষের স্বাধীকার বলতে কি বোঝায়? একথা রাজনীতিক বা রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরাই ঠিকমত সংজ্ঞায়িত করতে পারেন। তবে সাধারণভাবে নিজেকে নিজে শাসন বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বা অধিকার হচ্ছে স্বাধীকার। এর অার এক অর্থ নিজের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে দৈনন্দিন বেঁচে থাকার অধিকার শুধু নয়, দৈনন্দিন জীবনের স্বোৎসারিত চিন্তা চেতনা ও বুদ্ধি দিয়ে নিত্য নব নব সৃষ্টির মাধ্যমে জীবনকে সুখী, সচ্ছন্দ, সমৃদ্ধ ও সম্মানিত করে জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করার অধিকার হচ্ছে স্বাধীকার।

মানুষকে অাহারের উপর বাঁচতে হয়, কিন্তু পরিধান করে তার নগ্নতা দূর করে অাব্রু বা সম্মান রাখতে হয়। ঝড়-ঝঞ্চা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে অাত্নরক্ষা করে জীবন বাঁচানোর জন্য অাশ্রয়স্থল বা ঘরবাড়ীর প্রয়োজন হয়। বাঁচার জন্য খাদ্য, দেহ অাবৃত করার জন্য বা সাজসজ্জার জন্য বস্ত্র, সুখে বা নিরাপদে বসবাসের জন্য ঘরবাড়ী এসবই তাকে উৎপাদন বা অর্জন করতে হয়। এই জন্য তার কাজ করতে হয় এবং কোনো না কোন বৃত্তি বা পেশা অবলম্বন করতে হয়। এই বৃত্তি বা পেশা অবলম্বনের স্বাধীনতা মানুষের স্বাধীকারের অনন্যতম দিক। কাপ্তাই বাঁধের বিশাল জলাশয় সৃষ্টি করে অধিকাংশ জুম্মদের জীবিকার অবলম্বন কৃষি ভূমি ডুবিয়ে দিয়ে পাকিস্তান সরকার জুম্মদের স্বাধীকার হরণ করেছিল ষাটের দশকে। স্বৈরাচার মূলক স্বাধীকার হরণকারী এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন বিপ্লবী ছাত্রনেতা শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। ফলে নিবর্তন মূলক অাইনে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন। শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সেই প্রতিবাদ বা বিরোধীতা পরবর্তীকালের জুম্ম জনগণের স্বাধীকার অান্দোলনের কি সূচনা করেছিল তাঁরই সৃষ্ট জনসংহতি সমিতি তথা শান্তি বাহিনীর দীর্ঘ দু’দশক? রক্তঝরা অান্দোলনের ফলশ্রুতিতে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাস এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করা যেমন উদ্দেশ্য নহে, তেমনি সম্ভব ও নহে।

শান্তি চুক্তির তিন বছরের মধ্যেই বিংশ শতাব্দীর সমাপ্তি এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরু। শান্তি চুক্তির “ম্যাগনাকার্টার” বাত্তি (পিদিম, জনসংহতি সমিতির সংগ্রামী প্রতীক) হাতে নিয়ে অামরা জুম্ম জনগণ একুশ শতকে যাত্রা শুরু করলাম।

বিংশ শতাব্দী সমাপ্ত না হতেই জুম্মদের সাংস্কৃতিক বিকাশের এবং সংরক্ষনের কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়ে যায়- যার ফলে জুম্ম জনগণের মধ্যে অাত্নোপলব্ধি এবং অাত্নবিকাশের চেতনার সম্ভার হয়ে গেছে। রাঙ্গামাটিতে ব্যাপকভাবে সাড়া জাগানো অাদিবাসি সংস্কৃতিমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পর পর তিন বছর ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। রাঙ্গামাটি জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল একক ভাবে দু’বার এবং উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সাথে যৌথভাবে একবার এই সংস্কৃতি মেলার অায়োজন করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অাদিবাসি জুম্ম জাতিসত্তার লোক সংস্কৃতির উপস্থাপনাই ছিল এই অাদিবাসি সংস্কৃতি মেলার মূল লক্ষ্য। নামকরা কয়েকটি এন.জি.ও অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল এই সংস্কৃতি মেলায়। এই মেলা জুম্মদের বিশিষ্ট উৎসব বৈসাবিকে (বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু বা বিষু) সামনে রেখেই করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের ১২ই এপ্রিল সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় নূতন অাঙ্গিকে, নূতন দিগন্ত হিসেবে “সাবারাং রেষ্টুরেন্ট” চালু করেছেন। উদ্বোধনের দিনটি  ছিল ফুল বিষুর দিন। ইহাতে বিষুকে নূতনভাবে স্মরণ করা হল নয় কি? বিষু নানা ঢঙে, নানা ভাবে অাড়ম্বরের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে উদযাপিত হয়ে অাসছে। ফুল বিষুর দিন র‍্যালী ও অালোচনা সভা, মূল বিষুতে খাওয়া দাওয়া অাপ্যায়ন, বছরের পহেলা দিন ভাবী দিনের জন্য বা অাগামী বছরের জন্য জন্য সকলের মঙ্গল কামনা এই সব বৈসাবি উদযাপনের অঙ্গ।

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই বিষুকে অারো বৈচিত্র্য দিয়ে কি উদযাপন করা যায় না?সমাজের শ্রদ্ধেয় বয়স্ক ব্যক্তিবৃন্দ এবং নব প্রজন্মের প্রগতিশীল বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ তরুণী গণ এই সম্পর্কে কি উপায় উদ্ভাবন করতে পারেনা? অামার ছোটবেলায় দেখেছি বিষু উপলক্ষ্যে দলে দলে লোকজন মহামুনিতে যায়। রাউজান থানার মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে এবং চাকমা রাজার প্রাক্তন রাজধানী রাজানগর মহামুনিতে। এখন এই বিষুর দিনে মহামুনিতে কি সাংস্কৃতিক মেলা বা অনুষ্ঠান করা যায় না? ঐতিহ্য ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জুম্ম সংস্কৃতির উপস্থাপনা করা কি সম্ভব হবে না?  করলে একুশ শতকে ইহা একটি নূতন সৃষ্টিশীল সংযোজন হতে পারে।

জুম্মদের ঐতিহ্যবাহী নূতন নূতন সংস্কার সৃষ্টি হোক এই প্রচেষ্টা করতে হবে। ইতিমধ্যে “হিরণমোহন কম্পিউটার এন্ড রিসার্চ একাডেমি ফর ট্রাইবেল ল্যাংগুয়েজ” উপজাতীয় ভাষা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান “নূয়া পহর” চালু করা হয়েছে। অর্থার্জনের নূতন সম্ভাবনা নিয়ে হিলম্যান গ্রুপ ব্যবসায়িক পদক্ষেপ স্বরুপ পর্যটন (Holiday Blast), “পেডা টিংটিং ” রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। উন্নত দেশ সমূহে দেখা যায়, সংস্কৃতিকে পণ্য হিসেবে বাণিজ্যিক রুপ দেয়া হচ্ছে| একুশ শতকের শুরুতে জুম্মদের সংস্কৃতিকে কি পণ্য হিসেবে  বাণিজ্যিক রুপ দেয়ার  প্রচেষ্টা চলবে? অর্থায়ন,বানিজ্য বা অর্থার্জন একটি প্রয়োজনীয় বিষয় তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যাতে সংস্কৃতির মডেলরা পণ্য হিসেবে বিকিয়ে না যায়।

জুম্মদের কলেবর ক্ষুদ্র (জনসংখ্যা স্বল্পতা) কিন্তু তার অবয়ব তুচ্ছ নহে। বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যায় গঠিত মঙ্গোলীয় গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের নগণ্য বলা চলে না। চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অপরাপর জাতিদের সমগোত্রীয় হচ্ছে জুম্মগণ। সেই সমগোত্রীয় জাতিদের সমান মর্যাদা অর্জনের অঙ্গীকার নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর স্বাগতম জানাই।


বীর কুমার তঞ্চংগ্যা; (শিঙোর – এপ্রিল ২০০১ইং) 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here