জাতীয় বাজেট এবং আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন

0
54

ক. প্রারম্ভিক মন্তব্য
শুরুতেই একটি বিশেষ বিষয় পরিস্কার করে নেওয়া দরকার। আমি কোন পেশাদার অর্থনীতিবিদ নই। ব্যষ্টিক এবং সমষ্টিক অর্থনীতি বিয়য়ে আমার জ্ঞান নিতান্তই সীমিত। সাধারন পড়াশুনা এবং তার বাইরে, আমার পেশাগত অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ে যে ধ্যান-ধারনা অর্জন করেছি, তা’র আলোকেই বর্তমান নিবন্ধটি রচিত। তবে বর্তমান নিবন্ধের বিষয়ে আরও যে বিশদ আলোচনা ও বির্তকের অবকাশ রয়েছে সে বিষয়ে বোধ করি তেমন দ্বিমত থাকার কথা নয়। সেই আলোচনা ও বিতর্কে যদি আমার এই প্রয়াস সহায়ক হয় তা’তেই আমি ধন্য বোধ করবো।

আরও একটি বিষয় এখানে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে আদিবাসীরা যে অন্যতম সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন মহল থেকে যথেষ্ট বিশদভাবে লেখা হয়েছে। কিন্তু গুটিকয়েক ব্যতিক্রমবাদে – এবং তা’ও অধিকাংশক্ষেত্রে বেসরকারী পর্যায়ে – এ বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যানের যথেষ্টই অভাব। এ কারনে অনেক বিষয়ের উপরে নির্মোহভাবে আলোকপাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমান নিবন্ধে সরকারী তথ্য ও পরিসংখ্যানের উপরেই জোর দেওয়া হয়েছে। যে সকল ক্ষেত্রে সরকারী তথ্য পাওয়া যায় নি, বেসরকারী বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সকল ক্ষেত্রেই তথ্যসূত্র সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খ. বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান
বাংলাদেশের মোট আদিবাসী জনসংখ্যা কত? সরকারের সর্বশেষ আদম শুমারীতে (২০০১) এ বিষয়ে কোন বিস্তারিত (disaggregated) তথ্য নেই। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-এর একটি প্রকাশনায় (solidariy, 2005) উল্লেখ করা হয়েছে আনুমানিক ৩০ লক্ষ। এ হিসাব পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল এলাকা মিলে।

দ্বিতীয় বিষয়; বাংলাদেশে যে সমস্ত জাতিগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের মোট সংখ্যা কত? এক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং সমস্যাটি মূলতঃ সমতল এলাকা সমূহেই বেশী প্রকট। জাতীয় সংসদে প্রণীত সাম্প্রতিক একটি আইনে(১) ২৭টি জনগোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর উপরে উল্লেখিত প্রকাশনায় দেওয়া আছে ৪৫ টি জনগোষ্ঠীর নাম। আদিবাসীদের নিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক রাজা দেবাশীষ রায় এক প্রকাশনায়(২) ৫৯টি জাতিগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছেন। আরও সাম্প্রতিক সময়ে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এর কাছে নিবেদিত এক সুপারিশমালায়(৩) ৭৫টি জাতিগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, আদিবাসী জনগোষ্ঠী সমূহের সঠিক সংখ্যা যা’ই হোক, বাংলাদেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তাদের বসবাস (নীচের মানচিত্রে দেখুন)। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকভাবে মূলতঃ বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগেই তাদের বসবাস।

Distribution of IPs in BD
Distribution of IPs in BD

আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহ বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও অনগ্রসর জনসাধারনের মধ্যে অন্যতম। সরকারী পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসাধারনের প্রায় অর্ধেক এখনও দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। আদিবাসীদের মধ্যে এই হার আরও অনেক বেশী; পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় ৬৫ ভাগ এবং সমতলের ক্ষেত্রে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে, তাদের আয় গড়ে ২৬ ভাগ (পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে) থেকে ৪১ ভাগ (সমতল এলাকা) কম। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল – উভয় অঞ্চলের আদিবাসীদের সিংহভাগ এখনও জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষিকর্মের উপরে নির্ভরশীল কিন্তু সমতলের আদিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশই ভূমিহীন এবং বৃহত্তর রাজশাহী ও দিনাজপুরের কোন কোন জনগোষ্ঠীর (যেমন, সাঁওতাল, মাহাতো, পাহান ইত্যাদি) বেলায় এই হার শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী। পার্বত্য চট্টগ্রামের শতকরা ৯০ ভাগ আদিবাসীর নিদেনপক্ষে পাহাড়ী জমি মালিকানাধীন রয়েছে কিন্তু তাদের প্রায় সমান সংখ্যকেরই ভূমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ-বিরোধ রয়েছে। সর্বোপরি তাদের শতকরা ৬৫ জনের ক্ষেত্রেই জমি-জমার মালিকানা সংক্রান্ত সঠিক দলিল পত্র নেই এবং বিগত ত্রিশ বছরে শতকরা ২৫ জন তাদের জমি-জমা হারিয়েছেন(৪)

গ. সরকারী বাজেট বরাদ্দ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
বিগত বছরগুলোর বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রতি বছরই আদিবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থ মন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় যথারীতি আদিবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালার ঘোষনা দিয়ে থাকেন। বিগত ২০০৯-১০ সালের বাজেট বক্তৃতার কিছু সারাংশ নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল;

the Government “will fully implement the Chittagong Hill Tracts Peace Treaty. Extended facilities will be created for the less developed areas. Recognition will be given to the rights of the small groups, aboriginal people and other castes. We will preserve the separate identity of their life, language, culture, literature and develop specific programmes for their balanced development” (অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট   www.mof.gov.bd
থেকে উদ্বৃত। পৃ. ৭৭-৭৮)

অন্যত্র (পৃ. নং ৫২) সমতল অঞ্চলের গারো জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। উক্ত প্রকল্পের অধীনে ৪টি জেলার ৬ উপজেলায় ২৪০০টি আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মধ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগের ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। আদিবাসীদের জন্য উন্নয়নমূলক বরাদ্দ মূলত সরকারের ২টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলা, রাংগামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমতল অঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বিশেষ কার্যাদি বিভাগ(৫)

১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তার পরবর্তী বৎসরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দায়িত্বাবলীর মধ্যে প্রধানতম হলো পার্বত্য অঞ্চলের ৩টি জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন ও উদ্যোগ নেওয়া এবং এই অঞ্চলের আদিবাসী জনসাধারনের সাংস্কৃতিক উন্নয়নসহ সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের যথাযথ ব্যবস্থাদি নেওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে বিগত ৪ বৎসরে বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমান নিম্নরূপ-

table
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট

বরাদ্দকৃত উন্নয়ন বাজেটের অর্থ পার্বত্য মন্ত্রনালয় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তার অধীনস্ত নিম্নলিখিত অঙ্গ-সংস্থাসমূহের মধ্যে বন্টন করে;
১। ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদ যথা, বান্দরবান, রাংগামাটি ও খাগড়াছড়ি
২। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড
৩। সিভিল এ্যাফেয়ার্স অফিস, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট, ও
৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ

বর্তমান নিবন্ধের জন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপরোক্ত সংস্থাসমূহে বাৎসরিক বন্টনকৃত অর্থের পরিমানের তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসাধারনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এই ধারনা পাওয়া যায় যে, উপরোক্ত অর্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ বাদে প্রধানতঃ অন্য সংস্থাসমূহের মাধ্যমেই বন্টন করা হয়ে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের উপরোক্ত বরাদ্দ বাদে, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়াধীন বিশেষ কার্যাদি বিভাগ থেকে প্রতি বৎসর সমতল এলাকার আদিবাসীদের জন্য থোক বরাদ্দ আকারে বিভিন্ন প্রকল্প সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি অর্থ বছরে এখাতে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (সুত্র: এ সংক্রান্ত সরকারী নথি)। এ অর্থ সমতল অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত ২৮টি জেলার মোট ৪১ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বন্টন করা হয়। এতদ্ব্যতীত, বিগত বছরগুলোতে এক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমান নিম্নরূপ;

ঘ. আদিবাসীদের বাজেট ভাবনা
সরকারী বাজেট প্রণয়ন একটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। প্রকৃতপক্ষে, নতুন অর্থ বছরের বাজেট ঘোষনার প্রায় সাথে সাথেই পরবর্তী অর্থ বছরের বাজেট তৈরীর প্রারম্ভিক আয়োজন শুরু হয় ((Ref. Redesigning Budgetary Policy to Reach Public Resources to the Poor, by Dr. Atiur Rahman and Mahfuz Kabir, Centre for Policy Dialogue, 2010)। পুরো প্রক্রিয়াটি আমলাতন্ত্রের উপরে নির্ভরশীল এবং সাধারন জনগণ এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহনের সুযোগ একেবারেই সীমিত। বাস্তবে, পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশগ্রহনও ঘটে একেবারে শেষ পর্যায়ে যখন অনুমোদনের জন্য বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হয়। তথাপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন অথবা, ন্যুনপক্ষে পরোক্ষভাবে এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবান্বিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়। বাজেট চুড়ান্তকরণের আগে সরকারের তরফ থেকে শিল্প/বণিক মালিক সমিতির সাথে পরামর্শ সভার আয়োজন করা। বিশেষ ক্ষেত্রে, প্রতিথযশা অর্থনীতিবিদ বা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে মত বিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। সরকারের তরফ থেকে এধরনের মত বিনিময় আয়োজনের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ধারনা করা যেতে পারে এধরনের সভা থেকে সরকার অনেক লাভবান হয়। বর্তমান বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মত বিনিময় সভা আয়োজন করা যেতে পারে কি? বাজেট প্রণয়ন এবং তৈরীর প্রক্রিয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয় মূল ভূমিকা পালন করলেও, সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানেরই এ’তে কমবেশী অংশগ্রহন থাকে। অনুমান করা যেতে পারে, এ ক্ষেত্রে পার্বত্য চুক্তির পরে স্থাপিত বিভিন্ন বিকেন্দ্রীকৃত প্রতিষ্ঠান সমূহেরও (আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ প্রভৃতি) অংশগ্রহন থাকে। এধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনে উক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহকেই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য অনুরূপ কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায়, সাময়িকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ দায়িত্ব পালন করতে পারে। ন্যুনপক্ষে কোন বিশেষায়িত বেসরকারী গবেষনাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও এ ধরনের সভা আয়োজন করা যায়। সাধারনভাবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম মস্ত্রণালয় এর যে কোন প্রকল্পে সুনির্দিষ্টভাবে শুধুমাত্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী সমূহের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। পরিবর্তে প্রকল্পভূক্ত এলাকায় বসবাসরত সকল জনসাধারন যা’তে প্রকল্পের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল ভোগ করে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে উপকারভোগী জনগোষ্ঠী (priority target group) চিহ্নিত করা হয়। এই চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সূচককেই প্রধান হিসাবে ধরে নেওয়া হয়, আদিবাসী পরিচিতি নয়।

বিশেষ কার্যাদি বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত বাজেট সমতলের আদিবাসীদের জন্যই বরাদ্দ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটির মাধ্যমে এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসাবে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাদেও ২ জন আদিবাসী প্রতিনিধি অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। কিন্তু এই বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহনমূলক করার অবকাশ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের তুলনায় সমতলের আদিবাসীদের জন্য প্রতিনিধিস্থানীয় কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান নেই। তাছাড়াও, বন্টন প্রক্রিয়ায় আদিবাসী প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত থাকা সত্বেও, এক গবেষনায় দেখা গেছে যে, সমতলের আদিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই বিশেষ কার্যাদি বিভাগের বরাদ্দের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সুষ্পষ্টভাবে অবহিত নন(৬)। গবেষনা কর্মটি কয়েক বছর আগে করা হলেও, বর্তমান সময়েও এর প্রায়োগিকতা রয়েছে হিসাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। আদিবাসীদের জনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় নগণ্য (১-২%) হলেও, তাদের চরম দারিদ্র্য এবং আর্থ- সামাজিকভাবে তাদের প্রান্তিক অবস্থান মনে রেখে এ দেশের নীতি নির্ধারকদের তাদের সার্বিক সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নতির বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। আদিবাসীরাও এ দেশেরই সন্তান। এবং সমাজের কোনএক গোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে রেখে, সেই সমাজের সার্বিক উন্নতি অর্জন সুখদায়ক হওয়ার কথা নয়। সরকারের বাজেট ঘোষনার প্রাক্কালে আদিবাসীদের এই আবেদন যেন দেশের নীতি-নির্ধারনী মহলে পৌছায়।

১) Small Ethnic Group Cultural Institutes Act, Act No. 23 of 2010

২) The ILO Convention on Indigenous and Tribal Populations, 1957 (No. 107) and the Laws of Bangladesh; A
Comparative Review; ILO, Dhaka, 2009.

৩) আদিবাসী জাতিসমূহের সাংবিধানিক স্বীকৃতি বিষয়ক সুপারিশমালা, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস; প্রকাশক: গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ, ডিসেম্বর ২০১০।

৪) উপরোক্ত পরিসংখ্যান সমূহ UNDP/CHTDF – এর “Socio-economic Baseline Survey of Chittagong Hill Tracts, 2009” (পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে) এবং OXFAM GB এই এর সহায়তায় প্রণীত “Not Myth but Reality”, by Dr. Shahed Hassan and Md. Ayub Ali, পাঠক সমাবেশ, ঢাকা (সমতল অঞ্চলের ক্ষেত্রে) থেকে উদ্বৃতি দেওয়া হয়েছে।

৫) পার্বত্য শান্তি চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হওয়ার পর থেকে বাস্তবে উক্ত নামে কোন সরকারী বিভাগ বর্তমানে না থাকলেও, সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে এই নাম বিশেষভাবে প্রচলিত বিধায় এ নিবন্ধে তা’ই ব্যবহার করা হয়েছে।


তথ্যসূত্রঃ 

1. The ILO Convention on Indigenous and Tribal Populations, 1957 (No. 107) and the Laws of
Bangladesh; A Comparative Review; by Raja Devasish Roy, ILO, Dhaka, 2009.
2. Socio-economic Baseline Survey of Chittagong Hill Tracts, 2009, by UNDP/CHTDF
3. Not Myth but Reality”, by Dr. Shahed Hassan and Md. Ayub Ali, Pathak Samabesh, Dhaka
4. Redesigning Budgetary Policy to Reach Public Resources to the Poor, by Dr. Atiur Rahman
and Mahfuz Kabir, Centre for Policy Dialogue/SACEPS Monograph Series 5, Dhaka, 2010
5. Participatory Development Discourse focusing SAD-Programme and NGOs-Interventions, by
A. Mankhin, Unpublished monograph, 2005.
6. Human Rights Report (2009-10) on Indigenous Peoples in Bangladesh, Kapaeeng
Foundation, Dhaka 2010.
7. আদিবাসী জাতিসমূহের সাংবিধানিক স্বীকৃতি বিষয়ক সুপারিশমালা, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস; প্রকাশক: গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ, ডিসেম্বর ২০১০।
8. Statistical Yearbook of Bangladesh 2008, 2009 and 2010, Bangladesh Statistical Bureau.


লেখকঃ কীর্তি নিশান চাকমা 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here